কেন্দ্রীয় আ.লীগ নেতারা চট্টগ্রামে, হেফাজতের ঘাঁটি নিয়ে মাথাব্যথা

নিজস্ব প্রতিনিধি

মাথাব্যথার নাম হাটহাজারী

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ঘাঁটি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা। সেখানে বিভিন্ন ইস্যুতে বারবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে। সর্বশেষ গত ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনকে কেন্দ্র করে থানা আক্রমণের ঘটনা ঘটে। এ সময় সংঘর্ষে চার হেফাজত কর্মী নিহত হন। হেফাজতের অবরোধের কারণে অন্তত চার দিন উত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ ছিল। এ সময় হেফাজতের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়া শক্ত রাজনৈতিক প্রতিরোধ খুব একটা দেখা যায়নি।

এ কারণে হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আজ বিকেলে সার্কিট হাউসে মতবিনিময় সভা করতে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকসহ অন্য নেতারা। এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাংসদ মোশাররফ হোসেন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালামসহ হাটহাজারীর জেলা ও থানাপর্যায়ের নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
জানতে চাইলে হুইপ আবু সাঈদ মাহমুদ আল স্বপন একেটিভিকে বলেন, ছোট একটা হাটহাজারী নিয়ে পুরো দেশকে উদ্বিগ্ন থাকতে হয়। কয় দিন পরপর হেফাজতকে নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। এটা দেশ-বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি পছন্দ করে না। তাই সেখানে সাংগঠনিক দুর্বলতা আছে কি না, কীভাবে তাদের চাঙা করা যায়, এসব নিয়ে তাদের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠকে বসবেন বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন একেটিভিকে বলেন, অশুভ শক্তি যাতে মাথাচাড়া দিতে না পারে, হাটহাজারী এবং নগরে সংগঠনকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায় এ বিষয়গুলো নিয়ে মতবিনিময় করবেন নেতারা।

নগর সম্মেলন প্রস্তুতি

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটি হয়েছে ২০১৩ সালে। ইতিমধ্যে কমিটির সদস্যদের অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা রয়েছে। নগরের ১৬টি থানা ও ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সম্মেলনও হয় না অনেক দিন। এসব বিষয় মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় কমিটির এই সফর চট্টগ্রামে।

দুই সপ্তাহ আগে ঢাকায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংসদীয় আসনভিত্তিক মতবিনিময় সভা করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সেখানে দক্ষিণ জেলার আওতাধীন বিভিন্ন থানা এবং জেলার সম্মেলন ডিসেম্বরের মধ্যে করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এবার নগরের সাংসদ, কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বসবেন তাঁরা।

জানতে চাইলে নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন একেটিভিকে বলেন, দলকে চাঙা ও শক্তিশালী করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতারা এসেছেন। আগামীকাল থেকে মতবিনিময়সভা শুরু হবে। তাতে ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের সম্মেলনসহ সাংগঠনিক নানা বিষয় আলোচনা হবে।

আগামীকাল সকাল ১০টায় সার্কিট হাউসে প্রথমে চট্টগ্রাম-৪, ৫ ও চট্টগ্রাম-৮ সংসদীয় আসনের সঙ্গে প্রথম সভা করবেন নেতারা। এরপর পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম-১৩, ৯ ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের সাংসদ ও তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হবে। পরদিন সোমবার নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটি, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এবং সহসভাপতিদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হুইপ আবু সাঈদ মাহমুদ আল স্বপন একেটিভিকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন হয়নি। অনেক নেতা মারা গেছেন। তৃণমূল ওয়ার্ড, এমনকি থানা পর্যায়েও অনেক দিন কমিটি হয়নি। তৃণমূলের নেতাদের প্রত্যাশা থাকে। তাই সংগঠনকে চাঙা করতে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ওয়ার্ড থানার সম্মেলন নিয়ে আলাপ হবে। নগরের সম্মেলন নিয়েও আলাপ হবে। কীভাবে দ্রুততম সময়ে সম্মেলনগুলো করা যায়, এ সব বিষয়ে কথা হবে। স্থানীয় নেতাদের মতামত এবং আমাদের চিন্তা মিলে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

Loading...