মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকদের সঙ্গে বৈঠকে পাপন

দুই বোর্ডের বিপরীত মুখীতায় আটতে আছে পাকিস্তান সফর। এদিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে খেলায় মন দিতে পারবে বলে ক্রিকেটাররাও যেতে চাচ্ছে না পাকিস্তানে। জোর করে কাউকে কোন দেশে পাঠাতে চায় না বলে বিসিবি সভাপতি আগেই জানিয়েছিলেন। যার কারণে সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার (৮ জানুয়ারি) ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। 

সন্ধ্যায় বিপিএলের প্রথম ম্যাচ শেষে বৈঠকে বসেন বোর্ড পরিচালকরা। খুলনার ম্যাচ শেষে টিম বাসে যেতে দেওয়া হয়নি মুশফিকুর রহিমকে। ম্যাচের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সরাসরি বৈঠকে যোগ দেন তিনি।

চট্টগ্রামের কোন ম্যাচ না থাকায় বৈঠকের জন্য খবর দিয়ে আনা হয় চট্টগ্রাম অধিনায়ক ও বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকে। সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুরে আসেন তিনি। এছাড়া শেরেবাংলায় রয়েছেন ঢাকার হয়ে খেলা বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক। আছেন বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবাল। সব মিলিয়ে মিটিং শেষেই পাকিস্তান সফর নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে বিসিবি।   

আইসিসির ভবিষ্যৎ সফর সূচি (এফটিপি) অনুযায়ী চলতি বছরের শুরুতেই পাকিস্তান সফরে যাওয়ার কথা বাংলাদেশের। সফরে পাকিস্তানের সঙ্গে বিপক্ষে দুটি টেস্ট ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আপাতত টি-টোয়েন্টি খেলতে চায় বাংলাদেশ। নিজেদের ইচ্ছের কথা পিসিবিকে জানিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু নিজ দেশ পুরো সিরিজ আয়োজনের বিষয়ে অনড় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। 

দশ বছর আগে পকিস্তানের লাহোরে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের কাছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলকে বহনকারী বাসের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রায় নিষিদ্ধ ছিল পাকিস্তানের হোম ভেন্যু।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৫ সালে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের মাধ্যমে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে সাহায্য করে জিম্বাবুয়ে। আয়োজন করা হয় বিশ্ব একাদশের ম্যাচসহ পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)। সেই ধারাবাহিকতায় শ্রীলঙ্কাও পাকিস্তান সফরে করেছে।

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশকে বেশ কয়েকবার পাকিস্তান আমন্ত্রণ জানিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ রাজি হয়নি। এবারও বাংলাদেশকে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পিসিবি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয় কি না, সেটাই দেখার!

Loading...