ভারত আম-ছালা দুটোই ঠিক রাখছে

সমগ্র বিশ্ব যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে দুই মেরুতে ভাগ হয়ে যাচ্ছে, সে সময় ভারত তাদের অবস্থান দুদিকেই সমান তালে বজায় রাখছে। ভারতকে দেখে হলফ করে মস্কোপন্থি কিংবা পশ্চিমাপন্থি–কোনোটিই বলা যাচ্ছে না। বরং সবার সঙ্গেই সখ্য রেখে চলছে দক্ষিণ এশিয়ার শক্তিধর এই দেশটি।

 

পশ্চিমা বিশ্ব যখন রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, তখন সস্তায় রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কিনে লাভের ভাগীদার হচ্ছে ভারত। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কয়েক মাস আগে এ নিয়ে আপত্তি জানালেও এখন পাল্টে গেছে হাওয়া। নিজের অবস্থানকে দুই মেরুতেই পাকাপোক্ত করে নিয়েছে ভারত।

 

১১ এপ্রিল জো বাইডেনের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাতের পর অনেকটাই বদলে গেছে বাস্তবিক চিত্র। বাইডেন জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আদর্শিক মিল ও মানুষে মানুষে মেলবন্ধন অনেক পুরোনো।

গত শুক্রবার ২২ এপ্রিল মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাজ্যের প্রেসিডেন্ট বরিস জনসন। মোদির সঙ্গে বরিস মুক্ত বাণিজ্য নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। তাদের অভিব্যক্তি দেখে বোঝার উপায় নেই, ক-মাস আগেও ভারতের রুশপন্থি আচরণে নাখোশ ছিল পশ্চিমারা। এদিকে ভারতও তাদের রুশ বন্ধন বজায় রাখছে আগের মতোই। এমনকি চলতি মাসের ৭ তারিখে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনে রাশিয়াকে রাখা হবে কি না, এ মর্মে ভোট অনুষ্ঠিত হলে ভারত ভোটদান থেকে বিরত থাকে।

 

 

এ ব্যাপারে লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক হার্শ ভি প্যান্ট বলেন, ‘ভারত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বন্ধু, যাকে তোষামোদির মাধ্যমে হাতে রাখতে হচ্ছে।’ একই কথা বলছেন ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, চীনের উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রাশিয়ার সর্বগ্রাসী আচরণের থেকেও ভয়াবহ হবে। এ ক্ষেত্রে ভারতকে বন্ধুত্বের তালিকায় স্থান দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জরুরি।

চীন প্রশ্নে একই মনোভাব পোষণ করে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত। একের পর এক সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মহড়া, চীন সাগরে আধিপত্য ধরে রাখা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর দখলদারিত্ব মনোভাবের মতো কর্মকাণ্ড ভাবিয়ে তুলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতকে।

শি জিনপিংয়ের অধীন চীন তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে বহু গুণ। এ ছাড়াও বলা হচ্ছে, বিশ্বের শক্তিশালী নৌবাহিনী এখন চীনের দখলে। উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র ও পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন হাতিয়ারের মাধ্যমে চীন হয়ে উঠছে অদম্য। এদিকে চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ক ভাবিয়ে তুলছে যুক্তরাষ্ট্রকে।

বহু আগেই যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত মিলে গঠন করেছিল ‘কোয়াড’। কোয়াড থেকে ভারত যদি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়, তাহলে আদতে জোটটি তাদের শক্তি ধরে রাখতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে অদূর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

এদিকে চীন-ভারত সম্পর্ক শুরু থেকেই তিক্ত। হিমালয় সীমান্তে বিগত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি খণ্ডকালীন সংঘর্ষ হয়ে গেলেও যুদ্ধে রূপ নেয়নি সেই সংঘর্ষ। এ ক্ষেত্রে কোয়াডের সঙ্গে থেকে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় রাখতে চাইছে ভারত। অন্যদিকে ভারত অস্ত্র কেনার জন্য অনেকটাই রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। সংকটকালীন রাশিয়ার বাজারে ভারত ভালো রকমের সুবিধা পাচ্ছে, যেটি সে হাতছাড়া করতে চায় না।

এ ব্যাপারে ভারতের তক্ষশিলা ইনস্টিটিউটের গবেষক মনোজ কিউয়ালরামনাই বলেন, ‘এক জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের দারুণ মিল। সেটি হচ্ছে চীন দুদেশের জন্যই হুমকি। এ ক্ষেত্রে ইউক্রেন প্রশ্নে দুদেশের দু-ধরনের অবস্থান হলেও চীনের ব্যাপারে হাতে হাত রেখে হাঁটতে চাইছে দেশ দুটি।

গত কয়েক দিনের যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডে সহজে অনুমান করে যায়, কী কারণে রাশিয়ার ব্যাপারে চীনের নীরবতায় অনেক হম্বিতম্বি করলেও একই কাজ ভারত করার পর অনেকটা না দেখার ভান করে আছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো।

 

 

ইউক্রেনে পূর্ণ শক্তির হামলা শুরু করেছে রাশিয়া :জেলেনস্কি

 

রাশিয়ার মহাকাশযানে হামলা করলেই পরবর্তী বিশ্বযুদ্ধ!

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.