Ultimate magazine theme for WordPress.

নিয়মিত আর অভিনয় করা হবে না : আসাদুজ্জামান নূর

অনেক দিন পরই অভিনয়ে ফিরেছেন খ্যাতিমান অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর। গত ২৮ ও ২৯ জুলাই উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে এক শুটিং বাড়িতে বাকের ভাই খ্যাত এ অভিনেতা নতুন একটি টেলিছবিতে অভিনয় করেন।

শুভাশিস সিনহা রচিত ‘জলছবি’ নামের এই টেলিছবিটি নির্মাণ করছেন হাসান রেজাউল। বঙ্গবিডি প্রযোজিত এই টেলিছবিতে আসাদুজ্জামান নূরের সহকারীর চরিত্রে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তারিন। আসাদুজ্জামান নূরের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করছেন জ্যোতি সিনহা।

শুটিং স্পটে কথা হয় আসাদুজ্জামান নূরের সঙ্গে। কেন অভিনয় থেকে দূরে তিনি? কী কারণেই বা ফেরা হলো? এসব প্রশ্নের উত্তরসহ সাম্প্রতিক সময়ের নাটকের হালচাল নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। তুলে ধরা হলো আলাপের চুম্বক অংশ-

জাগো নিউজ : অনেক দিন অভিনয় থেকে সরে ছিলেন। কেন?

আসাদুজ্জামান নূর : অনেক দিন কোনো কাজ না করলে মনের ভেতর একধরনের বাধা তৈরি হয়। অভিনয় তো অনেক পরিশ্রমের কাজ। একধরনের আলসেমিও কাজ করে। আরেকটা ব্যাপার হলো এখন কিন্তু ভালো নাটকেরও অভাব।

জাগো নিউজ : এবার কী নিয়মিত দেখা যাবে আপনাকে?

আসাদুজ্জামান নূর : নিয়মিত হওয়ার মতো সুযোগ নেই। তেমন নাটকও নেই। ভালো কাজ হাতে এলে হয়তো কিছু কাজ করবো।

জাগো নিউজ : এই টেলিছবিতে কবি চরিত্রে অভিনয় করলেন। দীর্ঘদিনের বিরতি কাটাতে এ গল্পের বা চরিত্রটির কোনো ভূমিকা আছে?

আসাদুজ্জামান নূর : না, শুধু গল্পের জন্যই নয়। এর গল্পটি সুন্দর। তবে এই টেলিছবিতে যে মানুষগুলো জড়িত তারা অনেক প্রিয়ভাজন আমার। যেমন টেলিছবির রচয়িতা শুভাশিস সিনহার মঞ্চের কাজ দেখে আমি খুব অভিভূত। তার প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল সেটাও একটা বড় কারণ। টেলিছবিটির পরিচালক হাসানও অনেক দিন থেকে অনুরোধ করে আসছিলেন এতে অভিনয় করার জন্য।

জাগো নিউজ : টেলিছবিটিতে আপনার চরিত্রটি নিয়ে কিছু বলুন…

আসাদুজ্জামান নূর : কবি চরিত্রে অভিনয় করছি। এটা খুব নতুন কোনো চরিত্র সেটাও নয়, কবির চরিত্রে আগেও অভিনয় করেছি। এখানে ব্যতিক্রম যেটা আছে। এখানে কবির ব্যক্তিগত জীবন, কবি জীবন সব মিলিয়ে একটা সংঘাত আছে। তার নিজস্ব দুর্বলতা ও সবলতার বিষয়গুলো খুব জোরালো ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

এ ধরনের কমফ্লিকটিং চরিত্রগুলোতে অভিনয় করতে ভালোই লাগে। এটাও এ গল্পের একটি বৈশিষ্ট্য। গল্পটি এখনই বলে ফেললে তো দর্শক জেনেই গেল সব কিছু। তাই আর বেশি কিছু না বলি। এটুকু বলি, এটা একেবারে গতানুগতিক ধারার গল্প নয়।

জাগো নিউজ : ব্যতিক্রমধর্মী গল্প পেলেই তাহলে অভিনয় করবেন?

আসাদুজ্জামান নূর : না, নিয়মিত আর অভিনয়ে ফেরা হবে না। নিয়মিত অভিনয় করতে গেলে যে সময় দিতে হয় সেটা দেওয়া এখন সম্ভব নয়। রাজনৈতিক জীবন তো চলছে। আমি সংসদ সদস্য। নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য আছে। তেমনি জাতীয় পর্যায়েও আমরা যারা সংসদ সদস্য আছি তাদের ভূমিকা রাখতে হয়। তাই নিয়মিত অভিনয় করে যাওয়া আর সম্ভব নয়।

কিন্তু যেহেতু অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা ও দুর্বলতা আছে সেহেতু মঞ্চে নিয়মিত কাজ করার ইচ্ছা আছে। টেলিভিশনের জন্য যদি ভালো গল্প ও পাশাপাশি আমার সময় মেলাতে পারি তাহলে অভিনয় করবো।

জাগো নিউজ : অনেক দিন পর ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে গিয়ে কিরকম অনুভব করছিলেন?

আসাদুজ্জামান নূর : অনেক বছর ধরেই তো অভিনয় করছি। নতুন করে আর কিছু মনে হয় না। এই পরিবেশটায় আমরা অভ্যস্ত। যদিও আগে আমরা যখন শুধু বিটিভির জন্য নাটক করতাম তখন এমন ছিল না। পরে যখন ব্যক্তিমালিকানাধীন অবস্থায় নাটক প্রযোজনা হতে শুরু করলো তখন অনেক কিছু পাল্টে গেছে।

পরেও অনেক কাজ করেছি। তবুও সব সময়ই এটা চ্যালেঞ্জ থাকে। সেই চ্যালেঞ্জটা নিয়ে কখনো সফল হই, কখনো ব্যর্থ। অভিনেতা হিসেবে সেটা নিয়ে টেনশন তো থাকে।

জাগো নিউজ : আপনার অভিনীত অনেক নাটক কালজয়ী হয়ে আছে। এখনকার সময়ের নাটক দেখা হয়?

আসাদুজ্জামান নূর : দেখি না তা নয়। মাঝে মধ্যেই দেখি। সবসময় যে কথাটি বলে এসেছি সেটা হলো, ভালো শিল্পীর এখন কোনো অভাব নেই। কিন্তু ভালো লেখকের অভাব আছে। লেখাটা এমন এত সৃজনশীল মাধ্যম, চাইলেই যে কেউ লিখতে পারে না। হাতেগোনা কয়েকজন হয়তো ভালো নাটক লিখছেন। বেশির ভাগই গড়পড়তা।

যে কারণে শিল্পীদেরও অভিনয় করার সুযোগ থাকে না। অনেক ভালো শিল্পী যারা আছেন তারা চাইলেও খুব ভালো কাজ করতে পারছেন না। আমার মনে হয় সময়ের সাথে সাথে আমরা এই সংকট থেকে উত্তীর্ণ হবো।

মঞ্চ নাটকের ক্ষেত্রেও কিন্তু এই সংকট বিরাজ করছে। খুব অল্পসংখ্যক লেখক ভালো নাটক লিখছেন। সৈয়দ শামসুল হক, সেলিম আল দ্বীন, আবদুল্লাহ আল মামুন, মমতাজ উদ্দীন আহমদ এই ধরণের মানুষ কিন্তু এখন নেই। ওই সময় থেকে যারা কাজ করে আসছেন তাদের মধ্যে মানুনুর রশীদ হাল ধরে আছেন। তারও বয়স হয়েছে। যত নাটক লেখা উচিৎ, তত নাটক লেখা হচ্ছে না।

জাগো নিউজ : এখন টেলিভিশন ও ইউটিউ চ্যানেলের জন্য প্রচুর নাটক নির্মাণ হচ্ছে। মানসম্মত নাটক কম হচ্ছে এই সংকট আমরা কীভাবে কাটাতে পারি?

আসাদুজ্জামান নূর : ওই যে বললাম ভালো লেখক। তাছাড়া যতো চাহিদা তত জনবল আমাদের নেই। জনবল বলতে আমি বুঝিয়েছি, যারা ভালো নাটক তৈরি করতে পারবে। এটা একটা বড় কারণ বলে আমি মনে করি। আরেকটা কারণ হচ্ছে, নাটকের বাজেট কমে গেছে। সব মিলিয়ে একটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের উত্তীর্ণ হতে হবে, তা না হলে আমরা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বো।

সাধারণ মানুষের ঝোঁক এখন ভারতীয় নাটকের দিকে। আমি শুনি অনেকেই বলে ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হোক। আমার ধারণা এগুলো বন্ধ করেও তেমন লাভ হবে না। কারণ আপনি টিভি বন্ধ করে দিবেন কিন্ত ইউটিউব, অনলাইন তো বন্ধ করতে পারবেন না। সিনেমার ক্ষেত্রেও যেটা হয়েছে আমার বিদেশি সিনেমা বন্ধ করে দিলাম। তাতে কী লাভ হলো? বরং শত শত সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেলো।

ওইটা সমাধান না, সমাধান হলো ভালো কাজ করা। আমি দেখেছি স্বাধীনতার আগে এই ঢাকাতে লাহোরের উর্দূ ছবি আসতো, বোম্বের হিন্দি ছবি আসতো, কলকাতার বাংলা ছবি আসতো তার মধ্যে দিয়ে কিন্তু আমাদের বাংলা ছবি দাঁড়িয়েছিলো। তাহলে আজকে আমরা এতো বিদেশি ছবিকে ভয় পাচ্ছি কেনো!

আজকে তো আমাদের টেকনোলজি ভালো হয়েছে, শক্তিমান অভিনেতা, নির্মাতা আছে। ভালো ছবি হলে দর্শক দেখতে যাচ্ছে সেটাও আমরা দেখতে পাচ্ছি। ভালো কাজ করতে হবে। ভালো কাজ করলে পৃথিবীর যেকোনো দেশের, যেকোনো মাধ্যমের সঙ্গেই আমরা লড়াই করতে পারবো।

Leave A Reply

Your email address will not be published.