সরকারের একাংশ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে শত্রু মনে করে: ইফতেখারুজ্জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা)

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘আমাদের দেশে যারা ক্ষমতায় থাকে, তারা সেখান থেকে কখনো যেতে চায় না। মূল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ঘায়েল হয়ে গেলে ক্ষমতাসীনদের দৃষ্টি পড়ে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের ওপর। গণমাধ্যম অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে ভুলত্রুটি তুলে ধরে সরকারের সহায়ক ভূমিকা পালন করতে চায়। কিন্তু গণমাধ্যমের এই প্রয়াসকে সরকারের একাংশ শত্রু হিসেবে দেখে।
আজ মঙ্গলবার ‘করোনাকালে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় কথাগুলো বলেন ইফতেখারুজ্জামান। এই সভা থেকে কোভিড-১৯–বিষয়ক বিশেষ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কারের জন্য ঢাকা ও ঢাকার বাইরের তিনজন গণমাধ্যমকর্মীর নাম ঘোষণা করা হয়।
আজকের আলোচনায় সাংবাদিকতা শিক্ষার সঙ্গে জড়িত শিক্ষক,গণমাধ্যম গবেষক, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনায় ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যমের জন্য অভ্যন্তরীণ ও বাইরের—দুই ধরনের ঝুঁকি আছে। গণমাধ্যম নিজেরা কতটুকু সুশাসিত, সেটাও কিন্তু বিবেচ্য বিষয়। সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠান এককভাবে ও সামষ্টিকভাবে যদি নৈতিকতার চর্চা করে, তবে অভ্যন্তরীণ ঝুঁকির যে কথা বলা হয়, সেটা অনেকটা প্রশমন করা সম্ভব।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, রাজনীতি একচ্ছত্র হয়ে গেলে গণমাধ্যমের ওপর চাপ প্রবল হয়। এ সুযোগে সরকারের দোসর হিসেবে গণমাধ্যমের একটি অংশ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আর এসবের বাইরে আরেকটি শাখা প্রতিকূলতার মধ্যেও অনুসন্ধানী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে যায়।
টিআইবি ২০০০ সাল থেকে অনুসন্ধানীয় সাংবাদিকতার জন্য পুরস্কার দিয়ে আসছে। গত বছর করোনা মহামারি শুরু হলে কোভিড-১৯–সংক্রান্ত বিশেষ অনুসন্ধানী পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। আজ ‘কোভিড-১৯–বিষয়ক বিশেষ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০২০ ঘোষণা’ করেন ইফতেখারুজ্জামান। আঞ্চলিক প্রিন্ট মাধ্যম ও অনলাইনে চট্টগ্রামের দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার আবু রায়হান তানিম, জাতীয় প্রিন্ট ও অনলাইন শাখায় সারাবাংলা ডটনেটের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সৈকত ভৌমিক এবং জাতীয় পর্যায়ে ইলেকট্রনিক মিডিয়া ক্যাটাগরিতে একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিবেদক মুফতি পারভেজ নাদির রেজা পুরস্কার পান। পুরস্কারপ্রাপ্তরা দেড় লাখ টাকা ও একটি করে ক্রেস্ট পাবেন বলে টিআইবির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে মূল নিবন্ধ পাঠ করেন মাসুম বিল্লাহ। অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ আফসান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, বেসরকারি সংগঠন এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান, সাংবাদিক জুলফিকার আলী মানিক, চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালিক, যশোরের গ্রামের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক মহিবুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন|

Loading...