সিরাজগঞ্জে মোড়ে মোড়ে পিঠার দোকান ভোজন রসিকদের ভিড়

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

শীতের আগমনে প্রকৃতি এখন হিম হিম গন্ধ। শিশির ভেজা ঘাসের ডগায় মুক্তোর দানা। ভোরের কাঁচা রোদ মৃদু হিমস্পর্শ প্রাণে শিহরণ তুলে বিদায় নিচ্ছে কার্তিক। সকালের কুয়াশা কিংবা সন্ধ্যার হিমেল বাতাসে ভাঁপা পিঠার গরম আর সুগন্ধি ধোঁয়ায় মন আনচান করে ওঠে। পিঠা ছাড়া ভোজন রসিক বাঙালির শীত যেন পরিপূর্ণ হয় না। সরষে বা ধনেপাতা বাটা অথবা শুঁটকির ভর্তা মাখিয়ে চিতই পিঠা মুখে দিলে ঝালে কান গরম হয়ে শীত পালায়। শীতের আমেজ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে সিরাজগঞ্জে মোড়ে মোড়ে এখন চলছে পিঠা তৈরি ও পিঠা খেতে ভোজন রসিকদের ভীড়।

সন্ধ্যা হলেই প্রতিটি পিঠার দোকানে পড়ে পিঠা বিক্রির ধুম, চলে প্রায় মধ্য রাত পর্যন্ত।
শীতের পিঠর স্বাদ নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না অনেকে। অনেককেই দেখা যাচ্ছে পিঠার দোকানের চুলার পাশে বসেই গরম পিঠা খাওয়াকে রেওয়াজে পরিণত করেছেন। অনেকে পরিবারের চাহিদা মেটাতে পিঠা কিনে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন। তাই সিরাজগঞ্জ শহরের রেলস্টেশন এলাকা, গোশালা, থানা রোড, বাহিরগোলা, ধানবান্ধি, এস, এস রোড, কালীবাড়ী, কাঠেরপুল, বিয়ারাঘাট, শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড় সহ বিভিন্ন দোকানে ক্রেতাদের ভিড়ই তার প্রমাণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্যাস্তের পরপরই দোকানিরা তাদের পিঠার পসরা বসান রাস্তার মোড়ে কিংবা পাশের গলিতে। চুলায় আগুন জ্বেলে একের পর এক পিঠা বানাতে থাকেন তারা। অন্যদিকে ক্রেতারা গরম গরম পিঠা সাবাড় করতে থাকেন। এসব দোকানে পাঁচ টাকায় চিতই, ২৫ টাকায় ডিম পিঠা এবং ১০ থেকে ১০০ টাকায় ভাপা ও পাটিসাপটা পিঠা পাওয়া যায়। চিতই পিঠার সঙ্গে সরষে, ধনেপাতা, মরিচবাটা বা ঝাল শুঁটকির ভর্তা বিনামূল্যে মেলে।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার পার্শ্বে মিলন মোড় নিবাসী আলম ভাইয়ের পিঠা এ বছরের আর্কষনীয়। প্রতিদিন সন্ধ্যাই মোড়ের পিঠার দোকানগুলোতে পিঠা প্রেমীদের ভিড় লেগেই থাকে। এই মোড়ে দীর্ঘদিন ধরে পিঠা বিক্রি করেন মো. আলম। তিনি বলেন, চিতই পিঠার চেয়ে ভাপা পিঠার চাহিদা বেশি। আখের গুড়, খেজুরের গুড়, কিসমিস ও নারিকেল দিয়ে ভাপা পিঠা তৈরি করি। প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করি।

থানা রোডে নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী বাদল বসাক, বড় বাজারের ব্যবসায়ী মানিক ঘোষ, আলমের পিঠা খেতে এসেছেন। তারা বলেন, পিঠা ছাড়া শীতের আমেজ পরিপূর্ণ হয় না। সরিষা অথবা ধনেপাতা ভর্তা দিয়ে গরম চিতই পিঠা খাওয়ার স্বাদই অন্য রকম। যা অন্য কোন খাবারের মধ্যে পাওয়া যায় না। সন্ধ্যায় গরম চিতই পিঠা ফুঁ দিয়ে দিয়ে খেতে খেতে মিশুক নামে এক পথযাত্রী বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পিঠা খেতে এসেছি। গরম ভাপা পিঠার ধোঁয়া দেখে লোভ সামলাতে না পেরে বন্ধুদের নিয়ে পিঠা খেতে চলে এসেছি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.