মেসি-সুয়ারেজের চাপে পড়েই ভুলটি করেছিল বার্সেলোনা!

মেসি-সুয়ারেজের চাপে পড়েই কুতিনহোকে কিনেছিল বার্সা! ব্রাজিলিয়ান তারকা ফিলিপ্পে কুতিনহো বার্সেলোনাতে যোগ দিয়েছেন তিন বছরেরও বেশি সময় আগে। তবে তাঁর বার্সাতে আসার বিষয়টি সাড়ে তিন বছর আগে ঘটলেও নতুন করে আবারও সামনে এসেছে। 

প্রথমে বার্সার ইচ্ছা না থাকলেও মেসি ও সুয়ারেজের চাপে পড়েই  নাকি এই ব্রাজিলিয়ান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে চড়া দামে কিনে আনে তাঁরা। অবশ্য তৎকালীন বার্সা সভাপতি জোসেফ বার্তেমেউ কম সমালোচনার স্বীকার হননি কুতিনহোকে কেনার জন্য।

কুতিনহোকে কেনার বিষয়টি বার্তেমেউয়ের একগুঁয়েমিতা বা ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবেই মন্তব্য করেন সমর্থকরা। অনেক বার্সা সমর্থকরা বুঝতে পারছিল না যে, নাম্বার টেন মেসি দলে থাকার পরও কেন আরেক নাম্বার টেন কুতিনহোকে বার্সা কিনলো।

পরবর্তীতে বার্সার সমর্থকদের সন্দেহই সঠিক প্রমাণিত হয়। সামর্থ্য ও প্রতিভা  থাকা সত্ত্বেও মেসির কারণে কুতিনহো নিজের সেরাটা মেলে ধরতে পারছিলেন না। তিনি নিজের পজিশনটা খুঁজে পাচ্ছিলেন না এবং বুঝতে পারছিলেন না কোন পজিশনে খেললে তিনি ধারাবাহিকভাবে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারবেন।তিনি জানতেন-ই না যে, কোন পজিশনে খেললে সাফল্য পাবেন। দলের অন্য উইঙ্গার থাকায় সেই পজিশনেও খেলতে পারছিলেন না।

প্রাক্তন কোচ তাঁকে পর্যাপ্ত সুবিধা দিলেও তিনি নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি।  বার্সার জার্সিতে তিনি ছিলেন একেবারেই সাদামাটা। অবশ্য পরের মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখে ধারে খেলতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই চমক দেখিয়েছেন।

তবে বার্সার সমর্থকদের মন কুতিনহো তাঁর পারফরম্যান্স দিয়ে মুগ্ধ করতে পারেনি। তাই সেই সময় অনেকেই বার্সা সভাপতি বার্তেমেউয়ের দিকে আঙুল তোলেন কুতিনহো কে দলে ভেড়ানোর জন্য। 

তবে মজার ব্যাপার হলো সাড়ে তিন বছর পর স্প্যানিশ পত্রিকা স্পোর্তে এই ব্যাপারে নতুন করে জল ঘোলা করেছে। “কুতিনহোকে কেনার কোনো আগ্রহই ছিল না ক্লাবের বা বার্তেমেউয়ের। লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের জোরজবরদস্তিতে কুতিনহোকে চড়াদামে লিভারপুল থেকে নিয়ে আসতে বাধ্য হয় ক্লাব!” এমনটাই দাবি করেছে স্প্যানিশ পত্রিকাটি।

সাংবাদিক হোয়ান ভেহিলস স্পোর্তের একটি প্রতিবেদনে এভাবেই তিনি  মেসি-সুয়ারেজের দিকে আঙুল তোলেন। 

সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, “বার্সা সভাপতি ও বোর্ডের কোনো ইচ্ছাই ছিল না এত অর্থ ব্যয় করে কুতিনহোকে আনার। কিন্তু ওই সময় নেইমারকে নিয়ে যায় পিএসজি। এতে মেসি ও সুয়ারেজ হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। তাই তাঁরা চাচ্ছিলেন নেইমারের দেশের সেরা কোনো স্ট্রাইকারকে। কুতিনহোই ছিল তাঁদের প্রথম পছন্দ। তাই মেসি-সুয়ারেজের পীড়াপীড়িতে এ ব্রাজিলিয়ান তারকাকে কিনে আনতে বাধ্য হয় বার্সেলোনা।”

স্প্যানিশ জায়ান্ট পত্রিকার এমন খবরে তোলপাড় শুরু হয়েছে ইউরোপীয় ফুটবল অঙ্গনে। অবশ্য এই প্রতিবেদনটি অনেকে মিথ্যা বলেই দাবি করেছেন। তাঁদের দাবি মতে সাংবাদিক  হোয়ান ভেহিলস বরাবরই বার্তোমেউঘেঁষা।

 

সম্পাদনা: আরিফুল ইসলাম লিখন।

Loading...