সর্বস্বান্ত হওয়ার আগে বের হওয়ার সুযোগ নেই

খেলার জুয়ায় ঢুকলে সর্বস্বান্ত হওয়ার আগে বের হওয়ার সুযোগ নেই। কেউ বের হতে চাইলেও সিন্ডিকেটের চাপে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান এক জুয়ারি। যে অনলাইন সাইটগুলো বাংলাদেশে জুয়ার কার্যক্রম চালাচ্ছে সেগুলো চিহ্নিত করে বিটিআরসির মাধ্যমে বন্ধের চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অবক্ষয় রোধে খেলার পাশাপাশি বেটিং থেকে বিরত থাকার প্রচারণা ও নজরদারি বাড়ানো দরকার বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

 

জুয়ার আসক্তি থেকে সব হারিয়ে মানসিক বিকারগ্রস্ত। অবস্থা এতটা ভয়ংকর হয় যে, হতাশা থেকে একসময় হত্যা করেন সন্তান এবং পরিবারকে। এরপর হয়েছেন নিরুদ্দেশ। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ঘটনা এটি।

 

এমন এক জগৎ যেখানে প্রবেশের পর বের হতে কত বাধায় পড়তে হয়? জানতে চাই সেই অভিজ্ঞতা। যতটা সহজে এই জগতে প্রবেশ করা যায়, বের হওয়ার পথটা ততই কঠিন। নিজে চাইলেও বাধা হয়ে দাঁড়াবে জুয়ারি সিন্ডিকেট।

 

 

এক জুয়াড়ি জানান, দেখা যায়, উঠে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষ খেলতে চাচ্ছেন। তখন বিপত্তি বাধে। হতাশার কারণে অনেকে বিবাধে জড়ায়। আর সে বিবাধ মারামারি পর্যন্ত গড়ায়। নেতা দাবি করা কিছু লোকজন এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। এতে মানুষ ভয়ে কিছু বলতে পারে না। মূলত মাদক ব্যবসায়ীদের এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে দেখেছি।

 

 

বিনোদনের উপলক্ষ্য খেলাধুলা এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে অনেক তরুণের ধ্বংসের মাধ্যম। সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী প্রজন্মকে অনলাইনের ভয়ংকর প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে খেলার পাশাপাশি প্রচারণা বাড়াতে হবে।

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল হক বলেন, প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো প্রযুক্তি দিয়েই রোধ করতে হবে। কারণ যখন একজন মানুষের মধ্যে শুভ মানসিকতা তৈরি হয় না, তখন আসলে সে যে প্রক্রিয়ায় অপরাধ করছে, সেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সমজাতীয় প্রক্রিয়া ব্যবহার করতে হবে, আর সেটা তার চেয়ে শক্তিশালী হতে হবে।

 

 

তিনি আরও জানান, বাইরে থেকে যারা অ্যাপসভিত্তিক বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে জুয়ার কাজগুলো করছেন, সেগুলো প্রযুক্তি দিয়ে কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, সেটা চিন্তা করতে হবে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, আন্তর্জাতিকভাবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও কিন্তু একটা সুযোগ আছে। নাকি এখান থেকে যারা ভাগ-বাঁটোয়ারা পান, তারা এই বিষয়টিকে ধরে রাখতে চান। কারণ এটাও তো একধরনের বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার একটা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কও আছে। তারা এই ব্যাপারগুলোকে নিয়ন্ত্রণে কতটা পেশাগত সদিচ্ছা পোষণ করেন। এই ব্যাপারগুলোর ওপর আসলে নির্ভর করে, এই খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে জুয়ার সিন্ডিকেটের যে দৌরাত্ম্য- সেগুলো বন্ধ হবে কি হবে না।

 

 

উন্মুক্ত সাইবার দুনিয়া। মুঠোফোনে চাইলেই যে কেউ ঢুকে যেতে পারছেন বাজির দুনিয়ায়। কারণ অন্তর্জালে ছড়িয়ে আছে দৃশ্য-অদৃশ্য অনেক ফাঁদ। কিন্তু আশঙ্কার ব্যাপার হলো, দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত অনলাইন সাইটগুলো মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে দেশের অর্থ। সেগুলো বন্ধ করার উপায় কী? তাছাড়া যে এলাকাগুলোতে জুয়ার প্রভাব বেশি সেদিকে কতটা নজর রাখছে নিরাপত্তা বাহিনী?

 

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, কোনো সাইটের তথ্য পাওয়ার পর ওই সাইটের অ্যাডমিনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ওই সাইটটি বন্ধ করার জন্য বিটিআরসিকে চিঠি লিখি। বিভিন্ন সময়ে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি, অনলাইনে যারা জুয়া খেলেন, তাদেরকে গ্রেফতার করেছি। বিটিআরসির সহযোগিত নিয়ে সাইট বন্ধ করাসহ এ ধরনের কাজ অব্যাহত আছে।

 

 

সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারি রক্ষা করতে পারে সামাজিক অবক্ষয়। সেই সঙ্গে দেশের অর্থপাচার রোধ করা সম্ভব হবে।

সর্বস্বান্ত সর্বস্বান্ত সর্বস্বান্ত সর্বস্বান্ত

 

প্রস্তুতির জন্যই প্রিমিয়ার লিগে সাকিব

 

 

সাকিবকে ক্ষমা চাইতে বললেন তিনি

 

 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.