স্বামীর পর্নো ব্যবসার জন্য শিল্পা শেঠি’র কোটি কোটি টাকা ক্ষতি

ইতিমধ্যে দুই কোটি রুপির বেশি ক্ষতির মুখ দেখেছেন বলিউড নায়িকা শিল্পা শেঠি। আর যত দিন যাবে, এই ক্ষতির অঙ্ক বাড়তেই থাকবে। স্বামী রাজ কুন্দ্রা পর্নোগ্রাফি মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর থেকে শিল্পার ক্যারিয়ার প্রায় ডুবতে বসেছে।
সনি চ্যানেলের জনপ্রিয় ডান্স রিয়ালিটি শো ‘সুপার ডান্সার’–এ শিল্পা শেঠি তারকা বিচারক। রাজ কুন্দ্রা পর্নোগ্রাফি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে শিল্পা এই রিয়ালিটি শো থেকে একদম গায়েব।

 

 

 

 

 

আবার যে কবে তাঁকে দেখা যাবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন আছে। এই সপ্তাহে তাঁর জায়গায় দেখা যাবে প্রবীণ অভিনেত্রী মৌসুমি চ্যাটার্জি ও সোনালি বেন্দ্রেকে।

সম্প্রতি এই নাচের শোর দুটি উইকেন্ড পর্বের শুটিং শেষ হলো। তাই আগামী দুই সপ্তাহ শিল্পাকে ‘সুপার ডান্সার ফোর’–এর বিচারকের আসনে দেখা যাবে না নিশ্চিত। এই ডান্স রিয়ালিটি শোর অন্যতম মূল আকর্ষণ যে তিনিই, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শিল্পার পাশাপাশি তাঁর সংলাপ ‘সুপার সে উপার’ সমান জনপ্রিয়।

সুপার ডান্সারের দুটি সপ্তাহে তাঁকে দেখা যায়নি। এই বলিউড অভিনেত্রীর তাই দুই কোটির বেশি লোকসান হয়েছে। এখন পর্ব পিছু শিল্পা ২০ থেকে ২৫ লাখ রুপি আয় করেন। তিনি এই রিয়ালিটি শোর সবচেয়ে দামি বিচারক। পরিচালক অনুরাগ বাসু আর কোরিওগ্রাফার গীতা কাপুরের সঙ্গে চার বছর ধরে তাঁকে বিচারকের আসনে দেখা গেছে।

 

শিল্পার গ্ল্যামার আর ফ্যাশন স্টেটমেন্ট এই শোকে আরও ঝলমলে করে তুলেছে। দর্শকদের অত্যন্ত পছন্দের বিচারক এই বলিউড তারকা। তবে রাজের পর্নোগ্রাফি ব্যবসার জন্য বড় মাসুল দিতে হতে পারে শিল্পাকে। এখন গুঞ্জন যে এই বলিউড নায়িকার জন্য সুপার ডান্সারের দরজা আপাতত বন্ধ হতে চলেছে। তবে চ্যানেলের পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে কোনো ঘোষণা হয়নি। রাজ জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর শিল্পা আবার হয়তো তাঁর আসনে ফিরতে পারেন।

 

 

ইতিমধ্যে দুই কোটি রুপির বেশি ক্ষতির মুখ দেখেছেন বলিউড নায়িকা শিল্পা শেঠি

 

 

এদিকে পুলিশ রাজ কুন্দ্রার বিরুদ্ধে আরও জোরালো প্রমাণ সংগ্রহ করতে কোমর বেঁধে নেমেছে পুলিশ। এ মামলায় অভিযুক্ত সবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভালো করে খতিয়ে দেখছে তারা। ক্রাইম ব্রাঞ্চের দাবি যে পর্নোগ্রাফি ব্যবসা থেকে রাজ কোটি কোটি রুপি আয় করতেন। এদিকে আবার মডেল তথা অভিনেত্রী সাগরিকা সোনা সুমন ফাঁস করেছেন যে এই ছবিগুলো থেকে শুধু রাজই নয়, ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও কোটি কোটি রুপি আয় করতেন। ক্রাইম ব্রাঞ্চ এ অভিনেত্রীকে সমন পাঠিয়েছে।

সাগরিকার দাবি, সম্প্রতি যে অভিনেত্রীকে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁর মাসিক আয় ছিল ৩০-৩৫ লাখ রুপি। পর্নো ভিডিও আর অনলাইনের শোগুলো থেকে ওই অভিনেত্রী বছরে ৫ কোটি রুপির মতো আয় করেছেন। সাগরিকা বলেছেন, এসব ছবির মাধ্যমে অনেক অভিনেত্রী প্রতি মাসে লাখ লাখ রুপি আয় করেছেন। এঁদের সবাই বছরে তিন থেকে পাঁচ কোটি রুপি আয় করেন। এ অভিনেত্রীর দাবি, ‘হটশটস’ অ্যাপের আসল মালিক রাজ কুন্দ্রাই।

 

 

সাগরিকা আরও জানিয়েছেন, লকডাউনে যখন সব ব্যবসা বন্ধ ছিল, তখন পর্নোগ্রাফির ব্যবসা রমরমিয়ে চলেছে। মাড আইল্যান্ডের এক বাংলোতে অশ্লীল ছবিগুলোর শুটিং হতো। আর একেকটা ভিডিও শুট করতে ছয় ঘণ্টার মতো সময় লাগত বলে জানিয়েছেন সাগরিকা।

 

শিল্পার স্বামীর পর্নো ব্যবসার জাল কলকাতা পর্যন্ত ছড়ানো

খবর হয় যে কলকাতা ও শহরতলিগুলোর বুকে পর্নোগ্রাফি র‍্যাকেট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আর এর জালে জড়িয়ে পড়ছেন অসংখ্য তরুণী। বিদেশি ওটিটিতে কাজের সুযোগ দেওয়া হবে বলে মেয়েদের আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও বানানো হয়। আর এই সবকিছু পর্নো সাইটে আপলোড করা হয়।

 

তাঁদের প্রাণের হুমকি দিয়ে এসব ছবি এবং ভিডিও বানানো হয় বলে অভিযোগ। প্রাইভেট কোম্পানিতে কর্মরত এক নারী এ ব্যাপারে নিউটাউন পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ করেছেন। ওই নারীর অভিযোগ, তাঁকে মডেলিংয়ে সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। আর সেই সুযোগে তাঁর ভিডিও তোলা হয়। পরে এই ভিডিওর ভিত্তিতে নারীটিকে ব্ল্যাকমেল করে তাঁর অশ্লীল ভিডিও বানানো হয়।

আর এই ভিডিও পর্নো ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়। নারীটির অভিযোগ, রাজ কুন্দ্রার ওয়েবসাইটে এসব ভিডিও পোস্ট করা হয়। সোদপুরের এক নারীও এই পর্নোগ্রাফি জালে জড়িয়ে পড়েছেন। তাঁর আপত্তিকর ভিডিও ৮৪টি পর্নো ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।

 

মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, তারা রাজ কুন্দ্রার আরও দুই-তিনটি অ্যাপের লিংক তদন্ত করছে। পুলিশের কাছে অভিযোগ, রাজ তাঁর কোম্পানি ‘ভিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ’–এর মাধ্যমে অশ্লীল অ্যাপ ‘হটশটস’ চালাতেন।

ফেব্রুয়ারিতে রাজের বিরুদ্ধে অশ্লীল ব্যবসা করার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ রাজকে জেরার আগে এ–সম্পর্কিত সব তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছিল। এরপর ১৯ জুলাই রাতে মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠায়। প্রায় দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাজকে গ্রেপ্তার করে মুম্বাই পুলিশ। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত রাজকে ১৪ দিন জেলে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

আমি দুঃখিত, লজ্জিত, বিব্রত এবং অনুতপ্ত

 

আমি যে মাধ্যমে কাজ করি, সেই মাধ্যমটির সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিটি মানুষকে আমি একটি পরিবারের সদস্য মনে করি

আমি যে মাধ্যমে কাজ করি, সেই মাধ্যমটির সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিটি মানুষকে আমি একটি পরিবারের সদস্য মনে করি। প্রযোজক, পরিচালক কিংবা শিল্পী-কলাকুশলী, আমরা সবাই এই পরিবারের সদস্য। আমি আমার নাট্য পরিবারের কাছেও দুঃখ প্রকাশ করছি। এ ভুলে তাদেরও কষ্ট দিয়েছি।

ঘটে যাওয়া ভুলের জন্য আমরা কেউই দায় এড়াতে পারি না। ভুল থেকে আমি, আমরা নতুন করে শিক্ষা নিয়েছি। একই সঙ্গে নিজের সামাজিক অবস্থান, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা নতুন করে উপলব্ধি করতে পারছি। আমি দুঃখিত, লজ্জিত, বিব্রত এবং অনুতপ্ত। আশা করছি, ভবিষ্যতে সামাজিক যেকোনো বিষয়ে আমি, আমরা আরও অনেক বেশি সংবেদনশীল থাকব।

 

 

বিশেষ শিশুদের প্রতি আমার বিশ্বাস, ভালোবাসা বরাবরই ছিল। এক ভুলে তা শেষ হয়ে যেতে দেব না। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, বিশেষ শিশুদের কল্যাণে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাব। কারণ আজকের শিশুরা আগামী দিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। আমাদের সম্পদ।
আমার নাট্য পরিবারের প্রতিটি সংগঠন বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেছেন। তাদের উদ্দেশে সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা জানাই। আশা করছি, সবার সহযোগিতা নিয়ে আমি, আমরা সুন্দর এবং শুদ্ধ শিল্পচর্চার পথে এগিয়ে যাবো।

সম্প্রতি ছোট পর্দার সংগঠনগুলো ‘ঘটনা সত্য’ নাটকে অভিনয়শিল্পী কলাকুশলীদের সঙ্গে জরুরি আলোচনায় বসেন। সেখানে ‘নাটকটি কোনোভাবেই আর পরিবর্তন পরিবর্ধন করে ইউটিউবসহ অন্য যেকোনো মাধ্যমে প্রচার করা যাবে না’সহ বেশ কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো একাধিক নারীকে যৌন হয়রানি করেছেন বলে স্বাধীন তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তিনি মনে করেন, কুমোর পদত্যাগ করা উচিত। তবে কুমো এখনো বলছেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। তাই তিনি পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের তারকা রাজনীতিবিদের মধ্যে কুমো অন্যতম। তিনি একাধিক নারীকে যৌন হয়রানি এবং ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের আইন লঙ্ঘন করেছেন বলে স্বাধীন তদন্তে পাওয়া গেছে। তাঁকে অভিশংসনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের মামলা তাঁকে মোকাবিলা করতে হতে পারে।

 

 

একের পর এক নারীর অভিযোগের পর গত মার্চ মাসে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লাটিশিয়া জেমস গভর্নর কুমোর বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত পরিচালনার ঘোষণা দেন।

কুমো শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক নারীর আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। ৩ আগস্ট অ্যাটর্নি জেনারেলের তদন্ত দলের তদন্তে পাওয়া প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

১৬৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে অ্যাটর্নি জেনারেল লাটিশিয়া জেমস বলেন, স্বাধীন তদন্তের পর তদন্ত দল একমত হয়েছে যে গভর্নর কুমো একাধিক নারীকে যৌন হয়রানি করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন বলে অ্যাটর্নি জেনারেল সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।

 

 

যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা নারীদের বিরুদ্ধে কুমো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গত তিন মাসব্যাপী তদন্ত দল অভিযোগকারী নারীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তদন্ত দলের পক্ষ থেকে গভর্নর কুমোকেও ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

বিভিন্ন সাক্ষ্য ও আলামতের বিস্তারিত তুলে ধরে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুমো অঙ্গরাজ্যের বর্তমান ও সাবেক নারী কর্মীদের যৌন হয়রানি করেছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, সাহসী নারীরা এগিয়ে না এলে কিছুতেই তদন্ত করা সম্ভব হতো না।

 

শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা 

 

তদন্ত দলের অন্যতম সদস্য আইনজীবী জুন কিম বলেছেন, কোনো কোনো নারীকে কুমো অপ্রত্যাশিতভাবে স্পর্শ করেছেন। এমনকি তিনি অভিযোগকারী কোনো কোনো নারীর শরীরের স্পর্শকাতর অংশে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ স্পর্শ করেছেন, যা ছিল অভিযোগকারী নারীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে। পীড়নের শিকার নারীরা কুমোর আচরণে বিরক্ত হয়েছেন। অপমানিতবোধ করেছেন। তদন্তে তা উঠে এসেছে।

কুমোর বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত দলের সদস্য হিসেবে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যবিষয়ক আইনের বিশেষজ্ঞ অ্যানি ক্লার্কও কাজ করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর গভর্নর কুমো এক বিবৃতিতে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনা যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, প্রকৃত চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

 

 

কুমো আবার দাবি করেন, তিনি কখনো কোনো নারীকে অশালীনভাবে স্পর্শ করেননি। অনাকাঙ্ক্ষিত যৌনতামূলক কোনো কাজ তিনি করেননি।

কুমো বলেন, ‘আমি ৬৩ বছর বয়সী একজন মানুষ। আমার সারা জীবনই জনসমক্ষে কেটেছে। আমি কখনো এমন লোক নই।’

কুমো নিজের পক্ষে সাফাই দিতে ৮৫ পৃষ্ঠার একটি বার্তা প্রকাশ করেছেন। এতে দেখা যায়, তিনি নারী-পুরুষদের নানাভাবে চুমু দিচ্ছেন। স্পর্শ করছেন। কপাল, থুতনি ও হাতে চুমু দেওয়া তাঁর স্বভাবজাত বলে দাবি কুমোর।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, গভর্নর কুমোর পদত্যাগ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

কুমোর সঙ্গে কথা হয়নি এবং প্রতিবেদন নিজে দেখেননি উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, অঙ্গরাজ্য আইনসভায় গভর্নরের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব আনা হচ্ছে বলে তিনি জেনেছেন।

 

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার স্পিকার কার্ল হেইস্টি বলেছেন, তদন্ত প্রতিবেদনের বিস্তারিত হাতে পাওয়ার পর দ্রুততার সঙ্গে গভর্নর কুমোর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিও কুমোর পদত্যাগ দাবি করেছেন। জাতীয়ভাবে ডেমোক্রেটিক পার্টির তারকা নেতা কুমোর পক্ষে এখন দলের আর কেউ প্রকাশ্যে নেই।

 

 

প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় গভর্নর কুমো চতুর্থবারের মতো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। করোনা মহামারি মোকাবিলায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে তিনি সুনাম অর্জন করেন। তবে নার্সিংহোমে করোনায় মৃত্যুর হিসাব ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে তিনি সমালোচনায় পড়েন। এ নিয়েও ফেডারেল তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গত বছরের মধ্যভাগ থেকে একের পর এক নারী কুমোর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে এগিয়ে আসেন। এতে কুমো চাপে পড়েন। অঙ্গরাজ্য গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগসহ তাঁর অভিশংসনের দাবি উঠতে থাকে। স্বাধীন তদন্তের প্রতিবেদন আসার পর গভর্নর কুমোর ওপর চাপ আরও জোরালো হলো।

 

 

ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কুমোকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি, তাতে রাজনীতির মধ্যগগন থেকে তাঁর খসে পড়া ঠেকানো কঠিন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলে হচ্ছে।

 

যৌন হয়রানি: গভর্নর কুমোর বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্ত শুরু

 

 

একাধিক নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোর বিরুদ্ধে অপরাধ আইনে তদন্ত শুরু করেছেন স্থানীয় প্রসিকিউটররা।

অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কর্তৃক স্বাধীন তদন্তে ১১ জন নারীর আনা যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর কুমোর বিরুদ্ধে এখন একাধিক অপরাধ তদন্ত শুরু হলো।

 

 

ম্যানহাটন, উয়েস্টচেস্টার ও লং আইল্যান্ড সিটি কাউন্টির প্রসিকিউটররা ৪ আগস্ট বুধবার কুমোর বিরুদ্ধে অপরাধ আইনে তদন্ত শুরুর কথা জানান। তাঁরা ইতিমধ্যে অঙ্গরাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেল কর্তৃক সিভিল তদন্তের নথিপত্র সংগ্রহের দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

 

 

ব্রুকলিনের সাবেক প্রসিকিউটর জুলি রেন্ডেলম্যান বলেছেন, স্বাধীন তদন্তে উঠে আসা বিবরণে যৌন হয়রানির প্রমাণ রয়েছে। এ ঘটনা নিশ্চিতভাবে অপরাধ আইনের আওতায় পড়বে।

৩ আগস্ট ১৬৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লাটিশিয়া জেমস। তিনি বলেন, স্বাধীন তদন্তের পর তদন্ত দল এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে গভর্নর কুমো একাধিক নারীকে যৌন হয়রানি করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন।

গভর্নর গভর্নর  গভর্নর  গভর্নর  গভর্নর  গভর্নর  গভর্নর গভর্নর গভর্নর গভর্নর  গভর্নর  গভর্নর  গভর্নর  গভর্নর  গভর্নর গভর্নর

যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা নারীদের বিরুদ্ধে কুমো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিসহ প্রভাবশালী মার্কিন রাজনীতিবিদেরা কুমোকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমসও এক সম্পাদকীয়তে একই আহ্বান জানিয়েছে।

 

তিন দফার নির্বাচিত গভর্নর কুমো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বলেছেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। তদন্ত প্রতিবেদনে মূল ঘটনা ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তাই তিনি পদত্যাগ না করার অবস্থানে অবিচল রয়েছেন।

 

 

কুমো বলেছেন, তিনি রাজনীতিবিদ বা প্রভাবশালী লোকজন কর্তৃক নয়, বরং জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত গভর্নর। তাই অন্য কারও আহ্বানে তিনি পদত্যাগ করবেন না।

 

পেন্টাগনের বাইরে হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের বাইরে হামলা চালিয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তাকে হত্যাকারীর পরিচয় প্রকাশ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।

স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার পেন্টাগনের বাস প্ল্যাটফর্মে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পরপরই প্রতিরক্ষা দপ্তর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

 

 

স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার এফবিআই এক বিবৃতিতে জানায়, হামলাকারীর নাম অস্টিন উইলিয়াম ল্যাঞ্জ। ২৭ বছর বয়সী এই যুবক জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা। তিনি মঙ্গলবার সকালে পেন্টাগনের কাছেই একটি স্টপেজে বাস থেকে নামেন। তারপর কোনো ধরনের প্ররোচনা ছাড়াই পুলিশ কর্মকর্তা জর্জ গঞ্জালেজকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে অস্টিন নিজেই নিজেকে গুলি করেন।

 

এফবিআই আরও জানায়, এই হামলার পরপরই পুলিশের অন্য সদস্যরা সেখানে যান। ঘটনাস্থলেই হামলাকারীর মৃত্যু হয়। তবে হামলাকারীর ওপর অন্য পুলিশ সদস্যরা গুলি চালিয়েছিলেন কি না, তা উল্লেখ করেনি এফবিআই। ঘটনাস্থল থেকে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

 

 

হামলার পরপরই পুলিশ কর্মকর্তা গঞ্জালেজকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

গঞ্জালেজের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গঞ্জালেজ প্রাণ হারিয়েছেন। পেন্টাগনে কাজ করেন, সেখানে আসেন—এমন মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি মারা গেছেন।

 

 

হামলার সময় ঘটনাস্থলে থাকা এক পথচারী সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে এফবিআই।

অস্টিন কেন এই হামলা চালিয়েছেন, সে সম্পর্কে এফবিআইয়ের বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি।

অস্টিন আগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে জর্জিয়ার স্থানীয় একটি গণমাধ্যম। তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই পুলিশের ওপর হামলা, সন্ত্রাসী হুমকি, চুরিসহ নানা অভিযোগ আছে।

 

কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের শহরতলি আরলিংটোনে পেন্টাগন ভবনের প্রবেশমুখের কয়েক মিটার দূরে হামলার ঘটনাটি ঘটে। এ সময় গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পেন্টাগন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ঘটনার পরপরই পেন্টাগনে অবস্থানরত লোকজনকে অন্যত্র আশ্রয় নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁরা এক ঘণ্টার বেশি সময় অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে নিরাপদে থাকেন। ঘটনার ৯০ মিনিট পর এলাকাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

 

পেন্টাগনের বাইরে হামলা,পুলিশ কর্মকর্তা নিহত

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের আরলিংটনে পেন্টাগনের ওই ভবনের প্রবেশপথ থেকে কয়েক মিটার দূরে একটি বাস এবং পাতাল রেলস্টেশনে গুলির শব্দ পাওয়া যায়। এই ঘটনার পরপরই পেন্টাগনে অবস্থানকারী লোকজনকে নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। গোলাগুলির ৯০ মিনিট পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে কীভাবে ওই কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত করা হয়নি। এ ছাড়া এই ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি।

এ ছাড়া ওই হামলার পর পাতাল রেলসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই রুটে চলাচলকারী বাসগুলো অন্য রাস্তায় ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। পেন্টাগনের সদর দপ্তরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পেন্টাগন ফোর্স প্রোটেকশন এজেন্সির প্রধান উডরো কুসে বলেন, যেখানে গুলির ঘটনা ঘটেছে, সেই স্থান এখন নিরাপদ। এই মুহূর্তে কোনো হুমকি নেই। মঙ্গলবারের ঘটনায় অনেকেই আহত হয়েছেন। তবে ওই পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেননি কুসে। যদিও কয়েকটি সূত্র বলেছে, ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। পরে হামলাকারী নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে নিহত হন।

 

 

এদিকে নিহত ওই পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের বাইরে পুলিশের অনেক সদস্য মোতায়েন রাখতে দেখা যায়।

পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লয়েড অস্টিন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ওই কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। পেন্টাগনে কাজ করেন এবং সেখানে নিয়মিত যান, এমন হাজার কর্মীকে বাঁচিয়েছেন তিনি।

 

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো একাধিক নারীকে যৌন হয়রানি করেছেন বলে স্বাধীন তদন্তে উঠে এসেছে

গভর্নর

সৌদি সরকার হঠাৎ কেন এত কঠোর

সৌদি সরকার বলছে, ২৩ আগস্টের মধ্যে যাঁরা নিবন্ধন করবেন, তাঁরা সব ধরনের শাস্তি থেকে অব্যাহতি পাবেন। এই নিবন্ধনের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকেরা তাঁদের ব্যবসা, বিনিয়োগ ও অন্যান্য লাভজনক আর্থিক কার্যক্রমের বৈধ পূর্ণ ও আংশিক মালিকানার সুযোগ পাবেন।

এই আইনের আওতায় সাজাপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের সাজা ভোগ শেষে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কার করা হবে। ভবিষ্যতে সৌদি আরবে তাঁদের আর প্রবেশের সুযোগ থাকবে না।

 

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ যদি নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাঁকে সর্বোচ্চ ৫ মিলিয়ন বা ৫০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হবে। অথবা পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। পাশাপাশি সব ব্যবসা ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। এর আগের আইনে জরিমানার পরিমাণ ছিল মাত্র ৫০ হাজার রিয়াল। অথবা সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পাশাপাশি বাজেয়াপ্তের বিধান ছিল ব্যবসা ও সম্পদের ১০ শতাংশ। আইনটি সংশোধন করে এখন কঠোর করা হয়েছে। সব ক্ষেত্রেই বাড়ানো হয়েছে শাস্তি।

সৌদি সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান রামরুর চেয়ারপারসন তাসনিম সিদ্দিকী একেটিভিকে বলেন, ‘আমরা অনেক সৌদি নাগরিককে দেখেছি নিজে বিনিয়োগ না করেও অর্ধেক মুনাফা নিয়ে যান। কারণ, ব্যবসা তাঁর নামে। কর্মী ভিসায় যাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য ব্যবসা কিংবা বিনিয়োগ যেহেতু নিষিদ্ধ, এই সুযোগ নেন সৌদি নাগরিকেরা। সৌদি সরকার ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সমস্যা হবে যদি কর্মী ভিসায় যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের ব্যবসা ভিসায় স্থানান্তর করা না হয়। এ জন্য বাংলাদেশি দূতাবাসকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

 

 

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের পর সৌদি সরকার আইনজীবীর মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করবে। কোনো ব্যবসায়ীর বার্ষিক লেনদেন (টার্নওভার) ২০ মিলিয়ন বা ২ কোটি রিয়ালের বেশি হয়, সে ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ মালিকানা তাঁর নামে রাখা হবে। বাকি ২৫ শতাংশ থাকবে সরকারের মালিকানায়। কোনো বিনিয়োগকারীর বার্ষিক লেনদেন যদি ২ কোটি রিয়ালের কম হয়, সেই অনুপাতে তাঁর মালিকানা নির্ধারিত হবে। নিবন্ধনের সময় শেষ হওয়ার পর কেউ যদি অবৈধ ব্যবসার খবর সরকারের কাছে পৌঁছে দেয়, তখন সন্ধানদাতাকে ওই ব্যবসার ৩০ শতাংশ মালিকানা দিয়ে ৭০ শতাংশ সরকার নিয়ে নেবে। সৌদি আরবে এখন ২৩ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন।

সৌদি সরকার হঠাৎ কেন এত কঠোর

বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিক সৌদি আরবে কর্মী ভিসায় গিয়ে গোপনে অন্য ব্যবসা করছেন—সরকারের কাছে এই খবর অনেক আগে থেকেই রয়েছে। কিন্তু এত বছর সৌদি সরকার ততটা কঠোর হয়নি। কিন্তু এবার এত কঠোর হওয়ার মূল কারণ, দেশটি ‘ভিশন ২০৩০’ নামে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যেখানে তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ অবারিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। সে জন্য গোপনে যাঁরা ব্যবসা করছেন, তাঁদের মূল স্রোতে আনতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

 

সৌদি ন্যাশনাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের অপারেশন ম্যানেজার জালাল আহমেদ একেটিভিকে বলেন, বাংলাদেশ থেকে কর্মী ভিসায় সৌদি আরব গিয়ে অনেকে টাকাপয়সা জমিয়ে সৌদি নাগরিকের নামে ব্যবসা শুরু করেন। এসব ব্যবসার মধ্যে রয়েছে নির্মাণ ব্যবসা, সুপারমার্কেট, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, গাড়ি, জনশক্তি রপ্তানি। যখন ব্যবসা বেশ বড় ও লাভজনক হয়, তখন ওই সৌদি নাগরিক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে বের করে দেন। যেহেতু নিজের নামে ব্যবসার নিবন্ধন নেই, তাই আইনিভাবে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেন না বাংলাদেশিরা। এখন যদি অবৈধ ব্যবসাকে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সে ব্যবসায় নিরাপত্তা থাকবে।

আফগান পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার দায় নিলো তালেবান

আফগান পুলিশের এক কর্মকর্তাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে তালেবান। গতকাল বৃহস্পতিবার তালেবান এ কথা স্বীকার করে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম ফজল মোহাম্মদ। তিনি ‘খাসা জওয়ান’ নামে বেশি পরিচিত। অনলাইনে হাস্যরসাত্মক নানান ভিডিও পোস্ট করার জন্য আফগানদের কাছে তিনি তাঁর পুলিশ পরিচয়ের চেয়ে কৌতুক অভিনেতা হিসেবেই বেশি পরিচিতি অর্জন করেন।

 

গভর্নর

 

ফজল কান্দাহার প্রদেশে কর্মরত ছিলেন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বাড়িতে ফেরার পর তাঁকে তালেবান তুলে নিয়ে যায়। ফজলের এক সহকর্মী এই তথ্য জানান।

ফজলকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যার কথা শুরুতে অস্বীকার করে তালেবান। কিন্তু গত সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। তারপরই তাঁকে হত্যার কথা স্বীকার করে তালেবান।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ফজলের দুই হাত পিছমোড়া করে বাঁধা। সে অবস্থায় তিনি একটি গাড়িতে বসে আছেন। তাঁর দুই পাশে লোক বসা। এ সময় তাঁকে বারবার চড় মারা হচ্ছিল। অপর একটি ভিডিওতে ফজলের মরদেহ দেখা যায়।

 

দেশের ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশে শেখ কামালের বিরাট অবদান: প্রধানমন্ত্রী

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রথমবারের মতো যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় প্রবর্তিত এ পুরস্কার সাতটি ক্যাটাগরিতে মোট ১০ জন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও দুটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ কামালের সাদাসিধে জীবনে দেশকে গড়ে তোলা, দেশের মানুষের পাশে থাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সাংস্কৃতিক অঙ্গন বা ক্রীড়া অঙ্গন—এসব কিছুর উন্নতি করা, এটাই ছিল তাঁর কাছে সব থেকে বড় কথা।

শেখ হাসিনা বলেন, শেখ কামাল বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তন করে, খেলাধুলাকে উন্নত করে এবং আবাহনী ক্রীড়া চক্র গড়ে তোলে। ঠিক এর পূর্বে আবাহনী সমাজকল্যাণ সংস্থা করা হয়। তিনি বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানটা করার পেছনে একটা উদ্দেশ্য ছিল, ধানমন্ডি এলাকায় তখন খেলাধুলা বা শিশুদের প্রতিভা বিকাশের কোনো সুযোগ ছিল না। তাই শিশু এবং তরুণদের জন্য একটা খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করাই ছিল কামালের উদ্দেশ্য এবং সে এ ব্যাপারে আলোচনা করেই প্রতিষ্ঠানটা গড়ে তোলে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কামাল যেমন খেলাধুলার দিক থেকে, তেমনি সাংস্কৃতিক চর্চার দিকেও ছিল। চমৎকার গান গাইতে পারত। স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী সে গড়ে তোলে। নাট্যচর্চার সঙ্গেও সম্পৃক্ততা ছিল। সুরেলা গানের গলার সঙ্গে সে চমৎকার সেতার বাজাতে পারত।’

ক্রীড়াবিদ হিসেবে রোমান সানা (আর্চারি), মাবিয়া আক্তার (ভারোত্তোলন), মাহফুজা খাতুন (সাঁতার), ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে মনজুর কাদের (শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব) এবং ক্যা শৈ ল হ্ন (কারাতে ফেডারেশন), উদীয়মান ক্রীড়াবিদ হিসেবে আকবর আলী (ক্রিকেট) ও ফাহাদ রহমান (দাবা), উন্নতি খাতুন (ফুটবল), ফেডারেশন,

অ্যাসোসিয়েশন ও সংস্থা ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, আজীবন সম্মাননায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন, ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে মুহাম্মদ কামরুজ্জামান এবং পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ইলেকট্রনিক পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার লাভ করেন।
পুরস্কার হিসেবে প্রত্যককে এক লাখ টাকা এবং ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তিনিই বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে শহীদ শেখ কামালকে নিয়ে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থের মোড়কও উন্মোচন করেন। শেখ কামালের জীবন ও কর্মের ওপর অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও চিত্র পরিবেশিত হয় এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

 

ধামইরহাটে বিন্যাস বিষ দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছে তিন বিঘা জমির ধান

Loading...