‘বীর বাহাদুর’কে টেক্কা দিয়ে গাবতলীতে ‘যুবরাজ’র রাজত্ব

কোরবানির পশু নিয়ে চলছে মহাকাণ্ড। রাজধানী ঢাকা তো বটেই, দেশের সবচেয়ে বড় পশুর হাট মিরপুরের গাবতলী। সেই গাবতলীর কোরবানির পশুর হাটে দু’দিন আগেও হাটের রাজা ছিল পাবনার ঈশ্বরদী থেকে আসা ‘বীর বাহাদুর’। কিন্তু তাকে টেক্কা দিতে গাবতলী পশুর হাটে ঝিনাইদহ থেকে চলে এসেছে ‘যুবরাজ’।

এবার প্রথমবারের মতো গরু নিয়ে গাবতলী পশুর হাটে এসেছেন মো. শাহে আলম মিয়া। ঝিনাইদহের আব্দুল্লাহ অ্যাগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্ম থেকে আনা হয়েছে যুবরাজ, সাহেব, বাদশা, রবিসহ পাঁচটি গরু। গত দু’দিন ধরে জনতার ভিড় যুবরাজকে ঘিরে।

টেকনিক্যাল থেকে গিয়ে গাবতলী পশুর হাটে ঢুকতেই হাতের বাঁয়ে রাখা হয়েছে বীর বাহাদুরকে। তার ঠিক পূর্ব পাশে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করছে গাবতলীর রাজা ‘যুবরাজ’।

যুবরাজের নামকরণ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ শাহে আলম মিয়া ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘ছোটবেলায় যখন ওকে কিনি তখন আমার ছেলে খুব শখ করে নাম দিয়েছিল ‘যুবরাজ’। সেই থেকেই ওকে যুবরাজ বলেই ডাকি। এটা ফ্রিজিয়ান জাতের গরু।’ 

যুবরাজকে কি কি খাওয়ানো হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যুবরাজের খাওয়ার ব্যাপারে খুব সতর্ক থেকেছি। ছোলা, গমের ভুসি, ভুট্টার ভুসি, খেসারি ডাল একসাথে মিক্স করে দিনে ২ বেলা খাওয়ানো হয়। প্রতি বেলায় ১৬ থেকে ১৮ কেজি খাবার খায়। এছাড়া ২ বেলায় ১ মণ করে ঘাস দেই। এর বাইরে কলা, কাঁঠাল, অ্যাঙ্কার, আখের গুড় ও গমের ভুসিসহ আরো অনেক পশুখাদ্য খাওয়ানো হয় যুবরাজকে। এতে প্রতিদিন যুবরাজের জন্য ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা খরচ হয়।’ 

যুবরাজকে মোটাতাজাকরণের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনও ওষুধ খাওয়ানো হয়নি। সম্পূর্ণ ওষুধমুক্ত গরু ‘যুবরাজ’। আমি ওকে নিজ হাতে লালন-পালন করেছি।’

তবে তিনদিন ধরে গরুটি বাজারে তুললেও এখনও দামদর পাকা হচ্ছে না। যুবরাজের দাম ৪০ লাখ টাকা চাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ৩৫ লাখের কমে বিক্রি করা হবে না বলে জানিয়েছেন শাহে আলম মিয়া। 

এদিকে গরুর হাটের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‍্যাব) সদস্যরা অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে। যেকোনও অপ্রীতিকর ঘটনার এড়াতে তৎপর রয়েছে পুলিশের এই এলিট বাহিনী।

Loading...