৯ বছরের অপেক্ষা করে স্ত্রীকে ফিরে পেলেন স্বামী

৯ বছরের অপেক্ষা করে স্ত্রীকে ফিরে পেলেন স্বামী

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানা পুলিশের সহায়তায় দীর্ঘ ৯ বছর পর মানসিক প্রতিবন্ধী মোছা. আফরোজা বেগমকে ফিরে পেলেন স্বামী। সোমবার সকাল ১১টার দিকে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ রিজাউল হক স্বামী লুৎফর রহমানের কাছে আফরোজাকে হস্তান্তর করেন।

 

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলামের সার্বিক সহযোগিতায় থানা পুলিশ আফরোজার পরিচয় নিশ্চিত করে স্বামীর কাছে হস্তান্তর করেন।

জানা গেছে, আফরোজা বেগম এক সপ্তাহ ধরে কুমুদিনী হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান করছিলেন। তিন দিন আগে কে বা কারা আফরোজাকে মির্জাপুর সরকারি কলেজের দক্ষিণ পাশে রাস্তায় ফেলে রাখে। তার ছবি দিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ‘মানবতায় আমরা’ নামে একটি সামাজিক সংগঠনের ফেসবুকে শেয়ার করা হয়। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমানের নজরে এলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম আফরোজা বেগমের সঙ্গে কথা বলে তার পরিচয় নিশ্চিত হন। মানসিক প্রতিবন্ধী আফরোজা তার স্বামীর নাম লুৎফর রহমান, পিতার নাম আফাজ উদ্দিন শেখ, গ্রাম-কলন্দরপুর, উপজেলা পাঁচবিবি, জেলা জয়পুরহাট। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও মির্জাপুর থানা পুলিশ পাঁচবিবি উপজেলায় বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করে আফরোজার পরিচয় নিশ্চিত করেন। সোমবার সকালে আফরোজার স্বামী লুৎফর রহমান, মেয়ের জামাই ও শ্যালকের স্ত্রীসহ কয়েকজন মির্জাপুর থানায় এসে পরিচয় নিশ্চিত করে তাকে বুঝে নেন। এ সময় ‘মানবতায় আমরা’ সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

মানসিক প্রতিবন্ধী আফরোজার স্বামী লুৎফর রহমান জানান, ২৫-২৬ বছর আগে অসুস্থ হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। দীর্ঘ ৯ বছর আগে তিনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাননি। আজ মির্জাপুর উপজেলার পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের মাধ্যমে স্ত্রীকে ফিরে পেয়ে খুবই ভালো লাগছে।

 

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ রিজাউল হক গাড়িভাড়া দিয়ে তাদের বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাস্তার পাশে মানসিক প্রতিবন্ধী পড়ে আছে ছবি দেখতে পেয়ে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.