Ultimate magazine theme for WordPress.

নতুন মেয়রের কাছে ‘ঢাকাবাসী’র ৩৬ দাবি

নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে যিনিই মেয়র হবেন তার কাছে ৩৬টি দাবি জানিয়েছেন সামাজিক সংগঠন ‘ঢাকাবাসী’। এসব দাবিতে উঠে এসেছে পুরান ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, বিভিন্ন ধরণের নাগরিক চাহিদার কথা।

ঢাকাবাসী সংগঠনের আয়োজনের ‘মেয়রের নিকট ঢাকাবাসীর প্রত্যাশা’ শীর্ষক স্বাক্ষর অভিযানের মাধ্যমে এসব দাবির কথা উঠে আসে।

সংগঠনটির সভাপতি ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার প্রথম সার্ক যুব স্বর্ণপদক বিজয়ী শুকুর সালেক জানান, নগরবাসীর প্রত্যাশা স্বাক্ষরযুক্ত আবেদনটি যিনি নতুন মেয়রের দায়িত্ব পালন করবেন তাকে প্রদান করা হবে।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা সিটিকে দুর্নীতিমুক্তভাবে গড়ে তোলা, রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা, পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যকে রক্ষা, মশকমুক্ত দক্ষিণ সিটি, ঢাকার হারিয়ে যাওয়া খালগুলো উদ্ধার, প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে খেলার মাঠ, মুসলিম সম্প্রদায়ের ঢাকার ঈদের মিছিল, হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্মাষ্টমীর মিছিল ও ঢাকার তাজিয়া মিছিলে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান।

ঢাকা নগর জাদুঘরকে আধুনিকরণ করা, কর্পোরেশনের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করণ, সামাজিক কাজে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে অরাজনৈতিক সেবামূলক সংগঠনগুলোকে নগদ পদক প্রদানের ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন কাজের স্বীকৃত স্বরূপ কাউন্সিলরদের পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কাউন্সিলরদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, রাস্তা সংস্কারের কাজে পূর্বের রাস্তার ওপরভাগে ঢালাই ও পিচ ঢালাইয়ের পর উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় তা রোধ করা, উন্নয়নমূলক কাজের টেন্ডারে দলীয় প্রভাবমুক্তকরণ।

ডিজিটালাইজেশনের ওপর গুরুত্ব প্রদানের লক্ষ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে ইন্টারনেটের ব্যবস্থা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, রাস্তার ওপরে বৈদ্যুতিক, ইন্টারনেটসহ সকল ধরণের তার মুক্তকরণ, নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষে বিউটিফিকেশন কার্যক্রম জোরদার করা, ধোয়া বিহীন ও পরিবেশ সম্মত যানবাহন, ঘোড়ার গাড়ি লাইসেন্স প্রদান, গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত স্থায়ী ঘোড়ার গাড়ির স্ট্যান্ড করা।

নগরের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করা, যানজট নিরসনের জন্য অবৈধ রিকসার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা এবং পাশাপাশি এদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, যানজট নিরসনের লক্ষ্যে স্থানীয়দের মতামত গ্রহণ, অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষার জন্য প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের দিয়ে নিয়মিত কারখানাগুলো পরিদর্শন, নগরকে ধুলাবালি মুক্তকরণ, ঢাকার পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পুনরায় ফিরিয়ে আনা, পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে নীতিমালা বাস্তবায়ন ও ট্যাক্স দুই বার নয় একবার প্রদানের ব্যবস্থা করা।

হকারমুক্ত ফুটপাত, সিটি কর্পোরেশনের সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন এনজিও কার্যক্রমে নিয়মিত তদারকি, নাগরিকদের সুবিধার্থে কার্যক্রম কমিটিসহ অভিযোগ বাক্স রাখার ব্যবস্থা, ট্যাক্স বৃদ্ধি না করা, মেয়রের টেলিফোনে সরাসরি অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ, স্ব-শিক্ষিত কাউন্সিলরদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ইতিপূর্বে যারা মারা গিয়েছে তাদেরকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা।

বাজারের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে এবং ভেজার খাবারের ওপর নিয়মিত তদারকি করা, ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে কোনরূপ হয়রানি যেন না করা হয় তার ব্যবস্থা গ্রহণ, সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে (যেমন, ওয়াসা, গ্যাস, বিদ্যুৎ) সমন্বয়ের মাধ্যমে নগদ উন্নয়ন, শাঁখারী বাজারে পূরার্কীতি রক্ষা এবং পুরনো ঢাকার ছোট কাটরা, বড় কাটরা, রূপলাল হাউজ ও নবাব বাড়ির গেটসহ সকল স্থান দখলমুক্ত করা দাবি জানানো হয়েছে এই স্বাক্ষরতার মাধ্যমে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.