নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, ৭ সংগঠনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি

গাইবান্ধা জেলা শহরের ভেতর দিয়ে চলা চার লেনের সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে সাতটি সংগঠন। এসব সংগঠন ও এক আইনজীবীর পক্ষ থেকে গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স।
একই বিষয়ে ১৬ জুন অভিযোগ দেন গাইবান্ধার সচেতন নাগরিকেরা। সাত সংগঠন ও আইনজীবীর লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রথম দিকে দিনের বেলা কাজ করা হতো। কিন্তু দুই মাস ধরে প্রতিদিন রাত ১০টার দিকে কাজ শুরু করা হয়, চলে ভোররাত পর্যন্ত। এ সুযোগে সওজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছেন ঠিকাদার। রাতে নর্দমা পাকা করার জন্য চিকন (নন–গ্রেড) রড বিছানো হচ্ছে। ঢালাইকাজেও নিম্নমানের সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা তড়িঘড়ি করে রাতে কাজ করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সড়ক নির্মাণে নিচে ও ওপরে নিম্নমানের খোয়া ও বালু দেওয়া হচ্ছে। দুবার করে খোয়া ও বালু দেওয়ার নিয়ম থাকলেও দেওয়া হচ্ছে একবার। এ ছাড়া শহরের পুরোনো জেলখানা এলাকায় নর্দমা করা হয়েছে ছয় ফুট দক্ষিণে সরিয়ে। এতে সড়ক সংকুচিত হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন বলেন, ‘ইতিমধ্যে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীকে ডেকে বলেছি, নিম্নমানের সামগ্রী যেন ব্যবহার করা না হয়। ঠিকাদার যেন গুণগত মানের সামগ্রী ব্যবহার করেন।’
অভিযোগকারীদের মধ্যে গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর কবির বলেন, শহরের পুরোনো জেলখানা এলাকায় গত বুধবার নিম্নমানের ইট দিয়ে গোলচত্বরের কাজ করার সময় স্থানীয় লোকজন বাধা দেন। তখন চত্বরের নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। আরেক অভিযোগকারী ও গাইবান্ধা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে কাজের কোনো অগ্রগতি লক্ষ করা যাচ্ছে না।
সওজ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩০ জুনের মধ্যে সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু সওজের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কাজের সময় বাড়ানো হয়।
সামগ্রী ব্যবহারের সঠিক অনুপাত জানতে চাইলে গাইবান্ধা সওজের একটি সূত্র জানায়,সড়ক নির্মাণ প্রাক্কলন অনুযায়ী,কাজের প্রথম স্তরে (সাব-বেজ) ভালো মানের খোয়া ও বালুর অনুপাত শতকরা ৭০: ৩০, কার্পেটিংয়ের নিচের স্তরে (ডব্লিউ বিএম) ভালো মানের ভাঙা পাথর ও বালুর অনুপাত শতকরা ৭৫: ২৫, নর্দমা নির্মাণে ১২ মিলিমিটার ব্যাসের রড, ঢালাইকাজে পোর্টল্যান্ড (সিম-১) সিমেন্ট ব্যবহার এবং পাথর, বালু ও সিমেন্টের অনুপাত অবস্থাভেদে ৪: ২: ১ ও ৩:১.৫:১।
এসব নিয়ম মানা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাইবান্ধা সওজের এক ঠিকাদার বলেন, প্রথম স্তরে যে পরিমাণ খোয়া ও বালু দেওয়া হয়েছে, তার অনুপাত ৪০: ৬০। একইভাবে কার্পেটিংয়ের নিচের স্তরে দেওয়া হচ্ছে ৬০: ৪০, নর্দমা নির্মাণে ১০ মিলিমিটার ব্যাসের রড ও সাধারণ সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। রাতে কাজের তদারকি না থাকায় পাথর, বালু ও সিমেন্টের অনুপাতও যথাযথভাবে দেওয়া হচ্ছে না।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্সের নিয়োজিত প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম বলেন,নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়। কাজের সময় সওজ বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন। দিনে কাজ করলে যানজট ও মানুষের ভোগান্তি হয়। তাই রাতে কাজ করা হচ্ছে।

Loading...