নানা ‘তত্ত্ব–প্রকল্প–আবিষ্কারে’প্রতারণা,গ্রেপ্তার ১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

গল্পের ফাঁদ পেতে অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি চক্রের ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র‍্যাব বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ‘তত্ত্ব’ উদ্ভাবন ও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ‘কয়েল–তত্ত্ব’ আবিষ্কারের কথা বলে প্রতারণা করছিলেন আসামিরা।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম পরিচালক খন্দকার আল মঈন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, র‍্যাব-১-এর অভিযানে উত্তরা ও টাঙ্গাইল এলাকা থেকে ওই ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
খন্দকার আল মঈন বলেন, ২০১১ সাল থেকে চক্রের প্রধান সাইফুল ইসলাম (৫৪) প্রতারণা করে আসছিলেন। তিনি নিজেকে ‘রাজা-বাদশা গ্রুপের’ চেয়ারম্যান বলে পরিচয় দিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁর স্ত্রী বকুলী ইয়াসমিন (৪৬), সন্তান ইমরান রাজা (২৫) ও তাঁর স্ত্রী কাকুলী আক্তার (১৯), অপর সন্তান রোমান বাদশাকে (১৮) বিভিন্ন পদে রেখেছিলেন। তাঁদের সবাইকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

র‍্যাবের দাবি, সাইফুল ইসলাম নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞানী বলে পরিচয় দিতেন। গল্পের ফাঁদ পেতে তাঁর উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্প, বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপন, পরিবেশবান্ধব যানবাহন, ডায়াবেটিস নিরাময় প্রতিষেধক, হৃদরোগ নিরাময় প্রতিষেধক প্রকল্প ও করোনা প্রতিরোধে ফর্মুলা উদ্ভাবনের কথা বলে কথিত প্রকল্পে মানুষকে বিনিয়োগের কথা বলতেন। এমনকি ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে সাইফুল ইসলাম ভুক্তভোগীদের কোটি টাকা লাভের প্রলোভনও দেখিয়েছেন। এ বিষয়ে সরাসরি ১৮ জন ভুক্তভোগী র‍্যাবের কাছে টাকা প্রতারণার অভিযোগ করেন বলে জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক। এর বাইরে র‍্যাব আরও শ খানেক ভিকটিমের সন্ধান র‍্যাব পেয়েছে বলে জানান তিনি।
র‍্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন মানুষকে সাইফুল ইসলাম বলে বেড়াতেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ হয়েছে। তাঁরা এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা দেবেন। জলবায়ুর পরিবর্তন রোধে বিশ্বে বিভিন্ন দেশে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, তা আনার কথা বলতেন সাইফুল। তিনি আরও বলতেন, তাঁর প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরকারের অনুমোদনও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। এভাবেই প্রতারণা করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে তাঁর প্রকল্প বাস্তবায়নে বিনিয়োগ করলে লাভের প্রলোভন দেখিয়ে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
এসবের মাধ্যমে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীর ব্যক্তিদের প্রতারিত করেছেন বলে জানায় র‍্যাব। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা ছাড়াও শুধু নোয়াখালীতেই ৪৫০ বিঘা জমি, বাকি জেলাগুলোয় ১ হাজার বিঘার বেশি জমি দখল করা হয়েছে। এসব ঘটনায় সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা হয়েছে।
র‍্যাবের কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, সম্প্রতি সাইফুল ইসলাম করোনাভাইরাসের জন্য ‘কয়েল–তত্ত্ব’ উদ্ভাবন করেছেন বলে ভুক্তভোগীদের কাছে দাবি করেছেন। সাইফুল ইসলাম বলে বেড়াতেন, মশার কয়েলের সঙ্গে আয়োডিন জাতীয় একটি কেমিক্যাল মিশিয়ে তিনি করোনাভাইরাসের প্রতিরোধী উপায় আবিষ্কার করেছেন। এ কয়েলের ধোঁয়া নাক-মুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করলে করোনাভাইরাস হবে না। গলা দিয়ে যেহেতু করোনা প্রবেশ করে, সেহেতু গলাতেই করোনাভাইরাস মারা যাবে।
র‍্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, বিএসসি পাসের পর সাইফুল ইসলাম প্রথমে টিউশনি করতেন। পরে পোলট্রি ফিড ব্যবসা করেন। সবশেষ তিনি নিজেকে বিজ্ঞানী ও গবেষক দাবি করে এমন অভিনব প্রক্রিয়ায় মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

Loading...