বৃষ্টির পানি জমে ভোগান্তি সহস্রাধিক পরিবারের

বর্ষা মৌসুমের শুরুতে পানি জমে। পানি বের হওয়ার পথ নেই। অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত জলাবদ্ধতা থাকে। নিজস্ব প্রতিবেদক ফরিদপুর

গৃহবধূ নার্গিস বেগম (২৬) বলেন, ‘চুলার মধ্যে পানি। রান্নার উপায় নাই। ছোট মাটির চুলা ঘরের মধ্যে নিয়ে রান্নার কাজ করতে হচ্ছে।’

গোয়ালচামট মহল্লার বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়নাল হক সড়কটি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে আছে ওই এলাকার বিসমিল্লাহ মোড় এলাকা। গোয়ালচামট দক্ষিণ পল্লিতে ৩ ও ৪ নম্বর সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।

পৌরসভার বেথুয়াবাড়ী সড়ক এলাকায় অনেক ঘরে পানি ঢুকে গেছে। চার দিন ধরে পানিবন্দী হয়ে রয়েছে ওই এলাকার ৩০টি পরিবার। এলাকার বাসিন্দা মুদি ব্যবসায়ী গণেশ চন্দ্র শর্মা (২৭) বলেন, ঘরের মধ্যে পানি। বাড়িতে রান্নার সুযোগ নেই। তাঁর স্ত্রী পাশের বাড়িতে গেছেন রান্না করতে।

গোয়ালচামট দক্ষিণ পাড়া এলাকায় আজাদ শেখ, আমজাদ মন্ডল, সাইফুল্লাহ, রাজ্জাকদের পরিবারসহ অন্তত ২০টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে আছে। আমজাদ মন্ডল বলেন, ‘পৌরসভার মেয়রকে বলেছিলাম, পানি নামার জন্য ড্রেন কইরা দিতে। মেয়র কাজ করে নাই। এখন আমরা পৌরবাসী হইয়াও ডুইবা আছি। বর্ষাকাল আসলেই আমাদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না।’

গোয়ালচামট বাবরি মসজিদসংলগ্ন এলাকায় অন্তত ২০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে রয়েছে। এ এলাকার অনেক বাড়ির ঘরে ঘরে পানি ঢুকেছে। রান্নাঘর ও টয়লেট তলিয়ে গেছে।

ওই এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ সোনিয়া বেগম (২৮) বলেন, ‘চুলার মধ্যে পানি। গ্যাস নাই। লকডাউনের জন্য গ্যাসও আনতে পারছি না। এ জন্য পাশে বাবার বাড়ি থেকে রান্না কইরা আনলাম। কত দিন এভাবে চলতে হবে, কে জানে?’

বৃষ্টির পানি জমে পূর্ব খাবাসপুরে শান্তিবাগ এলাকা, লক্ষ্মীপুর পাল পাড়া, শোভারামপুর সুইসগেট এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে ইট–সুরকি উঠে বেহাল হয়ে পড়েছে অম্বিকা সড়ক।

ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র অমিতাভ বোস বলেন, জলাবদ্ধতা পৌরসভার মারাত্মক একটি সমস্যা। তবে এ সমস্যার সমাধানে সময় লাগবে। নালা নির্মাণ করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তিনি গতকাল সোমবার শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন। জরুরি ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Loading...