ঈদের আগে দোকানপাট ও গণপরিবহন চালু হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান বিধিনিষেধ আগামী বৃহস্পতিবার থেকে অনেকটাই শিথিল হয়ে যাচ্ছে। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন, দোকানপাটসহ প্রায় সবকিছুই চালুর অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে কোরবানির হাটও চলবে। এসব বিষয়ে স্বাস্থ্যবিধি অনুয়ায়ী কিছু নিয়ম মেনে চলতে বলা হতে পারে। এ বিষয়ে যেকোনো সময় সিদ্ধান্তের ঘোষণা হতে পারে। এসব তথ্য জানা গেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে।

শ্রমজীবী মানুষসহ জীবিকার দিক বিবেচনা করে ঈদের আগে বিধিনিষেধ শিথিল হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ১ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। প্রথমে ৭ জুলাই পর্যন্ত তা থাকলেও পরে তা আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়, যা আগামী বুধবার শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই এই বিধিনিষেধ শিথিলের বিষয়ে আলোচনা করছে সরকার। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর বর্তমান পরিস্থিতিতে বিধিনিষেধ শিথিল করলে পরিস্থিতি কেমন হবে, সেটা নিয়েও আশঙ্কা আছে।

এবার যে বিধিনিষেধ চলছে, তাতে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, শপিং মল, মার্কেটসহ সব ধরনের দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহনসহ সব ধরনের যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা আছে। এ রকমভাবে মোট ২১ ধরনের বিধিনিষেধ চলছে।

দেশে একদিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণে আবারও সর্বোচ্চ মৃত্যু ও সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্তের রেকর্ড হয়েছে গতকাল রোববার। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ২৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৮৭৪ জন।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে একদিনে সর্বোচ্চ ২১২ জনের মৃত্যুর তথ্য ছিল গত ৯ জুলাই। আর একদিনে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৬৫১ জন রোগী শনাক্তের খবর এসেছিল ৮ জুলাই।

গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪০ হাজার ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আগের ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৮ হাজার ৭৭২ জন। মৃত্যু হয়েছিল ১৮৫ জনের। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ছিল ৩১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ২১ হাজার ১৮৯। মোট মৃত্যু হয়েছে ১৬ হাজার ৪১৯ জনের।

Loading...