ম্যালেরিয়া চিকিৎসায় যা খেতে পারেন

উদ্ভাবনী কাজে লাগাই, ম্যালেরিয়া রোধে জীবন বাঁচাই’ স্লোগানে গত ২৫ এপ্রিল পালিত হয়েছে বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস। ম্যালেরিয়ায় স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছরই এ দিবসটি পালিত হয়। ম্যালেরিয়া মশাবাহিত রোগ। ‘প্লাসমোডিয়াম’ নামে একটি জীবাণু ম্যালেরিয়া রোগের জন্য দায়ী। স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা এ জীবাণু ছড়ায়।

 

পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রজাতির মশা রয়েছে, এর মধ্যে মাত্র ১০০টির মতো প্রজাতি রোগ ছড়ায়। এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, মশা থেকে ২০টির মতো রোগ ছড়ায়। পুরো পৃথিবীতে কীটপতঙ্গের আক্রমণে প্রতি বছর যত মানুষ মারা যায়, তার মধ্যে মশাবাহিত রোগে মারা যায় সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষ। মশাবাহিত রোগ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ২০ আগস্ট পালিত হয় বিশ্ব মশা দিবস।

 

কীটতত্ত্ববিদ এবং গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১২৩ প্রজাতির মশার খোঁজ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকাতেই ১৪টি প্রজাতির মশা পাওয়া যায়। যার মধ্যে ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু ছড়ানো স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা অন্যতম। আমাদের দেশে মোট ৩৬ প্রজাতির অ্যানোফিলিস মশা দেখা যায়, এদের মধ্যে সাতটি প্রজাতি বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া রোগ ছড়ায়। এ সাত প্রজাতির মধ্যে চারটি প্রজাতি ম্যালেরিয়া রোগের প্রধান বাহক হিসেবে কাজ করে।

 

এ মুহূর্তে বাংলাদেশের ১৩টি জেলার ৭২টি থানায় ম্যালেরিয়া রোগের উপস্থিতি রয়েছে। মূলত পার্বত্য ও সীমান্ত এলাকাতেই ম্যালেরিয়া বেশি দেখা যায়। এটি গ্রীষ্মকালে হয়।

২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৮৫ হাজার মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন যার মধ্যে মারা যান ১৫৪ জন। পরে যদিও এ সংখ্যা কমে আসে।

 

একজন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর এ জীবাণু মশার দেহে প্রবেশ করে। এর পর সেই মশা কোনো সুস্থ মানুষকে কমড়ালে, সেই সুস্থ ব্যক্তির দেহেও ছড়িয়ে পড়তে পারে রোগটি। এক সময় বহু মানুষ এ রোগে মারা যেতেন। বর্তমানে অবশ্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে ম্যালেরিয়া। তবুও শরীরের ওপর দিয়ে মারাত্মক ধকল যায় এ রোগে। তাই রোগ মুক্তির পথটি খুব একটা সুগম নয়। দেখে নিন ম্যালেরিয়া থেকে সেরে উঠতে খেতে পারেন কোন কোন খাবার।

 

ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় যেসব খাবার খাবেন:

১. যে কোনো রোগ থেকে সেরে উঠতেই পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ম্যালেরিয়াতে ক্ষুধামন্দা দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। ক্ষুধামন্দা দেখা দিলে কিছুই মুখে রোচে না রোগীর, তাই প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়াও কঠিন হয়ে যায়। তাই প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে এই সময় বিভিন্ন ধরনের ফলের রস ও স্যুপ খেতে হবে। এতে পানির ভারসাম্য ও ক্যাল‌োরির চাহিদা দুটোই মিটবে। তবে চা-কফি কিংবা ঠান্ডা পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে এই সময়।

২. ম্যালেরিয়ার ফলে শরীর ভেঙে যায়। সেরে ওঠার সময় পেশি পুনর্গঠন খুবই জরুরি। তাই এ সময় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার। কিন্তু প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেটে যেন বজায় থাকে ভারসাম্য। ডিম, দুধ, দই, লাচ্ছির সঙ্গে সঙ্গে তেল মশলা ছাড়া সিদ্ধ করা মাছ, মাংসের স্যুপ খাওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত ফ্যাটসমৃদ্ধ দুগ্ধজাত খাদ্য ও প্রক্রিয়াজাত মাংস এ সময় খাওয়া ঠিক না।

 

৩. ম্যালেরিয়া থেকে সেরে উঠতে ভিটামিন ‘এ’ ও ভিটামিন ‘সি’ অত্যন্ত জরুরি। পেঁপে, বিট, গাজরের মতো সবজিতে মেলে ভিটামিন ‘এ’। আর বিভিন্ন ধরনের লেবুতে পাওয়া যায় ভিটামিন ‘সি’। অনেকেই পথ্য হিসেবে ওষুধের মতো করেই বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন খান। বিটের রস ম্যালেরিয়া রোগীদের জন্য বিশেষ উপযোগী।

তবে মনে রাখতে হবে সবার শরীর এক নয়। যার ফলে সমান নয়, রোগের তীব্রতাও। তাই যে কোনো পথ্য খাওয়ার আগেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

 

 

এই গরমে জাম্বুরা কেন খাবেন

 

নাপা সিরাপে ক্ষতিকর কিছু পায়নি ঔষধ প্রশাসন

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.