শরীয়তপুরে চুরির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শিশু উদ্ধার

ইহসানুল তামজিদ প্রতিনিধি শরীয়তপুর প্রকাশ: ২৮ মে ২০২১

সিসি ক্যামেরার ধরা পড়া শিশু মাহমুদ হাসানকে চুরির দৃশ্য। শরীয়তপুরের ধানুকায়
ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া ভিডিওর স্ক্রিনশট

শরীয়তপুর শহরের ধানুকা এলাকা থেকে পাঁচ মাস বয়সী শিশু চুরির কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এ সময় শিশুটিকে চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে শিশুটি চুরির ঘটনা ঘটে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চুরির সময়কার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, শিশুর ছবি ও ওই নারীর ছবি দেখে সন্ধ্যায় নড়িয়ার একটি গ্রাম থেকে শিশুটি উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম মাহমুদ হাসান। তার বয়স পাঁচ মাস চলছে। সে ধানুকা এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন ব্যাপারীর ছেলে। আটক নারীর নাম তানিয়া সিকদার (২২)। তিনি শরীয়তপুর পৌরসভার স্বর্ণঘোষ এলাকার বাসিন্দা। শুক্রবার সন্ধ্যায় নড়িয়া থানা-পুলিশ উপজেলার সিরঙ্গল গ্রামের একটি বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া শিশুসহ তাঁকে আটক করে।

পুলিশ ও শিশুর পরিবার জানায়, শরীয়তপুর শহরের ধানুকা এলাকায় বিল্লাল হোসেন ব্যাপারীর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তানিয়া সিকদার। তিনি পার্শ্ববর্তী স্বর্ণঘোষ গ্রামের মৃত আজিজ সিকদারের মেয়ে। ওই নারী তিন মাস আগে বিল্লালের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। শুক্রবার বিল্লালদের বাড়ি বেড়াতে আসেন। এ সময় বিল্লালের ছেলে মাহমুদকে কোলে নিয়ে আদর করেন তিনি। দুপুরে যখন বাড়ির পুরুষ সদস্যরা নামাজ আদায় করতে মসজিদে যান, এ সুযোগে ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে পালান। শিশুটিকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকেন। কোথাও না পেয়ে বাড়ির সামনে একটি প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ভিডিও পরীক্ষা করা হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শিশু মাহমুদকে কোলে নিয়ে দ্রুতবেগে পালাচ্ছেন তানিয়া।

সিসি ক্যামেরার ধরা পড়া শিশু মাহমুদ হাসানকে চুরির দৃশ্য। শরীয়তপুরের ধানুকায়

সিসি ক্যামেরার ধরা পড়া শিশু মাহমুদ হাসানকে চুরির দৃশ্য। শরীয়তপুরের ধানুকায়
ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া ভিডিওর স্ক্রিনশট

তখন ওই শিশুর খোঁজে বিভিন্ন স্থানে যান তার স্বজনেরা। ওই শিশুর ফুফাতো ভাই মো. আদনান হোসেন ও আত্মীয়রা ফেসবুকে শিশুটির ছবি, তানিয়ার ছবি এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যুক্ত করে সন্ধান চেয়ে পোস্ট করেন। বিকেলে একটি পিকআপ ভ্যানের চালক ওই ছবি দেখে শিশুর পরিবারের সদস্যদের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে তার সন্ধান দেন। এরপর নড়িয়া থানার পুলিশ সিরঙ্গল থেকে শিশুটিকে উদ্ধার ও তানিয়াকে আটক করে।

আদনান হোসেন বলেন, ‘তানিয়া বাড়ির আগের ভাড়াটে হওয়ার কারণে পূর্বপরিচিত ছিলেন। তিনি যে গাড়িতে করে পালিয়েছিলেন, তার চালক ফেসবুকে চুরির ঘটনা জেনে ও তাদের ছবি দেখে আমাদের ফোন করেন। তখন আমরা সেখানে যাই, মাহমুদকে শনাক্ত করে পুলিশকে জানাই।’

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবনি শংকর কর একেটিভিকে বলেন, ‘শিশু চুরির ঘটনা শুনে সিরঙ্গল গ্রাম থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেছি। অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। যেহেতু শরীয়তপুর সদরের ঘটনা, তাই সদরের পালং মডেল থানায় মামলা হবে।

Loading...