৪ টাকার মাস্ক ৩৫০ টাকা, অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দরকার: জি এম কাদের

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম সারা দেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু দুর্নীতি কমানোর জন্য কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জি এম কাদের এসব কথা বলেন।

জি এম কাদের বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে প্রতিদিন কোনো না কোনো খবর প্রকাশিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে মাননীয় মন্ত্রীসহ দায়িত্বপ্রাপ্তরা দুর্নীতির বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন বলে মনে হয় না। ৪ টাকার মাস্ক ৩৫০ টাকায় কেনা হচ্ছে। এগুলো সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

জি এম কাদের আরও বলেন, যতই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হোক, সুশাসন না থাকলে দুর্নীতি, অপচয় ও সমন্বয়হীনতার কারণে বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। সুশাসন না থাকলে অর্থ বরাদ্দের সুফল যাদের উদ্দেশে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাঁরা লাভ করেন না। এক কথায় সুশাসন ছাড়া বাজেট তৈরি ও বাস্তবায়ন সম্পূর্ণ অর্থহীন।

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কোভিড–১৯–এর টিকা প্রয়োগের কথা বলা হলেও আমদানির জন্য এই খাতে আলাদা কোনো অর্থ বরাদ্দের উল্লেখ নেই। টিকা সংগ্রহ এখন পর্যন্ত প্রকৃত অর্থে সুনির্দিষ্ট ও সুনিশ্চিত বলা যায় না। ফলে, টিকা দেওয়ার কাজ পুনরায় শুরু ও শেষ কীভাবে ও কবে হবে, কেউ জানে বলে মনে হয় না।
জি এম কাদের আরও বলেন, মহামারির কারণে জীবিকা হারিয়েছে কোটি কোটি মানুষ। তাদের মধ্যে যারা হতদরিদ্র, তাদের না খেয়ে থাকার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

জীবিকা হারিয়ে নতুন দরিদ্র সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ। প্রতিদিন এর সংখ্যা বাড়ছে। করোনার কারণে লকডাউন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশে দুর্ভিক্ষের অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। সামাজিক সুরক্ষা খাত থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত মানুষের মধ্যে ৪৬ শতাংশ সরকারি কোনো সাহায্য পাওয়ার উপযুক্ত নয়। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক প্রাপক অনিয়মের মাধ্যমে প্রকৃত প্রাপককে বঞ্চিত করে এ সুবিধা ভোগ করছে।

বিজ্ঞাপন

Loading...