Ultimate magazine theme for WordPress.

বিএনপি-জামায়াতকে নির্মূল করতে হবে: হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, ‘১৯৭৫ সালের পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশে যে বিভক্তি তৈরি করেছেন, তা দূর করতে বিএনপি-জামায়াতকে সমাজ থেকে নিমূল করতে হবে।’

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর বিসিআইসি মিলনায়তনে জাতীয় শ্রমিক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি করেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘বাংলাদেশে জিয়াউর রহমান যে ক্ষতি করে গেছেন, এই ক্ষতি কোনদিন পূরণ হওয়ার নয়। দেশ আজকে দুইভাগে বিভক্ত, একটি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, স্বাধীনতার পক্ষে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি। আরেকটি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত পাকিস্তানের এজেন্ট বিএনপি ও জামায়াত। জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সাল পরবর্তী যেই বিভক্তিটা তৈরি করেছিলেন তা আজকে সমাজের প্রতিটি রন্ধে রন্ধে ছড়িয়ে গেছে। দেশ বিভক্ত জাতি হিসাবে গড়ে উঠেছে। একটি দেশ বিভক্ত জাতি নিয়ে এগিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন। তা আজকে প্রমাণিত, এই অপশক্তি প্রতিটি পদে পদে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধার সৃষ্টি করেছে।’

হানিফ বলেন, ‘আজকে আমরা যদি এই বিভক্ত জাতি থেকে মুক্ত হতে চায়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে চায় তাহলে এই বিভক্ত জাতিকে আবারও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে, বিভক্ত মুক্ত করতে হবে। বিভক্ত মুক্ত করার একটাই উপায়, তা হলো পাকিস্তানের প্রেতাত্মা বিএনপি-জামায়াতকে সমাজ থেকে নির্মূল করতে হবে। তাহলে জাতি ঐক্যবদ্ধ হবে।’

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে এবং রায়ও কার্যকর হয়েছে, এখনও কিছু হত্যাকারী পালিয়ে আছে কিন্তু আমরা সবসময় দাবি করে যায় হত্যাকারীদের পিছন থেকে ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে যিনি মূল মূখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন, আজকে যার কারণে জাতিকে বিভক্ত করা হয়েছে সেই জিয়াউর রহমানের বিচার আমরা করতে পারি নাই। আমরা দাবি করে যায়, বঙ্গবন্ধুর হত্যার ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত করে মরণোত্তর বিচার হোক।’

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন মিথ্যাচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়। তারা একটার পর একটা মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। তাদের এই মিথ্যাচারের মূল লক্ষ হচ্ছে ষড়যন্ত্র। তারা সম্প্রতি গুজব রটিয়েছে আমাদের নেত্রী দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত। এইসব গুজব রটিয়ে কোন লাভ হবে না। ষড়যন্ত্র আছে, এই অশুভ শক্তির ষড়যন্ত্র থামবে না। এদের ষড়যন্ত্রকে একটাই জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করা, দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করা।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের ইনডেমনিটি আইন করে দায়মুক্তি দিলেন জিয়াউর রহমান। শুধু দায়মুক্তি দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তাদের পুরস্কৃত করে জিয়াউর রহমান প্রমাণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল চক্রান্তকারী। একই সঙ্গে রাজকার, আল বদরদের মুক্ত করে দেয়া, নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতের রাজনীতির সুযোগ করে দেয়া এবং কুখ্যাত রাজাকারদের মন্ত্রীসভায় ঠাঁই দিয়ে জিয়াউর রহমান প্রমাণ করেছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য, তাদের এজেন্ট ছিলেন এবং কখনোই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন না। এরপরও যারা তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে ভাবেন তাদের প্রতি করুণা করা ছাড়া কিছুই করার নাই।’

এসময় দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকেরা মনে করেছিলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সকলকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ইতি হয়েছে। ঘাতকেরা মনে করেছিলো বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যে দিয়ে তিনি যে অসাম্প্রদায়িক চেতনার রাজনীতি করেন তার পরিসমাপ্তি ঘটবে কিন্তু আজকে আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা গেছে, কিন্তু তার আদর্শকে হত্যা করা যায়নি। আজকের বাংলাদেশ সেটাই প্রমাণ করে।’

তিনি বলেন, ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা স্বাধীনতার পর থেকেই ষড়যন্ত্র করেছিলো। স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিনবছর বেঁচে ছিলেন। কিন্তু আজকে যে বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে রয়েছে সেটা হলো বঙ্গবন্ধু যেই ভিত্তি রচনা করেছিলেন তার উপর। দেশকে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

আওয়ামী লীগের এই সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কারখানাগুলো জাতীয়করণের কথা বলেছিলেন কিন্তু তারপরে জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়ারা একে একে শ্রমিকদের হাত থেকে তাদের সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের মালিকানায় ফিরিয়ে দেন। সেই ধারাবাহিকতায় দেশের সকল শ্রমিক দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছিলো জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়ারা, তারা আজকে কোথায়? তারা কেউ পালতক জীবনযাপন করছে, কেউ কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। তাদের রাজনীতি আজকে দেউলিয়া হয়ে গেছে। বাংলাদেশের মানুষ আর কখনো খুনিদের রাজনীতি গ্রহণ করবে না। তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি, সমৃদ্ধির রাজনীতি, এগিয়ে যাওয়ার রাজনীত, উন্নয়ন ও অগ্রগতির রাজনীতি গ্রহণ করেছে।’

জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু প্রমুখ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.