মৃত্যুর পর ছুরি নিয়ে এসে লাশ টুকরো করেন আশরাফ

একেটিভি ডেস্ক

মাগুরায় মো. আজিজুর রহমান (৩০) নামের এক যুবকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মো. আশরাফ আলী (৩৩) নামে এক আসামি। বুধবার বিকেলে মাগুরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১-এর বিচারক মোস্তফা পারভেজ আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। সন্ধ্যায় আসামিকে মাগুরা জেলা কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৬ জুন সকালে মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের কালুকান্দি গ্রামের একটি রাস্তার পাশে ও মজাপুকুর থেকে দুটি বস্তায় মোড়ানো মাথাবিহীন দেহের খণ্ডিত দুটি অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি মো. আজিজুর রহমানের বলে শনাক্ত করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। আজিজুরের বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার সংকোচখালী গ্রামে। তবে তিনি মহম্মদপুর উপজেলার বানিয়াবহু গ্রামে নানা আবুল কাশেমের বাড়িতে থেকে বড় হয়েছেন। তিনি সদর উপজেলার ইছাখাদা গ্রামে বিয়ে করেন। সবশেষ ওই গ্রামেই একটি ভাড়া বাড়ি থেকে ৫ জুন বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরদিন সকালে তাঁর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৬ জুন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মহম্মদপুর থানায় হত্যা ও লাশ গুমের মামলা করেন নিহত যুবকের ভাই মো. হাবিবুর রহমান।

ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গত সোমবার দুপুরে যশোরের শার্শা থেকে মো. আশরাফ আলী নামের এক যুবককে আটক করে র‍্যাব-৬। তিনি মাগুরা সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়নের মালিগ্রামের আহমেদ আলী বিশ্বাসের ছেলে। শহরের পারলা বেলতলা এলাকায় হিজামা অ্যান্ড হোমিও সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন তিনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুসারে ওই দিন সন্ধ্যায় মাগুরা সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়নের ঘোড়ানাস গ্রামের ইটভাটা মাসুদ ব্রিকসের পাশে একটি কালভার্টের নিচ থেকে খণ্ডিত লাশের একটি পা উদ্ধার করে র‍্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। একই জায়গা থেকে ২০-৩০ ফুট দূরত্বের মধ্যে মাথাটিও উদ্ধার করা হয়। পরে মো. আশরাফ আলীকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা মাগুরা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করে র‍্যাব। বুধবার ওই আসামিকে আদালতে নেয় সিআইডি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আশরাফ স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, হোমিওপ্যাথির ব্যবসা থেকে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আজিজুরের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। তারই ধারাবাহিকতায় আজিজুরের কাছ থেকে ২১ হাজার টাকার বায়ো স্প্রে জাতীয় পণ্যের তিনটি প্যাকেজ কেনেন তিনি। এর বিনিময়ে আশরাফকে ৩ হাজার টাকা কমিশন দেওয়ার কথা ছিল আজিজুরের। তবে ৩ হাজার টাকার জায়গায় মাত্র ৫০০ টাকা দেন আজিজুর। ৫ জুন দুপুরে বেলতায় নিজের হোমিও সেন্টারে ওই টাকা নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে আজিজুরকে চড় মারেন আশরাফ। এতে আজিজুর অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এরপর টয়লেটে নিয়ে গিয়ে আজিজুরের মাথায় পানি দেন আশরাফ। আশরাফ বুঝতে পারেন আজিজুরের হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর ওভাবে ফেলে রেখে শহর থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে ছুরি কিনে আনেন আশরাফ। হিজামা অ্যান্ড হোমিও সেন্টারের মধ্যে ওই ছুরি দিয়ে আজিজুরের মরদেহ চার খণ্ড করেন তিনি। বিকেল ও সন্ধ্যায় লাশের টুকরোগুলো বস্তায় ভরে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেন আশরাফ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাগুরা সিআইডির পরিদর্শক নিকুঞ্জ কুমার কুন্ডু একেটিভিকে বলেন, আসামি হত্যার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন। তিনি একাই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন বলে আদালতে বলেছেন। তিনি জানান, নিহত যুবকের শরীরের খণ্ডিত অংশের পাশাপাশি তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও নিহত যুবকের মোটরসাইকেল এখনো উদ্ধার হয়নি। সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।

Loading...