৮০টি স্ল্যাব বসালেই হয়ে যাবে যান চলাচলের পথ

শাকের আব্দুল্লাহ্

পদ্মা সেতু প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত মূল সেতুর কাজ এগিয়েছে ৯৪ শতাংশ। পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৮৭ শতাংশ। আগামী জুনে কাজ শেষ করার সময়সীমা ঠিক করা আছে। তবে মূল সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) আগামী এপ্রিলের মধ্যেই কাজ শেষ করার পরিকল্পনা জমা দিয়েছে।

সেতু বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের কাজের শুরুতেই পদ্মা সেতুর মালামাল রাখা, সরঞ্জাম তৈরি ও কর্মীদের থাকার জন্য মাওয়া প্রান্তে বিরাট নির্মাণমাঠ তৈরি করা হয়। এই মাঠে বড় তিনটি ও ছোট আরও ২৫টির মতো ছাউনি আছে। এর মধ্যে একটা বড় ছাউনিতে পাইল তৈরির কাজ হতো। এখন আর এর দরকার নেই বলে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। যে ছাউনিতে স্টিলের স্প্যান জোড়া দেওয়া ও রং করা হতো সেটির কাজও শেষ।

তবে সেখানে এখন রেলপথে হাঁটার পথ তৈরি ও গ্যাস পাইপলাইন বসানোর মালামাল তৈরি হচ্ছে। এরপর সেটিও ভেঙে ফেলা হবে। দিন দিন শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যাও কমতে থাকবে। তখন হয়তো থাকার জায়গাও ভেঙে ফেলা হবে আস্তে আস্তে।

এ বিষয়ে প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম একেটিভিকে বলেন, আস্তে আস্তে মিলনমেলা ভেঙে যাবে। সব বড় প্রকল্পেই কাজের শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকে। শেষের দিকে লোকবল কমতে থাকে। গোটাতে হয় সব।

তখন এর সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মন খারাপ হয়। তিনি বলেন, আগস্টে স্ল্যাব বসানোর কাজ শেষ হলে কর্মী কমে যাবে। আস্তে আস্তে নির্মাণমাঠের অবকাঠামোও সরানো হবে।

স্ল্যাব

পদ্মা সেতু দ্বিতলবিশিষ্ট। এর ওপর দিয়ে চলাচল করবে যানবাহন। এর মধ্যে মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। ২ হাজার ৯১৭টি কংক্রিটের স্ল্যাব জোড়া দিয়ে এই পথ নির্মাণ করা হচ্ছে। আর ৮০টি স্ল্যাব বসালেই এই কাজ শেষ হবে। এ ছাড়া মূল সেতু থেকে মাটি পর্যন্ত দুই প্রান্তে উড়াল সড়ক (ভায়াডাক্ট) ৩ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার।

সব মিলিয়ে সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ কিলোমিটার। জাজিরা প্রান্তের ভায়াডাক্ট নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে আগেই। ঈদুল আজহার দিন মাওয়া প্রান্তে সর্বশেষ স্ল্যাব বসানো হয়েছে। এখন মূল সেতুর বাকি স্ল্যাব বসানো হলে পুরো ১০ কিলোমিটার চালু হয়ে যাবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্ল্যাব বসানোর পাশাপাশি এখন সড়ক বিভাজক ও পাশের প্রতিরক্ষা দেয়াল (প্যারাপেট ওয়াল) বসানোর কাজ চলছে। এসব কাজ শেষে শুরু হবে পিচ ঢালাইয়ের কাজ। গত ১৩ জুলাই ৬০ মিটার এলাকায় পরীক্ষামূলক (ট্রায়াল) পিচঢালাই করা হয়েছে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে শুরু হবে সেতুর পিচ ঢালাইয়ের কাজ।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কংক্রিটের পথের ওপর প্রথমে ২ মিলিমিটারের পানিনিরোধক একটি স্তর বসানো হবে, যা ওয়াটারপ্রুফ মেমব্রেন নামে পরিচিত। এটি অনেকটা প্লাস্টিকের আচ্ছাদনের মতো। তারপর পাথর, সিমেন্ট ও বিটুমিন দিয়ে কয়েক স্তরের পিচঢালাই হবে। এর পুরুত্ব হবে প্রায় ১০০ মিলিমিটার।

সেতুর নিচতলা দিয়ে চলবে ট্রেন। গত ২০ জুন ২ হাজার ৯৫৯টি স্ল্যাব বসানোর মাধ্যমে মূল সেতুতে রেলপথ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। ওই পথে এখন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য হাঁটার পথ ও গ্যাস পাইপলাইন বসানোর কাজ চলছে। মূল সেতু থেকে উড়াল রেলপথ (ভায়াডাক্ট) জাজিরা প্রান্তে শেষ হয়েছে। মাওয়া প্রান্তে অল্প কিছু বাকি আছে।

স্ল্যাব

স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হলে এর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হবে দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিবছর কী পরিমাণে যানবাহন চলাচল করবে, তা নিয়ে ২০০৯ সালে একটি বিস্তারিত সমীক্ষা করে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

এতে দেখা যায়, ২০২২ সালের শুরুতে যদি পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়, তাহলে ওই বছর সেতু দিয়ে চলাচল করবে প্রায় ২৪ হাজার যানবাহন। সংখ্যাটি প্রতিবছরই বাড়বে। ২০৫০ সালে প্রায় ৬৭ হাজার যানবাহন চলবে পদ্মা সেতু দিয়ে।

যে যেভাবে পারছে ছুটছে মানুষ কর্মস্থলের দিকে

সেতু বিভাগের তথ্য বলছে, ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূল সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান বসানো হয়। গত ১০ ডিসেম্বর সেতুতে ৪১তম অর্থাৎ শেষ স্প্যানটি বসানো হয়।
পদ্মা সেতু এবং এর দুই প্রান্তে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত রেললাইন বসাতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার আলাদা একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রেল কর্তৃপক্ষ। ঢাকার গেন্ডারিয়া থেকে এই রেলপথের শুরু। তবে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত অংশ আগে চালু করার পরিকল্পনা আছে।

২০২৪ সালের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময়সীমা ধরা আছে।

কাল থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ টিকা শুরু

 

আগামীকাল সোমবার থেকে ঢাকার সব জেলা ও মহানগরে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার (কোভিশিল্ড) দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হবে। সারা দেশে এই টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হবে ৭ আগস্ট থেকে। আজ রোববার স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক চিকিৎসক শামসুল হক এক অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান।

আরো উচ্চ মাত্রায় যাচ্ছে করোনা ভয়াল আগস্টের অপেক্ষায় দেশ

 

সারাবিশ্বে উদ্বেগ সৃষ্টিকারী করোনা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপটে বাংলাদেশেও দৈনিক রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়েছে বেশ কয়েকগুণ। আরো উচ্চ মাত্রায় যাচ্ছে করোনা ভয়াল আগস্টের অপেক্ষায় দেশ

করোনার ঊর্ধ্বগতির ফলে জুলাইয়ের শুরুতে দেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। পরে ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে লকডাউন শিথিল করে সরকার। এই সুযোগে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে গেছে অসংখ্য মানুষ।

শ্রমিকদের জন্য বাস ও লঞ্চ চলছে
প্রাইভেট কার, মাইক্রো, বাসে, লঞ্চে কিংবা ফেরিতে গাদাগাদি করে গ্রামে গিয়েছেন ঈদ উদযাপন করতে। আবার ঈদের পরের কয়েকদিনে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই একইভাবে ঢাকায় ফিরেছে মানুষ।

কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল ঘোষণার পরেই কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্যরা বলছেন, শিথিলতার এ নির্দেশনায় তাদের সায় ছিলো না। সরকারের শিথিল বিধিনিষেধের এ ঘোষণা তাদের পরামর্শের উল্টো চিত্র।

এ সময় এ ধরনের শিথিলতা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ারই শামিল। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলো, স্বাস্থ্য অধিদফতর যেখানে বারবার ভিড় এড়িয়ে চলার কথা বলছে, সেখানে সংক্রমণের পিক টাইমে এ ধরনের ঘোষণা আমাদের আরও খারাপ অবস্থায় নিয়ে যাবে।

সে আশঙ্কাকে সত্যি করে দেশে ঈদের পর থেকে দৈনিক রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর একের পর এক রেকর্ড দেখতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। আর এতে করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার করা তালিকায় বিশ্বে এখন যেসব দেশে দৈনিক রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু সবচেয়ে বেশি হচ্ছে, সেই তালিকায় অষ্টম অবস্থানে বাংলাদেশ।

করোনা
এদিকে, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই রোববার থেকে পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। ঈদের পরও যেসব পোশাক কর্মী গ্রামে অবস্থান করছিলেন এমন খবরে তারা এরই মধ্যে ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন।

গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা পিকআপ, ট্রাক ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যান ও রিকশায় বাড়ি থেকে রওয়া হয়েছেন। যানবাহন না পেয়ে অনেকে হেঁটে ছুটছেন গন্তব্যের পথে। আবার অনেকে গাড়ি পাওয়ার আশায় বিভিন্ন স্ট্যান্ডে ও সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে জড়ো হয়ে অপেক্ষা করছেন দীর্ঘক্ষণ।

৮০টি স্ল্যাব বসালেই হয়ে যাবে যান চলাচলের পথ

করোনা সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকি থাকলেও এসব শ্রমিকের কাছে চাকরি রক্ষা করাটা বেশি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন তারা।

আরো উচ্চ মাত্রায় যাচ্ছে করোনা ভয়াল আগস্টের অপেক্ষায় দেশ

বিধিনিষেধে ফেরিতে যাত্রী পারাপার নিষিদ্ধ হলেও যাত্রীরা তা মানছেন না বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জিল্লুর রহমান।

একেটিভিকে তিনি বলেন, বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত যানবাহন পারাপারে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে মাত্র ছয়টি ফেরি চালু রাখা হয়েছে। জরুরি পরিষেবায় নিয়োজিত যানবাহন পারাপারের সময় যাত্রীরা ফেরিতে ওঠে পড়েন। চেষ্টা করেও তাদের ফেরি থেকে নামানো যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চলমান কঠোর লকডাউন আরও বাড়াতে চেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম একেটিভিকে জানিয়েছেন, তারা চান লকডাউন কন্টিনিউ হোক।

যে যেভাবে পারছে ছুটছে মানুষ কর্মস্থলের দিকে
যদিও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। চলমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের সুপারিশ এটা কনটিনিউ করার। কেবল অতি জরুরি সেবা ছাড়া যেভাবেই হোক সবকিছু সীমিত রাখতে হবে। এগুলো মনিটর করতে হবে। সব খুলে দিলে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাবে, অবশ্যই বেড়ে যাবে।

গত ২৫ জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কনভেনশন সেন্টারে ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, যেভাবে রোগী বাড়ছে, হাসপাতালে বেড সংকট দেখা দিতে পারে।

ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ বেড রোগীতে ভর্তি হয়ে গেছে। দেশে ঈদুল আজহার ছুটিতে গ্রামে যাওয়া আসার কারণে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়েছে পাঁচ থেকে ছয় গুণ। এছাড়া শহরের হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীর ৭৫ শতাংশই গ্রাম থেকে আসা।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বাড়তে শুরু করেছে। যেভাবে রোগী বাড়ছে তাতে হাসপাতালের বেড সংকট দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ বেড রোগীতে ভর্তি হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

যে যেভাবে পারছে ছুটছে মানুষ কর্মস্থলের দিকে

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এর আগে বলেছিলেন, ঈদের সময়ের শিথিল লকডাউনের প্রভাব দেখা যাবে আরও দুই সপ্তাহ পর। এখন যে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি এবং মৃত্যু সংখ্যা দেখা যাচ্ছে সেটা আগের শিথিল লকডাউনের প্রভাব।

সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতির জন্য মানুষের স্বাস্থ্যবিধি না মানার সঙ্গে সঙ্গে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকেও দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেবল বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বগতির জন্য প্রধানতম কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাজ্যে প্রথম শনাক্ত হয় করোনার আলফা ধরন।

এই ধরনকে অতি সংক্রামক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ভারতে করোনার ডেলটা ধরন শনাক্তের পর তা দ্রুত দেশটিতে ছড়িয়ে পড়ে।

ব্রিটেনে করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স উদ্যোগের প্রধান মাইক্রোবায়োলজিস্ট শ্যারক পিকক বলেন, এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ডেল্টা।

করোনার আরও ভয়ঙ্কর রূপ প্রকাশ, শুধু ফুসফুস নয় বিকল করে দিচ্ছে কিডনিও!

এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুততম ও সবল ভ্যারিয়েন্ট। চীনের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত ব্যক্তির নাকে করোনার মূল ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে ১ হাজার গুণ বেশি ভাইরাস থাকে।

দ্রুত সংক্রামন এই ভ্যারিয়েন্ট সক্রিয় থাকাকালে লকডাউন শিথিল হওয়ায় আগস্ট মাস পর্যন্ত অবস্থা আরও খারাপ হবে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন।

বাস

তিনি বলেন, কঠোর লকডাউন যদি সঠিকভাবে পালন হয়, তাহলে হয়তো একটা ভালো সুফল আগস্টের শেষের দিকে পাবো।

বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করে তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোর একটা ক্যাপাসিটি রয়েছে, এত রোগী যদি সংক্রমিত হতে থাকে তাহলে সে ক্যাপাসিটি শেষ হয়ে যাবে।

হাসপাতালের সক্ষমতা রয়েছে ১৫ হাজার বেডের মতো, কিন্তু আর কত বাড়ানো যাবে, কিন্তু ১৫ হাজারের বেশি রোগী হতে বেশি সময় লাগবে না। যে হারে সংক্রমণ চলছে।

দেশে রোগ এবং রোগের বিস্তার নিয়ে গবেষণা করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেনের আশংকা, আগস্ট মাসের মাঝামাঝি নাগাদ পরিস্থিতি ভয়ংকর হবে।

কাল থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ টিকা শুরু

এখন যে খারাপ পরিস্থিতিটা হচ্ছে তা দুই সপ্তাহ আগের পরিস্থিতি আর মৃত্যু যেটা হচ্ছে সেটা তিন সপ্তাহ আগের পরিস্থিতি উল্লেখ করে মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন একেটিভিকে বলেন, ঈদের আগে যে এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় লকডাউন শিথিল ছিল তার প্রভাব দেখা যাবে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে।

তিনি বলেন, সংক্রমণ ও শনাক্তে এখন যে প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তার কারণ জুলাইয়ের শুরুর দিকে লকডাউনের পরিস্থিতির সময় আমরা খুব একটা উন্নতি করতে পারিনি। আর শিথিল লকডাউনের দুই সপ্তাহ পূর্ণ হবে আগামী সপ্তাহে। তার প্রভাব দেখা যাবে আগস্টের প্রথম নাগাদ, তারও এক সপ্তাহ পর দেখা যাবে মৃত্যু পরিস্থিতি।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার (কোভিশিল্ড) দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হবে
তারপর হয়তো কমতে পারে, যদি কঠোর বিধিনিষেধ গ্রামাঞ্চলে কার্যকর করা যায়, তাহলে হয়তো দুই থেকে তিন সপ্তাহ নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি হতেও পারে, বলেন তিনি।

মার্চে সংক্রমণ বেড়েছে, জুনে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে, জুলাইয়ে কঠিন হয়েছে আর আগস্টে আরও জটিল, আরও গুরুতর পরিস্থিতি হতে পারে বলেও আশঙ্কা এই বিশেষজ্ঞের।

তার মতে, হাসপাতালে এখনই জায়গা নেই, একইসঙ্গে হাসপাতালের সক্ষমতাতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যন্ত্রপাতি বাড়ালেও বিশেষজ্ঞ পাওয়া যাচ্ছে না।

এই অবস্থাতে স্বেচ্ছাসেবকদের স্বাস্থ্যসেবার প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, মেডিক্যাল শিক্ষার্থী-নার্সিং শিক্ষার্থী-মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের ভলান্টিয়ার করা যায়।

তারা জনস্বাস্থ্যবিদ, বিশেষজ্ঞ অ্যানিস্থেসিওলজিস্টদের পরামর্শ মেনে কাজ করবেন। তাদের যদি কাজে লাগানো না হয়, তাহলে সামাল দেওয়া যাবে না। এগুলো না করা গেলে আত্মরক্ষাও হবে না।

এনআইডি ছাড়া যেভাবে টিকা পাওয়া যেতে পারে
যে সময়ের লকডাউনই ধরি না কেন, লকডাউনতো হয় নাই’ মন্তব্য করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠিত পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য আবু জামিল ফয়সাল একেটিভিকে বলেন, এর প্রভাব দেখতেই পাচ্ছি। সংক্রমণ বাড়ছে-মৃত্যুও হচ্ছেই।

তিনি বলেন, এটা যে কোনটার প্রভাব কোনটা-সেটার খোঁজ করার দরকার নাই। গত ২৪ ঘণ্টায় দৈনিক শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। সংক্রমণ এবং সংক্রমণের উচ্চহার অব্যাহত রয়েছে।

আরো উচ্চ মাত্রায় যাচ্ছে করোনা ভয়াল আগস্টের অপেক্ষায় দেশ
মানুষকে ঈদের ভেতরে ছেড়ে দেওয়ার খেসারত দিতে হবে সামনে মন্তব্য করে আবু জামিল ফয়সাল সাংবাদিকদের বলেন, আর এটা যে কতদিন পর্যন্ত দিতে হবে কেউ জানে না।

আগামীকাল সোমবার থেকে ঢাকার সব জেলা ও মহানগরে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার (কোভিশিল্ড) দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হবে। সারা দেশে এই টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হবে ৭ আগস্ট থেকে। আজ রোববার স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক চিকিৎসক শামসুল হক এক অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান।

আরো উচ্চ মাত্রায় যাচ্ছে করোনা ভয়াল আগস্টের অপেক্ষায় দেশ

 

সারাবিশ্বে উদ্বেগ সৃষ্টিকারী করোনা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপটে বাংলাদেশেও দৈনিক রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়েছে বেশ কয়েকগুণ। আরো উচ্চ মাত্রায় যাচ্ছে করোনা ভয়াল আগস্টের অপেক্ষায় দেশ

করোনার ঊর্ধ্বগতির ফলে জুলাইয়ের শুরুতে দেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। পরে ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে লকডাউন শিথিল করে সরকার। এই সুযোগে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে গেছে অসংখ্য মানুষ।

প্রাইভেট কার, মাইক্রো, বাসে, লঞ্চে কিংবা ফেরিতে গাদাগাদি করে গ্রামে গিয়েছেন ঈদ উদযাপন করতে। আবার ঈদের পরের কয়েকদিনে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই একইভাবে ঢাকায় ফিরেছে মানুষ।

কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল ঘোষণার পরেই কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্যরা বলছেন, শিথিলতার এ নির্দেশনায় তাদের সায় ছিলো না। সরকারের শিথিল বিধিনিষেধের এ ঘোষণা তাদের পরামর্শের উল্টো চিত্র।

এ সময় এ ধরনের শিথিলতা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ারই শামিল। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলো, স্বাস্থ্য অধিদফতর যেখানে বারবার ভিড় এড়িয়ে চলার কথা বলছে, সেখানে সংক্রমণের পিক টাইমে এ ধরনের ঘোষণা আমাদের আরও খারাপ অবস্থায় নিয়ে যাবে।

সে আশঙ্কাকে সত্যি করে দেশে ঈদের পর থেকে দৈনিক রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর একের পর এক রেকর্ড দেখতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। আর এতে করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার করা তালিকায় বিশ্বে এখন যেসব দেশে দৈনিক রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু সবচেয়ে বেশি হচ্ছে, সেই তালিকায় অষ্টম অবস্থানে বাংলাদেশ।

করোনা
এদিকে, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই রোববার থেকে পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। ঈদের পরও যেসব পোশাক কর্মী গ্রামে অবস্থান করছিলেন এমন খবরে তারা এরই মধ্যে ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন।

গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা পিকআপ, ট্রাক ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যান ও রিকশায় বাড়ি থেকে রওয়া হয়েছেন। যানবাহন না পেয়ে অনেকে হেঁটে ছুটছেন গন্তব্যের পথে। আবার অনেকে গাড়ি পাওয়ার আশায় বিভিন্ন স্ট্যান্ডে ও সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে জড়ো হয়ে অপেক্ষা করছেন দীর্ঘক্ষণ।

করোনা সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকি থাকলেও এসব শ্রমিকের কাছে চাকরি রক্ষা করাটা বেশি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন তারা।

এনআইডি ছাড়া যেভাবে টিকা পাওয়া যেতে পারে

বিধিনিষেধে ফেরিতে যাত্রী পারাপার নিষিদ্ধ হলেও যাত্রীরা তা মানছেন না বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জিল্লুর রহমান।

একেটিভিকে তিনি বলেন, বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত যানবাহন পারাপারে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে মাত্র ছয়টি ফেরি চালু রাখা হয়েছে। জরুরি পরিষেবায় নিয়োজিত যানবাহন পারাপারের সময় যাত্রীরা ফেরিতে ওঠে পড়েন। চেষ্টা করেও তাদের ফেরি থেকে নামানো যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চলমান কঠোর লকডাউন আরও বাড়াতে চেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম একেটিভিকে জানিয়েছেন, তারা চান লকডাউন কন্টিনিউ হোক।

যে যেভাবে পারছে ছুটছে মানুষ কর্মস্থলের দিকে
যদিও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। চলমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের সুপারিশ এটা কনটিনিউ করার। কেবল অতি জরুরি সেবা ছাড়া যেভাবেই হোক সবকিছু সীমিত রাখতে হবে। এগুলো মনিটর করতে হবে। সব খুলে দিলে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাবে, অবশ্যই বেড়ে যাবে।

গত ২৫ জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কনভেনশন সেন্টারে ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, যেভাবে রোগী বাড়ছে, হাসপাতালে বেড সংকট দেখা দিতে পারে।

ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ বেড রোগীতে ভর্তি হয়ে গেছে। দেশে ঈদুল আজহার ছুটিতে গ্রামে যাওয়া আসার কারণে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়েছে পাঁচ থেকে ছয় গুণ। এছাড়া শহরের হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীর ৭৫ শতাংশই গ্রাম থেকে আসা।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বাড়তে শুরু করেছে। যেভাবে রোগী বাড়ছে তাতে হাসপাতালের বেড সংকট দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ বেড রোগীতে ভর্তি হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এর আগে বলেছিলেন, ঈদের সময়ের শিথিল লকডাউনের প্রভাব দেখা যাবে আরও দুই সপ্তাহ পর। এখন যে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি এবং মৃত্যু সংখ্যা দেখা যাচ্ছে সেটা আগের শিথিল লকডাউনের প্রভাব।

সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতির জন্য মানুষের স্বাস্থ্যবিধি না মানার সঙ্গে সঙ্গে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকেও দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেবল বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বগতির জন্য প্রধানতম কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাজ্যে প্রথম শনাক্ত হয় করোনার আলফা ধরন।

এই ধরনকে অতি সংক্রামক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ভারতে করোনার ডেলটা ধরন শনাক্তের পর তা দ্রুত দেশটিতে ছড়িয়ে পড়ে।

ব্রিটেনে করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স উদ্যোগের প্রধান মাইক্রোবায়োলজিস্ট শ্যারক পিকক বলেন, এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ডেল্টা।

করোনার আরও ভয়ঙ্কর রূপ প্রকাশ, শুধু ফুসফুস নয় বিকল করে দিচ্ছে কিডনিও!

এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুততম ও সবল ভ্যারিয়েন্ট। চীনের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত ব্যক্তির নাকে করোনার মূল ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে ১ হাজার গুণ বেশি ভাইরাস থাকে।

দ্রুত সংক্রামন এই ভ্যারিয়েন্ট সক্রিয় থাকাকালে লকডাউন শিথিল হওয়ায় আগস্ট মাস পর্যন্ত অবস্থা আরও খারাপ হবে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন।

বাস

আরো উচ্চ মাত্রায় যাচ্ছে করোনা ভয়াল আগস্টের অপেক্ষায় দেশ

তিনি বলেন, কঠোর লকডাউন যদি সঠিকভাবে পালন হয়, তাহলে হয়তো একটা ভালো সুফল আগস্টের শেষের দিকে পাবো।

বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করে তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোর একটা ক্যাপাসিটি রয়েছে, এত রোগী যদি সংক্রমিত হতে থাকে তাহলে সে ক্যাপাসিটি শেষ হয়ে যাবে।

হাসপাতালের সক্ষমতা রয়েছে ১৫ হাজার বেডের মতো, কিন্তু আর কত বাড়ানো যাবে, কিন্তু ১৫ হাজারের বেশি রোগী হতে বেশি সময় লাগবে না। যে হারে সংক্রমণ চলছে।

দেশে রোগ এবং রোগের বিস্তার নিয়ে গবেষণা করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেনের আশংকা, আগস্ট মাসের মাঝামাঝি নাগাদ পরিস্থিতি ভয়ংকর হবে।

এখন যে খারাপ পরিস্থিতিটা হচ্ছে তা দুই সপ্তাহ আগের পরিস্থিতি আর মৃত্যু যেটা হচ্ছে সেটা তিন সপ্তাহ আগের পরিস্থিতি উল্লেখ করে মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন একেটিভিকে বলেন, ঈদের আগে যে এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় লকডাউন শিথিল ছিল তার প্রভাব দেখা যাবে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে।

তিনি বলেন, সংক্রমণ ও শনাক্তে এখন যে প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তার কারণ জুলাইয়ের শুরুর দিকে লকডাউনের পরিস্থিতির সময় আমরা খুব একটা উন্নতি করতে পারিনি। আর শিথিল লকডাউনের দুই সপ্তাহ পূর্ণ হবে আগামী সপ্তাহে। তার প্রভাব দেখা যাবে আগস্টের প্রথম নাগাদ, তারও এক সপ্তাহ পর দেখা যাবে মৃত্যু পরিস্থিতি।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার (কোভিশিল্ড) দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হবে
তারপর হয়তো কমতে পারে, যদি কঠোর বিধিনিষেধ গ্রামাঞ্চলে কার্যকর করা যায়, তাহলে হয়তো দুই থেকে তিন সপ্তাহ নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি হতেও পারে, বলেন তিনি।

মার্চে সংক্রমণ বেড়েছে, জুনে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে, জুলাইয়ে কঠিন হয়েছে আর আগস্টে আরও জটিল, আরও গুরুতর পরিস্থিতি হতে পারে বলেও আশঙ্কা এই বিশেষজ্ঞের।

তার মতে, হাসপাতালে এখনই জায়গা নেই, একইসঙ্গে হাসপাতালের সক্ষমতাতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যন্ত্রপাতি বাড়ালেও বিশেষজ্ঞ পাওয়া যাচ্ছে না।

এই অবস্থাতে স্বেচ্ছাসেবকদের স্বাস্থ্যসেবার প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, মেডিক্যাল শিক্ষার্থী-নার্সিং শিক্ষার্থী-মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের ভলান্টিয়ার করা যায়।

তারা জনস্বাস্থ্যবিদ, বিশেষজ্ঞ অ্যানিস্থেসিওলজিস্টদের পরামর্শ মেনে কাজ করবেন। তাদের যদি কাজে লাগানো না হয়, তাহলে সামাল দেওয়া যাবে না। এগুলো না করা গেলে আত্মরক্ষাও হবে না।

এনআইডি ছাড়া যেভাবে টিকা পাওয়া যেতে পারে
যে সময়ের লকডাউনই ধরি না কেন, লকডাউনতো হয় নাই’ মন্তব্য করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠিত পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য আবু জামিল ফয়সাল একেটিভিকে বলেন, এর প্রভাব দেখতেই পাচ্ছি। সংক্রমণ বাড়ছে-মৃত্যুও হচ্ছেই।

তিনি বলেন, এটা যে কোনটার প্রভাব কোনটা-সেটার খোঁজ করার দরকার নাই। গত ২৪ ঘণ্টায় দৈনিক শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। সংক্রমণ এবং সংক্রমণের উচ্চহার অব্যাহত রয়েছে।

যে যেভাবে পারছে ছুটছে মানুষ কর্মস্থলের দিকে

মানুষকে ঈদের ভেতরে ছেড়ে দেওয়ার খেসারত দিতে হবে সামনে মন্তব্য করে আবু জামিল ফয়সাল সাংবাদিকদের বলেন, আর এটা যে কতদিন পর্যন্ত দিতে হবে কেউ জানে না।

Loading...