জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাপান

একেটিভি ডেস্ক

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা টোকিও, ওসাকা, কিওতোসহ আরও ছয়টি জেলায় করোনাভাইরাসের কারণে দেওয়া জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার টোকিওতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তিন।

সংবাদ সম্মেলনে সুগা বলেন, ২০ জুন থেকে এসব অঞ্চলে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হবে। জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হলেও বেশ কিছু বিধিনিষেধ আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানান তিনি।

জাপান সরকার এই পরিস্থিতির নামকরণ করেছে ‘সমতুল্য জরুরি অবস্থা’। এই পরিস্থিতির আওতায় রেস্তোরাঁ ও পানশালাগুলোকে জরুরি অবস্থার সময় নিষিদ্ধ থাকা মদজাতীয় পানীয় সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত পরিবেশনের অনুমতি দেওয়া হবে এবং রেস্তোরাঁ রাত আটটা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। এটিকে জুলাইয়ের ২৩ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া টোকিও অলিম্পিক চলাকালীন অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন অনেকে।

তবে জাপানের করোনাভাইরাস উপদেষ্টা প্যানেলের সদস্যরা সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে সহজভাবে নিতে পারছেন না। বিশেষ করে রাজধানী টোকিওতে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার দৈনিক হিসাবে ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। তাই টোকিও থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার বিষয়ে সরকারের কাছে কিছু শর্তের সুপারিশ করেছে ওই প্যানেল। এসব শর্তের মধ্যে সংক্রমণ বিস্তারের ওপর সার্বক্ষণিকভাবে নজর রাখা এবং প্রয়োজনে নতুন করে আবারও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ অন্তর্ভুক্ত আছে।

এদিকে নয়টি জেলা থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার কথা বলা হলেও ওকিনাওয়া জেলায় জরুরি অবস্থা আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। জাপানের অপেক্ষাকৃত কম জনসংখ্যার এই জেলায় করোনাভাইরাস কিছুটা দেরিতে বিস্তৃত হলেও বর্তমানে তা ব্যাপকভাবে বাড়ছে।

সংবাদ সম্মেলনে সুগা বলেন, রাজধানী টোকিওসহ অন্য কয়েকটি জেলা থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে সংক্রমণ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ জনসমাগমের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে সরকার।

অলিম্পিকের আয়োজনকে সামনে রেখে বড় ধরনের বিভিন্ন ইভেন্টে ১০ হাজার পর্যন্ত দর্শক উপস্থিতির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। অলিম্পিক উপলক্ষে বিদেশের দর্শকদের জাপানে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এমন অবস্থায় দেশের ভেতরের দর্শকসংখ্যা কিছুটা হলেও বাড়ানোর আহ্বান করেছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি। তবে সুগা পরিষ্কার করে বলেছেন, অলিম্পিক এগিয়ে আসা অবস্থায় করোনা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা না গেলে এমনকি অলিম্পিকের ইভেন্টেও দর্শকসমাগমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে।

Loading...