রাজনীতিতে ওয়ার্কিং আন্ডারস্ট্যান্ডিং বিএনপিই নষ্ট করেছে: কাদের

বাসস ঢাকা

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশ-বিদেশে যখন শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রশংসা করা হয়, তখন বিএনপি কষ্ট পায়। তিনি বলেন, ‘সত্য লুকানো আর অসত্যের সঙ্গে সখ্য বিএনপির পুরোনো অভ্যাস। রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ থাকবে, তাই বলে সাদাকে সাদা বলা যাবে না, এমনটি নয়।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিজের সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকগুলো দেখুন। প্রতিটি সূচকে শেখ হাসিনা সরকারের অর্জনের ফলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। তিনি বলেন, এটা বাংলাদেশ সরকারের কোনো বানানো সূচক নয়, এটা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার জরিপের তৈরি সূচক।

বিদেশি বিনিয়োগের ইতিবাচক পরিবেশ বাংলাদেশে বিরাজ করছে উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আন্দোলনের নামে আগুন-সন্ত্রাস আর জনগণের সম্পদ ধ্বংসের রাজনীতি পরিত্যাগ করুন। তাহলেই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আরও উৎসাহী ও আস্থাশীল হবে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি যখন করোনা অভিঘাত মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে, তখনো অর্থনীতির গতিপ্রবাহ ধরে রেখে প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা বজায় রাখার মতো চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ অতিক্রম করেছে।

মির্জা ফখরুল সাহেবরা এসব দেখতে পায় না জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তাঁরা ততটুকুই বলেন, যতটুকু টেমস নদীর ওপার থেকে তাঁদের কাছে ফরমাশ আকারে ভেসে আসে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনীতির মাঠে বিএনপিকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি, কিন্তু বিএনপি আওয়ামী লীগকে শত্রু মনে করে। দেশের রাজনীতিতে ওয়ার্কিং আন্ডারস্ট্যান্ডিং বিএনপিই নষ্ট করেছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের অগ্রগতি ৮৬ ভাগ
এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

এ সময় তিনি বলেন, নানা অনিশ্চয়তার দোলাচলে আর চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ। ইতিমধ্যেই ৪১টি স্প্যানের সব কটি সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত মূল সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতি প্রায় ৯৩.৫ শতাংশ। নদীশাসনের কাজের অগ্রগতি ৮৩.৫ ভাগ।

প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮৬ শতাংশ জানিয়ে সেতুমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ২০২২ সালের জুন মাস নাগাদ পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণকাজের এ পর্যন্ত অগ্রগতি ৭০ শতাংশ বলে জানান তিনি।
বোর্ড সভায় ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন সেতু বিভাগের সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সিনিয়র সচিবেরা।

Loading...