বিএনপি নেতা মকবুলের জামিন বাতিল

রাজধানীর নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় করা পুলিশের মামলায় গ্রেফতার বিএনপি নেতা মকবুল হোসেনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

 

বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা আক্তার শুনানি শেষে তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।

 

গত শনিবার ২৩ এপ্রিল মকবুলকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন নিউমার্কেট থানার পুলিশ পরিদর্শক হালদার অর্পিত ঠাকুর। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

এরপর ২৪ এপ্রিল প্রথম দিনের রিমান্ড শেষ পুলিশ জানিয়েছিল মকবুল হোসেনের কাছ থেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদে কী পাওয়া গেছে–জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেই তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করছি।’

 

তিন দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার ২৭ এপ্রিল তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিউমার্কেট থানার পুলিশ পরিদর্শক হালদার অর্পিত ঠাকুর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

 

অপরদিকে তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে জামিন শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।

 

সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেনকে ২২ এপ্রিল বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারের পর রাতেই হস্তান্তর করা হয় নিউমার্কেট থানা পুলিশের কাছে।

 

গত ১৮ এপ্রিল রাত ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সংঘর্ষ হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চলে এ সংঘর্ষ। এরপর রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও ১৯ এপ্রিল সকাল ১০টার পর থেকে ফের দফায় দফায় শুরু হয় সংঘর্ষ, যা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

 

এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক আহত হন। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাদের একজন ডেলিভারিম্যান, অন্যজন দোকান কর্মচারী। ডেলিভারিম্যান নাহিদের নিহতের ঘটনায় বাবা মো. নাদিম হোসেন বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা করেন। মোরসালিনের ভাই বাদী হয়ে আরও একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

এদিকে এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করে। একটি মামলা বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে এবং অন্যটি পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে। দুই মামলাতে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীসহ মোট ১ হাজার ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

 

মকবুল হোসেন ছাড়াও এ মামলায় আরও যাদের নাম রয়েছে, তারা হলেন আমির হোসেন আলমগীর, মিজান, টিপু, হাজি জাহাঙ্গীর হোসেন পাটোয়ারী, হাসান জাহাঙ্গীর মিঠু, হারুন হাওলাদার, শাহ আলম শন্টু, শহিদুল ইসলাম শহিদ, জাপানি ফারুক, মিজান বেপারী, আসিফ, রহমত, সুমন, জসিম, বিল্লাল, হারুন, তোহা, মনির, বাচ্চু, জুলহাস, মিঠু, মিন্টু ও বাবুল।

বিএনপি নেতা বিএনপি নেতাবিএনপি নেতা

 

জাতীয় সরকার নিয়ে বিএনপিতে লেজেগোবরে অবস্থা: কাদের

 

বিএনপির আমলে ২০ জনকে হত্যা করা হয়, জয়

 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.