বাংলাদেশে না এসে অস্ট্রেলিয়ানদের আইপিএল খেলার ব্যাখ্যা দেওয়া কঠিন হবে

খেলা ডেস্ক

ঘুরতে বের হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথমে জুলাইয়ে ক্যারিবীয় সফরে গিয়ে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজ খেলবে তারা। এরপরই আগস্টে বাংলাদেশে এসে পাঁচ টি-টোয়েন্টির এক সিরিজ। এ উপলক্ষে বেশ বড় এক প্রাথমিক দল ডেকেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু জৈব সুরক্ষাবলয়ে থাকার ধকলের কথা বলে অনেকেই এ দুই সিরিজ থেকে নাম কাটিয়ে নিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার সীমিত ওভারের ক্রিকেটের অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের ধারণা, এভাবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে সরে যাওয়ার পক্ষে যুক্তি আছে এই ক্রিকেটারদের। কিন্তু ক্লান্তির কথা বলে যাঁরা জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন, তাঁরাই যদি আবার সেপ্টেম্বরে আইপিএল খেলতে চান,তখন এর পেছনে কোনো যুক্তি দেখাতে পারবেন না ক্রিকেটাররা।বিশ্বকাপের জন্য বিশ্রামে রাখা হচ্ছে কামিন্সকে।
২৮ জুন দেশ ছেড়ে ক্যারিবীয় অঞ্চলে উড়াল দেবে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দল। জুলাইয়ে ক্যারিবীয় অঞ্চলে পাঁচ টি-টোয়েন্টি ও তিনটি ওয়ানডে খেলবে তারা। এরপর ২ থেকে ১০ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশে এসে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা তাদের। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া দলে পরিচিত অনেক মুখই দেখা যাবে না। বাংলাদেশে যে দল আসবে, তাতে থাকবেন না ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভ স্মিথ, প্যাট কামিন্স, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কাস স্টয়নিস, কেইন রিচার্ডসন, ড্যানিয়েল স্যামস ও ঝাই রিচার্ডসন।
আইপিএলে অনেক দিন জৈব সুরক্ষাবলয়ে থাকা, এরপর করোনার সংক্রমণে হঠাৎ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া এবং দেশে ফেরার সময় দেশটির সরকারে কমপক্ষে ১৪ দিন অন্য কোথাও সময় কাটানোর নীতি যে খেলোয়াড়দের মনে প্রভাব ফেলেছে, সেটা বুঝতে পারছেন ফিঞ্চ। কিন্তু এই ওপেনার কাছে দেশের হয়ে খেলাটাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আইপিএল খেললেও বাংলাদেশে আসছেন না।
রেডিও চ্যানেল এসইএন ডব্লুতে অ্যাডাম গিলক্রিস্টের সঙ্গে কথোপকথনে ফিঞ্চ বলেছেন, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত মত। আমার ধারণা, সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে, এরপর ব্যস্ত গ্রীষ্মকালীন মৌসুম আছে। এ অবস্থায় শুধু কাজের চাপের কথা চিন্তা করেই আইপিএলের দ্বিতীয় ভাগে খেলতে চাওয়ার ব্যাখ্যা দেওয়া কঠিন হবে। এটা খুবই কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে সবাইকে। কিন্তু আমি জানি, এটা করা কঠিন হবে, কারণ এটা মানসিকভাবে এবং আপনার পরিবারের ওপর অনেক চাপ ফেলে।’

দুই সিরিজে যাঁরা থাকছেন না, তাঁদের মধ্যে সাবেক অধিনায়ক স্মিথ কনুইয়ে চোট পেয়েছেন। ওদিকে আইপিএল খেলতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হওয়া স্যামস আগেই নির্বাচকদের কাছে তাঁকে না রাখার অনুরোধ করেছেন। আর ফিঞ্চ বলছেন, বিশ্বকাপ ও অ্যাশেজের কথা মাথায় রেখে ওয়ার্নার ও কামিন্সকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু বাদবাকি ক্রিকেটারদের সরে যাওয়া চমকে দিয়েছে ফিঞ্চকে। এ কারণে ড্যান ক্রিস্টিয়ান, বেন ম্যাকডারমট ও অ্যাশটন টার্নারকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। সে সঙ্গে এখনো অভিষেক না হওয়া পেসার ওয়েস অ্যাগারকেও নেওয়া হয়েছে দলে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দলের শক্তি বুঝতে চাওয়ার জন্যই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশের সঙ্গে ১০টি টি-টোয়েন্টি খেলছে অস্ট্রেলিয়া। এ অবস্থায় মূল দলের অধিকাংশ ক্রিকেটারকে না পাওয়া যে ফিঞ্চকে হতাশ করছে, সেটা টের পাওয়া গেছে, ‘প্যাট কামিন্স ও ডেভিড ওয়ার্নার, ওরা যে এই সফরে যাচ্ছে না, এটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। গত মৌসুমে আইপিএল শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ একটা গ্রীষ্ম কাটিয়েছে। এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে, অ্যাশেজ আছে। যারা তিনটি সংস্করণই খেলে, তাদের জন্য এত সফর করা আর জৈব সুরক্ষাবলয়ে থাকা খুব কঠিন।’
কিন্তু যেসব ক্রিকেটার মূলত সীমিত ওভারের ক্রিকেট বা টি-টোয়েন্টি খেলেন, তাঁদের এভাবে সফর থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বিস্মিত করেছে অধিনায়ককে, ‘আমি অন্যদের সিদ্ধান্তে একটু অবাক হয়েছি। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলেছি। একটু বিস্ময়কর, কিন্তু ওদের চিন্তা বুঝতে পারছি। আমি নিজে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলাম। এরপর দীর্ঘ গ্রীষ্ম মৌসুম খেলার পর শেষ দিকে মানসিকভাবে প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিলাম। মৌসুম শেষে তাই খুশি হয়েছিলাম, যাক, শেষ হলো। তাই ওদের ব্যাপারটা বুঝতে পারছি, কিন্তু ওরা থাকলে ভালো লাগত।

Loading...