প্রথম গানে ১০ কোটি

বিনোদন প্রতিবেদক

কোটি শ্রোতার মন জয় করা ‘তোর মনপাড়ায়’ গানটি কীভাবে তৈরি হলো? প্রশ্ন শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন মৌলভীবাজারের ছেলে মাহদি সুলতান, ‘২০১৭ সালের ঘটনা। ভালোবাসা থেকে গান গেয়ে ফেসবুকে আপলোড করতাম। সিলেটের বড় ভাই শাহাজান মিয়া একদিন বললেন, তুমি একটা মৌলিক গান করো, যা লাগে আমি দিচ্ছি। তখন জানতামও না, কার কাছ গানের কথা পাব, সুরকার কে হবেন। তখন আমি নিজেও লিখতাম না, সুরও করতাম না। জিসান খান গানটি লিখে সুর করে দেন। ফেসবুকে আমার সঙ্গে ছিলেন অয়ন চাকলাদার। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে বলি, একটা গান বানাতে চাই। আমাদের বাজেট অনেক কম। নামমাত্র পারিশ্রমিকে তিনি গানটা বানিয়ে দেন। মজার ব্যাপার হলো অয়ন ভাই, প্রথমে আমাকে খুব একটা গুরুত্ব না দিলেও গান রেকর্ড শেষে বাসায় ফিরে দেখি তাঁর টেক্সট: মাহদি গানটা অনেক ভালো গেয়েছেন আপনি। ভাবিনি, আপনি এত ভালো ডেলিভারি দিতে পারেন।’ ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ শেষ করা মাহদির এখনকার স্বপ্ন পুরোপুরি গান।

মাদারীপুরে জন্ম নেওয়া শেখ সাদীর বেড়ে ওঠা ঢাকার পাশে টঙ্গীতে। উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এসএসসি ও এইচএসসির পাট চুকিয়ে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনিও বিবিএ শেষ করেছেন। রেকর্ড সৃষ্টি করা ‘ললনা’ গানটি নিয়ে সাদী বললেন, ‘গান গাওয়ার চেয়ে লিখতে পছন্দ করতাম বেশি। নিজের জন্যই লিখতাম। গানটি যখন তৈরি করি তখন আইইউবিতে বিবিএ নবম সেমিস্টারে পড়ি। একদমই মজা করে এই গান লেখা। বন্ধুরাও বলল, “গানটি তুই গাইতে পারিস।” শাহরিয়ার রাফাতের সংগীতায়োজন এরপর সুর করে গাই। নিজের ইউটিউব আপলোড করি। শ্রোতারা গানটি পছন্দ করেন।’

কাকতালীয়ভাবে ‘তোর মনপাড়ায়’ ও ‘ললনা’ শিরোনামের দুটো গান তৈরির প্রাথমিক খরচ হয় মাত্র ১০ হাজার টাকা করে। তবে মাহদির গাওয়া গানটি হিট হওয়ার পর গীতিকার ও সুরকারকে ১ লাখ টাকা দিতে হয়েছে। এই গানের ভিডিও বানাতে খরচ হয় মাত্র ৪৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে ভিডিওসহ সাদীর গাওয়া গানে খরচ হয় মাত্র ১০ হাজার টাকা। কারণ, এই গানের পেছনে যাঁরা কাজ করেছেন তাঁরা সবাই ছিলেন সাদীর বন্ধু।

দুই গায়কের কেউই ভাবেননি, এতটা আলোচিত হবে তাঁদের গান। ২০১৮ সালের ১৩ জুলাইয়ে আপলোড করা মাহদির গানটি গতকাল রোববার পর্যন্ত এক ইউটিউব চ্যানেল থেকেই ১০ কোটি ৮২ লাখ ৫৩ হাজার ভিউ হয়েছে। মন্তব্য এসেছে ৩১ হাজার ৫৫৮। আর ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বরে আপলোড করা সাদীর গানটি দুটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে ১১ কোটি ২৩ লাখ ৪ হাজার ৫০০ ভিউ হয়েছে। এই গানে মন্তব্য এসেছে ৪৫ হাজারের বেশি।

শুরুর দিকে একদম খেলাচ্ছলে গান গাইলেও মাহদি আর সাদী দুজনেই এখন যথেষ্ট সিরিয়াস। গানের আকাশে নিজেদের আরও ভালোভাবে মেলে ধরতে নিত্যনতুন ভাবনাচিন্তা করছেন। জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের কাছ থেকে শিখছেন বলেও জানালেন। সাদী বলেন, ‘ললনা গাইবার সময় অনেক কিছু বুঝতাম না। তবে এখন আমি সব ধরনের গান গাইতে চাই। র‍্যাপ, ফোক, পপ, আরঅ্যান্ডবি—চ্যালেঞ্জিং হলেও করব। নিজেকে প্রমাণ করতে চাই।’

গান গেয়ে পরিচিতি পাওয়া সাদী চলচ্চিত্রেও অভিনয় শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ‘অন্য কাজ করলেও গানই প্রথম এবং একমাত্র ভালোবাসা। কারণ, এটাই আমাকে পরিচিতি দিয়েছে। চেষ্টা করব ভালো কিছু উপহার দেওয়ার। শুরুতে পরিবার থেকে আমার গান নিয়েও ভয় পাচ্ছিল। তাই বাবা-মা সাপোর্টও করছিল না। সবাই ভালো বলায়, তারাও এখন যথেষ্ট পজিটিভ।’

মাহদি সুলতান। ছবি: সংগৃহীত

মাহদি সুলতান। ছবি: সংগৃহীত

মাহদি সুলতানের পরিবারও শুরুতে গানের ব্যাপারে তাঁকে কোনো সমর্থন দেয়নি। এখনো যে পুরোপুরি সমর্থন করে এমন না। মাহদি বলেন, ‘আগে যে রকম বাধা দিত, এখন তেমন দেয় না। ভাবিনি এক গানে মানুষ এত ভালোবাসা দেবে! পরিবারও তাই এখন কিছুটা পজিটিভ।’ তোর মনপাড়ায় গান দিয়েই জীবনে প্রথম স্টুডিওতে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়ান মাহদি সুলতান। ভবিষ্যতে নিজেকে পুরোদস্তুর সংগীতশিল্পীর পাশাপাশি সংগীত পরিচালক হিসেবে দেখতে চান। সেই লক্ষ্যে কাজও করে যাচ্ছেন। মাহদি বললেন, ‘কাজ করতে চাই সিনেমার গান নিয়ে, আমাকে সব থেকে বেশি টানেও তা।’

পরে আরও অনেক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন মাহদি ও সাদী। সামনে আরও নতুন নতুন গান নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হতে চান তাঁরা। জানালেন, গান নিয়ে তাঁদের এখন সব স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে পুঁজি করে মানুষের মনে স্থায়ী আসন গড়তে চান।

Loading...