বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ হ্যাভেনস গ্রুপের বিরুদ্ধে

ডেস্ক নিউজ: মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ইলেকট্রিক পণ্য আমদানির মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে ইলেকট্রিক লাইট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হ্যাভেন লাইটস এর বিরুদ্ধে।

কমদাম দেখিয়ে আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর-মূসক এ রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে এই গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হ্যাভেনস লাইট, এনার্জি প্লাস ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং আল হেলাল কর্পোরেশন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, থাইল্যান্ড ভিত্তিক কোম্পানি লিগম্যান লাইটিং এর বাংলাদেশী ডিস্ট্রিবিউটর এই হ্যাভেনস লাইট কাজ করছে। কিন্তু অধিকাংশ মালামাল সরাসরি থাইল্যান্ড থেকে দেশে না এনে তা আমদানি দেখানো হচ্ছে ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠান সাজি ইন্টারন্যাশনালকে। যেখানে থাইল্যান্ড থেকে আনা পণ্যের মূল্য পরিবর্তন দেখিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় দেশে আমদানি দেখানো হচ্ছে। এটি করা হয়েছে সরকারের রাজস্ব ফাঁকিসহ ক্রেতাদের প্রতারণার কৌশল হিসেবে।

কারণ আমদানি করা লাইটগুলো বেশীরভাগের ক্রেতা হচ্ছে সরকার। সরকারের অনেক বড় বড় প্রজেক্টে এই এ্যানর্জি প্লাস কাজ করছে। তারা প্রয়োজনের অধিক বেশি লাইট সেসব প্রজেক্টে স্থাপন করে সরকারের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া এই গ্রুপটির ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে কর, ভ্যাট ইত্যাদি ফাঁকির অভিযোগে ১০ টির ও অধিক মামলা বিচারাধীন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, থাইল্যান্ডের এই লিগম্যান ব্রান্ডের বাংলাদেশী ডিস্ট্রিবিউটর হলো হ্যাভেনস লাইটিং। এটি হ্যাভেনস গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু রাজস্ব ফাঁকি দিতে তারা নিজে বাংলাদেশী ডিস্ট্রিবিউটর হবার পরও সরাসরি আমদানি না করে লিগম্যান লাইট এর জন্য কথিত ভারতীয় এক ডিস্ট্রিবিউটরের বিপরীতে ইনভয়েস করে। ভারতীয় ওই ডিস্ট্রিবিউটর আবার লিগম্যান থাইল্যান্ড থেকে পণ্য ক্রয় করে বাংলাদেশে রপ্তানি করেছে হ্যাভেনস লাইটিং এর কাছে।

এক্ষেত্রে লিগম্যান হতে ক্রয় কৃত পণ্যের মূল্য কথিত ভারতীয় পরিবেশকের মাধ্যমে আন্ডার ইনভয়েস করে কাটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানিটি অর্থ পরিশোধে অবৈধ হুন্ডির আশ্রয় নিচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে গত ২০২০ সালে ৩ জানুয়ারি ইনভয়েস করা হয়েছে সাজি ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড এর নামে। ইনভয়েসে সাজি ইন্টারন্যাশনালকে ভারতীয় ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে উল্লেখ করা হলেও লিগম্যান এর ওয়েবসাইটে এই নামে কোনো ডিস্ট্রিবিউটর এর সন্ধান মেলেনি।

শুধু রাজস্ব ফাঁকি নয়, সরকারি কাজেও ব্যাপক দুর্নীতি ও প্রভাব বিস্তার করে চলেছে এই কোম্পানিটি। গণপূর্তের একটি সূত্র বলছে, স্থাপত্য বিভাগের নকশা পাশ কাটিয়ে নিজস্ব নকশায় জুম মিটিং এর মাধ্যমে বিশেষ সুযোগ নিয়ে অর্ধশতাধিক মডেল মসজিদে অপ্রয়োজনীয় লাইট সংযোজন করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই এনার্জি প্লাস। বর্তমানে তাদের ৮০ টিরও অধিক সরকারি প্রকল্পে লাইট সরবরাহ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে পল্টন, নবাবপুর ও গুলশানে তাদের শোরুমগুলোতে সরেজমিনে দেখা যায়, একই ধরনের পণ্য এনার্জি প্লাস ও হ্যাভেনস নামে সিল মেরে তারা ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি করছে। শো-রুমগুলোতে ও তাঁরা ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগও রয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.