রুবেলের কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে ডিএনসিসি মেয়রের নির্দেশ

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার সদ্যপ্রয়াত মোশাররফ হোসেন রুবেলের কবরটি মানবিক বিবেচনায় স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

 

মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী চৈতি ফারহানা মিডিয়ার মাধ্যমে রুবেলের কবরটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য মেয়রের প্রতি মৌখিকভাবে আবেদন জানান। পরে মেয়র মিডিয়ার মাধ্যমে আবেদনটি জেনে কবরটি সংরক্ষণ করতে এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

 

উল্লেখ্য, মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম এ মুহূর্তে ওমরাহ পালনে পবিত্র নগরী মক্কায় অবস্থান করছেন।

 

ক্রিকেটার মোশাররফ হোসেন রুবেলের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘মোশাররফ হোসেন রুবেল নিজের জন্য খেলেননি, দেশের জন্য খেলেছেন। তার অবদান দেশের মানুষকে গর্বিত করেছে। সে কারণে তার কবরটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করছি।

 

ক্রিকেটার রুবেলের স্ত্রী ও শিশুসন্তানের বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় নিয়ে মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘যে মানুষটি বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে দিয়েছেন, সে মানুষটি চিরবিদায়ের বেলায় এক টুকরো মাটি পাবে না, তা হতে পারে না।

 

তিনি জানান, পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে বিধিমোতাবেক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ক্রিকেটার রুবেলের কবরটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে দেওয়া হবে।

 

ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে গত ১৯ এপ্রিল জীবনের মায়া ত্যাগ করেন ক্রিকেটার মোশাররফ রুবেল। মিরপুরে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয় বনানী কবরস্থানে। নিয়মানুযায়ী এখানে কবরের স্থায়িত্বকাল দুই বছর। কিন্তু রুবেলের স্ত্রী চৈতি ফারহানা রূপা সারা জীবন স্বামীর কবরটি দেখতে চান। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কবরটি স্থায়ী করার আকুতি জানান তিনি।

 

 

রুবেলের কবর জিয়ারত করতে এসে শুক্রবার (২২ এপ্রিল) চৈতি বলেন, ‘রুবেল তো আসলে আমাদের সবার, তাই না? রুবেল তো দেশের জন্য খেলেছে। মাত্র দুই বছরের জন্য এখানে। সত্যি কথা বলতে, এখানে স্থায়ী করতে হলে অনেক টাকা লাগে, প্রায় এক কোটি টাকা লাগে। আমার কাছে তো এত টাকা নেই। আমি চাই রুবেলের কবরটা স্থায়ী হোক। রুবেল যেন একটু মাটি পায়।

 

চৈতি যোগ করেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার একটাই চাওয়া, উনি তো অনেককে অনেক কিছু দেন। উনি তো আমাদের ক্রিকেটারদের জন্য অনেক কিছু করেন। জীবিত ক্রিকেটারদের জন্য তো ওর অনেক কিছু…। আমার রুবেল একজন মৃত ক্রিকেটার, তাকে কি একটু মাটি দেবেন না! ওর জন্য একটু স্থায়ী মাটি চাই, যাতে আমার ছেলেটা সারা জীবন তার বাবার কবরটা দেখতে পারে।

 

রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন রুবেল। তার বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। ২০১৯ সালে ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে এ ক্রিকেটারের। প্রায় দেড় বছরের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠছিলেন তিনি। এরপর এমআরআইয়ে জানতে পারেন যে টিউমারটি আবার বাড়তে শুরু করেছে। তারপর থেকে চলছিল কেমোথেরাপি।

 

বাংলাদেশের জার্সি গায়ে ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেক হয় রুবেলের। জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ৫টি ওয়ানডে খেলার সুযোগ হলেও ফাস্ট ক্লাস ক্রিকেটে ১১২ ম্যাচে নিয়েছেন ৩৯২ উইকেট। জাতীয় দলের হয়ে ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলেন বাঁহাতি এই স্পিনার।

 

 

অস্ট্রেলিয়া বনাম বাংলাদেশ

 

 

প্রস্তুতির জন্যই প্রিমিয়ার লিগে সাকিব

 

 

 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.