Ultimate magazine theme for WordPress.

কেমনে খামু শোল মাছ,আর্তনাদ ছেলেহারা মায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

 

‘আমারে কইলো মা নামাজ পইড়া বাসায় আইতাছি। বাসায় যাইয়া ভাত খামু। কি রানসো ( রান্না করছো) তুমি। কইলাম শোল মাছ রানছি (রান্না করছি) বাবা। দুপুরেও তো খাও নাই তাড়াতাড়ি আইসো।’

‘এখন কেমনে খামু শোল, আল্লাহ গো আমারেও লউয়া যাও।’ এভাবেই ছেলেহারা এক মা প্রলাপ করে কান্নাকাটি করছিল শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।

গতকাল শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজের সময় এসি বিস্ফোরণের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তার ছেলে রিফাত (১৮)।

ছেলে হারানো এই মা কাঁদতে কাঁদতে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। তাকে পানি খাওয়ানোর চেস্টা করে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন স্বজনরা।

নিহতের এক স্বজন হাসেম আলী জানায়, স্কুলে পড়ুয়া রিফাত অন্য উঠতি বসয়ী ছেলেদের মতো ছিল না। খুবই শান্ত স্বভাবের এই ছেলেটি ছিল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি। গতকাল রাতে এশার নামাজের জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে মসজিদে এসেছিল সে। এসি বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর রাতে মারা যায় রিফাত।

তাদের সঙ্গে আসা সালাম মিয়া নামের এক এলাকাবাসী বলেন, ‘এশার নামাজের শেষের দিকেই হঠাৎ মসজিদে বিকট শব্দ হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ধরে যায় মসজিদের ভেতরে। তখন সবাই প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে দৌড়ে বের হয় মসজিদ থেকে। কেউ কেউ সড়কে পড়েই গড়াগড়ি খাচ্ছিলেন। এমন দৃশ্য আমি আমার জীবনে দেখি নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘পোড়া মানুষের ছটফটানি দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে ছিল সবাই। যে যেভাবে পারে পুড়ে যাওয়া মানুষদের হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করছি। অনেকে আবার ভয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছিল না। মসজিদের ভেতরের ফ্লোর এবং বাইরে শুধু রক্ত আর রক্ত পড়ে ছিল।’

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজের সময় এসি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অর্ধ-শতাধিক মুসল্লি আহত হন। পরে মসজিদে এসি বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আজ শনিবার সকালে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা.পার্থ শঙ্কর পাল জানান, নারায়ণগঞ্জে এসি বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়া ৩৭ জনের মধ্যে ১২ জন মারা গেছে। বাকি ২৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.