২৬ বছরেও দীপু নাম্বার টু সিনেমা হয়নি পুরনো

কিছু সিনেমা আছে, যা ভীষণভাবে মনে দাগ কাটে। আর ঠিক তেমনই একটি সিনেমা ‘দীপু নাম্বার টু’। একেবারে মনে গেঁথে যাওয়ার মতো। সিনেমাটির নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে দীপু ও তারিক নামের দুই কিশোরের বন্ধুত্ব ও দুঃসাহসিক অভিযানের গল্প। তা ছাড়া এই সিনেমা দেখার সময়, নিজেকে দীপু হিসেবে কল্পনা করেনি এমন কিশোর হয়তো খুব কমই পাওয়া যাবে।

 

 

গল্পটা মূলত দীপু নামের এক কিশোরের। দীপুর বাবা সরকারি চাকরিজীবী। পরিবারে সদস্য বলতে বাবা ও ছেলে দুজন। চাকরি সুবাদে দীপুর বাবাকে প্রতি বছরই বদলি হয়ে নতুন জায়গায় যেতে হয়। যার কারণে দীপুকেও প্রতিবছর বদলাতে হয় তার স্কুল। আর এভাবেই নতুন এক স্কুলে ভর্তি হয় দীপু। রোল কল করার সময় দেখা যায়, শ্রেণিতে দীপু নামের আরও এক ছাত্র রয়েছে। আর তাই শিক্ষক দীপুকে- ‘দীপু নাম্বার টু’ নামকরণ করলেন।

 

 

এদিকে তাদের সঙ্গের এক সহপাঠী, নাম তারিক। যাকে ক্লাসের সবাই ভয় পেত তার দাপট ও ডানপিটে স্বভাবের জন্য। মূলত তারিকের সঙ্গে দীপুর দ্বন্দ্ব ও বন্ধুত্বের অসাধারণ ঘটনার সমন্বয়ে সিনেমার গল্প সাজানো হয়েছে। এদিকে অভিযান ভালো লাগে তারিকের, যখন-তখন খুঁজে বেড়ায় পুরনো নিদর্শন। একদিন সে দীপুকে ,খুঁজে পাওয়া একটি কালোচিতার মূর্তি উপহার দেয়। পরবর্তীতে এক দুঃসাহসিক অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার হয় সে কালোচিতা রহস্য এবং জীবনবাজি রেখে দীপু ও তার বন্ধুরা দেশ প্রেম ও বন্ধুত্বের টানে পাচারকারীদের হাত থেকে রক্ষা করে প্রাচীন সংস্কৃতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এরপর দেখতে দেখতেই শেষ হয়ে আসে বছর। প্রতিবারের মতো এবারো দীপুকে তার বাবার সঙ্গে অন্য কোথাও চলে যেতে হয়। আর এর মধ্য দিয়েই বন্ধুত্ব, ত্যাগ, রোমাঞ্চকর অনুভূতি এবং ভালোবাসার নিদর্শন, প্রদর্শন করে সিনেমাটির সমাপ্তি ঘটে।

 

 

মূলত তৎকালীন সময়ে বাংলা সিনেমায়, গরিব-ধনীর প্রেমের গতানুগতিক গল্পের ভিড়ে ‘দীপু নাম্বার টু’ দর্শকদের মনে প্রশান্তি দেওয়ার মতো এক গল্প। অনুধাবনমূলক ও শিক্ষণীয় অনেক ব্যাপারও ছিল সিনেমাটিতে। মায়ের প্রতি দীপুর টান আর বাবার প্রতি ভালোবাসা- এককথায় অসাধারণ আবহ তৈরি করেছে সিনেমাটি।

 

এদিকে সিনেমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র অর্থাৎ দীপু চরিত্রে অভিনয় করেছে অরুণ সাহা। দীপুর বন্ধু তারিকের চরিত্রে অভিনয় করেছে- শিশুশিল্পী শুভাশীষ। এ দুজন গল্পের প্রতিটি মুহূর্তে ,নিজ দক্ষতায় যেন পরিপূর্ণ বাস্তবতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে। এ ছাড়া সিনেমায় অভিনয় করেছেন- আবুল খায়ের, বুলবুল আহমেদ, ববিতাসহ আরও অনেকে। সিনেমায় কোনো গান নেই ,তবে চমৎকার আবহসংগীত রয়েছে।

 

 

এ ছাড়া বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলামের পরিচালনা ও প্রখ্যাত লেখক ও শিশু সাহিত্যিক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হয়েছে ‘দীপু নাম্বার টু’। ১৯৮৪ সালে এটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় এবং ১৯৯৬ সালে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয় রাষ্ট্রীয় অনুদানে। এদিকে মুক্তির পর সিনেমাটি ৩টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। এর মধ্যে শিশুশিল্পী অরুণ সাহা, শ্রেষ্ঠ শিশু অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছে।

দীপু নাম্বার টু 

 

পরীমনির মামলা: নাসিরদের ভাগ্য নির্ধারণ ১৮ মে

 

টুপি পরে সমালোচনার মুখে জশ

 

 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.