লকডাউনের তোয়াক্কা না করেই বসেছে পশুর হাট

সরকার নির্দেশিত লকডাউনের তোয়াক্কা না করেই রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় বসেছে পশুর হাট। শনিবার (৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলার মাইনীমুখ এলাকায় এ হাট বসে। স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকে হাটে কোরবানির পশু কেনাবেচা করতে আসেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলছে কেনাবেচা। এ সময় অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতার মুখেই ছিল না মাস্ক। কারও কারও মাস্ক থাকলেও তা হয় পকেটে, না হয় থুতনিতে ছিল।

উপজেলার কালাকুজ্জা গ্রাম থেকে গরু বিক্রি করতে আসা রুহুল আমিন বলেন, ‘১৪টি গরু নিয়ে এসেছি। দুপুর পর্যন্ত ১০টি বিক্রি হয়েছে। লকডাউনের কারণে দাম কিছুটা কম। স্বাস্থবিধি মানতে চেষ্টা করছি।’
এ বিষয়ে বাজারের ইজারাদার মো. কালাম হোসেন বলেন, ‘শনিবার হাটের দিন। লকডাউনের কারণে কোরবানির জন্য পশুর হাটটি খোলা স্থানে বসিয়েছি।’ মাস্ক ও সামাজিক দূরত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে মাস্ক বিতরণ করছি, কিন্তু এটা ঠিক, অনেকেই মাস্ক পরছেন না।’

পশুর হাট বসানোর অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনও অনুমতি আমাদের নেই। তবে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট পরিচালনা করছি। এখানকার স্থানীয়রা সারা বছর কোরবানির এই মৌসুমটার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা পশু কিনতে বাজারে আসেন।’

এ বিষয়ে লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘সকালে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল, দুপুরের পর পর তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলেছি হাট বন্ধ করে দিতে। আমিও কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে যাচ্ছি। আর যাতে হাট না বসে সেই বিষয়ে তাদের সতর্ক করবো।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি নির্বাহী অফিসারকে বলেছি, স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে অবশ্যই যাতে পশুর হাট বন্ধ করে দেয়। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কোথাও পশুর হাট বসতে পারবে না।’

Loading...