বরিশালে কেন্দ্রের বাইরে বোমা বিস্ফোরণে এক বৃদ্ধ নিহত

দুই সদস্য প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ...

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৯নং ওয়ার্ডে দুই সদস্য প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষে এক প্রার্থীর চাচা নিহত ও কমপক্ষে আটজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সাময়িক স্থগিত করার পরে পুনরায় ২টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোট কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে সদস্য পদে প্রার্থী হন মো: মন্টু হাওলাদার (৫৫) (টিউবয়েল) ও মো: ফিরোজ মৃধা (৪৮) (মোরগ)। সোমবার ৫নং কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণের সময় দুপুর ১টার দিকে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ সময় কেন্দ্রের বাইরে সংঘর্ষে ২০ থেকে ২৫টি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। ভোটাররা ছুটাছুটি করতে থাকে। প্রিজাংডিং অফিসার ভোট গ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন।

প্রার্থী মন্টু হাওলাদারের ছেলে এজেন্ট সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, জাল ভোট দিতে এলে আমি বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করার পর ফিরোজ মৃধার নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন লাঠি-সোটা, ধারাল অস্ত্র ও বোম নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এ সময় কেন্দ্রে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বৃষ্টির মতো বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আমাদের পাঁচ কর্মী আহত হন।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো: ফিরোজ মৃধা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আমার সমর্থকদের ওপর মন্টুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসী সমর্থকরা বোমা হামলা চালায়। এ সময় আমার চাচাতো ভাই মৌজে আলী মৃধাসহ (৬৪) বোমায় ছয়জন আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মনতোষ হালদার বলেন, নিহতের শরীরে বোমার আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ভোট কেন্দ্রে কোনো ঘটনা ঘটেনি। কেন্দ্রের বাইরে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন বলে শুনেছি। তবে সংঘর্ষের কারণে দুপুর ১টা থেকে সোয়া ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয় পরে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আফজাল হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।

Loading...