সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত: সংসদে রাষ্ট্রপতি

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত: সংসদে রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং তথ্য কমিশন সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারসহ চাঞ্চল্যকর অন্যান্য মামলার রায় দ্রুত নিষ্পত্তি করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

 

 

বুধবার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দেওয়া স্মারক বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

 

রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্নীতি, মাদক, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে দেশে স্বস্তি বিরাজ করছে, যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে। সুশাসনের উদ্দেশ্যে প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির আওতায় আনার লক্ষ্যে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি, অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা, সিটিজেনস চার্টার এবং শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতা, সুশীলসমাজ এবং অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করে যেতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনকালীন একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের বিষয়। এজন্য আমি পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নিকট শুকরিয়া আদায় করছি। করোনার অব্যাহত ঢেউ অগ্রাহ্য করে জাতি সাড়ম্বরে উদযাপন করছে মুজিবশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। আমরা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ভাগ্যবান। দেশে-বিদেশে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের এ শুভক্ষণে আমি আপনাকে এবং আপনার (স্পিকার) মাধ্যমে সংসদ-সদস্যবৃন্দসহ প্রিয় দেশবাসী ও বিদেশে বসবাসরত সকল প্রবাসীকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং ওই দিনই তাকে হানাদার বাহিনী গ্রেফতার করে। তার নির্দেশনায় কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতা যার যা কিছু ছিল তা নিয়েই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১০ এপ্রিল শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন করা হয় এবং ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে, ৩০ লাখ শহীদের জীবন ও দুই লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়, সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন ‘স্বাধীনতা’।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত, দুর্নীতি ও শোষণহীন এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ‘বাংলার মানুষের মুক্তি’ অর্থাৎ সোনার বাংলা বিনির্মাণ। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে যুদ্ধবিধ্বস্ত নবীন দেশটির প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধু যখন মানুষের খাদ্যাভাব দূরীকরণ, সামাজিক অস্থিরতা নিরসন ও আইন-শৃঙ্খলার উন্নতিতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং দেশকে পুনর্গঠন করার জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমুখী নীতি ও আইন প্রণয়ন করে জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে ঘাতকেরা তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন স্তব্ধ করে দেয়।

 

রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.