Ultimate magazine theme for WordPress.

‘ঢাকা শহর, যেখানে অসভ্য, অযোগ্য, মুর্খ, নারীলিপ্সু, অশিক্ষিতদের বসবাস’

নির্মিত হতে যাচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী নিয়ে সিনেমা। ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ প্রযোজনায় সিনেমাটি পরিচালনা করবেন ভারতের খ্যাতিমান পরিচালক শ্যাম বেনেগাল।

ইতোমধ্যে চলচ্চিত্রটির জন্য চলছে বিভিন্ন চরিত্রে শিল্পী বাছাইয়ের কাজ। এরই মধ্যে অনেক শিল্পীর নাম প্রকাশ্যে এসেছে। প্রথমে জানা গিয়েছিলো বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের চরিত্রে অভিনয় করবেন জ্যোতিকা জ্যোতি।

কিন্তু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখ গেছে বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা মুজিব (রেনু) এর ভূমিকায় নুসরাত ইমরোজ তিশা অভিনয় করবেন।

ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের সাথে জ্যোতিকা জ্যোতির ব্যাপক সাদৃশ্য থাকার পরেও এই চরিত্রটি না পাওয়ায় বেশ হতাশ জ্যোতি ও বাংলা চলচ্চিত্রের ভক্তরা। এমন সংবাদ প্রকাশের পর আওয়ামীলীগের নির্বাচনের প্রথম সারিতে থাকা শিল্পী হয়েও তিনি কাজ কেন পেলেন না এই নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়, সেই গুঞ্জনের জবাবে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন জ্যোতি। সেখানে তিনি লিখেন,

এত বধির জাত একটা শব্দ ধরে ধরে বললেও ৯৯% লোকে কথা বুঝেনা! বলাবলি, লেখালেখি দেখছি আওয়ামীলীগের নির্বাচনের প্রথম সারিতে থাকা শিল্পী হয়েও আমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বানানো বায়োপিকে থাকতে পারিনি তাই ব্যার্থ হয়ে পোস্ট দিয়েছি। অথচ আমি ক্লিয়ার করে বলেছি কেন পোস্ট দিয়েছি!

প্রিয় স্টুপিডেরা, আমি শিল্পী হিসেবে লীগ সাপোর্ট করিনা, আমরা জন্ম থেকেই রাজনীতি করি, ছাত্রজীবন থেকে এক্টিভ কর্মী। সেজন্যই নির্বাচনে কাজ করেছি। আর এখন এমপি মন্ত্রীরা এন্টি আওয়ামী শিল্পীদের দ্বারা বেস্টিত বলেই আর ওই পথ মাড়াইনা। আওয়ামী শিল্পী হয়েও প্রথমবার অডিশনের খবরই জানিনা।

তিনি আরও লিখেন,  কাল থেকে আমি ফোন ইনবক্স সামলাতে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি কাজেই বিনীতভাবে আমি এগুলো এভয়েড করার চেস্টা করছি। বাট তোমরা দেখি থামছোনা। তোমরা কি জানো আওয়ামী শিল্পী হয়েও কোন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দাওয়াত পাইনা অথচ শিবির বিএনপি জামাত করা শিল্পীরা লিড দেয়? আমার সম্পর্কে স্টাডি করে তারপর মন্তব্য কর।

ছাগলের দল, তোমরা কেন ইতিহাস পড়না? বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল কে? তাহলে এত দল দল কেন করছো। লবিং তো দল দিয়ে হয়না, বল দিয়ে হয়!

শোন মুর্খরা, আমাদের গ্রামে ২০১৯ এর জুলাইয়ে বিদ্যুৎ গেছে, আমি গ্রাম ছেড়েছি ১৯৯৬ সালে। সেই গ্রামের মেয়েদের প্রথমিক স্কুলে থাকা অবস্থায় বিয়ে হয়ে যায়, হাইস্কুলে পড়া মেয়েরা কলেজে যাওয়ার আগেই সংসার শুরু করে। মেয়ে হওয়ায় তারা আর পৃথিবীর আলো দেখেনা। সেই গ্রামের মেয়ে হয়ে আমি আমার গ্রাজ্যুয়েশন কমপ্লিট করে ঢাকা শহরে দাঁড়িয়েছি কোন মামা চাচা ভাই বেরাদার জামাই ও কোনরকম মেয়েলী অস্ত্র ছাড়া। হুম ঢাকা শহর, যেখানে তোমাদের মতো অসভ্য, অযোগ্য, মুর্খ, নারীলিপ্সু, অশিক্ষিতদের বসবাস। কাজেই আমার জন্য পৃথিবীর যেকোন ইন্ডাস্ট্রি অনন্ত বাংলাদেশের চাইতে সহজ, যদি আমি সেই সময়টা দেই। কাজেই একটা ছোট্ট কাজের জন্য ভেবে অস্থির হইনা আমি। বর্ডার ক্রস করেছি তো, আর সেটা ভালো কিছু দিয়েই। সামনে আরো করবো। আমাকে এই এক কাজে মাপলে হবে ছাগুরা? মাথা থেকে হাগু সরিয়ে আমার সাথে প্রতিযোগিতায় এসো। আমি খুঁটির জোরে চলিনা, কলিজার জোরে চলি। ওকে???

Leave A Reply

Your email address will not be published.