একশ্রেণির মানুষ অন্যকে কষ্ট দিয়ে মজা পায়: দীঘি

বিনোদন প্রতিবেদক

বেশ কয়েক বছর ধরেই ফেসবুকে নিয়মিত নিজের ছবি পোস্ট করেন দীঘি। এমন নয় ছবিগুলো অশালীন। তারপরও তাঁকে অনেক খারাপ মন্তব্য দেখতে হতো। এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি শালীন পোশাক পরে ছবি পোস্ট করতাম। ফেসবুকে নতুন ছবি দেখতে চান অনেক ভক্ত। তাঁদের জন্যই ছবি পোস্ট করতাম। তাঁরাই আঘাত করতেন। একশ্রেণির মানুষ অন্যকে কষ্ট দিয়ে মজা পায়। সেগুলোর মন্তব্য দেখে মাঝে মাঝে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি।’
শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই নয়। ইউটিউবেও তাঁকে নিয়ে অনেকেই ভিডিও বানিয়ে বুলিং করেন। এগুলো এখন সয়ে গেছে দীঘির কাছে।
দীঘি বলেন, ‘কিছু মানুষ মজা করার জন্য বুলিং করে। এগুলো আমাদের কনফিডেন্স কমিয়ে দেয়। এখন এসব না দেখে থাকার চেষ্টা করি। ভালোকে গ্রহণ করি। খারাপকে বর্জন করি।’ এ মনমানসিকতা নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন তিনি।

ছোট দীঘি সম্প্রতি নায়িকা হিসেবে পর্দায় নাম লিখিয়েছেন। তাঁর অভিনীত ‘তুমি আছ তুমি নেই’ সিনেমা হলে মুক্তির সময়ে গালাগালি ও অশ্লীল শব্দ তাঁর জীবনকে কিছুদিনের জন্য একঘরে করে দিয়েছিল। দীঘি বলেন, ‘সিনেমা মুক্তির সেই দিনগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে বাজে সময়। বুলিংয়ের কারণে তখন আমি একধরনের ট্রমার ভেতর দিয়ে গিয়েছি। প্রথম সিনেমা হিসেবে আমার ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করে সাপোর্ট করা উচিত ছিল। তা না করে ফেসবুকে মারাত্মক আক্রমণের শিকার হয়েছিলাম। তাঁরাই এখন ইউটিউবে ছবিটি দেখে ভালো বলছেন।’

সাইবার উত্ত্যক্তকারীদের উদ্দেশে দীঘি বলেন, ‘খারাপ বা ভালো লাগা মানুষ প্রকাশ করবেই। কিন্তু কাউকে হার্ট করা উচিত না। আমরা আপনাদের বিনোদন দিতেই অভিনয় করি। আপনাদের জন্যই আজ আমি এতটা পথ আসতে পেরেছি। আপনারা বাজে কথা বললে, ছোট করলে অস্বস্তি লাগে। কাজের আগ্রহই হারিয়ে ফেলি। আপনাদের অনুরোধ, আমাদের পাশে থাকেন। আমাদের সাপোর্ট করেন।’
২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে ৩৬টি চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছেন দীঘি। ‘কাবুলিওয়ালা’, ‘এক টাকার বউ’, ‘চাচ্চু আমার চাচ্চু’ প্রভৃতি ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয়েছে। তিনবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

Loading...