চুয়াডাঙ্গা জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

প্রতিনিধি চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গা জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৬৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। এই সময়ে করোনায় মারা গেছেন আরও ৩ জন। গত এক সপ্তাহে জেলায় শনাক্তের গড় হার ৪৯ দশমিক ১৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে এ পর্যন্ত জেলায় ৫০টির বেশি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হারের দিক দিয়ে এটিই সর্বোচ্চ। এর আগে গত ১২ জুন ৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। ওই দিন শনাক্তের হার ছিল ৬৬ শতাংশ। এ ছাড়া, সাপ্তাহিক গড় শনাক্তের হারের দিক দিয়েও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা যাওয়া তিনজন হলেন দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ ইউনিয়নের রহমত আলী (৭৫), জীবননগর পৌর এলাকার গোলাম মোস্তফা (৪০) ও জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের অনন্ত হালদার (৪৫)। এঁদের মধ্যে রহমত আলী বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। একই দিন রাত পৌনে ৯টায় গোলাম মোস্তফা বাড়িতে মারা যান। এ ছাড়া ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার অনন্ত হালদার মারা যান।
১৫ জুন থেকে ভারত সীমান্তবর্তী দামুড়হুদা উপজেলায় লকডাউন শুরুর পর থেকে সেখানে করোনা শনাক্তের হার কমতে শুরু করেছে। তবে, সীমান্তবর্তী আরেক উপজেলা জীবননগর এবং আলমডাঙ্গা ও সদর উপজেলায় সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হওয়া ৪৩ জনের মধ্যে ১৯ জনের বাড়ি সদর উপজেলায়। বাকিদের মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১২ জন এবং দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলায় ৬ জন করে আছেন।
সদর উপজেলায় আক্রান্তের হার বৃদ্ধির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে নির্দেশনা থাকলেও অনেকের মধ্যে গা ছাড়া ভাব রয়েছে। অনেকেই পকেট ও ব্যাগে করে মাস্ক নিয়ে ঘুরে বেড়ালেও ব্যবহার করছেন না। অথচ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান দেখলে তাঁরাই মাস্ক ব্যবহার করছেন। তিনি বলেন, ‘সীমিত জনবল দিয়ে তো সারা উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা সম্ভব নয়। এ জন্য মানুষকে সচেতন হতে হবে। কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগকে সহযোগিতা করতে হবে।’
জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকার বলছেন, কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেবল প্রশাসন, পুলিশ বা স্বাস্থ্য বিভাগের কাজ নয়। প্রত্যেকে যদি নিজ থেকে সচেতন না হন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলেন, তাহলে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়তেই থাকবে।
জেলায় এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪৪৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে মারা গেছেন অন্তত ৭৭ জন। এঁদের মধ্যে ৬৮ জন জেলায় আইসোলেশনে এবং ৯ জন রেফার্ডের পর জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
সিভিল সার্জন এ এস এম মারুফ হাসান আজ শুক্রবার একেটিভিকে জানান, সীমিত জনবল দিয়েই করোনায় আক্রান্ত লোকজনকে সাধ্যমতো সেবা দেওয়া হচ্ছে। ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সুবিধা চালু করা হয়েছে। শনিবার থেকে চীনের তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া শুরু হচ্ছে।

Loading...