ইয়াসমিন ট্রাজেডি দিবস আজ

দিনাজপুর প্রতিনিধি রায়হান কবির | ২৩ আগষ্ট ২০২০

১৯৯৫ সালের এই দিনে পুলিশ হেফাজতে ধর্ষিত হয়ে প্রাণ দিতে হয় ১৫ বছরের ইয়াসমিন আখতারকে। প্রতি বছর দিনটি পালন হয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস বা ইয়াসমিন দিবস হিসাবে। মাকে দেখতে ইয়াসমিন ঢাকা থেকে রওনা দেন গাইবান্ধাগামী হাছনা এন্টারপ্রাইজ নৈশকোচে। রাতে দিনাজপুরে নেমে যায় সে। এরপর তাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়ার নাম করে পিকআপে তুলে নেয় পুলিশ। কিন্তু পুলিশ ভ্যানে উঠেই ইয়াসমিনকে বিদায় নিতে হয় পৃথিবী থেকে। ১০ মাইল থেকে দিনাজপুর শহরে আসার পথে ব্র্যাক স্কুলের সামনে ভোরের দিকে পুলিশ ভ্যানে উপস্থিত ৩ জন সদস্য এসআই মইনুল, কনেস্টবল সাত্তার ও অমৃত ইয়াসমিনের শ্লীলতাহানী ঘটিয়ে চলন্ত পিক আপ ভ্যান থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনায় প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠে দিনাজপুর। বিক্ষুদ্ধ জনতার ওপর চলে পুলিশের গুলি। নিহত হন সামু, কাদের, সিরাজসহ সাতজন। আহত হয় শতাধিক। এ ঘটনায় ক্ষমা চায় প্রশাসন। শাস্তি পায় অপরাধী পুলিশ। ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যাকারি তিন পুলিশের বিরুদ্ধে করা মামলার আসামি একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ তিনজনের ফাঁসির রায় কার্যকর হয় ২০০৪ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর।
ইয়াসমিনের স্মরণে দিনাজপুরের দশ মাইল এলাকায় তৈরী করা হয়েছে ইয়াসমিন স্মরণী।
নারী নির্যাতনের এই যুগান্তকারী প্রতিবাদী ঘটনাকে স্মরণীয় করতেই প্রতিবছর ২৪ আগস্ট দিনটি সারাদেশে ‘নারী নির্যাতন ও প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। তবে দিনাজপুরে এই দিনটি ইয়াসমিন হত্যা দিবস হিসেবেই পালন করা হয়।

Loading...