Ultimate magazine theme for WordPress.

চোরের মায়ের বড় গলা: কাদেরের মন্তব্যে ফখরুল

বিএনপির পুনঃনির্বাচনের দাবি মামা বাড়ির আবদার’- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদরের এমন মন্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আলমগীর বলেছেন, ‘চোরের মায়ের বড় গলা। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি কোনো মামারবাড়ির আবদার নয়।’

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা প্রতিষ্ঠানকে ধবংস করে দিচ্ছেন, আপনি একটা জাতির সমস্ত যে আশা-আকাংখা এটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সেটাকে আপনি ধবংস করছেন। সেই ক্ষেত্রে আপনি মামার বাড়ির আবদার এসব বলে তো কোনো লাভ নেই। এটা জনগণের দাবি- জনগণ যেটা যুদ্ধ করে, লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছে তাদের এটা পাওনা যে একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করে প্রতিনিধি নির্বাচিত করবে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘উনি তো যা ইচ্ছা বলতেই পারেন। উনাকে কিছুটা বলার মধ্যে আমরা আনন্দ লাভ করি, উনি যে সুন্দরভাবে কথাগুলো বলেন- বিষয়টা সেটা নয়। বিষয়গুলো ছেলে খেলা নয়, ছেলেমানুষী না।’

‘তারা (সরকার) আজকে ভোট চুরি করেছে। এজন্য আমাদের ওপর তারা দোষ চাপাচ্ছে। কারণ আমরা তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ। তারা যে চুরি করেছে এখানে তো বুঝা যায়। এজন্য কথা আছে চোরের মায়ের গলা বেশি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ভোট তো তারা চুরি করে নিয়ে গেছে, ডাকাতি করে নিয়ে গেছে ইভিএম দিয়ে। এর প্রমাণ আমরা একেবারে মেশিন দেখিয়ে দিয়ে দিয়েছি। এখন আপনি দেখবেন যে, নির্বাচনী কেন্দ্রগুলো থেকে যে রিসিপ্ট পেপার পাওয়ার কথা সেই রিসিপ্ট পেপার এখনো কেউ পাইনি। দেখবেন যে সেগুলোতে এতো গরমিল যে এটা ইভিএমে চিন্তাই করা যায় না।’

তিনি বলেন, ‘ভোটের গণনার ফলাফল দিতে লাগলো ৮ ঘণ্টা। অথচ নির্বাচন কমিশন তাঁর পরিপত্রে বলেছে- একঘণ্টার মধ্যে ফলাফল হয়ে যাওয়ার কথা। পরিপত্র বলা আছে, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ফলাফল দেয়ার কথা। যেহেতু মিলাতে পারেনি, বহু জায়গায় গরমিল রয়েছে সেজন্য ৮ ঘণ্টা সময় নিয়ে ফলাফল বিকৃত করেছে।’

বিভিন্ন স্বায়েত্বশাসিত সংস্থার উদ্ধৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদানে সংসদে যে আইন পাস হয়েছে তাকে ‘কালো আইন’ উল্লেখ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ডেফিনেটি এটি একটি কালো আইন। এই আইনটা করে তাদের (সরকার) যে দুরভিসন্ধি এটাকে লিগেলাইজ করছে। দুরভিসন্ধিটা হচ্ছে তারা তো অর্থনীতিকে একেবারে ব্যানক্রাফট করে ফেলেছে। গত কয়েকদিনের পত্র-পত্রিকাগুলোতে আমরা দেখতে পাবো যে, ব্যাংকের খাত থেকে সরকার ঋণ নিচ্ছে প্রায় ৪৯ হাজার কোটি টাকা এবং পত্র-পত্রিকায় যা বেরিয়েছে তাতে করে অর্থনীতির নেগেটিভ চিত্র ছাড়া পজেটিভ চিত্র কোথাও দেখা যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘এই আইন থেকে এটাই প্রমাণিত হলো সরকার সবখান থেকে টাকা নেয়া শুরু করেছে। এটা দুর্নীতির একটা অংশ বলতে পারেন। কারণ এই অর্থগুলো ব্যবহার করবে কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের ক্ষেত্রে, মেগা প্রজেক্টের ক্ষেত্রে যেখানে মেগা দুর্নীতি হচ্ছে।’

Leave A Reply

Your email address will not be published.