পরীমনি যাঁর কথায় গিয়েছিলেন, সেই অমিও বোট ক্লাবের সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২১

এই চিত্রনায়িকা একেটিভিকে বলেছেন, জিমির বন্ধু পরিচয়ে অমি তাঁদের বাসায় আসা–যাওয়া করতেন। সেভাবেই তাঁকে নিয়ে ঘুরতে বের হওয়া।

পরীমনি সোমবার সকালে সাভার থানায় তাঁকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করার কয়েক ঘণ্টা পর প্রধান আসামি নাসির (৫০), অমিসহ (৪১) পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তখনও অমির পুরো নাম আলোচনায় আসেনি। পরীমনি যে মামলা করেছেন, সেখানে শুধু অমি নামই উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ঢাকা বোট ক্লাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নাসির ইউ মাহমুদকে (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) ক্লাবের নির্বাহী কমিটি থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেখানেই অমির পুরো নাম পাওয়া যায়। তিনি তুহিন সিদ্দিকী অমি। তিনিও এই ক্লাবের সদস্য। তাঁর সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি এবং নাসির ইউ মাহমুদকে কেন্দ্র করে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরীমনির মামলায় আসামিদের মধ্যে শুধু নাসির ও অমির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদের দেখলে চিনতে পারবেন বললেও তাঁদের নাম বলতে পারেননি পরীমনি।

রোববার সংবাদ সম্মেলনে পরীমনি

রোববার সংবাদ সম্মেলনে পরীমনি

ঢাকা বোট ক্লাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার জন্য নাসির ও অমির পাশাপাশি শাহ এস আলম নামের আরেকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এই তিনজনেরই সাধারণ সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। তবে শাহ আলম সম্পর্কে এখনো পুলিশের কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গতকাল রোববার এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে পরীমনি বোট ক্লাবে তাঁকে মদ্যপানের জন্য জোরাজুরির ঘটনায় নাসিরের সঙ্গে আরেকজন ‘বয়স্ক লোকের’ কথা বলেছিলেন। তিনিই শাহ আলম কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পরীমনির ঘটনা তদন্তে একটি কমিটিও করেছে ঢাকা বোট ক্লাব। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ঠিকাদার থেকে আবাসন ব্যবসায়ী নাসির

পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টার প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন কুঞ্জ ডেভেলপারস লিমিটেড নামের একটি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ ছাড়া মাহমুদ বিল্ডার্স অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড এবং ফোর স্টার রিসোর্ট অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডেরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। নাসির তিন দফায় উত্তরা ক্লাবের সভাপতি ছিলেন।

তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, নাসির উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন তিনি। আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।

আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কুঞ্জ ডেভেলপারস ছাড়াও আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির ইউ মাহমুদ

আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কুঞ্জ ডেভেলপারস ছাড়াও আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির ইউ মাহমুদ

শিক্ষাজীবন শেষ করে ঠিকাদারি শুরু করা নাসির একসময় আবাসন ব্যবসায় চলে আসেন। একসময় ছাত্রদল করলেও পরে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন তিনি। বর্তমানে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য তিনি।

কয়েক বছর আগে নাসির জাতীয় পার্টি থেকে ঝালকাঠি–১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। পরে দলের মনোনয়ন পাননি তিনি। সম্প্রতি ঢাকা–১৮ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় তাঁর নামও আলোচনায় এসেছিল। তবে পরে দলীয় মনোনয়নপত্র তোলেননি তিনি।

Loading...