Ultimate magazine theme for WordPress.

মহিউদ্দীনের উত্তরসূরী হিসেবে উন্নয়নের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখব

আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, প্রয়াত চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর উত্তরসূরী হিসেবে চট্টগ্রামের উন্নয়নের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখব। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে সে ধারা অব্যাহত রেখে এ নগরীকে বিশ্বমানের উন্নীত করবো।

শনিবার (১৪ মার্চ) নগরীর কে সি দে রোডের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে নগর মহিলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত নারী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

রেজাউল করিম বলেন, জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সমস্যা। এ জলাবদ্ধতা নিরসনে চসিক, সিডিএ এবং অন্যান্য সেবা সংস্থাগুলোকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্ধ দিয়েছেন। জলাবদ্ধতা নিরসনসহ অন্যান্য সমস্যা সমধানে সম্মিলিত প্রচেষ্ঠা ও সমন্বিত উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবো। আমি মনে করি, ব্যক্তি হিসাবে আমি বড় কিছু নই। সবচেয়ে বড় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার প্রতীক নৌকা। তাই সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে। আমি এবং দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীরা এ প্রত্যাশা করেন।

সমাবেশে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চসিক নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, মুজিব বষের্র শুরুতে বারুদগন্ধি স্বাধীনতার মাসে শেখ হাসিনাকে নৌকা প্রতীকের বিজয় উপহার দিয়ে চট্টগ্রাম ইতিহাসের অংশীদার হবে। আমি বিশ্বাস করি, নারী সমাজ পুরুষদের চেয়েও অধিকতর কর্ম উদ্যোগী। তারা ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে সংসারের কাজ কর্ম শুরু করে সমাজের জন্য কাজ করেন এবং সন্তানদের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে তারা সবচেয়ে বেশি আন্তরিক ও সক্রিয়। আমি আহ্বান জানাই, এই নারী সমাজ ঘরে ঘরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সাফল্য ও অর্জনের বার্তা পৌছে দিয়ে নৌকার পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য আহবান জানাবেন।

সমাবেশে মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সাফিয়া খাতুন বলেন, এই চট্টগ্রামকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার জন্মভুমি গোপালগঞ্জের পর বেশি ভালবাসেন। তাই তিনি আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, চট্টগ্রামে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করে সতর্ক নজরদারি রাখতে। আমি আনন্দিত ও গর্বিত, চট্টগ্রাম মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন মহিলা আওয়ামী লীগকে ৪৩ টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডে সংগঠিত করেছেন। আমি নগর মহিলা আওয়ামীলীগের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাভাজন হয়ে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে মহিলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিরলসভাবে কাজ করার আহবান জানাচ্ছি।

মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম বলেন, চট্টগ্রাম মহান মুক্তিযুদ্ধের ঠিকানা। ষাঠ দশক থেকে চট্টগ্রামের বিপ্লবী ঐতিহ্য শ্বানিত হয়েছে। এই চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬৬ সালে প্রথম প্রকাশ্য জনসভায় ৬ দফা ঘোষণা করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ মধ্য রাতে তার ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ঘোষণার বার্তাটি চট্টগ্রামের আরেক কিংবদন্তি রাজনৈতিক জহুর আহমদ চৌধুরীর বাসায় প্রেরণ করেছিলেন। ঐ সময় জহুর আহমদ চৌধুরী বাসায় না থাকায় মেসেজেটি গ্রহন করেছিলেন তার স্ত্রী নারীনেত্রী ডা. নুরুন্নাহার জহুর। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রামে মহিলা আওয়ামীলীগের সংগঠক হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, মহিলারা পারেন মানুষের মন জয় করতে। তবে কেন জানি না, কিছু কিছু মহিলা এখনো স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী অপশক্তির কাজ করে নারীদের বিভ্রান্ত করছেন। এদের অবশ্যই চিহ্নিত করতে হবে। কারণ তারা আমাদের নতুন প্রজন্মের অভিশাপ।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, একজন পরীক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিককে নেত্রী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার প্রতীক দিয়েছেন। আমাদের আদর্শিক ও নৈতিক কর্তব্য হলো, যে যার অবস্থান থেকে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে প্রত্যেক ঘরে ঘরে যাব। একটা দিন, একটি ঘন্টা, একটি মুহুর্তও অপচয় করার অবকাশ নেই।

সভাপতির বক্তব্যে নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন বলেন, আমার স্বামী প্রয়াত চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী নারী সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আমাকে ত্বারিত করেছেন। তাই আমি চট্টগ্রাম নগরীর আনাছে কানাছে অবহেলিত ও দুস্থ নারীদের পাশে গিয়ে তাদের সেবা প্রদান করে নগরীর ৪৩ টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডে মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত্তিকে সুদৃঢ় করেছি। এখন তারা আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নিবেদিত হয়ে কাজ করছে। আমরা চট্টগ্রামের নারী সমাজ একজোট হয়ে ২৯ মার্চ বিজয় নিশ্চিত করবো।

নগর মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মালেকা চৌধুরী সঞ্চলনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলেয়া পারভীন রঞ্জু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিরীণ রুখসানা, শিখা চক্রবর্ত্তী, সাংগঠনিক সম্পাদক দিলরুবা জামান শেলী, শেখ আনোয়ার কলি পুতুল, সুরাইয়া বেগম ইভা, দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চেমন আরা তৈয়ব, সাধারণ সম্পাদক লুবনা হারুন, উত্তর জেলার সভাপতি দিলোয়ারা ইউসুফ, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য জাকিয়া আনোয়ার, নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মমতাজ খান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর নীলু নাগ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.