রাতের অন্ধকারে শীতার্তদের কম্বল দিচ্ছেন ইউএনও

দিন শেষে যখন মানুষজন কাজ কর্ম ফেলে বাড়ি ফিরে প্রচণ্ড ঠান্ডায় ঘরবন্ধি, তখন রাতের অন্ধকারে কনকনে শীতকে উপক্ষো করে গাড়িতে কম্বল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। আর শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণের জন্য সঙ্গে দু’তিনজন সহযোগি বা সহকর্মী নিয়ে কখনো শহরের রেল স্টেশনে ছিন্নমূল মানুষের পাশে, আবার কখনো সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠি হরিজন পল্লীতে কিংবা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের পাড়া-মহল্লায় ছুটে যান। সমাজের অসহায়, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা অথবা অস্বচ্ছল পরিবারের সদস্যদের জন্য কম্বল নিয়ে দুয়ারে দুয়ারে হাজির হন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ইউএনও লুবনা ফারজানা। 

সোমবার (৬ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল ভবানীপুরে ঘরের দুয়ার খুলে হাতে কম্বল পেয়ে বেশ কয়েকজন অসহায় দুঃখী মানুষের মুখে ফুটে খুশির হাসি। ইউএনও লুবনা ফারজানার এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগে ‘না চাইতেই’ হাতে কম্বল পেয়ে অনেকে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। মন ভরে দোয়া করেন তারা। সেই সাথে তাকে সাধুবাদ জানায় সুশীল সমাজের লোকজন।  

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভৈরব উপজেলার নির্বহী অফিসার (ইউএনও) লুবনা ফারজানা বলেন, অন্য কারো হাতে নয়, নিজের হাতে তৃণমূল পর্যায়ে এসব মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করছি। যেন সহজে কেউ বঞ্চিত না হয়। তাছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে এসব কম্বল বিতরণ করতে গেলে সমাজের অনেকেই বঞ্চিত হয়। তাই, সমাজের এসব অসহায় ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে চেষ্টা করছি।

রাতের অন্ধকারে শীতার্তদের কম্বল দিচ্ছেন ইউএনও

জানা গেছে, সরকারিভাবে এ বছর ভৈরবে প্রথম দফায় ৭টি ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে সাড়ে ৩ হাজার ও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ১ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারিভাবে রোটারী ক্লাব অব ভৈরবের উদ্যোগে ২ হাজার এবং বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ৫শতাধিক কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক ও সামাজিক সংগঠনসহ ব্যক্তি উদ্যোগে সমাজের অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ চলছে। এরপরও সমাজে শীতার্ত মানুষের জন্য আরও শীত বস্ত্রের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন সুশীল সমাজের লোকজন। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ ব্যবসায়ী এবং ব্যক্তি উদ্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে আহবান জানিয়েছেন তারা।

Loading...