রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আদৌ কি থামবে?

চলতি বছর ফেব্রুয়ারির শেষার্ধে ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’-এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এরপর একের পর এক নাটকীয়তা, নিষেধাজ্ঞা, হুমকি-ধমকি ও দোষারোপের মধ্য দিয়ে কালনিপাত করছে রাশিয়া, ইউক্রেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেবে, তা হলফ করে কেউ বলতে পারছে না।

 

 

 

রাশিয়ার ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে সম্প্রতি বাইডেন প্রশাসন বলেছে, রাশিয়ার ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় দেশটির আমদানি-রফতানিতে ভাটা পড়েছে। হাই-টেক পণ্য ও যন্ত্রাংশ সংকটে ভুগছে দেশটি। এতে সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশটির সামরিক খাতে। এখন চাইলেও রাশিয়া পুরোদমে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারছে না।

 

 

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ডেনিস শিমহাল বলেন, ইউক্রেনকে আবার ঢেলে সাজাতে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগের সচিব জেনেট ইয়েলেন বলেন, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের সিংহভাগ রাশিয়ার থেকে আদায় করা সম্ভব। তবে জ্বালানি তেলের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় ইউরোপ যাতে ক্ষতির সম্মুখীন না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়ার কথা বলেছেন জেনেট।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও ইউক্রেনের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা একযোগে পুতিনের করা যুদ্ধাপরাধের সূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে ইউরোপের অনেক দেশ অভিযোগ করেছে, পুতিন ইউক্রেনে সাধারণ নাগরিকদের ওপর মারাত্মক অবিচার চালাচ্ছে, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল। তবে ক্রেমলিন বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাহায্য চায় পোল্যান্ড

 

ইউক্রেনের শরণার্থীদের সাহায্যের জন্য ইইউর সহযোগিতা চায় পোল্যান্ড। এ ক্ষেত্রে ইইউ কর্তৃক জব্দ রুশ সম্পত্তি শরণার্থীদের সাহায্যের জন্য ব্যয় করার আহ্বান জানিয়েছে পোল্যান্ড। পোল্যান্ডের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওয়েল জ্যাবলোনস্কি এই আহ্বান জানান।

 

 

এ ব্যাপারে ইউরোপিয়ান কমিশনকে দেওয়া একটি চিঠিতে পোল্যান্ড জানিয়েছে, চলতি বছরেই ইউক্রেনের ১২ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে। যুদ্ধাবস্থা আগের থেকে খারাপ হলে মুদ্রার পরিমাণ বেড়ে ২৪ বিলিয়ন ডলারেও পৌঁছাতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইইউতে জব্দ রাশিয়ার রিজার্ভ থেকে অর্থ জোগান দেওয়ার প্রস্তাব দেয় দেশটি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করলে দেশটি থেকে পোল্যান্ডে প্রায় ২৮ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিক আশ্রয় গ্রহণ করে।

 

যুদ্ধাস্ত্র মেরামত করতে চায় রাশিয়া

যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, পুরোদমে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। দোনবাস, বুহায়কিভা, বারভিনকোভ, লিমান ও পোপসানা শহর থেকে প্রতিনিয়ত আসছে ভারী শেলিংয়ের শব্দ। টানা যুদ্ধে রাশিয়ার অনেক যুদ্ধাস্ত্র অকেজো হয়ে পড়েছে। এতে অকেজো যুদ্ধাস্ত্রগুলো মস্কোয় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

 

তবে একদিকে সরবরাহ সংকট, অন্যদিকে আমদানি-রফতানিতে নিষেধাজ্ঞায় অকেজো অস্ত্র নিয়ে বিপাকে পড়েছে রাশিয়া। এমনই তথ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিভাগ।

পুতিনের মেয়ে ও রুশ সিনেটরের ওপর অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞা

নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার জন্য এখন নতুন কিছু নয়। শুক্রবার ২২ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার সরকার ভ্লাদিমির পুতিনের বড় মেয়ে ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্জেই লাভরভের ওপর আর্থিক ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর আগে একইভাবে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র পুতিনের সহযোগীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এ ছাড়াও ১৪৪ জন রুশ সিনেটরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পুতিনকে মদত দিয়ে আসছিল তারা। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব তথ্য নিশ্চিত করে।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারসি পেনি বলেন, ‘আমরা নিষেধাজ্ঞা চালিয়ে যাব। একটি অযৌক্তিক যুদ্ধের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া সবসময় সোচ্চার থাকবে।

সংকট দেখা দিচ্ছে গম সরবরাহে

বিশ্বে গম রফতানিতে শীর্ষ দেশ রাশিয়া। যুদ্ধের শুরুতেই নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে বেড়ে যায় খাদ্যসংকট ও মুদ্রাস্ফীতি। ইতোমধ্যে বিশ্বে গম সরবরাহ শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে গেছে। করোনাসময়ে বিগত বছরের নভেম্বরের পর এটিই সবচেয়ে বড় পতন বলে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ইউরোপে খাদ্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী। মুদ্রাস্ফীতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট জরিপ থেকে দেখা যায়, চলতি বছর খাদ্যপণ্যের দাম ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাশিয়ার পক্ষ নেওয়ায় চীনকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সবদিক থেকে ইউরোপ ও পশ্চিমারা যখন রাশিয়াকে জাপটে ধরেছে, তখন রাশিয়ার রক্ষাকর্তার ভূমিকায় আভির্ভূত হচ্ছে চীন। অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী এই দেশটি রাশিয়ার পাশে থাকায় খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারছে না পশ্চিমারা।

এ ব্যাপারে শুরু থেকেই চীনকে সাবধান করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। বরাবরের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের কাজ করে যাচ্ছে চীন।

সম্প্রতি ব্রাসেলসের একটি সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট ওয়েনডি শেরমান বলেন, ‘আমরা আশা করছি, বেইজিং ঠিক পথে ফিরে আসবে। বেইজিংয়ের বোঝা উচিত, রাশিয়া নয়; যুক্তরাষ্ট্রই চীনের প্রকৃত বন্ধু।

 

রুশ হাই-টেক আমদানিতে ভাটা

নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে রাশিয়ার হাই-টেক প্রতিষ্ঠানগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে। একের পর এক শিপমেন্ট বাতিল হওয়ায় দেশটিতে গত কয়েক মাসে হাই-টেক আমদানি ৫০ শতাংশ কমে এসেছে। এতে রাশিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী জিনা রেইমন্ড।

 

 

 

রেইমন্ড বলেন, রাশিয়া হন্য হয়ে ওদের ট্যাংকের যন্ত্রাংশ, স্যাটেলাইটের মেরামতের যন্ত্রাংশ ও রকেট-মাউন্টিং সিস্টেমের বিভিন্ন অংশ খুঁজে বেড়াচ্ছে। যুদ্ধের আগপর্যন্ত এসব পণ্যের চাহিদা পশ্চিমারা মিটিয়ে এলেও এবার হাত গুটিয়ে নিয়েছে তারা।

যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে প্রস্তুত থাকার আহ্বান

পশ্চিমারা পুতিনকে যুদ্ধাপরাধী প্রমাণে যত ধরনের পথ অবলম্বন করা যায়, তা করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড ইউক্রেনকে যুদ্ধাপরাধের মামলা চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছে।

গারল্যান্ড বলেন, ‘আমরা তথ্য-প্রমাণ জোগাড়ে ইউক্রেনকে সব ধরনের সাহায্য করব। আশা করছি, ইউক্রেন সুবিচার পাবে।

 

ইউক্রেনের শরণার্থীদের জায়গা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মানবতার দামামা বাজিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের জন্য একটি অস্থায়ী বন্দোবস্ত করেছে। এখন যুদ্ধাক্রান্ত শরণার্থীরা অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ২ বছরের জন্য বসবাস ও কাজ করার অনুমতি পাবে।

ফেব্রুয়ারির ১১ তারিখের আগে থেকে যারা স্থায়ীভাবে ইউক্রেনে বসবাস করে আসছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবে। ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের বিনা মূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া ও সিকিউরিটি ভেটিং নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দেবে বাইডেন সরকার।

গত মাসে বাইডেন সরকার ইউক্রেন থেকে ১ লাখ শরণার্থী নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষক পদ থেকে রাশিয়াকে বহিষ্কার

যুক্তরাষ্ট্রের ওএএস সদস্য অর্থাৎ পর্যবেক্ষক পদ থেকে রাশিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ‘রাশিয়া মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়াকে সঙ্গ দেওয়া আর মানবতাবিরোধী কাজকে প্রশ্রয় দেওয়া এক কথা।’ রাশিয়াকে বহিষ্কার প্রস্তাবে ভোটের আয়োজন করা হলে এর পক্ষে ভোট পড়ে ২৫টি, বিপক্ষে শূন্যটি। অন্যদিকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে ৯ জন।

এদিকে ওয়েনডি শেরমেন জানিয়েছেন, চলতি মাসেই রাশিয়াকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে গেলে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো থেকে রাশিয়াকে বিতাড়িত করা হবে।

রাশিয়ার জ্বালানি তেলে নিষেধাজ্ঞা বুমেরাং হবে

রাশিয়ার জ্বালানি তেলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ব্যাপারে ইউরোপকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থসচিব জেনেট ইয়েলেন।

তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে হিতে বিপরীত হবে। এতে রাশিয়ার-না যত বেশি ক্ষতি হবে, তার থেকে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে ইউরোপীয় দেশগুলো।

এ ছাড়াও রাশিয়ার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত না করে দেশটির সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে জেনেট।

ইউক্রেনকে ফের গড়ে তুলতে লাগবে ৬০০ বিলিয়ন

সম্প্রতি ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনায় ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যুদ্ধাবস্থা থেকে ইউক্রেনকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে ৬০০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। তিনি আইএমএফের কাছে রিজার্ভ থেকে ১০ শতাংশ অর্থের আবেদন জানান।

 

শুরুতেই ইউক্রেনের প্রতি মাসে ৪-৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন বলে জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের উন্নয়নের জন্য যেমন মার্শাল প্ল্যান কাজে লাগানো হয়েছিল, আমাদেরও ঘুরে দাঁড়াতে এমন কিছু দরকার।

এর আগে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ডেনিস বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি ইয়েলেন ও ব্লিংকেনের সঙ্গেও ইউক্রেনের সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

রাশিয়ার পাল্টা নিষেধাজ্ঞা

পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার জবাব দিতে পাল্টা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাশিয়া।

রাশিয়ার দেওয়া নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আছে মেটাভার্সের মার্ক জাকারবার্গসহ ২৮ জন আমেরিকান ব্যবসায়ী ও তাদের প্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কামলা হ্যারিস, হোয়াইট হাউস, পেন্টাগন ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাশিয়া।

মারিউপোলে হামলা চালানো বোকামি: জোভকা

ইউক্রেনের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ আইহোর জোভকা বলেছেন, মার্চের ১ তারিখ থেকে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর মারিউপোল রাশিয়ার দখলে। তবে এখনো সেখানে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী অবস্থান করছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোভকা বলেন, ‘মারিউপোলে বন্দি বেশির ভাগই সাধারণ নাগরিক। আমরা রাশিয়াকে বলেছি, তারা যদি আমাদের আহত সৈনিক ও সাধারণ নাগরিকদের ফেরত দেয়, তাহলে আমরাও তাদের আহত সৈনিকদের ফেরত দেব। তবে এর উত্তরে রাশিয়া এখন পর্যন্ত কিছু জানায়নি। মারিউপোল আটকে বসে থাকা ও সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়া বোকামি ছাড়া আর কিছু মনে হচ্ছে না আমার কাছে।’

সাহায্যের হাত বিস্তৃত করছে পোল্যান্ড

যুদ্ধের শুরু থেকে ইউক্রেনের প্রতি ইতিবাচক আচরণ করে আসছে পোল্যান্ড। ইতোমধ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে শরণার্থীদের থাকার জন্য আরও ৬০ দিন বর্ধিত করেছে দেশটির সরকার। শরণার্থীদের সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের সঙ্গে ও পার্শ্ববর্তী আবাসিক হোটেলগুলোয় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পোল্যান্ড।

বর্তমানে পোল্যান্ডে ৬ লাখ শরণার্থী রয়েছে। এদের প্রতিদিন ৪০ জল্ট (পোলিশ মুদ্রা) সাহায্য দেওয়া হয়। ডলারের হিসাবে এর পরিমাণ ৯ দশমিক ৩৮ ডলার। শরণার্থীর পেছনে পোল্যান্ডের ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে হলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা।

বাইডেন প্রশাসনের দেড় বিলিয়ন ডলার সাহায্য

ইউক্রেনে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, পূর্বদিকে রাশিয়া তাদের আক্রমণের মাত্রা বাড়ালে সাহায্যের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।

চলতি অর্থবছর ইতোমধ্যে অস্ত্র কেনার জন্য ইউক্রেনকে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার সাহায্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবিত নতুন অর্থসহায়তায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার অস্ত্র কেনার পেছনে ব্যয় হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

এ ব্যাপারে বাইডেন বলেন, ‘আমরা একটি সংকটাপন্ন সময় পার করছি। যুদ্ধ আমাদের কোন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া বিশেষ সামরিক অভিযান রূপ নিয়েছে ভয়াবহ যুদ্ধে। পশ্চিমারা বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এতটা ভয়াবহতা ইউরোপ আর প্রত্যক্ষ করেনি। ৫৭ দিনের চলমান যুদ্ধে সামনে কী ঘটবে কিংবা যুদ্ধ কবে শেষ হবে, তা কেউ নিশ্চিত হয়ে বলতে পারছে না। স্নায়ুযুদ্ধের মতো এবারের যুদ্ধেও যুদ্ধশিবির ভাগ হয়ে পড়েছে দুটি অংশে। একটি পশ্চিমাপন্থি, অন্যটি মস্কোপন্থি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যেকোনো ভুল সিদ্ধান্তে বিশ্ব আবারও যুদ্ধের ভয়াবহ রূপ প্রত্যক্ষ করতে পারে।

রাশিয়া-ইউক্রেন রাশিয়া-ইউক্রেন রাশিয়া-ইউক্রেন রাশিয়া-ইউক্রেন রাশিয়া-ইউক্রেন রাশিয়া-ইউক্রেন রাশিয়া-ইউক্রেন রাশিয়া-ইউক্রেন রাশিয়া-ইউক্রেন রাশিয়া-ইউক্রেন রাশিয়া-ইউক্রেন রাশিয়া-ইউক্রেন রাশিয়া-ইউক্রেনরাশিয়া-ইউক্রেনরাশিয়া-ইউক্রেন

দক্ষিণ ইউক্রেন ও ডনবাস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করেছে রাশিয়া

 

ইউক্রেনে পূর্ণ শক্তির হামলা শুরু করেছে রাশিয়া :জেলেনস্কি

 

 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.