যুক্তরাজ্যের রণতরিবহরকে সতর্ক করল চীন

একেটিভি ডেস্ক

দক্ষিণ চীন সাগরের বেশির ভাগ অংশ নিজেদের বলে দাবি করে চীন। যদিও তাদের এই দাবি ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের বিপরীত। তা সত্ত্বেও দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে নিজেদের একগুঁয়ে মনোভাব অব্যাহত রেখেছে চীন। তারা এই বিতর্কিত এলাকায় নানা স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এ নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর ঘোর আপত্তি রয়েছে।

দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাজ্যের এই মহড়া ২০১৮ সালের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) জ্যেষ্ঠ গবেষক ভিরলে নউইউন্স। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্যের সঙ্গে চীন সরাসরি সংঘাতে জড়াবে না বলেও মনে করেন তিনি।

২০১৮ সালে দক্ষিণ চীন সাগর প্রবেশ করেছিল ব্রিটিশ রণতরি এইচএমএস অ্যালবিয়ন। তখন এই রণতরিটির ২০০ মিটারের মধ্যে চলে এসেছিল চীনের একটি যুদ্ধজাহাজ। যুক্তরাজ্যের রণতরিটিকে জলসীমা ত্যাগ করার জন্য সতর্ক করে চীন। এমনকি যুক্তরাজ্যের রণতরিটির ওপর দিয়ে চীন কয়েকটি যুদ্ধবিমান পর্যন্ত উড়িয়ে নেয়। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের স্বঘোষিত মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রও মেনে নেয়নি। সম্প্রতি এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চ্যালেঞ্জ জানায়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও চীনের উত্তেজনা দেখা দেয়।

পূর্ব এশিয়ায় রণতরিবহর পাঠানোর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় যুক্তরাজ্য নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কয়েকটি দেশও দক্ষিণ চীন সাগরের দিকে নজর রাখছে।

দক্ষিণ চীন সাগরসহ এই অঞ্চল যখন নানা দেশের ভূরাজনৈতিক আগ্রহের একটি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে, তখন চীনও থেমে নেই। তারা এই জলভাগে চলতি সপ্তাহে বড় আকারের সামরিক মহড়া চালিয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি তারা অন্যান্য সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে।

Loading...