যে কারণে রোববার ব্যাংক বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ গ্রাহক নয়, মূলত বৈদেশিক বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখতেই বিধিনিষেধের মধ্যে ব্যাংক খোলা রাখা হচ্ছে। এ সময় পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্প, কলকারখানাও খোলা আছে। যেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে, ওই দেশগুলোতে শনি ও রোববার ছুটির দিন।

কেন ব্যাংক বন্ধ রাখার জন্য রোববারকে বেছে নেওয়া হলো, তা জানতে যোগাযোগ করা হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ গ্রাহক নয়, মূলত বৈদেশিক বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখতেই বিধিনিষেধের মধ্যে ব্যাংক খোলা রাখা হচ্ছে। এ সময় পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্প, কলকারখানাও খোলা আছে। যেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে, ওই দেশগুলোতে শনি ও রোববার ছুটির দিন। ফলে ব্যাংক খোলা থাকলেও রোববার লেনদেন নিষ্পত্তি হয় না। তাই ছুটির জন্য রোববারকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

আমেরিকান ডলারে লেনদেন নিষ্পত্তিতে নিউইয়র্কের ব্যাংক খোলা থাকতে হয়। রোববার এসব ব্যাংক বন্ধ থাকে। ফলে বাংলাদেশে কেউ লেনদেন করতে চাইলেও সেই লেনদেন সম্পন্ন হয় না। সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এ কারণে দেশে রোববার ব্যাংক বন্ধ থাকলেও বড় কোনো সমস্যা নেই।

বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, বৈদেশিক বাণিজ্যের বড় অংশই এখন আমেরিকান ডলারে সম্পন্ন হয়। এরপরই পাউন্ড, ইউরো, জাপানিজ ইয়েন, চীনের রেনমিনবিতে লেনদেন নিষ্পন্ন হচ্ছে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক লেনদেনগুলো নিষ্পত্তি হয় মূলত বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, দুবাইভিত্তিক মাশরেক, হাবিব আমেরিকানসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ব্যাংকের মাধ্যমে। প্রতিটি মুদ্রার লেনদেন নিষ্পত্তিতে নির্দিষ্ট দেশে ব্যাংক খোলা থাকতে হয়। যেমন আমেরিকান ডলারে লেনদেন নিষ্পত্তিতে নিউইয়র্কের ব্যাংক খোলা থাকতে হয়। রোববার এসব ব্যাংক বন্ধ থাকে। ফলে বাংলাদেশে কেউ লেনদেন করতে চাইলেও সেই লেনদেন সম্পন্ন হয় না। সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এ কারণে দেশে রোববার ব্যাংক বন্ধ থাকলেও বড় কোনো সমস্যা নেই।

ব্যাংকে জমছে অলস টাকা

মূলত এ কারণে ছুটির জন্য রোববারকে বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত ব্যাংকগুলোতে লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। আর অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য ব্যাংক খোলা থাকবে বিকেল চারটা পর্যন্ত।
এ–সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অত্যাবশ্যকীয় বিভাগগুলো যথাসম্ভব সীমিত লোকবলের মাধ্যমে খোলা রাখতে হবে। ব্যাংকের প্রিন্সিপাল বা প্রধান শাখা এবং সব বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা সীমিতসংখ্যক অত্যাবশ্যকীয় লোকবলের মাধ্যমে খোলা রাখা যাবে। ফলে ব্যাংকগুলো চাহিদা অনুযায়ী শাখা খোলা রাখতে পারবে।

আগামী রোববারও ব্যাংক বন্ধ, লেনদেনের সময় বাড়ল

দেশে এখন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক মিলিয়ে শাখা রয়েছে প্রায় ১১ হাজার। গত মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক শাখা ছিল ১০ হাজার ৭৬৫। এর মধ্যে পল্লি শাখা ছিল ৫ হাজার ২২৫ ও শহরের শাখা ৫ হাজার ৫৪০। এ ছাড়া উপশাখা, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও ব্যাংক সেবা দেওয়া হচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং, এটিএম ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চলছে ২৪ ঘণ্টা।

Loading...