Ultimate magazine theme for WordPress.

করোনা ভাইরাস: ক্যাম্পাস বন্ধের দাবিতে ঢাবির ৪ শিক্ষার্থীর অনশন

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের দাবিতে অনশনে বসেছেন চার শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। শনিবার রাত ৯টা থেকে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তারা এই কর্মসূচি শুরু করেন।

অনশনে বসা শিক্ষার্থীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের মো. হাসান বিশ্বাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কে এম তূর্য, একই বিভাগের ইয়াসিন আরাফাত প্লাবন এবং মনোবিজ্ঞান বিভাগের মোহাম্মদ জুনায়েদ হোসেন খান। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

অনশনকারী জুনায়েদ হোসেন খান বলেন, আমরা সবাই জানি যে, করোনা এখন গ্লোবাল ইস্যু। এটাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মহামারি ঘোষণা করেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও এর সংক্রমণ হচ্ছে। এই ভাইরাস খুব দ্রুত ছড়ায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস উন্মুক্ত একটি জায়গা। এখানে সব ধরনের মানুষের প্রবেশ ও চলাচল রয়েছে। আর শিক্ষার্থীদের তুলনায় ক্যাম্পাস অনেক ছোট।

তিনি আরও বলেন, খুবই গাদাগাদি করে হলে থাকতে হয়। ক্লাস করতে হয়। যেখানে ৮০ জনের ক্লাস করার কথা সেখানে ১৫০-২০০ জন অংশ নেন। এমন অবস্থায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ হলে তা দ্রুত সময়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। যার কারণে আমরা একটাই দাবি উত্থাপন করেছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ক্যাম্পাস বন্ধ রাখতে হবে। দাবি না মানা পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি চলবে বলেও জানান তারা।

এদিকে শনিবার রাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বাংলাদেশে আরও দুজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান। এর আগে ৮ মার্চ প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে তিনজন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। তবে তারা বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন।
উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে ৪৯৯ জনসহ মোট মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৮৩৫। শুধু চীনেই মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ১৯৯। চীনের বাইরে নিহত হয়েছে ২ হাজার ৬৩৬।

এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৯। এর মধ্যে ৭৫ হাজার ৯১৯ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। এছাড়া চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৮২৪। চীনের বাইরে ৭৫ হাজার ৭০৫ মানুষ।

বর্তমানে ৭৪ হাজার ৭৭৫ জন আক্রান্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৮ হাজার ৭৮৭ জনের অবস্থা স্থিতিশীল অথবা উন্নতির দিকে এবং বাকি ৫ হাজার ৮৮৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা ভাইরাস বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে থেকেই অসুস্থ এমন ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এখন পর্যন্ত যারা মারা গেছেন তাদের অধিকাংশই বয়স্ক লোকজন।

ভাইরাস সংক্রমণের কারণে চীনসহ অধিক আক্রান্ত দেশ ভ্রমণে সতর্কতা, নিষেধাজ্ঞা এবং কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রায় সকল দেশ। ভাইরাসের কারণে, বিশ্বের অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অধিকাংশ বিমান সংস্থার ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে।

চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৫১টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

যেসব দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে-

নিহত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে চীনে ৩ হাজার ১৯৯, ইটালিতে ১ হাজার ৪৪১, ইরানে ৬১১, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৭৫, যুক্তরাষ্ট্র ৫৭, ফ্রান্স ৯১, স্পেন ১৯৬, জাপান ২২, ডায়মন্ড প্রিন্সেস জাহাজে ৭, ইরাক ১০, হংকং ৪, অস্ট্রেলিয়া ৩, যুক্তরাজ্য ২১, নেদারল্যান্ড ১২, জার্মানি ৯, ইন্দোনেশিয়া ৫, বেলজিয়াম ৪, সুইজারল্যান্ড ১৩, সান ম্যারিনো ৫, লেবানন ৩, ফিলিপাইন ৮, মিশর ২, আর্জেন্টিনা ২, পোলান্ড ৩, আয়ারল্যান্ড ২, ভারত ২, নরওয়ে ৩, সুইডেন ২, বুলগেরিয়া ২, আলজেরিয়া ৩, গ্রীস ৩, পানামা, স্লোভেনিয়া, মরক্কো, থাইল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, কানাডা, লুক্সেমবার্গ, আলবেনিয়া, পানামা, পানামা, ইকুয়েডর, আজারবাইজান, ডেনমার্ক, মরক্কো, ইউক্রেন, সুদান, গায়ানা ও তাইওয়ানে ১ জন করে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.