৮৫ টাকার জুয়া খেলে জিতলো ৬ কোটি টাকা

কথায় আছে না, রাখে আল্লাহ্ মারে কে! যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ফ্রেন্স লিক ক্যাসিনোতে মাত্র ১ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৫ টাকা) জুয়া খেলে এক ব্যক্তি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ জিতে নিয়েছেন ৬৯ হাজার ৬২৩ ডলার (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ কোটি টাকা)।

 

এই ঘটনা এই ক্যাসিনোর ইতিহাসে প্রথম কেউ এতো বিশাল বড় অংকের অর্থ জেতার ঘটনা ঘটল বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ফের বাড়তে পারে বিধিনিষেধ

ক্যাসিনোর স্লট মেশিনে মাত্র এক ডলার দিয়ে এতো বড় অংকের অর্থ জেতার ঘটনা সরাচর ঘটে না বলে ক্যাসিনো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

জুয়া

এই জ্যাকপটের ব্যাপারে ক্যাসিনোর স্লটের পরিচালক জেফ হুইরেট জানান, ইন্ডিয়ানায় ১৬বছরে এতো বিশাল অংকের অর্থ জ্যাকপট জেতার ঘটনা বিরল।

 

বিশেষ করে কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন ক্যাসিনোতে তো এতো বিশাল অংকের অর্থ জেতার ঘটনা ঘটে না বলেই চলে।

জুয়া খেলে এক ব্যক্তি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ

 

আরো পড়ুন…

মদ-জুয়া-ক্লাব নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত আলোচনা

 

রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাব, মদ ও জুয়া নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। চিত্রনায়িকা পরীমণির ঘটনার সূত্র ধরে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সূত্রপাত ঘটালেও তাতে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ অন্য দলের এমপিরা অংশ নেন। এ প্রেক্ষাপটে আলোচনায় কিছুক্ষণের জন্য সংসদ সরব হয় ওঠে। এ সময় মদের অনুমোদন নিয়ে পরস্পরের ওপর দোষারোপ করা হয়।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু ছাড়াও আওয়ামী লীগের শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বিএনপির একজন সংসদ সদস্য, তরীকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী এবং বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা আলোচনায় অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন।

চুন্নু আলোচনার শুরুতে বলেন, কয়েক দিন ধরে একজন চিত্রনায়িকার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি উত্তরা বোট ক্লাব। কে করল এই ক্লাব? এই ক্লাবের সদস্য কারা হয়। শুনেছি ৫০-৬০ লাখ টাকা দিয়ে এর সদস্য হতে হয়। এত টাকা দিয়ে কারা এর সদস্য হয়? আমরা তো ভাবতেই পারি না। সারা জীবন এত ইনকামও করি না।
রাজধানীর কয়েকটি ক্লাবের নাম উল্লেখ করে চুন্নু বলেন, এসব ক্লাবে মদ খাওয়া হয়। জুয়া খেলা হয়। বাংলাদেশে মদ খেতে হলে লাইসেন্স লাগে। সেখানে গ্যালন গ্যালন মদ বিক্রি হয়। লাইসেন্স নিয়ে খেতে হলে এত মদ তো বিক্রি হওয়ার কথা নয়। সরকারি কর্মকর্তারা এখানে কীভাবে সদস্য হয়? এত টাকা কোথা থেকে আসে?

রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ডিজে পার্টি বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে তিনি বলেন, গুলশান-বারিধারা এলাকায় ডিজে পার্টি হয়। সেখানে ড্যান্স হয়। মদ খাওয়া হয়। এসব আমাদের আইনে নেই, সংস্কৃতিতে নেই, ধর্মে নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলব, আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন কেন এসব হচ্ছে? কেন বন্ধ করা হবে না? ওইসব ক্লাবের সদস্য কারা হয়? পরীমণির যে ঘটনা সেটা বোট ক্লাবে। ওই জায়গার একজন মালিক আছেন। তিনি যেতেও পারেন না। এসব দেখতে হবে।

জাপার এই সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পর শেখ সেলিম ফ্লোর নিয়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে মদ ও জুয়ার লাইসেন্স দেওয়ার জন্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, এ তো বোট ক্লাব, জিয়াউর রহমান স্টিমার ক্লাব করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু মদ-জুয়ার লাইসেন্স বন্ধ করে দিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান আবার চালু করেছিলেন। যারা অপরাধের শুরু করেছে তাদের আগে বিচার করা উচিত। ওখান থেকে ধরতে হবে।

বিএনপির একজন সংসদ সদস্য এ সময় স্পিকারের কাছ থেকে ফ্লোর নিয়ে বলেন, আমাদের বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য একটি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু সিনিয়র এক সদস্য কোথায় চলে গেলেন? বাংলাদেশে অনেক বিদেশি থাকেন। এ ছাড়া অন্য ধর্মের মানুষদের জন্য, ডোমদের জন্য মদের বৈধতা আছে। কোনো মুসলমানের জন্য আইনে অনুমতি নেই। জিয়াউর রহমান যদি মুসলমানদের মদের লাইসেন্স দিয়ে থাকেন যদি প্রমাণ করতে পারেন আমি সদস্য পদ ছেড়ে দেব। তিনি বলেন, এসব ক্লাবে মদের ব্যবসার সঙ্গে সরকারি লোক জড়িত। আমি চ্যালেঞ্জ করছি। পুলিশ এসব জায়গা থেকে টাকা নেয়। প্রধানমন্ত্রী কোনো দলের নয়, তিনি রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী। এসব খুঁজে দেখা হোক। বিএনপির এই সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পর শেখ সেলিম আবারও ফ্লোর নেন।

তিনি বলেন, লাকী খানের ঝাঁকি নাচের কথা কী ভুলে গেলেন? হিযবুল বাহার। জিয়াউর রহমান এগুলো করেছিলেন। সরকার কোনো মুসলমানকে মদের পারমিশন দেয়নি। বন্ধ করতে গেলেই আপনারা (বিএনপি) চিল্লাচিল্লি করবেন। বলবেন, ফরেনারদের পারমিশন লাগবে। তরীকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, হারুন সাহেবের সদস্য পদ আজই ছেড়ে দেওয়া উচিত। তিনি বললেন, জিয়াউর রহমান মুসলমানদের মদ খাওয়ার পারমিশন দেননি। তিনি দেখাক, আইনে কোথায় বলা আছে মুসলমানরা মদ খেতে পারবেন না। আইন এখানে এনে দেখাক। পদ ছেড়ে দিক।

পরে জাতীয় পার্টির সদস্য বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ মশিউর রহমান বলেন, এখানে রাষ্ট্রীয় কিছু বিষয় আছে। বঙ্গবন্ধু লাইসেন্স দেননি। ২১ বছরে আইনকে মিসইউজ করে এটা করা হয়েছে। বিদেশিদের অ্যারেঞ্জমেন্টের জন্য এটা করেছে। ক্লাবগুলোতে একজন ডাক্তার দিয়ে সার্টিফিকেট নিয়ে নেয়, দৈনিক মদ খেতে হবে। তারপর লাইসেন্স নেওয়া হয়। বিএনপি এই লাইসেন্স দিয়েছিল। এখন কোনো মুসলমান যদি মদ খায় সেখানে সরকারের কিছু করার নেই। বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ রংপুরের ইসলামিক বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানকে খুঁজে বের করার দাবি জানান।

পরীমণির মামলায় আটক জাতীয় পার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিষয়ে রাঙ্গা বলেন, পরীমণি অভিযোগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দোষী হলে অবশ্যই বিচার হবে।

 

 

আরো পড়ুন…

বলিউড তারকা শিল্পা শেঠি ফেঁসে যাচ্ছেন!

 

বলিউড তারকা, অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী শিল্পা শেঠি তাঁর স্বামী রাজ কুন্দ্রার পর্ণো ব্যবসার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত আছে কিনা, তা বর্তমানে খতিয়ে দেখছে মুম্বাই পুলিশ। কারণ এই বলিউড অভিনেত্রী স্বামীর অধিকাংশ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছে বলে জেনেছে মুম্বাই পুলিশ। শিল্পা, বলিউড এই অভিনেত্রী তাঁর স্বামীর অবৈধ পর্ণোগ্রাফি ব্যবসা সম্পর্কে কতটুকু জানতেন তারই তদন্ত করছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এ ব্যাপারে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে জানতে গত ২৩ জুলাই শিল্পা আর রাজের বিলাসবহুল বাড়িতে অভিযানে গিয়েছিল মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।

অভিযানের সময় তাঁরা রাজ কুন্দ্রাকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিল। শিল্পা ও রাজকে পাশাপাশি বসিয়ে তারা ছয় ঘণ্টার মতো জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ জানতে পেরেছে যে শিল্পা ‘ভিয়ান ইন্ডাস্ট্রি’তে নির্দেশকের পদে নিযুক্ত ছিলেন। তবে কিছুদিন আগে এই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন এই বলিউড নায়িকা। বর্তমানে তা তদন্ত করে দেখছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ।

এছাড়া ভিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের থেকে কোন রকমের আর্থিক সুবিধা শিল্পা পেতেন কিনা সে ব্যাপারেও নজর রাখছে মুম্বাই পুলিশ। আর এজন্যই শিল্পার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখছে তাঁরা। তবে এখনো পর্যন্ত শিল্পা শেঠি কে গ্রেপ্তার করেনি ক্রাইম ব্রাঞ্চ। তবে সূত্রমতে আবারো তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ  করা হতে পারে। এরইমধ্যে ভারতের কিছু শীর্ষ সংবাদ মাধ্যম জল আরও ঘোলা করেছে। তাঁদের দাবি, রাজের ‘হটশটস’ অ্যাপের ব্যাপারে ভালোভাবেই জানতেন শিল্পা।

শিল্পা শেঠির বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ তিনি তাঁর স্বামীর সব কীর্তি আড়াল করেছেন। ক্রাইম ব্রাঞ্চের জালে আটক হওয়ার পর জানা গিয়েছে যে, ‘হটশটস’ অ্যাপে ২০ লাখের বেশি গ্রাহক ছিলেন। গভীর তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ এক ভয়াবহ তথ্য জানতে পারে। তদন্তের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পেরেছে যে ১০ কোটি রুপির বিনিময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ১২১ পর্ণো ভিডিও  শিল্পার স্বামী বিক্রি করতে চলেছিলেন।

তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে পর্ণোগ্রাফি আইন অনুযায়ী মামলা হয়েছে। এ মামলায় ভিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা জানার জন্য উক্ত প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ। রাজ কুন্দ্রা গ্রেফতার হবার পরেই  বিভিন্ন তথ্য ও ভিডিও ডিলিট করার প্রমাণ পেয়েছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এক্ষেত্রে ডিলিট করা ডেটা পুনরায় উদ্ধার করার চেষ্টা করছে ফরেনসিক বিভাগ। ইতোমধ্যে পুলিশের তদন্তে  জানা গিয়েছে একটা মোটা অঙ্কের টাকা রাজের অ্যাকাউন্টে এসেছে কোনো এক জুয়া কোম্পানী থেকে।

অপরদিকে রাজ তাঁর গ্রেপ্তার অবৈধ উল্লেখ করে মুম্বাই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।  তাঁর অভিযোগ, অবৈধ ভাবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৩ জুলাই রাজ ও এই মামলায় অন্যতম মূল অভিযুক্ত রায়ন থার্পের রিমান্ড শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ক্রাইম ব্রাঞ্চের আবেদনে ২৭ জুলাই অব্দি তাঁদের রিমান্ড আরো বৃদ্ধি করেছেন আদালত। রিপোর্ট লেখা অব্দি শিল্পার স্বামী রাজ কুন্দ্রা সহ এই কান্ড সর্বমোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ।

রাজ সম্পর্কে ক্রাইম ব্রাঞ্চের আরো একটি অভিযোগ যে পুলিশের তদন্তকার্যে কোনরকম সাহায্য করছেন না তিনি। গত ১৯ জুলাই রাতে রাজ কে গ্রেফতার করে  কারাগারে পাঠায় মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।

 

আরো পড়ুন…

 

পৃথিবীর সবচেয়ে পাপ হয় যে শহরে

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের একটি শহর লাস ভেগাস। সারাবিশ্বে এটি প্রমোদ নগরী হিসাবে পরিচিত। মনোরঞ্জনের রাজধানীও বলা হয়! সব ধরনের পাপ কর্ম শহরটিতে হরহামেশাই হয়ে থাকে। জুয়ার ক্যাসিনো, পতিতাবৃত্তি ও অর্থ-পাচারের জন্য এটাকে পাপের শহর বলা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে হাজার হাজার মাইল পেরিয়ে পর্যটকরা এখানে শুধু মনোরঞ্জনের জন্যই আসেন প্রতি বছর। সব সময়ে তাই ভিড় লেগেই থাকে। এই শহরেই চলে সব ধরনের পাপ কর্ম।

জুয়া খেলার জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বড় ক্যাসিনোসহ সারা বিশ্বের বৃহত্তম বিলাসবহুল হোটেলের অধিকাংশই সেখানে অবস্থিত। অর্থ-পাচারের রাজধানী হিসেবেও খ্যাতির চূড়ায় রয়েছে শহরটি। তবে মজার বিষয় হলো, বহু ধর্ম, জাতিগোষ্ঠীর বসবাসে সমৃদ্ধ নিউইয়র্ক নগরীতে পতিতাবৃত্তি এখনো আইনত নিষিদ্ধ। অর্থের বিনিময়ে যৌনকর্মের জন্য জেল জরিমানার দণ্ড রয়েছে। এ আইনের কড়াকড়ি আরোপ থাকার ফলে নিউইয়র্কে যৌনকর্মীদের গোপন আস্তানায় প্রায়ই ধরপাকড় হয়। যৌন অপরাধের জন্য আইন লঙ্ঘনকারীদের প্রায়ই দণ্ড পেতে হয়। যদিও পতিতাবৃত্তি বৈধ করার আন্দোলনে সোচ্চার পতিতারা। তবে এখনো আশার মুখ দেখেনি তারা।

Loading...