মাহমুদউল্লাহকে ছাড়াই প্রস্তুতি ম্যাচ

আবুধাবিতে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। পিঠের চোটের কারণে বিশ্রামে থাকবেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।

বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের ভেন্যু মাসকাটে তিন দিনের অনুশীলন ও একটি অনানুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে সেখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। এবার আরেক ভেন্যু সংযুক্ত আরব আমিরাতের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পালা। পরশু আবুধাবি এসে কাল বাংলাদেশ দল সেখানে প্রথম অনুশীলন করেছে। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। পিঠের চোটের কারণে এ ম্যাচে বিশ্রামে রাখা হচ্ছে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকে। তাঁর পরিবর্তে দলকে নেতৃত্ব দেবেন লিটন দাস।

মাহমুদউল্লাহর আজ না খেলাটা অবশ্য অনুমিতই। এর আগে মাসকাটে ওমান ‘এ’ দলের বিপক্ষে অনানুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচেও খেলেননি তিনি, সে ম্যাচেও অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন লিটন। দলের সঙ্গে থাকা নির্বাচক হাবিবুল বাশার অবশ্য অভয় দিলেন। বিসিবির পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় কাল তিনি বলছিলেন, ‘বিশ্বকাপের মূল পর্ব শুরু হলে খুব একটা বিশ্রামের সুযোগ নেই। একের পর এক ম্যাচ খেলতে হবে, যে কারণে এখন কোনো ঝুঁকি নিচ্ছি না। ওকে (মাহমুদউল্লাহ) হয়তো কালকের (আজ) ম্যাচেও বিশ্রাম দেওয়া হবে। যেহেতু অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, তাঁকে একটু বিশ্রাম দিয়ে মূল ম্যাচের আগে প্রস্তুত করার চেষ্টা করব।’ কাল অনুশীলনে গেলেও ব্যাটিং–বোলিং করেননি মাহমুদউল্লাহ।

একই ভেন্যুতে ১৪ অক্টোবর দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড। ওমানের মাসকাটে ১৭ অক্টোবর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ–যাত্রা শুরুর আগে প্রস্তুতির জন্য এই দুই ম্যাচই পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে মূল পর্বে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপের সঙ্গে ম্যাচ পড়বে বাংলাদেশের। সেই ম্যাচের ভেন্যুও আবুধাবি। সে ম্যাচে ‘এ’ গ্রুপ থেকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে আয়ারল্যান্ডও। সেদিক থেকে প্রস্তুতি ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বাংলাদেশের। হাবিবুল বাশারও বলছিলেন, ‘আবুধাবিতে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর বুঝতে পারব এখানকার উইকেট কেমন হবে। যদি দ্বিতীয় রাউন্ডে যাই, তাহলে এখানে খেলা হবে। যে সময়টা এখানে কাটাচ্ছি, সেটা তখন কাজে লাগবে।

আইপিএলে প্লে-অফের ম্যাচ খেলবেন বলে সাকিব আল হাসান এখনো দলের সঙ্গে যোগ দেননি। তবে রাজস্থান রয়্যালসের আইপিএল মিশন শেষ হওয়ায় মোস্তাফিজুর রহমানকে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচেই পাচ্ছে বাংলাদেশ। আইপিএলে ১৪ ম্যাচে ১৪ উইকেট পাওয়া মোস্তাফিজ কাল দলের সঙ্গে অনুশীলনও করেছেন। ‘মোস্তাফিজের দলের সঙ্গে যোগ দেওয়াটা অনেক বড় ব্যাপার। সে এই কন্ডিশনেই আইপিএল খেলছিল। এখানকার কন্ডিশনটা কেমন হতে পারে, খুব ভালো জানে সে। আশা করি, সাকিবও খুব দ্রুত দলের সঙ্গে যোগ দেবে। এখন পর্যন্ত সব ভালোই যাচ্ছে’—বলছিলেন হাবিবুল।

সময়টা ভালো যাওয়ার কারণটাও পরিষ্কার হাবিবুলের কথায়, ‘বাংলাদেশ দল যখন বিদেশ সফরে আসে, তখন আমরা দলের মধ্যে যে জিনিসটা দেখতে চাই, সেটা হচ্ছে ক্রিকেটারদের ইতিবাচক মনোভাব। এখানেও মনে হচ্ছে, ছেলেরা খুব আত্মবিশ্বাসী। মূল পর্বে গেলে পরিস্থিতিটা হয়তো ভিন্ন হবে। তবে তার আগে যে আত্মবিশ্বাসটা দরকার ছিল, সেটা দলের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।’

প্রস্তুতি ম্যাচে জয়–পরাজয় নিয়ে সাধারণত কেউ ভাবে না। সেখানে প্রস্তুতিটাই হয় আসল। তারপরও শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিতে জয়ের স্বাদ নিয়ে বিশ্বকাপে যেতে পারলে বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস নিশ্চিতভাবেই আরও বাড়বে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.