বিষখালী তীরের মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ, বাঁধ বিলীনের আশঙ্কা

 

ইট তৈরির মৌসুমের আগেই বরগুনার পাথরঘাটার প্রমত্তা বিষখালী নদীর চর ও তীরের মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের খুব কাছ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বাঁধ। এভাবে মাটি কেটে নেওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষিজমিও বিলীন হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় লোকজন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কাইছার আলম  বলেন, নদী থেকে কোনোভাবেই মাটি কাটা যাবে না। বাঁধ ঝুকিতে রেখে নদীর তীর থেকে মাটি কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

 

পাথরঘাটার কাকচিড়া ইউনিয়নের বাইনটকি এলাকায় প্রমত্তা বিষখালী নদীর তীর ঘেঁষে ছয়টি ইটভাটা রয়েছে। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, ইট তৈরির জন্য ভাটামালিকেরা চর ও নদীর তীর থেকে মাটি কাটা শুরু করেছেন। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের খুব কাছ থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর ইট তৈরির মৌসুম শুরু হলে ইটভাটাগুলোর মালিকেরা শ্রমিক দিয়ে নদীর চর ও তীর থেকে মাটি কেটে নিয়ে যান। কিন্তু এ বছর মৌসুম শুরুর আগেই মাটি কাটা শুরু হয়েছে। এতে করে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এভাবে নদীর তীর থেকে মাটি কাটা চলতে থাকলে আগামী দু–এক বছরের মধ্যে বেড়িবাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যাবে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহীন বলেন, তাঁদের এই এলাকা ভাঙনকবলিত। ইটভাটাগুলো যেভাবে নদীর তীর থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে, এতে নদীর ভাঙন আরও বেড়ে যাবে।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নদীর তীরবর্তী আরএসবি ব্রিকসের মালিক গোলাম মোস্তফা কিসলু  বলেন, যে জায়গার মাটি কাটা হচ্ছে, সেই জায়গা তাঁর রেকর্ড করা সম্পত্তি। এখানে নদীর কোনো জমি নেই। নদীর তীরের মাটি কাটার তথ্য সত্য নয়।

 

ওই এলাকার আল মামুন এন্টারপ্রাইজ ব্রিকসের মালিক ও বরগুনা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. শাহাদাত হোসেনও দাবি করেন তাঁর নিজস্ব জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। নদী বা সরকারি কোনো জমি সেখানে নেই বলে তিনি দাবি করেন।

জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, জেলায় প্রায় ৫০টির মতো ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ ইটভাটার ইট তৈরির অনুমতিপত্র নেই। তবে যেসব ইটভাটার অনুমতিপত্র আছে, তারা সরকারি নিয়ম-নীতি মেনেই ইট তৈরি করছে বলে দাবি করেন তিনি।

যদি নদীর তীর থেকে মাটিতে কাটা হয় এবং চর দখল করে ইটভাটা গড়ে তোলা কারণে যদি নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়, তাহলে এসব ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া

হাবিবুর রহমান, জেলা প্রশাসক 

 

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিএ) বরগুনা নদীবন্দরের কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ বলেন, বাইনচটকি এলাকা থেকে কালির চর পর্যন্ত ছয়টি ইটভাটা রয়েছে। নদীতে চর জেগে উঠলেই ভাটার মালিকেরা চর দখল করে নেন। এতে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নদীর গতিপথও অনেক সময় পরিবর্তন হচ্ছে।

এ বিষয়ে চাইলে বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, নদীর চর ও তীর থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। যদি নদীর তীর থেকে মাটিতে কাটা হয় এবং চর দখল করে ইটভাটা গড়ে তোলা কারণে যদি নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়, তাহলে এসব ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.