বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান–এমডিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার আবেদন

কলেজছাত্রী মোসারাত জাহানকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহান, ব্যবস্থাপনা সায়েম সোবহান আনভীরসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ আদালতে মোসারাতের বোন নুসরাত জাহান মামলা নেওয়ার জন্য আজ সোমবার এই আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওই ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর রেজাউল করিম।

 

মামলায় আহমেদ আকবর সোবহানের স্ত্রী আফরোজা সোবহান, আনভীরের স্ত্রী সাবরিনা, শারমিন, সাইফা রহমান মিম, কথিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা এবং ইব্রাহিম আহমেদ রিপনকে আসামি করার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

পিপি রেজাউল করিম বলেন, কলেজছাত্রী মোসারাত জাহানকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ , দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন বাদী নুসরাত জাহান।

রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে গত ২৬ এপ্রিল রাতে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহানের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন মোসারাতের বড় বোন নুসরাত জাহান। এ মামলায় গত জুলাই মাসে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত ১৮ আগস্ট পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। আদালতের এই আদেশে মামলা থেকে অব্যাহতি পান আসামি সায়েম সোবহান আনভীর।

Edited By: Farhana Zerin

 

দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে

ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আজ সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ কথা বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, আজ দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই সময়ে দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

আবহাওয়াচিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে, ওডিশা উপকূলের অদূরে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে।

মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও ওডিশা লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত তা বিস্তৃত।

মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

গতকাল রোববার দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় কুমিল্লায়, ১১২ মিলিমিটার।

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তেঁতুলিয়ায়, ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকতে পারে কক্সবাজারে।

আজ ঢাকায় বাতাসের গতি ও দিক ছিল দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার, যা অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ায় ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার।

আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ১১ মিনিটে। আগামীকাল মঙ্গলবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৪২ মিনিটে।

Edited By: Farhana Zerin

 

পাকিস্তান দিয়ে দিল টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দল দিয়ে দিল পাকিস্তান। ১৫ সদস্যের এ দলে অভিজ্ঞ মোহাম্মদ হাফিজ জায়গা পেলেও বাদ পড়েছেন দুই সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিক ও সরফরাজ আহমেদ।

অনুমিতভাবেই পাকিস্তানের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে উইকেটকিপার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন তিনি। মূল স্কোয়াড থেকে বাদ পড়লেও রিজার্ভ হিসেবে থাকছেন ওপেনিং ব্যাটসম্যান ফখর জামান।

 

পাকিস্তান দলে চমক আজম খান। ২৩ বছর বয়সী এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের পাকিস্তান দলে অভিষেক এ বছরই। খেলেছেন দুই/তিনটি ম্যাচ। কিন্তু ব্যাট হাতে তাঁর স্ট্রাইকরেট ১৫০।

পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল: বাবর আজম ,মোহাম্মদ হাফিজ, মোহাম্মদ রিজওয়ান, খুশদিল শাহ, শোয়েব মাকসুদ, আজম খান, আসিফ আলী, শাদাব খান, মোহাম্মদ নাওয়াজ, হাসান আলী, মোহাম্মদ নাওয়াজ, মোহাম্মদ ওয়াসিম, হারিস রউফ, ইমাদ ওয়াসিম, শাহীন শাহ আফ্রিদি।

রিজার্ভ: ফখর জামান, শাহনাওয়াজ দাহানি, উসমান কাদির

Edited By: Farhana Zerin

 

স্কুল-কলেজ খোলার প্রস্তুতিতে গাইডলাইন প্রকাশ

করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ রোববার আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শুরু হয়েছে।

সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সভাপতিত্বে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলসহ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত আছেন।

স্কুল-কলেজ

এমন পরিস্থিতিতে আবার শিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি নিতে স্কুল কলেজগুলোকে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে উদ্বুদ্ধ করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন করারসহ মোট ১৯ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ করা হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার গাইড লাইন। এ গাইড লাইন অনুসরণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। আর আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করতে সব স্কুল-কলেজকে নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর মাউশি।
আজ রোববার শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সব স্কুল-কলেজগুলো খোলার প্রস্তুতি নিতে ১৯ দফা নির্দেশনা দিয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে।

 

১৯ দফা নির্দেশনা হলো

*শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ মুখসহ অন্যান্য স্থানে কোডিড-১৯ অতিমারি সম্পর্কিত স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে করণীয় বিষয়গুলো ব্যানার বা অন্য কোনো উপায়ে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে;

*শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পথে সব শিক্ষক-কর্মচারী শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়মিত তাপমাত্রা মাপা ও তা পর্যবেক্ষণ করার ব্যবস্থা করতে হবে;

*শিক্ষার্থীদের ভিড় এড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠানের সবগুলো প্রবেশমুখ ব্যবহার করার ব্যবস্থা করা। যদি কেবল একটি প্রবেশমুখ থাকে সেক্ষেত্রে একাধিক প্রবেশমুখের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতে হবে;

*প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন পরিবেশে শ্রেণি কার্যক্রমে স্বাগত জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন শিক্ষার্থীরা কিভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করবে এবং বাসা থেকে যাওয়া-আসা করবে সে বিষয়ে শিক্ষণীয় ও উদ্বুদ্ধকারী ব্রিফিং দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের দেওয়া ভিডিও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে;

*প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ আইসোলেশন কক্ষ হিসেবে প্রস্তুত রাখতে হবে:

*প্রতিষ্ঠানের সব ভবনের কক্ষ, বারান্দা, সিঁড়ি, ছাদ এবং আঙ্গিনা যথাযথভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে;

*প্রতিষ্ঠানের সব ওয়াশরুম নিয়মিত সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখা এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করতে হবে;

*প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী এবং অভিভাবক প্রবেশের সময় সরকার দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালনের ব্যবস্থা করতে হবে।

*প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর সঠিকভাবে মাস্ক পরিধান করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে;

*প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দ্বারা হাত ধোয়ার এমন ব্যবস্থা করা যাতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ঢোকার আগে সবাই সাবান দিয়ে হাত ধুঁতে পারে;

*শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বসার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে পারস্পারিক ৩ ফুট শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা করতে হবে;

*শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ, ড্রেন ও বাগান যথাযথভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা এবং কোথাও পানি জমে না থাকে তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করতে হবে;

*প্রতিষ্ঠানসমূহে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সংখ্যা নিরুপণ করতে হবে;

*প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করতে হবে;

*স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে আনন্দঘন শিখন কার্যক্রমের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত করতে হবে;

*প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত মেরামত, বৈদ্যুতিক মেরামত এবং পানি সংযোগজনিত মেরামত সম্পন্ন করতে হবে;

*প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকদের সাথে সভা করে এতদসংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

করোনার কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলছে। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি আছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ছুটি আর বাড়ছে না।

জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফের গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯-এর কারণে স্কুল বন্ধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম দেশ। দীর্ঘ বন্ধের ফলে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত চার কোটির বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে বৈঠক করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পক্ষে মত দেয় করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। বৈঠক শেষে রাত পৌনে ১২টায় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সহিদুল্লা প্রথম আলোকে বলেন, করোনা সংক্রমণ সর্বোচ্চ শনাক্ত থেকে ৭০ শতাংশ কমেছে। ধীরে ধীরে করোনার টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত হচ্ছে। এ জন্য সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া সাপেক্ষে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যায়।

একই দিন রাতে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বেসরকারি টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, হয়তো ১২ সেপ্টেম্বর থেকেই ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসতেও পারে।

প্রায় সবকিছু খুলে দেওয়ার পর এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ১৮ আগস্ট সচিব সভায় করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ও টিকা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ২৬ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সভায় পরিকল্পনা করা হয়, টিকা দেওয়া দেওয়া সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেরা আগামী ১৫ অক্টোবরের পর থেকে খুলতে পারবে।

আর উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ ৫ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে নামলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যায় কি না, সে বিষয়ে করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির পরামর্শ নেওয়া হবে। সেদিনের সভাতেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে শিগগির আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হবে, যা আজ রোববার অনুষ্ঠিত হবে। এই সভাতেই বিস্তারিত আলোচনা করে খোলার সিদ্ধান্ত হতে পারে।

Edited By: Farhana Zerin

 

 

এসএসসি , এইচএসসি ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস প্রতিদিন

প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে। তবে শুরুতে শুধু এ বছরের এবং আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের এবং প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস হবে। বাকিদের সপ্তাহে একদিন করে ক্লাস হবে।

আজ রোববার সচিবালয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয়ের সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মণি।

করোনার কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলছে। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি আছে।

 

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এ বছরের এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস হয়তো কিছুদিন পরেই শেষ হয়ে যাবে। এরপর নবম এবং একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন ক্লাস হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মধ্য অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার একটি পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এ বিষয়ে আবারও উপাচার্যদের সঙ্গে বসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। তারা চাইলে এর আগেও খুলতে পারবে।

পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী এবং অষ্টম শ্রেণির জেএসসি পরীক্ষার জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার প্রস্তুতি আছে। তারপরও পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে না নেওয়া গেলে তখন সেটা দেখা যাবে।

 

জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফের গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯-এর কারণে স্কুল বন্ধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম দেশ। দীর্ঘ বন্ধের ফলে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত চার কোটির বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে বৈঠক করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পক্ষে মত দেয় করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। বৈঠক শেষে রাত পৌনে ১২টায় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সহিদুল্লা প্রথম আলোকে বলেন, করোনা সংক্রমণ সর্বোচ্চ শনাক্ত থেকে ৭০ শতাংশ কমেছে। ধীরে ধীরে করোনার টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত হচ্ছে। এ জন্য সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া সাপেক্ষে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যায়।

Edited By: Farhana Zerin

 

নগদের মালিকানায় বারবার বদল

দেশে মোবাইল ফোনে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে নগদ এখন বেশ পরিচিত একটি নাম। মাত্র আড়াই বছরে তুমুল প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নগদ যেভাবে বাজারের বড় একটা অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, সেভাবে আগে কেউ পারেনি।

তবে এখনো নগদের মালিকানা ও ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে যে জটিলতা, সেটির সুরাহা হয়নি। নগদকে সরকারের ডাক অধিদপ্তর সেবা হিসেবে প্রচার করা হলেও এর মালিকানায় ডাক অধিদপ্তরের কোনো অস্তিত্ব নেই। আবার আর্থিক সেবা দিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো চূড়ান্ত অনুমোদন নেই নগদের।

 

এই অবস্থায় নগদের সেবাকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে এটাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাতে নগদের ৫১ শতাংশ মালিকানা থাকবে ডাক অধিদপ্তরের কাছে। বাকি ৪৯ শতাংশ পাবেন এখনকার মালিকেরা। নগদকে আইনি কাঠামোয় আনার জন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক আপাতত এমন পরিকল্পনাই করেছে বলে জানা গেছে।

এ নিয়ে জানতে চাইলে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিরাজ উদ্দিন বলেন, নগদ এখন ডাক অধিদপ্তরের ব্র্যান্ড ব্যবহার করছে। এতে ডাক অধিদপ্তরের কোনো মালিকানা নেই। তাই ৫১ শতাংশ মালিকানা নিতে ডাক অধিদপ্তরের অধীনে একটি কোম্পানি গঠন করা হচ্ছে। এরপর ৯ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হবে। পর্ষদে চেয়ারম্যানসহ পাঁচজন পরিচালক হবেন সরকারের প্রতিনিধি।

 

সিরাজ উদ্দিন আরও বলেন, মালিকানা নিতে আমরা কোনো টাকা দেব না। নগদ শুরু থেকে আমাদের ব্র্যান্ড ব্যবহার করছে। এর মূল্যমান হিসেবে নগদের ৫১ শতাংশ মালিকানা পাবে ডাক অধিদপ্তর। এ জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে। আশা করছি চলতি বছরের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনে অন্যান্য এমএফএস প্রতিষ্ঠানের মতো চলবে নগদ।

২০১৬ সালে মোবাইলে আর্থিক সেবা দিতে গড়ে ওঠে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এতে নগদের প্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ী ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদের পাশাপাশি মালিকানায় যুক্ত হন গ্রামীণফোন ও গুগলের সাবেক কর্মকর্তা কাজী মনিরুল কবির, সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সৈয়দ আরশাদ রেজা ও মিজানুর রহমান। ২০১৭ সালে ডাক অধিদপ্তরের মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার কাজ নেয় থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস। ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ কার্যক্রম শুরু করে নগদ।

 

নগদের কার্যক্রম শুরুর আগেই অংশীদারদের কেউ কেউ থার্ড ওয়েভের শেয়ার ছেড়ে দেন। এর মধ্যে কাজী মনিরুল কবির ছেড়ে দিলে মালিকানায় যুক্ত হন দুই সাংসদ নাহিম রাজ্জাক ও রাজী মোহাম্মদ ফখরুল। এ ছাড়া নতুন করে মালিকানায় যুক্ত হন রেজওয়ানা নূর।

যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, থার্ড ওয়েভ টেকনোলজির নাম পরিবর্তন করে নগদ করা হয়েছে। আর মালিকানায় যুক্ত হয়েছেন নতুন অনেকে, ছেড়েও দিয়েছেন কেউ কেউ। আড়াই বছরে দফায় দফায় একাধিকবার মালিকানায় পরিবর্তন হয়েছে নগদের। এখন নগদের পরিচালক ৯ জন, যাঁরা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে নিবন্ধিত বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধি। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও সিঙ্গাপুরের ১ জন করে নাগরিক রয়েছেন। অন্য ৬ জন বাংলাদেশি।

 

নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ নিজের নামে থাকা সব শেয়ার টেলিকম এশিয়া হোল্ডিং ও অন্য পরিচালক শাফায়েত আলমের কাছে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে হস্তান্তর করেছেন। ১ জুলাই থেকে তিনি টেলিকম এশিয়া হোল্ডিংয়ের মনোনীত পরিচালক হিসেবে এমডি পদে আছেন। প্রাইম ব্যাংকের সাবেক এমডি রাহেল আহমেদ ১ জুলাই থেকে ফিনক্লুশন ভেঞ্চারের প্রতিনিধি হিসেবে নগদের পরিচালক। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাও।

রেজাউল হোসেন ১ জুলাই থেকে নগদের পরিচালক হয়েছেন ফিনটেক হোল্ডিংয়ের প্রতিনিধি হিসেবে। ব্লু ওয়াটার হোল্ডিংয়ের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচালক হয়েছেন সাফায়েত আলম। তিনি নগদের নির্বাহী পরিচালকও। মারুফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আমিনুল হক নগদের পরিচালক হিসেবে আছেন টেলিকম এশিয়া হোল্ডিংয়ের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে। সিঙ্গাপুরের কোম্পানি নিবন্ধনের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফিনক্লুশন ভেঞ্চার ও টেলিকম এশিয়া একই গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠান।

এর বাইরে নগদে ফিনক্লুশন ভেঞ্চারের পক্ষে সিঙ্গাপুরের নাগরিক ফয়সাল আহসান চৌধুরী ও স্টালওয়ার্টে লিমিটেডের পক্ষে কানাডার নাগরিক তামজিদ রহমান পরিচালক। আর মিয়ার্স হোল্ডিংয়ের পক্ষে পরিচালক হন ব্রিটিশ নাগরিক গিলস এলাস্টার জেমস ফার্লে, যাঁর কার্যালয় ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জে।

নগদের এমডি তানভীর আহমেদ গত রোববার রাতে বলেন, যাঁরা এখন নগদের মালিকানায় আছেন, তাঁদের মধ্যে আমিসহ বেশির ভাগই দেশীয় কোম্পানির। এর মধ্যে নগদে কর্মীদেরও শেয়ার আছে। একটি কোম্পানি আগে সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত ছিল। এখন সেখানে কোনো কার্যক্রম নেই। পাশাপাশি নগদে তিনটি বিদেশি কোম্পানির তিনজন প্রতিনিধিও আছেন। নতুন করে লকডাউন না হলে চলতি বছরেই নগদ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপ নেবে।

 

কার্যক্রম শুরুর এক বছর পর গত বছরের এপ্রিলে নগদকে কার্যক্রম চালিয়ে নিতে সাময়িক অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের এমএফএস-সংক্রান্ত নীতিমালা ও বেঁধে দেওয়া লেনদেনের সীমা যথাযথভাবে মেনে চলতে বলা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে সব শর্ত পূরণ ও আলাদা কোম্পানি গঠনের কাজ শেষ না সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি নগদে জমা হওয়া গ্রাহকের টাকার লেনদেনে যাতে ডাক অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়, সে জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মোবাইলে আর্থিক সেবায় বিকাশের পরই এখন নগদের অবস্থান। সেবাটির মাধ্যমে দৈনিক ৭০০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। সহজে হিসাব খোলার সুবিধা ও ব্যবসার কৌশলের কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে সেবাটি। প্রায় সাড়ে ৫ কোটি গ্রাহক নিবন্ধন নিয়েছেন নগদের।

Edited By: Farhana Zerin

 

শেয়ারবাজার এর প্রধান সূচক রেকর্ড উচ্চতায়

৭ হাজার পয়েন্টের মাইলফলক ছাড়াল দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স। আজ রোববার ডিএসইএক্স লেনদেনের শুরুতেই বেড়ে ৭ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। বেলা ১১টা নাগাদ সূচকটি ৭১ পয়েন্ট বেড়ে ৭০৫২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

 

যা পুঁজিবাজারে সূচকটির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ অবস্থান। এই সময় পর্যন্ত ডিএসইতে ৭৭০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৬০ টির, কমেছে ৭৫ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪০ টির।

 

অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের উত্থানে লেনদেন চলছে। বেলা ১১টা নাগাদ সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৬৭ পয়েন্ট। এই সময়ে সিএসইতে ২০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।

Edited By: Farhana Zerin

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্তের বৈঠক আজ

করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ রোববার আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ডাকা হয়েছে। আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরার কথা রয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

করোনার কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলছে। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি আছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ছুটি আর বাড়ছে না।

 

জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফের গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯-এর কারণে স্কুল বন্ধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম দেশ। দীর্ঘ বন্ধের ফলে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত চার কোটির বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে বৈঠক করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পক্ষে মত দেয় করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। বৈঠক শেষে রাত পৌনে ১২টায় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, করোনা সংক্রমণ সর্বোচ্চ শনাক্ত থেকে ৭০ শতাংশ কমেছে। ধীরে ধীরে করোনার টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত হচ্ছে। এ জন্য সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া সাপেক্ষে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যায়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

একই দিন রাতে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বেসরকারি টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, হয়তো ১২ সেপ্টেম্বর থেকেই ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসতেও পারে।

 

প্রায় সবকিছু খুলে দেওয়ার পর এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ১৮ আগস্ট সচিব সভায় করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ও টিকা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ২৬ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সভায় পরিকল্পনা করা হয়, টিকা দেওয়া সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেরা আগামী ১৫ অক্টোবরের পর থেকে খুলতে পারবে।

আর উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ ৫ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে নামলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যায় কি না, সে বিষয়ে করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির পরামর্শ নেওয়া হবে। সেদিনের সভাতেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে শিগগির আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হবে, যা আজ রোববার অনুষ্ঠিত হবে। এই সভাতেই বিস্তারিত আলোচনা করে খোলার সিদ্ধান্ত হতে পারে।

Edited By: Farhana Zerin

 

প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে বগুড়ায় ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার

ধর্ষণের অভিযোগে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমজাদ হোসেনকে (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১২–এর বগুড়া ক্যাম্পের ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজড কোম্পানির সদস্যরা গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় জেলা সদর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন।

 

মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ শনিবার আমজাদ হোসেনকে সারিয়াকান্দি থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

স্পেশালাইজড কোম্পানির অধিনায়ক সোহরাব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ১১ আগস্ট সারিয়াকান্দি থানায় আমজাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এর পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

 

সারিয়াকান্দি থানা-পুলিশ ও র‌্যাব-১২ ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের একটি গ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর বাড়িতে যাতায়াত ছিল ইউপি সদস্যের। সেই সুযোগে ৪ আগস্ট ভোররাতে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন তিনি। ৭ আগস্ট সারিয়াকান্দি থানায় আমজাদের বিরুদ্ধে এজাহার জমা দেওয়া হয়। পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে টালবাহানা করে। পরে ১১ আগস্ট অভিযোগটি মামলা হিসেবে থানায় নথিভুক্ত করা হয়।

Edited By: Farhana Zerin

 

 

প্রিয়াঙ্কা আপ্লুত, পোষ্যর জন্মদিনে

বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও মার্কিন গায়ক নিক জোনাস দম্পতি জনপ্রিয়, সন্দেহ নেই। কিন্তু তাঁদের পোষ্য গিনো, পান্ডা ও ডায়ানাও কম যায় না। ইনস্টাগ্রামে তাদের অ্যাকাউন্ট আছে! তাদের জন্মদিনও পালন করা হয়। এই তো, গতকাল পালিত হলো গিনোর জন্মদিন। তবে এ সময় তাদের কাছে থাকতে পারেননি এই দম্পতি। তাতে কী! জন্মদিন উদ্‌যাপনে কোনো সমস্যা হয়নি। দূরে থেকেই জন্মদিনের সব আয়োজন করে রেখেছিলেন তাঁরা। প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সেই আয়োজনেরই ছবি ও ভিডিও দেখা গেল।

 

গিনোর জন্মদিনে অনেক পোস্ট দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। প্রথম পোস্টে ছিল একটি ভিডিও। সেখানে দেখা গেল, মেঝেতে বসা গিনো। গলায় লাল–কালোর মিশেলে চিকার্ড বো। ক্যাপশনে এই অভিনেত্রী লিখেছেন, তোমাকে মিস করছি সোনা। দ্বিতীয় জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

প্রিয়াঙ্কা

পরের স্টোরিতে প্রিয়াঙ্কা গিনোর জন্মদিনের কেকের একটি ক্লোজআপ ছবি দিয়েছেন। কেকটি দেখতে দারুণ। কেকের চারপাশে কুকুরের খাওয়ার জন্য বিস্কুট এবং একটি হাড্ডিসদৃশ বড় খাবার।

শেষের স্টোরিতে দুই পোষ্য গিনো ও পান্ডা। পাশেই তাদের জন্মদিনের উপহার।

 

জন্মদিনে যে তাদের পাশে ছিলেন না মা–বাবা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাস, গিনোর ইনস্টাগ্রাম পোস্টেও তার প্রমাণ পাওয়া গেল। সেখানে গিনো ও পান্ডার একটি ছবির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, আমার জন্মদিনের পার্টি। তোমাদের মিস করছি নিক জোনাস ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।

প্রিয়াঙ্কা

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাসের তিন পোষ্যের প্রত্যেকেরই আলাদা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট আছে। সেখানে নিয়মিত পোস্টও দেওয়া হয়। গিনোর একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে নিক ও প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে তাদের তিন পোষ্যের ছবির ক্যাপশনে লেখা, আমি আমার পরিবারকে ভালোবাসি।

বড় ভাইয়ের জন্মদিনে পোস্ট দিয়েছে পান্ডাও। তাঁর ইনস্টাগ্রামে গিনো ও তার একটি ছবি দেখা গেল। ক্যাপশনে লেখা, বড় ভাই সব সময়ই পাদপ্রদীপের আলোয় থাকে। দ্বিতীয় জন্মদিনের শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন ভাই।

Edited By: Farhana Zerin

 

জৌলুশ হারিয়েছে মহারাজা গিরিজানাথের শহর

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলের শুরুর দিকেও আদি জেলা শহরগুলোর অন্যতম ছিল দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট। পলাশী যুদ্ধের প্রায় আট বছর পর নবাবি শাসনের সঙ্গে পতন হয় ঘোড়াঘাট নগরের। পরে ইংরেজরা ঘোড়াঘাট থেকে দিনাজপুরের রাজবাটিতে তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থানান্তর করে। ধারণা করা হয়, এই অঞ্চলে দিনারাজ নামের এক রাজা ছিলেন। পরে ব্রিটিশরা রাজার সম্মানার্থেই জেলার নাম রাখেন দিনাজপুর। সেটি ১৭৮৬ সালের কথা।

 

গানে গানে দিনাজপুরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন স্থানীয় কবি, ওরে বাংলাদেশের মানুষগুলা থাকিল তোমহার নিমন্তন, দিনাজপুর ভাই বেড়েয়া যান। ওরে কান্তনগর-সুখসাগর, রাজবাটি আর রামসাগর দেখিলে ভাই জুড়ায় যাবে প্রাণ। গানের কথায় জেলার সৌন্দ‌র্যের কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। আমজাদ আলীর সেই গান মুখে মুখে বেঁচে থাকলেও দিনাজপুরের সেই ঐতিহ্য এখন মৃতপ্রায়।

 

সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের মুখে রাজবাটি, পরিকল্পনার অভাবে পর্যটকশূন্য রামসাগর আর কান্তনগর। আড়াই শ বছরের পুরোনো শহরের বর্তমান রাস্তাগুলো পরিণত হয়েছে খানাখন্দে ভরা গ্রামীণ মেঠো পথে। অপরিকল্পিত নগরায়ণে কালে কালে খেলার মাঠ, পুকুর, খাল-জলাশয় হারিয়ে যাচ্ছে। শহরের পানিনিষ্কাশনের প্রধান দুটি খাল ঘাগড়া ও গিরিজা ভরাট করে গড়ে উঠেছে সুদৃশ্য অট্টালিকা। শহরের মধ্যে দূরপাল্লার বাস কাউন্টার, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তীব্র যানজট, অস্বাস্থ্যকর পয়োনালাব্যবস্থা আর ময়লা-আবর্জনার ঘূর্ণিপাকে অতিষ্ঠ নাগরিক জীবন। জেলায় কেবল কৃষিতে উল্লেখযোগ্য কিছু সাফল্য আছে।

সংকটে ঘাগড়া ও গিরিজা খাল

দিনাজপুর শহরের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে খাল দুটি। তবে ইতিহাস বলছে, বর্তমানের ঘাগড়া খাল পুনর্ভবা নদীরই একটি উপনদী। বর্তমান শহরটি দুই খালের উভয় পাড় ঘিরেই সম্প্রসারিত হয়েছে। শহরে মানুষ বসবাসের উপযোগী করে তুলতে দিনাজপুর রাজবংশের দশম উত্তরাধিকারী তৎকালীন মহারাজা গিরিজানাথ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে শহরের ময়লা পানি নিষ্কাশনে খাল দুটির সংস্কার, স্কুল প্রতিষ্ঠা, বেঙ্গল সংগীত সমাজ, সাহিত্য সম্মিলনী পরিষদ গঠন করেন। সর্বশেষ দিনাজপুর মিউনিসিপ্যালিটির পরপর তিনবার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করে কিছু পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছিলেন মহারাজা গিরিজানাথ।

শহরে বসবাসকারী বয়োবৃদ্ধরা বলছেন, অতীতে এ জেলা কখনো বন্যায় প্লাবিত হয়নি। অথচ ২০১৭ সালের বন্যায় প্রায় এক সপ্তাহ পুরো শহর পানিতে ডুবে ছিল। এর কারণ হিসেবে শহরের পানিনিষ্কাশনের প্রধান দুটি খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন তাঁরা।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পাউবো ঘাগড়া খাল সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে টিনশেড, আধপাকা বাড়ি, দ্বিতল, একতলা ভবনসহ মোট ৫৪৯টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। সে বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় অসমাপ্তই থেকে যায় সংস্কারকাজ। এদিকে মাত্র দেড় বছরের মাথায় সেই খাল পুনরায় দখল হয়ে ফিরে গেছে আগের অবস্থায়।

অপরিকল্পিত দালানকোঠায় ভরা

শহরের গোড়াপত্তনকালে দালানকোঠা বলতে শহরের মাঝামাঝি ছিল দেবী সিংহের বাড়ি, রায়সাহেব জমিদারবাড়ি, খাঁ সাহেব জমিদারবাড়ি, গোলকুঠিতে জমিদার কেশরী বিবির বাড়ি। বাকি সব ছিল মাটির ঘর। সেই শহরের মাঝামাঝি কোনো ভবনের ছাদে দাঁড়ালে এখন চোখে পড়বে সারি সারি উঁচু ভবন। শহরের বালুবাড়ি, সুইহারি, ঈদগাহ বস্তি, ঘাসিপাড়া, বালুয়াডাঙ্গা এবং সাম্প্রতিক সময়ে মির্জাপুর এলাকায় নতুন বাড়ি করার কোনো জায়গা ফাঁকা নেই।

ইমারত নির্মাণ বিধিমালা উপেক্ষা করে দিনাজপুর শহরে নির্মিত হচ্ছে এসব ভবন। এমনকি বর্তমানে শহরে কতগুলো ভবন রয়েছে, তার সঠিক হিসাব নেই পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে। তবে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, গত আড়াই বছরে ৯০০ থেকে ১ হাজার ভবনের পরিকল্পনা পাস করেছেন তিনি।

শহরজুড়ে ময়লার স্তূপ

পৌরসভার হিসাবমতে, পৌর এলাকায় নালা আছে ৫৫ হাজার ৯৮৭ মিটার। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রতিটি ওয়ার্ডের নালাগুলো ভেঙে গেছে। ময়লা-আবর্জনায় ভর্তি হয়ে আছে। নালা দিয়ে পানি প্রবাহিত না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উপচে পড়ে রাস্তায়। শহরের কালিতলা, বালুয়াডাঙ্গা, পুলহাট বিসিক, সুইহারি এলাকায় প্রায় সারা বছরই রাস্তায় জমে থাকে ময়লা পানি।

সংস্কারহীন রাস্তাঘাট

দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমান পৌর শহরের এক-তৃতীয়াংশ রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তার ওপর দিয়েই চলছে মোটরবাইকসহ ভারী যানবাহন। বর্ষায় কাদা আর শুকনা মৌসুমে ধুলাবালির মধ্যে দুর্ভোগে পৌরবাসী।

লিলির মোড় থেকে বালুয়াডাঙ্গা শহীদ মিনার, ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকা, চৌরঙ্গী থেকে রামনগর হয়ে লালবাগ এলাকা, চারুবাবুর মোড় থেকে ক্ষেত্রীপাড়া, কোতোয়ালি থানার পেছন থেকে মালদহপট্টি হয়ে নিমতলা মোড়, ঘাসিপাড়া হয়ে চাউলিয়াপট্টি, ষষ্ঠীতলা থেকে বড় ময়দান এলাকার রাস্তাঘাট যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

তীব্র যানজট

জেলা গেজেটিয়ারের তথ্যমতে, দিনাজপুরে প্রথম রোলসরয়েস নামের একটি মোটরযান কেনেন তৎকালীন মহারাজা গিরিজানাথ। তারও আগে রাজবাটিতে অস্টিন কোম্পানির ৮-১০টি মোটরগাড়ি ছিল। সেই দিনাজপুর শহরে ট্রাক্টর আর ইজিবাইকের দৌরাত্ম্যে এখন অতিষ্ঠ মানুষ। শহরের প্রধান রাস্তার কালিতলা এলাকায় দূরপাল্লার বাসের ১৯টি কাউন্টার। এসব ইজিবাইক, ট্রাক্টর আর দূরপাল্লার বাসের কারণে শহরে তীব্র যানজট এখন রোজকার চিত্র।

২০১৬ সালে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার অটোরিকশাকে ২ হাজার ৮৭৫ টাকা নিয়ে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সঙ্গে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে ১৪টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সদর উপজেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া শুরু করে। গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো উপেক্ষিতই থেকে যায়।

পানি সরবরাহ সীমিত

চল্লিশের দশকে দিনাজপুর শহরে ১৫-২০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল। সে সময় শহরের মানুষকে সুপেয় পানির সুবিধা দিতে ঢোপকল স্থাপন করেছিল দিনাজপুর মিউনিসিপ্যালিটি। শহরের বুটিবাবুর মোড়, ঘাসিপাড়া এলাকায় এখনো দেখা মিলে এই ঢোপকলের। স্থানীয়রা বলছেন, একটা সময় দিনাজপুর শহরে দুই শতাধিক পুকুর ছিল। পানির অসুবিধা হতো না।

একবিংশ শতাব্দীতে এসে পৌরসভায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন লাখ। মোট ১৪টি পানির পাম্পের সাহায্যে সাড়ে ৪ হাজার মানুষকে দেওয়া হচ্ছে সাপ্লাইয়ের পানিসুবিধা। দিনে দুবার পানি সরবরাহ করা হয়। অনেকে পর্যাপ্ত পানিসুবিধা না পেয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাসাবাড়িতে পানির ব্যবস্থা করেছেন।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা

পৌরসভার বাসিন্দারা বলছেন, গত এক দশকে দিনাজপুরে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বেড়েছে। হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়, একটি মেডিকেল কলেজ, তিনটি সরকারি কলেজ, টেক্সটাইলস কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পাশাপাশি বেড়েছে বেসরকারি স্কুল-কলেজের সংখ্যাও।

জেলার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে লোকসংস্কৃতি গবেষক বীরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদুল হক বলেন, নব্বইয়ের দশকের পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়তে শুরু করে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও শিক্ষা হয়েছে নামসর্বস্ব।

শহরে রয়েছে এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। দুটি হাসপাতালে প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি মানুষ বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন ৪৫০-৫০০ জন। চিকিৎসক-সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক দরকার ১৯০ জন, সেখানে বর্তমানে আছেন ৭৬ জন। অন্যদিকে জেনারেল হাসপাতালের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজন ৫৯ জন। সেখানে তত্ত্বাবধায়ক, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ আছেন ১৮ জন।

সাফল্য আছে কৃষিতে

চাল লিচুতে ভরপুর জেলার নাম দিনাজপুর, স্লোগানকে দিয়ে জেলার ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে। এর থেকেই বোঝা যায়, জেলার অর্থনীতি মূলত কৃষিকে ঘিরেই আবর্তিত। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় উৎপাদিত চাল নিজ জেলার প্রয়োজন মিটিয়ে প্রায় ৯ লাখ মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত থাকে। যা অন্যান্য জেলায় সরবরাহ হয়।

শুধু ধান নয়, পাশাপাশি ভুট্টা, আলু, টমেটো এবং মৌসুমি ফল হিসেবে এ জেলায় আম ও লিচু চাষের আধিক্য রয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৭৮ হাজার ৬৩২ হেক্টর জমিতে ৮ লাখ ৩১ হাজার ২৬৫ মেট্রিক টন ভুট্টা উৎপাদন হয়েছে। অন্যদিকে বোম্বাই, মাদ্রাজী, বেদানা, চায়না-থ্রীসহ বিভিন্ন জাতের লিচুর চাষও বেড়েছে। প্রতি মৌসুমে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার লিচু বেচাকেনা হয় এই জেলায়।

বিনোদনের জায়গাও সীমিত

পৌর এলাকায় ১৫টির বেশি খেলার মাঠ ছিল। যোগেনবাবুর মাঠ, রামনগর মাঠ, সুইহারি, লালবাগ বালুবাড়ি, রাজবাটির মাঠ এখন মৃতপ্রায়। মাঠগুলো দখল হয়ে বাসাবাড়িতে ভরে গেছে। বিকেল হলেই মাঠগুলোতে কত রকমের আড্ডা, খেলাধুলা হতো। এভাবেই বলছিলেন শহরের প্রবীণ ব্যক্তি আবুল কালাম আজাদ (৭৯)।

পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন পৌর শিশুপার্কটিও সংস্কারের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে। ১৯৮০ সালে পার্কটি নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সেই পার্কটির শুধু দেয়ালটাই চোখে পড়বে। সেখানে শিশুদের বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। বর্তমানে শহরের মানুষের বিনোদনের একমাত্র স্থান ২২ একর জমির ওপর দিনাজপুর গোড়-এ-শহীদ বড় মাঠ।

পর্যটনের সম্ভাবনা

দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির, রাজবাটি আর ঐতিহ্যবাহী রামসাগরের কথা সবারই জানা। জেলার অর্থনীতি কৃষিনির্ভর হলেও পর্যটক আকর্ষণের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু তৎকালীন মহারাজাদের সময়কার এসব নিদর্শন দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

 

পৌর মেয়রের কথা

পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এটি অনেক বড় একটি পৌরসভা। সেই তুলনায় উন্নয়ন বরাদ্দ অপ্রতুল। রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ কম পেয়েছি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নগর উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ৭ কোটি টাকার কাজ এখনো চলমান। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক থেকে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০ কোটি টাকা এবং এমজিএসপি প্রকল্পের আওতায় ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দগুলো প্রস্তাব অনুযায়ী শহরের উন্নয়ন করা হবে।

সাবেক মেয়র সফিকুল হক বলেন, দিনাজপুর শহরের ঐতিহ্য ছিল, সুনাম ছিল, সেটা হারিয়েছে। কারণ, শহরের উন্নয়ন ভাবনায় সমন্বয়হীনতা। মেয়র, সাংসদ ও স্থানীয় প্রশাসন কারও মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। ১৫ বছর ধরে শহরবাসী রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দাতা সংস্থাগুলো দলীয় পরিচয়ে বরাদ্দ দেয় না। বরাদ্দ আনতেও যোগ্যতার প্রয়োজন।

Edited By: Farhana Zerin

 

 

মূলধন ঘাটতি , এত সুবিধার পরও

করোনাভাইরাসের কারণে গ্রাহকদের ঋণ ফেরতে যেমন ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, তেমনি ব্যাংকগুলোকে এসব ঋণের হিসাবায়নেও ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ কারণে নতুন করে কোনো ঋণ খেলাপি হচ্ছে না। বাড়তি কোনো নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখার দরকারও পড়ছে না। এরপরও জুন শেষে সরকারি-বেসরকারি ১১ ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে।

অবশ্য এসব ব্যাংকের বেশির ভাগ করোনাভাইরাস প্রকোপের আগে থেকেই সমস্যায় রয়েছে। করোনার মধ্যে বিশেষ ছাড়েও ব্যাংকগুলো নিজেদের সেই সমস্যা থেকে বের হতে পারেনি। বরং কারও কারও অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে।

 

জুন শেষে মূলধন ঘাটতিতে থাকা ১১ ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, অগ্রণী, বেসিক, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংক। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে এবি, বাংলাদেশ কমার্স, আইসিবি ইসলামিক, সাবেক ফারমার্স বা পদ্মা ব্যাংক। ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী ন্যূনতম যে মূলধন থাকা প্রয়োজন, এসব ব্যাংকের তা নেই।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলো বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারির পর এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এ জন্য দীর্ঘদিন ধরে মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। আর সরকারি বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো বেশি সুদে তহবিল নিয়ে কম সুদে ঋণ দেওয়ার কারণে ঘাটতিতে পড়েছে, ঋণেও অনিয়ম হয়েছে। আবার বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে অনিয়ম-জালিয়াতির কারণে। এর প্রভাবে ব্যাংকগুলোর মূলধনে আঘাত এসেছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে জুন শেষে অগ্রণী ব্যাংকের ১ হাজার ৯৬০ কোটি, বেসিক ব্যাংকের ১ হাজার ৯২৭ কোটি, জনতা ব্যাংকের ৩৪৫ কোটি, রূপালী ব্যাংকের ৬৬৭ কোটি এবং সোনালী ব্যাংকের ৩ হাজার ৫২৭ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে।

 

সরকারি ব্যাংকগুলোর এ ঘাটতির পেছনে বড় কারণ ঋণ–অনিয়ম। সোনালী ব্যাংকের ঘাটতি হয়েছে হল–মার্কসহ বিভিন্ন ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে। অগ্রণীর ঘাটতি হয়েছে চট্টগ্রামভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে। বেসিক ব্যাংকের ঘাটতি হয়েছে সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাইয়ের সময় দেওয়া ঋণ আদায় না হওয়ায়। জনতার ঘাটতি হয়েছে অ্যাননটেক্স ও ক্রিসেন্ট গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির কারণে। রূপালীর ঘাটতির কারণ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন শাখার ঋণ জালিয়াতি। সরকারি ব্যাংকগুলোর কেউ কেউ এখনো মূলধনের জন্য সরকারের ওপর নির্ভরশীল।

 

সোনালী ব্যাংক সম্প্রতি সরকারের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা মূলধন চেয়েছে। অন্য ব্যাংকগুলোও মূলধনের জন্য সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নতুন করে আর মূলধন জোগান দেওয়া হবে না।

বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, ব্যাংকের ঋণের বড় অংশ খেলাপি হয়েছে। আবার উচ্চ সুদে অনেক আমানত নেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যাংকের আয় নেই বললেই চলে। এই কারণে মূলধন ঘাটতিও কমছে না। আমরা চেষ্টা করছি, নতুন করে ব্যাংকটি ঠিক করতে। এ জন্য কম সুদে তহবিল খুঁজছি।

 

বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে গত জুন শেষে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া এবি ব্যাংকের ৩২৯ কোটি, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ১ হাজার ৬৪২ কোটি, সাবেক ফারমার্স বা বর্তমান পদ্মা ব্যাংকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৬১ কোটি টাকায়। এর মধ্যে কমার্স ব্যাংকের ঘাটতি হয়েছে ঋণ জালিয়াতির কারণে। এবি ব্যাংকের দুরবস্থা হয়েছে অফশোর ইউনিটের ঋণ–অনিয়ম ও স্থানীয় ঋণ জালিয়াতির কারণে। আর পদ্মা ব্যাংক ডুবছে যাত্রা শুরুর পর ব্যাংকটিতে যেসব ঋণ–অনিয়ম ও জালিয়াতি হয়েছে তার কারণে। সরকারি ব্যাংকগুলো পদ্মা ব্যাংকে ৭১৫ কোটি টাকা মূলধন জোগান দিয়েছে, এরপরও ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। এখন সরকারি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছে পদ্মা ব্যাংক।

 

বৈশ্বিক নিয়ম অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় এখন ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়। কিন্তু জুন শেষে দেশের ১৮টি ব্যাংক অতিরিক্ত মূলধন সংরক্ষণ করতে পারেনি। ঘাটতিতে থাকা ১১ ব্যাংকের পাশাপাশি অন্য ৭টি ব্যাংক হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামী, ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি, এনআরবি কমার্শিয়াল, পূবালী ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

Edited By: Farhana Zerin

 

 

নেইমার উড়িয়ে দিলেন ভুঁড়ি নিয়ে রসিকতা

ব্রাজিল–ভক্তমাত্রই নিশ্চিত ছবিটা দেখে আঁতকে উঠেছিলেন। নেইমারের এ কী অবস্থা!

কোপা আমেরিকার ফাইনালে বন্ধু মেসির দল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে নেইমারের ব্রাজিলের হারের কিছুদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল ছবিটা। কোপা আমেরিকা শেষে ছুটি কাটাচ্ছিলেন নেইমার। কিন্তু ছুটিতে এমনই বেহিসেবি চালচলন ছিল যে ছবিতে দেখা যাচ্ছিল, নেইমারের বেশ দৃশ্যমান একটা ভুঁড়িই গজিয়েছে!

ছুটি কাটিয়ে গত সপ্তাহে পিএসজির জার্সিতে প্রথম মাঠে নেমেছিলেন নেইমার, এরপর গতকাল খেলেছেন ব্রাজিলের হয়েও। কিন্তু বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চিলির বিপক্ষে ব্রাজিলের ১-০ গোলে জয়ের ম্যাচ শেষেও বেশ আলোচনায় নেইমারের মুটিয়ে যাওয়া।

২৯ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড অবশ্য এসব গায়ে মাখছেন না। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কাল এ নিয়ে নিজের মনোভাব জানিয়ে দিয়েছেন নেইমার। তাঁর ভুঁড়ি নিয়ে হাসি-তামাশা আর সমালোচনার জবাব নেইমার দিয়েছেন উল্টো রসিকতায়!

 

 

যুগে যুগে ত্রিশের কাছাকাছি বয়স হয়ে যাওয়ার পর ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের এভাবে মুটিয়ে যেতে, হারিয়ে যেতে দেখা ব্রাজিল–ভক্তদের নেইমারের ভুঁড়ি দেখে প্রমাদ গোনারই কথা। খেলার পাশাপাশি নৈশ ক্লাব, বেপরোয়া জীবনযাপন, বিয়ার-মাংসে উদ্‌যাপন ব্রাজিলিয়ানদের জীবনেরই অংশ। খেলোয়াড়ের পরিশীলিত জীবনযাপনও সেটিকে সব সময় দূরে রাখতে পারেনি।

নেইমার
রোনালদিনিও এভাবেই হঠাৎ হারিয়ে গেছেন। আরেক কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও শেষ দিকে বেশ মুটিয়ে গিয়েছিলেন। সেসব স্মৃতি নেইমারকে ঘিরে শঙ্কা না জাগিয়ে পারে না!

কোপা আমেরিকার পর ছুটি কাটিয়ে পিএসজিতে ফিরে দুই সপ্তাহের মতো অনুশীলন করেছেন নেইমার। বন্ধু মেসিও এর মধ্যে তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন পিএসজিতে। গত সপ্তাহে রেঁসের মাঠে মৌসুমে প্রথমবার পিএসজির হয়ে নেমেছেন নেইমার।

সেই ম্যাচেই পিএসজির জার্সিতে অভিষিক্ত মেসির বদলি হয়ে উঠে গেছেন ৬৬ মিনিটে। সেদিন নেইমার ভালো খেলেননি, ফিটনেসের অভাব ছিল স্পষ্ট। ফরাসি সংবাদমাধ্যমে তখন নেইমারকে নিয়ে লেখা হলো, প্রত্যাবর্তনটা কঠিন ছিল নেইমারের, ব্রাজিলিয়ান তারকা মুটিয়ে গেছেন, দলের রক্ষণে মোটেও সাহায্য করেননি।

এরপর গতকাল চিলির মাঠে ব্রাজিলের জার্সিতে নেমেছেন। এবারও আলো ছড়াতে পারেননি নেইমার, ব্রাজিল কোনোরকমে ১-০ গোলে জিতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে শতভাগ জয়ের ধারা টেনে নিয়ে গেল ৭ ম্যাচ পর্যন্ত। কিন্তু চিরকাল ব্রাজিলের সুন্দর ফুটবলের পূজারি–ভক্তমন এতে খুশি হবে কেন! তার ওপর ম্যাচে নেইমারের ভুঁড়ির ছবিগুলোও চোখে লেগেছে তাঁদের।

সে কারণেই কিনা ম্যাচের পর নেইমারের মুটিয়ে যাওয়া নিয়ে কথা হলো অনেক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসাহাসিও চলল। নেইমারেরও চোখ এড়ায়নি সেগুলো। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে জবাব দিয়েছেন।

 

 

তাঁরা ভালো না খেললেও ব্রাজিল যে জিতেছে, সেটি মনে করিয়ে দিয়ে লিখেছেন, ছবিতে তাঁকে ‘মোটাসোটা’ দেখানোর কারণটা জার্সির আকার ঠিক না থাকা!

 

আমরা কি ভালো খেলেছি? না! আমরা কি জিতেছি? হ্যাঁ—ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে গতকালের ম্যাচে তাঁর একটা ছবি দিয়ে ছবির গায়ে একটা অংশে লিখেছেন নেইমার। আরেক অংশে লিখেছেন, জার্সিটা ছিল জি আকারের। আমি আমার সঠিক ওজনেই আছি। পরের ম্যাচে আমি আমার জন্য এম সাইজের জার্সি বানাতে বলব। বার্তাটির পাশে বেশ কয়েকটি হাসির ইমোজি।

 

আরেক পাশে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে নেইমারের পরামর্শ ছিল, মাঠে আমরা নাচতে থাকি, তোমরা দেখতে থাকো। সবশেষে নিচে লিখেছেন, আমরা ইতিহাস গড়তে থাকব।

ইতিহাস যদি হয় দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে জয়ের ধারা ধরে রাখা, সে ক্ষেত্রে ইতিহাস গড়ার পথে পরের ম্যাচে বড় চ্যালেঞ্জই নেইমারদের অপেক্ষায়। বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত রাত একটায় নিজেদের মাটিতে ব্রাজিল খেলবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে!

Edited By: Farhana Zerin

 

মারের কপাল পোড়াল , টয়লেট ব্রেক

স্তেফানোস সিৎসিপাসের হঠাৎ করেই বাথরুম পেয়ে গেল, ম্যাচের মাঝেই। সেটি হতেই পারে, প্রকৃতির ডাক বলে কথা! কিন্তু অ্যান্ডি মারে বেজায় চটেছেন কারণ সিৎসিপাস প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে এত সময় নিয়ে ফেললেন, যে ম্যাচে ছন্দই হারিয়ে ফেললেন মারে। আর এতেই ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ডে সিৎসিপাসের কাছে হেরে বসেছেন ব্রিটিশ তারকা।

মারে অবশ্য জানিয়েছেন, সিৎসিপাসের এই স্বভাবের ব্যাপারে তাঁকে আগেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। তৃতীয় বাছাই এই গ্রিক তারকা ম্যাচে একটু উনিশ-বিশ ঘটার গন্ধ পেলেই অথবা নিজে একটু বেকায়দায় পড়ে গেলেই নানাভাবে প্রতিপক্ষকে বিরক্ত করার চেষ্টা করেন। হঠাৎ তাঁকে প্রকৃতি পেকে বসে অথবা কোনো চোটের ছুতোয় তিনি মেডিকেল টাইম আউটের সুযোগটা নেন। কাল ইউএস ওপেনে মারে এ ব্যাপারে সতর্কও ছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। প্রকৃতির ডাকে সাড়াটা তিনি এত সময় নিয়ে দিলেন যে এগিয়ে থাকা মারে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা হেরেই গেলেন ২-৬, ৭-৬ , ৩-৬, ৬-৩, ৬-৪ গেমে।


সেলসিয়াসের সমালোচনাটা মারে করেছেন একটু ঘুরিয়েই, আমি মনে করি সিৎসিপাস দারুণ একজন খেলোয়াড়। সে টেনিস খেলাটার একজন ভালো প্রতিনিধি কিন্তু আজ আমি তাঁর প্রতি সম্মান হারিয়েছি।

 

মারেকে পোড়াচ্ছে সিৎসিপাস কেন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ৮ মিনিট সময় নেবেন! যেকোনো খেলার মধ্যেই এ ধরনের বিরতি খেলোয়াড়দের ছন্দ নষ্ট করে দেয়। কালও মারে যে ছন্দে ছিলেন, যেভাবে খেলছিলেন, সিৎসিপাসের ‘বাথরুম ব্রেক’ সবকিছুই গুবলেট করে দিয়েছে। এটাই সব নয়। তৃতীয় সেটের পর পায়ের চোটের চিকিৎসার জন্য কিছুক্ষণ বিরতি নিয়েছিলেন গ্রিক তারকা।

মারে প্রতিবারই ম্যাচ অফিশিয়ালদের কাছে এ ব্যাপারে নিজের আপত্তির কথা জানিয়েছেন। তাঁর কথা ছিল প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত বিরতি সিৎসিপাস নিচ্ছেন, পুরো বিষয়টি যতটা না নিজের প্রয়োজনে, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিপক্ষকে বিপাকে ফেলতে। কিন্তু অফিশিয়ালদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা মারে পাননি বলেই জানিয়েছে ম্যাচ শেষে, কঠিন একটা ম্যাচের সময় যদি সাত-আট মিনিট করে বিরতি পড়ে, সেটি ছন্দে থাকা যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই খুব হতাশার। এ সব বিরতিতে প্রয়োজনীয় ছন্দে পতন ঘটে। খুব গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্রতিপক্ষের পরপর দুটি দীর্ঘ সময়ের বিরতিকে আমি কোনোভাবেই কাকতালীয় ব্যাপার বলতে চাই না।

সিৎসিপাসের এমন আচরণ ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে বলেই মনে করেন মারে, আমি বলছি না যে ম্যাচটা আমি নিশ্চিত করেই জিততাম। কিন্তু আমি মনে করি, এ ধরনের বিরতি ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে।

 

সিৎসিপাস অবশ্য মারের এ অভিযোগে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, আমি মনে করি না যে বিরতি নিয়ে কোনো আইনের অপব্যবহার করেছি আমি। আমি সব সময়ই খেলার আইন মেনে চলি। এটিপি যে বিধান করেছে, সেটির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও আস্থা রয়েছে আমার।


মারে সংবাদমাধ্যমের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ঠিক করেননি বলেই মনে করেন গ্রিসের টেনিস তারকা, মারের যদি আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তিনি সেটি আমাকেই বলতে পারতেন। আমরা দুজন মিলে আলোচনা করে সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে পারতাম।

 

মারে বলেছেন, টেনিসে এ ধরনের ব্যাপার প্রায়ই ঘটছে। খেলোয়াড়েরা এটিকে প্রতিপক্ষকে বেকায়দায় ফেলতে ব্যবহার করছে। এটি নিয়ে বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা হচ্ছে যে কীভাবে আইনের এ অপব্যবহার ঠেকানো যায়।

Edited By: Farhana Zerin

 

নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল চেয়েছিলেন ডমিঙ্গো

 


নিউজিল্যান্ডের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। তবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে সে সিরিজ স্থগিত হয়ে গেছে আগেই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে কিউইদের বিপক্ষেই তাই সর্বশেষ সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। নির্বাচকদের জন্যও তাই সিরিজটি হতে যাচ্ছে দল ঘোষণার আগে শেষ মুহূর্তের যাচাই-বাছাইয়ের একটা উপায়। তবে প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বলছেন, এই সিরিজের আগেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করতে পারলে সেটা হতো সবচেয়ে ভালো।

 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম চার ম্যাচই বাংলাদেশ খেলেছিল অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে। শেষ ম্যাচে এসেছিল দুটি পরিবর্তন। শামীম হোসেন ও শরীফুল ইসলামের জায়গায় খেলেন মোসাদ্দেক হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে দলে ফিরেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে না থাকা মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, আমিনুল ইসলামরা। স্বাভাবিকভাবেই তাই পরিবর্তন আসছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

 

এই সিরিজ স্কোয়াডের সদস্যদের শেষ মুহূর্তের পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে ডমিঙ্গো বলেছেন, বিশ্বকাপের দল নিয়ে এরই মধ্যে ভালো একটা ধারণা হয়েছে তাঁদের, আমার মনে হয়, নিউজিল্যান্ড সিরিজ শেষ হওয়ার দু-এক দিন আগেই দল ঘোষণা করতে হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। আমার মনে হয়, কারা সে দলে থাকবে, সেটা নিয়ে ভালো একটা ধারণা আছে আমাদের। অবশ্য নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগেই বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করা গেলে সেটা দারুণ হতো। তাতে খেলোয়াড়েরা আরেকটু ধাতস্থ হয়ে খেলতে পারত। বিশ্বকাপ দলে থাকা না থাকার শঙ্কা থাকত তাদের ওপর। তবে আমরা সেটা করতে পারছি না এখনই।

মুশফিক-লিটনরা ফিরলেও এখনো চোটের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ হয়নি তামিম ইকবালের। তামিমের ভবিষ্যত নিয়েও আপাতত কিছু বললেন না ডমিঙ্গো, আমার নজর আসলে এবারের স্কোয়াডে যে ১৯ জন ক্রিকেটার আছে, তাদের নিয়েই। তামিম ফিট হয়ে উঠলেই তখন সেদিকে নজর দেব আমরা। আপাতত এটা নিয়ে খুব একটা ভাবিনি আমি।

 

নিউজিল্যান্ড অবশ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে আগেই। বাংলাদেশ সফরে আসেননি সে দলের কেউই। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অক্টোবরে শুরু হবে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এর আগে সেখানে আইপিএল হলেও প্রথম পর্বে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো হবে ওমানে। সেখানেও ম্যাচগুলো হওয়ার কথা হাই স্কোরিংই। তবে অস্ট্রেলিয়ার মতো এবারও স্পিন-সহায়ক উইকেটেই হতে পারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের আগেও ডমিঙ্গো বলেছিলেন, তিনি স্পোর্টিং উইকেট চান। এবার বললেন, তাঁর চাওয়া ‘মিরপুরের স্বাভাবিক উইকেট, দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমি গ্রাউন্ডসম্যান নই। আমি ভালো উইকেটের আশায় আছি। তবে বছরের এ সময়ে আর্দ্রতা, বৃষ্টি মিলিয়ে অমন উইকেট বানানো কঠিন হবে অন্য সময়ের তুলনায়। তবে আমি ভালো উইকেটের আশা করছি। ভালো উইকেটে ব্যাটিং করে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর গুরুত্বটা জানি আমরা। একই সঙ্গে জিতে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ব্যাপারটাও গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, মিরপুরের স্বাভাবিক উইকেট থাকবে, যেখানে ১৫০-১৬০ ভালো একটা স্কোর।

বিশ্বকাপের আগে সিরিজ জেতাটা গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন ডমিঙ্গো, ব্যাটিংয়ের জন্য কন্ডিশন বেশ কঠিন ছিল। বড় স্কোরের দেখা পেলে অবশ্যই দারুণ হতো, তবে সেটা কন্ডিশনের ওপর নির্ভর করছে। আমার মনে হয়, বোলারদের আত্মবিশ্বাস ও জেতার মধ্যে থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দেশের মাটিতে খেলছি। বিশ্বকাপের আগে তাই আত্মবিশ্বাস নিয়েই খেলে যেতে চাই।

Edited By: Farhana Zerin

 

সামান্থা মাইনাস আক্কিনেনি

বিয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নামের শেষে আক্কিনেনি পদবি ব্যবহার করা শুরু করেছিলেন সামান্থা। আর এই পদবি তাঁর স্বামী নাগা চৈতন্যর। কিন্তু কিছুদিন আগে সামান্থা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নাম থেকে আক্কিনেনি পদবি মুছে ফেলেছেন। তারপর থেকেই জোর রব, সামান্থা আর নাগা চৈতন্যর সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। বেশ কিছুদিন ধরে এই জনপ্রিয় দম্পতি নাকি আলাদা থাকছেন।

তবে এ ব্যাপারে এত দিন দুই তারকাই মুখে কুলুপ এঁটে বসে ছিলেন। তাঁরা তাঁদের বিয়ের ভাঙন নিয়ে নানান গুঞ্জনের ব্যাপারে একটা শব্দও খরচ করেননি।

তবে এ ব্যাপারে সম্প্রতি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সামান্থা। নিজের এক ছবি প্রচারণার সময় দক্ষিণি এই তারকা বলেছেন যে এসব ফালতু খবরের বিষয়ে তাঁর কোনো মাথাব্যথা নেই। তিনি বলেছেন যে, গুঞ্জন একজন তারকার জীবনে ছোট একটা অংশমাত্র। আর তাই এই দক্ষিণি তারকা এ ধরনের কোনো খবরকে একদমই পাত্তা দেন না।

 

সামান্থা এ প্রসঙ্গে বলেছেন, আমি এসব খবরকে ঘিরে কোনোরকম প্রতিক্রিয়া দিতে চাই না। আমি কোনোরকম বিতর্ক পছন্দ করি না। অন্য মানুষের যেমন নিজের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে, আমারও তা–ই আছে। নাগা চৈতন্যও সংবাদমাধ্যমকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলছেন।

২০১০ সালে তেলেগু ছবি ইয়ে মায়া চেসাবে তে একসঙ্গে কাজ করেন সামান্থা আর নাগা চৈতন্য। ২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর হিন্দুমতে এবং পরদিন খ্রিষ্টান রীতিতে বিয়ে করেন তাঁরা। সামান্থার শ্বশুর দক্ষিণের জনপ্রিয় তারকা নাগার্জুন।

Edited By: Farhana Zerin

 

মায়ের প্রশ্ন ,ছেলে কি ফিরবে না

তিতুমীর কলেজের ফাইন্যান্স বিভাগের ছাত্র আবদুল কাদের মাসুম নিখোঁজ হওয়ার পরে আট বছর পেরিয়ে গেছে। তাঁর মা আয়েশা আলী এখনো প্রতীক্ষায় আছেন। একমাত্র ছেলে ফিরে আসবেন মায়ের কোলে। মা বলে জড়িয়ে ধরবেন। কিন্তু সেই প্রতীক্ষা যেন আর শেষ হয় না। মাসুমের মায়ের প্রশ্ন, তবে কি এই প্রতীক্ষার অবসান কখনোই হবে না, ছেলে কি ফিরবে না?

 

শুধু মাসুমের মা আয়েশা আলী নন, এমন প্রশ্ন গুমের শিকার প্রত্যেক মানুষের স্বজনদের। বিভিন্ন সময়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে মায়ের ডাক শিরোনামে আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করে। তাঁদের একটাই আকুতি। তাঁরা স্বজনদের ফিরে পেতে চান। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রত্যেকের বুকে নিখোঁজ স্বজনের ছবি। কারও বুকে সন্তানের ছবি, কারও বুকে বাবার ছবি, আবার কারও বুকে ভাইয়ের ছবি। সভায় নিজেদের দুঃসহ কষ্টের কথা তুলে ধরেন তাঁরা। কারও মা, কারও সন্তান, কারও বোন ঘটনার বর্ণনা দেন। তাঁরা প্রতিটি ঘটনাতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জড়িত থাকার অভিযোগ করেন।

 

ছেলে ফিরে আসবে এই প্রতীক্ষায় থাকি প্রতিনিয়ত

মাসুমের মা আয়েশা আলী বলেন, ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে টিউশনির কথা বলে ঢাকার নাখালপাড়ার বাসা থেকে বের হন ছেলে আবদুল কাদের মাসুম। তখন বয়স ছিল ২৪ বছর। আমার একটাই ছেলে। খুবই মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল সে। আশা ছিল প্রশাসনে বড় চাকরি করে দেশের মানুষের সেবা করবে। কোন অপরাধে তাকে গুম করে দেওয়া হলো, সেটা আমরা জানি না। আমাদের একটাই অনুরোধ, আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দিন। ছেলে ফিরে আসবে এই প্রতীক্ষায় থাকি প্রতিনিয়ত। ছেলে ফিরে আসে না। এটা যে কত দুঃসহ যন্ত্রণার, এটা বলে বোঝানো সম্ভব না।

 

বাবা বেঁচে আছেন কি না জানতে চাই

মিরপুর এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বাতেন নিখোঁজ হন ২০১৯ সালের জুনে। তাঁর মেয়ে আনিসা ইসলাম বলেন, বাবাকে ফিরে পেতে আর কত বছর লাগবে জানি না। আদৌ ফিরে পাব কি না, সেটাও বলতে পারছি না। বাবা বেঁচে আছেন কি না, এটাও আমরা বলতে পারছি না। আমি জানতে চাই, আমার বাবা বেঁচে আছেন কি না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই অনুরোধ, তিনি যেন আমার বাবাকে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন।

আনিসা বলেন, বাবা যখন নিখোঁজ হন, আমার ছোট ভাই মো. ইনামের বয়স তখন মাত্র আড়াই বছর। এখন তার বয়স পাঁচ বছর ছুঁই ছুঁই। সে আমাকে যখন প্রশ্ন করে বাবা কোথায়, আমি নির্বাক হয়ে যাই। চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না। যখন বাইরের লোকজন জিজ্ঞাসা করে, তোমার বাবা কী করেন, তিনি কোথায়, তখন আমরা জবাব দিতে পারি না। যদি বলি, বাবা গুম হয়ে গেছেন, তবে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে, বাবা বড় অপরাধী না হলে গুম হতেন না। কিন্তু আমরা তো জানি না আমার বাবার কী অপরাধ? অপরাধ করলে তাঁর বিচার হোক, গুম করে জীবন দুর্বিষহ করে তুলতে পারেন না। বাবার সন্ধান চাই।

আট বছর ধরে এখানে দাঁড়িয়ে একই কথা বলছি

২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর সাজেদুল ইসলামসহ আটজন ঢাকার শাহীনবাগ এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। সাজেদুল ইসলামের মেয়ে হাফসা ইসলাম বলেন, আমি আট বছর ধরে এখানে দাঁড়িয়ে একই কথা বলছি। আমি আমার বাবাকে ফেরত চাই। আমি গত বছর বলেছিলাম, আমার বাবাকে ফিরিয়ে দিতে না পারলে আমাকেও গুম করে দিন। আমি আজও একই কথা বলছি। আমি এখানে আর আসতে চাই না। আমি শুধু আমার বাবাকে ফিরে পেতে চাই। হাফসা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি কি আমাদের কান্না শুনতে পাচ্ছেন না, স্বজন হারানোর ব্যথা কি অনুভব করতে পারছেন না?

 

গুমের শিকার ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার তাগিদ

সভায় নিখোঁজদের পরিবারকে সহমর্মিতা জানাতে এসেছিলেন মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। তাঁরা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়ার তাগিদ দেন। পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম প্রমুখ।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, একটা প্রশ্ন মনের মধ্যে আসে, গুম কারা করে। এই গুম সরকারি বাহিনী করেছে, সরকার করেছে ,এটা বিশ্বাস করার বহু কারণ রয়েছে। যদি গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সরকারি বাহিনী না করে থাকে, তাহলে যাঁরা গুম হয়েছেন, তাঁদের খুঁজে বের করছেন না কেন। কেউ কেউ তো গুম হয়েছেন ১০–১২ বছর হয়ে গেছে। তিনি বলেন, কেন খুঁজে বের করা হচ্ছে না নিখোঁজ ব্যক্তিরা কোথায়। কারা জড়িত, তাঁদের বের করা হচ্ছে না। এমনকি এ ব্যাপারে মামলা করতে গেলে সেটা গ্রহণ করতে চান না। নিজেরা না করে থাকলে মামলা গ্রহণ করার কথা। যখন আপনি নিজে করবেন, তখন মামলা নিতে চাইবেন না।

Edited By: Farhana Zerin

 

বিতর্কে প্রসেনজিৎ , জ্যোতি বসুকে বাদ দিয়ে

২৬ আগস্ট ছিল মাদার তেরেসার ১১১তম জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদার তেরেসার সঙ্গে তোলা পুরোনো একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তারপর থেকেই শুরু হয়েছে শোরগোল। কী ছিল সেই ছবিতে?

নেটিজেনদের দাবি, আসল ছবিতে প্রসেনজিতের পাশেই ছিলেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী দেবশ্রী রায়। আর মাদার তেরেসার এক পাশে বসে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। ছবি থেকে তাঁদের কেটে বাদ দিয়ে ছবিটা পোস্ট করেছেন প্রসেনজিৎ। ২৬ আগস্ট থেকেই এই নিয়ে শুরু হয় ট্রল।

আলোচনা–সমালোচনার মুখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসল ছবিটি আবার পোস্ট করে এই অভিনেতা লিখেছেন, আমি সাধারণত ট্রলের জবাব দিই না। কিন্তু এইবার দেওয়াটা দরকারি মনে হলো। কারণ, আলোচ্য ছবিটা এমন কিছু মানুষকে জড়িয়ে, যাঁদের আমি ভীষণ সম্মান করি।

ছবিটি থেকে তাঁদের কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে কি না, এ প্রশ্নে তিনি আরও লেখেন, প্রথমত, আমি ছবিটি ক্রপ করিনি। এটা আমাকে পাঠানো হয়েছিল। অনেক আগেই আমি ছবিটি পেয়েছিলাম। মাদার তেরেসার জন্মবার্ষিকীতে এটা শেয়ার করার কথা ভেবেছিলাম।

দ্বিতীয়ত, মাদার তেরেসার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ছাড়া সেই পোস্ট দেওয়ার পেছনে অন্য আর কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

শেষ কথা, ট্রলে যেমনটা বলা হচ্ছে, তার বিপরীতে আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক কোনো ব্যক্তির সঙ্গে কোনো ছবি কেউ শেয়ার করলে তার মানে এই না যে সে কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত বা কোনো দলকে অপছন্দ করে এবং সে কারণেই আমি ছবিটির আনক্রপড সংস্করণ সংযোজন করছি।

সব শেষে তিনি লিখেছেন, খুব খারাপ একটা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দুনিয়া। আসুন, অপ্রয়োজনীয় বিদ্বেষ না ছড়িয়ে বরং দয়া ছড়াই।

এমন স্ট্যাটাস দেওয়ার পরও অনেকে তির্যক মন্তব্য করতে ছাড়ছেন না। সব্যসাচী দে নামের একজন লিখেছেন, জ্যোতি বসুর কাছে বুম্বাদার ক্ষমা চাওয়া উচিত। সুমিত সেনগুপ্ত নামে একজন লিখেছেন, প্রসেনজিৎ বাবু, একটা মিথ্যা ঢাকতে গিয়ে আরও মিথ্যা বলছেন।

তবে অনেকেই প্রসেনজিতের পাশে রয়েছেন। মলয়াংশু নামের একজন মন্তব্য করেছেন, বুম্বাদা, এদের বেশি পাত্তা দেবেন না। মাদার তেরেসাকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মাদারের ছবিই যথেষ্ট, আর কারও ছবি থাকা সেখানে বাতুলতা।

Edited By: Farhana Zerin

 

কোহলি–রোহিতরাই ভারতের ভরাডুবির কারণ, বললেন ইনজামাম

 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজটি ভারতকে মূলত জিতিয়েছে দলটির তরুণ ক্রিকেটাররা। ওই সিরিজে ঋষভ পন্ত অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন। ভালো খেলেছেন শুবমান গিল, ওয়াশিংটন সুন্দরও। অনেক দিন ধরেই ভারতের তরুণ ক্রিকেটাররা ধারাবাহিক ভালো খেলে আসছেন। সে তুলনায় বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, চেতেশ্বর পূজারা বা অজিঙ্কা রাহানেদের মতো সিনিয়ররা খুব একটা ভালো করতে পারছেন না। হেডিংলিতে ভারতের ভরাডুবির কারণ এটাকেই মনে করেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইনাজামাম-উল হক।

হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে এক দিন বাকি থাকতে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে ভারত। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৭৮ রান করা ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয়েছে ২৭৮ রানে। হেডিংলিতে প্রথম ইনিংসে ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুল ভালো করতে পারেননি। রোহিত প্রথম ইনিংসে ১৯ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হয়েছেন ৫৯ রানে। রাহুল দুই ইনিংসে করেছেন ৮ রান (০ ও ৮)। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯১ রান করলেও প্রথম ইনিংসে পূজারা আউট হয়েছেন ১ রানে। কোহলির রান ৭ ও ৫৫। রাহানে দুই ইনিংস মিলিয়ে করেছেন ১৮ ও ১০।

 

হেডিংলি টেস্টে ভারতের তরুণরাও খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। ইনজামাম মনে করেন সিনিয়র ক্রিকেটাররা দায়িত্ব না নিলে বা তরুণদের পথ দেখাতে না পারলে একটা সময় তাঁরাও রান পেতে লড়াই করতে শুরু করবেন। টানা চাপ নেওয়ার জন্য আগে তরুণদের তৈরি করে তুলতে হবে। আর না হলে চাপে ভেঙে পড়ে এক সময় তাঁরা হারিয়ে যাবে বলে মনে করেন ইনজামাম। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ইনজামাম বলেছেন, ভারতের ব্যাটসম্যানদের দিকে তাকালে দেখবেন কোহলি প্রায় দুই বছর কোনো সেঞ্চুরি পাচ্ছে না। চেতেশ্বর পূজারা ও অজিঙ্কা রাহানেরও প্রায় একই অবস্থা।

এ কথার রেশ টেনে ইনজামাম বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে তরুণরাই ভারতকে বাঁচাচ্ছে। ঋষভ পন্ত অনেক রান করেছে। রবীন্দ্র জাদেজা আর অশ্বিনও অবশ্য অবদান রেখেছে। অভিজ্ঞদের তুলনায় তরুণরা অনেক বেশি অবদান রেখেছে দলের জন্য। সিনিয়র খেলোয়াড়দের ব্যর্থতার কথা বলতে গিয়ে ইনজামাম বলেছেন, ‘বিরাট বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়। পূজারা আর রাহানেও খুব ভালো টেস্ট ক্রিকেটার। কিন্তু তাদের বড় স্কোর সেঞ্চুরির মধ্যে ফারাক থেকে গেলে তরুণরা চাপে পড়ে যাবে। তরুণরা ভালো খেলছে, কিন্তু অভিজ্ঞদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে।

Edited By: Farhana Zerin

 

ওমানের মুদ্রা দিয়ে প্রলোভনের ফাঁদ পাতত তারা

ওমানের মুদ্রা নিয়ে অভিনব কায়দায় প্রতারণার অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গতকাল শনিবার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে ওই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ তথ্য জানান পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম।

গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তির কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে বলে পিবিআই জানায়। তবে গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তির নাম-পরিচয়সহ এ-সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি পিবিআই।

খোরশেদ আলম বলেন, ওমানের মুদ্রা নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন থেকে প্রতারণা করে আসছিল।

 

খোরশেদ আলম আরও বলেন, চক্রটি ওমানি মুদ্রা নিয়ে প্রলোভনের ফাঁদ পাতত। তারা সহজ-সরল মানুষকে এই ফাঁদে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল।

Edited By: Farhana Zerin

 

 

ওয়েবসাইটে তথ্য বদলে দিয়ে রিমতিকে এসএসসি পাশ করালেন তারা

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের তথ্য পরিবর্তন করে জাল সনদ তৈরির অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ । গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর, রমনা ও চকবাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি বলছে, এই চক্রের সদস্যরা প্রথমে ঢাকা বোর্ডসহ অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের তথ্য পরিবর্তন করে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের তথ্য সংযোজন করে। তারপর জাল সনদ তৈরির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়।

 

গ্রেপ্তার সাতজন হলেন- নূর রিমতি, জামাল হোসেন, এ কে এম মোস্তফা কামাল, মো. মারুফ, ফারুক আহম্মেদ স্বপন, মাহবুব আলম ও মো. আবেদ আলী।

চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে এই চক্রের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

 

হাফিজ আক্তার বলেন, গ্রেপ্তার নূর রিমতি ২০১৯ সালে রাজধানীর সিটি মডেল কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় নিয়ে অকৃতকার্য হন। ইতালি যেতে এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট প্রয়োজন। এ কারণে জাল সনদ তৈরি করতে তার মামা জামাল হোসেন তিন লাখ টাকায় এ কে এম মোস্তফা কামালের সঙ্গে চুক্তি করেন।

মোস্তফা কামাল শিক্ষা বোর্ডের দালাল মো. মারুফ, মাহবুব আলম, ফারুক আহম্মেদ স্বপন এবং আবেদ আলীর মাধ্যমে নূর তাবাসসুম নামে এক শিক্ষার্থীর জেএসসি এবং এসএসসি পাসের সব তথ্য সংগ্রহ করেন। তারপর নূর তাবাসসুমের জায়গায় নূর রিমতির সব তথ্য সংযোজন করতে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফরমেটে আবেদন করেন।

চক্রের সদস্যরা বোর্ডের ওয়েবসাইটের ফলাফল আর্কাইভে সংরক্ষিত কৃতকার্য শিক্ষার্থী নূর তাবাসসুমের তথ্য পরিবর্তন করে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী নুর রিমতির তথ্য আপলোড করে জাল সনদ তৈরি করে। তথ্য পরিবর্তনের পর শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে নূর তাবাসসুমের জায়গায় নূর রিমতির তথ্য প্রদর্শিত হয়।

এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ভুক্তভোগী নূর তাবাসসুম সুলতানা ২০১৯ সালে ধানমন্ডি কামরুননেছা গভঃ গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। গত ২১ আগস্ট শিক্ষা বোর্ডে দেওয়া মোবাইল নম্বরে জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ করার জন্য একটি খুদে বার্তা আসে। ওই বার্তায় তার রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঠিক থাকলেও নিজের নাম ও পিতা-মাতার নামসহ জন্ম তারিখ পরিবর্তিত দেখতে পায়।

তখন তারা স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করে পরিবর্তনের বিষয়টি জানতে পারেন। এ ঘটনায় ধানমন্ডি মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন তিনি। ওই মামলার তদন্তে এই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। নূর তাবাসসুমের মতো কেউ যদি ভুক্তভোগী হয়ে থাকেন, তবে ডিবির সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান তিনি।

 

Edited By: Farhana Zerin

 

রোনালদোর ঘরে ফেরার দিনে তাঁর বান্ধবী খোঁচালেন রিয়াল কোচকে

ঘরে অর্থাৎ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফিরেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ইংল্যান্ডের এই ক্লাবের হয়েই প্রথম বিশ্বসেরা হওয়ার স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি। প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগও জিতেছেন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাবটির হয়ে। স্বাভাবিকভাবেই রোনালদোর এই ঘরে ফেরা উদ্‌যাপন করছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। রোনালদোর প্রেমিকা জর্জিনা রদ্রিগেজ এই খুশিতে রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে খোঁচা মারার লোভ সামলাতে পারলেন না।

কাল রোনালদোর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফেরার খবর নিজেদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল চিরিঙ্গিতো টিভি। ঘরে স্বাগতম—লিখে পোস্টটি করে তারা। সেখানে জর্জিনা রদ্রিগেজের মন্তব্য, আশা করি আনচলেত্তি এখন যেন এটাও অস্বীকার না করে। মন্তব্যের শেষে হাসির ইমোজি।

 

জর্জিনার এমন মন্তব্যের পটভূমি রয়েছে। পর্তুগিজ তারকার দলবদল নিয়ে নাটক তো কম হলো না! গত সপ্তাহেও স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে হঠাৎ জোর আলোচনা শুরু হলো, রোনালদোকে ফেরাতে চান এই মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে কোচ হয়ে ফেরা আনচেলত্তি।

এ নিয়ে জল্পনা–কল্পনা শুরু হলে রিয়াল কোচ আনচেলত্তি বাধ্য হয়ে টুইট করেন, ক্রিস্টিয়ানো রিয়াল মাদ্রিদ কিংবদন্তি। তাঁর প্রতি আমার ভালোবাসা ও সম্মান আছে। তাঁকে কখনো সই করানোর কথা ভাবিনি। আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকাচ্ছি। সংবাদমাধ্যম চিরিঙ্গিতো তাদের ইনস্টাগ্রাম একাউন্টে আনচেলত্তির এই টুইটের ছবি দিলে রোনালদো প্রেমিকা জর্জিনা সেখানে মন্তব্যের ঘরে লেখেন, হা হা হা হা…।

 

এবার রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পর আনচেলত্তির সঙ্গে মজা করার লোভ সামলাতে পারলেন না জর্জিনা। রোনালদো রিয়ালে থাকার সময়ে আনচেলত্তি যখন কোচ ছিলেন, তখন কিন্তু ইতালিয়ান এই কিংবদন্তি কোচের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক ছিল রোনালদোর।

তবে ৩৬ বছর বয়সী রোনালদোর পিছু ছোটা অস্বীকার করে আনচেলত্তির ভবিষ্যতে তাকানোর কথাটা জর্জিনার সম্ভবত ভালো লাগেনি। হাজার হোক রোনালদো এখনো বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের একজন।

কাল রোনালদোর দলবদল নিয়ে ভীষণ নাটকীয়তা চলেছে। শুরুতে খবর বেরোয়, রোনালদোর ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়া মোটামুটি নিশ্চিত। বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম খবরটি নিশ্চিতও করে ফেলেছিল।

কিন্তু বাংলাদেশ সময় বিকেল থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাশার দান পুরো ১৮০ ডিগ্রি উল্টে যায়। রোনালদো ম্যানচেস্টারে গেলেন ঠিকই, তবে সেটি নীল অংশ নয়, লাল অংশে—ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে।

ক্লাবটি বিবৃতিতে লিখেছে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আনন্দের সঙ্গে নিশ্চিত করছে যে, ব্যক্তিগত চুক্তি, ভিসা ও স্বাস্থ্যপরীক্ষা সফলভাবে শেষ করার শর্তসাপেক্ষে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দলবদলের জন্য আমাদের ক্লাব জুভেন্টাসের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে। ক্লাবের অফিশিয়াল একাউন্টে লেখা হয়, ঘরে স্বাগতম, ক্রিস্টিয়ানো।

Edited By: Farhana Zerin

 

 

শরৎকালেও গ্রীষ্মকালের গরম

 

এখন শরৎকাল। এই সময়ে আকাশে সাদা মেঘের ওড়াউড়ি আর দমকা হাওয়া থাকার কথা। কিন্তু ঢাকায় এখন গ্রীষ্মকালের মতো ঠা ঠা রোদ আর রাতে ভ্যাপসা গরম। মৌসুমি বায়ু এখনো বিদায় নেয়নি। তাই মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে। তাতে শহরের উষ্ণতা কিছুটা কমছে, কিন্তু বৃষ্টি শেষে আবারও সেই অস্বস্তিকর আবহাওয়া।

আগস্টে দেশের পাঁচটি প্রধান শহরে দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যেখানে থাকার কথা ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে থাকছে ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃষ্টিতে তাপমাত্রার খুব বেশি হেরফের হয়নি। গত এপ্রিল থেকে এই সময় পর্যন্ত দিনের বেলা গ্রীষ্মের সময়ের তাপমাত্রাই পরিলক্ষিত হচ্ছে।

 

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট—এই পাঁচ প্রধান শহরের তাপমাত্রার পরিবর্তন নিয়ে একটি গবেষণা করেছে। তাতে দেখা গেছে, বর্ষা মৌসুমেও রাজধানীসহ এই শহরগুলোর দিনের তাপমাত্রা গ্রীষ্মকালের মতো উত্তপ্ত থাকে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহর থেকে দিনের বেলা শীতকাল হারিয়েই গেছে। এই দুই শহরে শীতকালে দিনের বেলা শরৎকালের মতো আধা উষ্ণ তাপমাত্রা থাকছে। গত ১৬ বছরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটের তাপমাত্রা বেড়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় গড়ে ৩ ডিগ্রি আর চট্টগ্রামে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেড়েছে।

 

বাংলাদেশে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কে শীতকাল ধরা হয়। এই সময়ে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার কথা। চট্টগ্রামে ১৩ থেকে ১৬ ডিগ্রি। শীতে কোনো এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে সেখানে শৈত্যপ্রবাহ হচ্ছে বলে বলা হয়। দেশের বেশির ভাগ এলাকায় শীতকালে ছয় থেকে দশটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। এই দুই শহরে গত পাঁচ বছরে শৈত্যপ্রবাহ হয়নি। শীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৮ ডিগ্রি থাকছে।

 

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবরের বাসিন্দা আবদুর রহমান গরমের উত্তাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র লাগিয়েছেন। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় একসময়ের বিলাসী পণ্য এসি এখন আর সেই তালিকায়ও থাকছে না।

 

গবেষণা দলের দলনেতা ও কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আশরাফ দেওয়ান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনায় শুধু বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বড় শহরগুলোর অভ্যন্তরীণ কারণে বেড়ে যাওয়া তাপমাত্রা যোগ হচ্ছে না। ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলো ধীরে ধীরে অসহনীয় হয়ে উঠছে। পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও জলাভূমি না করতে পারলে এই শহরগুলোকে বসবাসের উপযোগী রাখা যাবে না।

 

চলতি মাসে প্রকাশিত বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত বিজ্ঞানীদের প্যানেল-আইপিসিসির ষষ্ঠ মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩০০ বছরে বিশ্বের তাপমাত্রা গড়ে ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। এই শতাব্দীর মধ্যে তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি যাতে না বাড়ে, সে ব্যাপারে প্যারিস চুক্তির আওতায় বিশ্বের রাষ্ট্রগুলো কাজ করছে। অথচ ঢাকাসহ দেশের প্রধান পাঁচটি শহরের তাপমাত্রা গত ১৬ বছরে ৩০০ বছরের বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি।

 

ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের ২০০৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তাপমাত্রা কতটা বেড়েছে, তা বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি করা হয়েছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে এসব শহরে অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় ঋতুচক্রের এ পরিবর্তন ঘটছে বলে গবেষণাটিতে বেরিয়ে এসেছে। চলতি মাসে বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স ডাইরেক্ট গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

 

গবেষণার জন্য ২০০৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতিদিনের চারটি সময়ের তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ওই পাঁচ শহরের সকাল সাড়ে ১০টা, বেলা দেড়টা আর রাত সাড়ে দশটা ও দেড়টার তাপমাত্রা স্যাটেলাইট থেকে চিত্র ও তথ্য–উপাত্ত নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ওই পাঁচ নগরে শীতের সময়ে রাতে ও দিনের তাপমাত্রায় খুব বেশি পার্থক্য থাকছে না। ফলে গরম কাপড় কম পড়তে হচ্ছে। ঘরে বেশির ভাগ সময় বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহার করতে হচ্ছে। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। এতে নগরবাসীর ব্যয় ও বিদ্যুৎ খরচ বেড়েছে। আর বিদ্যুৎ ব্যবহারে বেড়ে গেছে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণও।

 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকার নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের বিদ্যমান জলাভূমি ও সবুজ এলাকা রক্ষা, রাজধানীর খালগুলো দখলমুক্ত করে সবুজায়ন এবং বাড়ির ছাদে বাগান করলে ১০ শতাংশ গৃহ কর মওকুফ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মেয়রের আশা, এতে রাজধানীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার কমে আসবে।

 

অবশ্য বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সমীক্ষা অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে ঢাকা শহরের ৬৫ ভাগ কংক্রিট বা অবকাঠামোতে আচ্ছাদিত ছিল। ২০১৯ সালে তা বেড়ে হয় প্রায় ৮২ ভাগ। এই সময়ে জলাশয় ও খোলা জায়গা প্রায় ১৪ ভাগ থেকে কমে ৫ ভাগের নিচে নেমেছে।

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকা বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য নগরগুলোর শীর্ষে থাকছে। চট্টগ্রামসহ অন্য বড় শহরগুলোতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এভাবে বেশি দিন চলতে থাকলে দেশের বেশির ভাগ বড় শহর ঢাকার মতো বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে উঠবে।

Edited By : Farhana Zerin

 

 

মিরপুরে গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণ: দগ্ধ আরও দুজনের মৃত্যু

 

রাজধানীর মিরপুরে গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও দুজন মারা গেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই দুজন মারা যান।

সর্বশেষ মারা যাওয়া দুজন হলেন শফিকুল ইসলাম (৩৫) ও সুমন (৪০)। এই দুজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়ে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, শফিকুলের শরীরের ৮৫ শতাংশ ও সুমনের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

একই ঘটনায় দগ্ধ রিনা বেগম (৫০) গতকাল রাত ১০টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

 

এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট তিনজন মারা গেলেন। মারা যাওয়া রিনা বেগম ভবনমালিক ফুল মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী। মারা যাওয়া শফিকুল হলেন রিনা বেগমের ছেলে। মারা যাওয়া অপর ব্যক্তি সুমন হলেন গ্যাসমিস্ত্রি।

এ ঘটনায় দগ্ধ অন্যরা হলেন ফুল মিয়ার প্রথম স্ত্রী রওশন আরা বেগম (৭০), ভবনের নিচতলার ভাড়াটে রেনু বেগম (৩৫), পাশের বাসার বাসিন্দা নাজনীন (২৫) ও তাঁর মেয়ে নওশীন (৫)। সবাই শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।

 

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রওশন আরা বেগমের শরীরের ৮৫ শতাংশ, রেনু বেগমের ৩৮ শতাংশ, নাজনীনের ২৭ শতাংশ ও শিশু নওশীনের শরীরের ২৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল প্রথম আলোকে বলেছেন, দগ্ধ ব্যক্তিদের সবার শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কেউ শঙ্কামুক্ত নন। তাঁদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গত বুধবার রাত ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বরের সি-ব্লকের ১১ নম্বর রোডের ছয়তলা বাড়ির গ্যাসলাইন মেরামত করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে নারী, শিশুসহ মোট সাতজন দগ্ধ হন।

ভবনমালিকের ছেলে রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, কয়েক দিন ধরেই বাসার গ্যাসের লাইনে সমস্যা হচ্ছিল। বেশ কয়েকবার মিস্ত্রি ডেকে মেরামত করা হলেও গ্যাসলাইন পুরোপুরি ঠিক হয়নি। এ কারণে বুধবার রাতে মিস্ত্রি সুমন গ্যাস-সংযোগ মেরামত করতে আসেন। মেরামত শেষে লাইন পরীক্ষা করতে নিচতলার চুলা জ্বালালে বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় চারপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

Edit By : Farhana Zerin

 

 

কাবুলে ১৫ বাংলাদেশি অক্ষত, ফিরে গেছেন আবাসস্থলে

 

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে জোড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় সেখানে আটকে থাকা ১৫ বাংলাদেশি অক্ষত আছেন। সুস্থ আছেন। এ ঘটনার পর তাঁরা বিমানবন্দর এলাকা থেকে যে যাঁর আবাসস্থলে চলে গেছেন। তাঁদের সঙ্গে চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ১৬০ জন আফগান শিক্ষার্থীও নিজ নিজ আবাসে ফিরে গেছেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার ব্যবস্থাপনায় একটি বিশেষ ফ্লাইটে গতকাল বৃহস্পতিবার ১৫ বাংলাদেশির দেশে আসার কথা ছিল। তাঁদের সঙ্গে চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ১৬০ জন আফগান শিক্ষার্থীরও বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। গত বুধবার দুপুর থেকে তাঁরা কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন। গতকাল সন্ধ্যায় কাবুলে হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে ভয়াবহ জোড়া বিস্ফোরণের পর রাতে তাঁরা নিজ নিজ আবাসস্থলে ফিরে যান।

 

কাবুলের স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে বিমানবন্দরের আবে গেটের অদূরে প্রথম বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে কিছুটা দূরে ব্যারন হোটেলের কাছে। হামলায় অন্তত ৯০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৫০ জনের বেশি। হতাহত ব্যক্তিদের মধ্যে মার্কিন সেনা ও বেসামরিক আফগান নারী-শিশু রয়েছে।

১৫ বাংলাদেশির একজন রাজীব বিন ইসলাম গতকাল দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বুধবার বেলা দুইটা থেকে আমরা বিমানবন্দরে প্রবেশের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। আমরা বিমানবন্দরের গেটের বাইরে ছিলাম। সন্ধ্যার দিকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে আমরা সবাই সুস্থ আছি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমরা বাংলাদেশিরা গত রাতে যে যার আবাসস্থলে চলে গেছি।

রাজীব বিন ইসলাম আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় মোবাইল অপারেটর ওয়্যারলেসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা আবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে যখন তাঁদের বিমানবন্দরে আসতে বলবে, তখন তাঁরা আসবেন।

 

রাজীব জানান, গত মঙ্গলবার তাঁদের দেশের উদ্দেশে যাত্রার কথা ছিল। কিন্তু তখন অনুমতি না পাওয়ায় কাবুল বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেও মাঝপথে তাঁদের ফিরে যেতে হয়েছিল। পরে বুধবার বিমানবন্দরে এসে তাঁরা জানতে পারেন, বৃহস্পতিবার তাঁদের জন্য অনুমতি রয়েছে। কিন্তু বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার জেরে তাঁরা দ্বিতীয় দফার চেষ্টাতেও দেশে ফিরতে পারলেন না।

আটকে পড়া এই বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানোর বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। সেখানকার পরিস্থিতি এখনো ঘোলাটে।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ১৬০ শিক্ষার্থী আফগানিস্তানে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। তালেবান দেশটির ক্ষমতা দখলের পর তাঁরা আটকে পড়েন।

এর আগে গত রোববার আফগানিস্তানে আটকে পড়া ২৯ বাংলাদেশির মধ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে কর্মরত ফারুক হোসেন ও মহিউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি ফ্লাইটে কাবুল থেকে কাতারে যান। একই দিনে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের তিন কর্মকর্তাকে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে কাবুল থেকে কাজাখস্তানের রাজধানী নুর সুলতানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

 

 

 

 

মুক্তিপণের টাকা আনতে গিয়ে জনতার হাতে এএসপিসহ আটক ৩

 

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় গতকাল মঙ্গলবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) রংপুরের তিন সদস্যকে আটক করে জনতা থানায় সোপর্দ করেছেন। তাদের মধ্যে সিআইডির একজন সহকারী পুলিশ সুপারও (এএসপি) আছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা উপজেলার নান্দেরাই গ্রামে মা-ছেলেকে আটক করে মুক্তিপণ দাবি করেছিলেন।

 

আটক তিন পুলিশ সদস্য হলেন রংপুর সিআইডির এএসপি মো. সারোয়ার কবির, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক। আর ওই মা-ছেলে হলেন চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেরাই গ্রামের সলেমান শাহ পাড়ার লুৎফর রহমানের স্ত্রী জহরা বেগম ও তাঁর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম।

 

মা ও ছেলের স্বজন মো. মামুনের ভাষ্য, গত সোমবার রাত ১০টার দিকে সিআইডির সদস্য পরিচয়ে লুৎফর রহমানকে আটক করতে আসেন কয়েকজন। পরে লুৎফর রহমানকে না পেয়ে তাঁর স্ত্রী জহরা বেগম ও তাঁর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করে নিয়ে যান তাঁরা। জাহাঙ্গীরের মোটরসাইকেলটিও নিয়ে যান তাঁরা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে মা-ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য জাহাঙ্গীরের ফোন থেকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রথমে ৫০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। পরে ২০ লাখ, সর্বশেষ ৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

 

জাহাঙ্গীরের পরিবারের লোকজন তখন বিষয়টি চিরিরবন্দর থানায় জানায়। দাবিকৃত টাকা নিয়ে মো. জাহাঙ্গীরের স্বজন মামুন ও আফতাবুর জামান এবং চিরিরবন্দর থানা-পুলিশ সদস্য মো. তাজুল ইসলামসহ কয়েকজন ঠিকানা অনুযায়ী রানীরবন্দর এলাকায় যান। সেখানে প্রায় ১ ঘণ্টা থাকার পরে তাদের বলা হয়, কাহারোল উপজেলার দশমাইল এলাকার তেলের পাম্পের কাছে যেতে।

এভাবে কয়েকবার জায়গা বদল করে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বাঁশের হাট এলাকায় যেতে বলেন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে। স্থানীয় লোকজন তখন সিআইডির সদস্যদের ধরে ফেলেন। পরে তাদের চিরিরবন্দর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। বর্তমানে ৩ পুলিশ সদস্য দিনাজপুরের পুলিশ সুপারের (এসপি) হেফাজতে আছেন।

 

জানতে চাইলে চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার বলেন, আটককৃতদের দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি সেখানে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে জানার জন্য দিনাজপুরের এসপি আনোয়ার হোসেনকে কল করলে তিনি বলেন, তাঁরা একটি বৈঠকে আছেন। পরে কথা বলবেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রংপুর সিআইডির ভারপ্রাপ্ত এসপি আতোয়ার রহমান। তিনি বলেন, এএসআই ও কনস্টেবল ২১ আগস্ট থেকে ১০ দিনের ছুটিতে ছিলেন। তাঁরা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে যান। তিনি বলেন, সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করে আমার অনুমতি ছাড়া ভাড়া করা একটি গাড়ি নিয়ে তাঁরা অপারেশনে যান। আটক হওয়ার পর আমাকে জানানো হয়েছে। তাঁরা যে আমাদের সদস্য, তা আমি জানিয়েছি। এর বাইরে কিছু জানি না।

 

ঘটনার বিষয়ে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আজাদ রহমান বলেন, অভিযোগ ওঠা সিআইডির চার সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

 

আগামী নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন দুতার্তে

 

 

ফিলিপাইনে দুতার্তে ২০২২ সালের নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। এ পদে নির্বাচিত হয়ে তিনি ফিলিপাইনে বিদ্রোহী ও মাদকের বিরুদ্ধে ক্রুসেড চালিয়ে যাবেন বলে উল্লেখ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত রেকর্ড করা এক বক্তব্যে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান দুতার্তে।

 

 

 

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে ফিলিপাইনে প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসেন দুতার্তে। আগামী বছরে জুনে তাঁর মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হিসেবে কেউ ছয় বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। ফলে, দুতার্তে আর প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে পারবেন না।

 

গতকাল দেওয়া বক্তব্যে দুতার্তে বলেন, আমি ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে লড়ব। তারপর আমি ক্রুসেড চালিয়ে যাব। আমি মাদক ও বিদ্রোহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। ভাইস প্রেসিডেন্টের সরাসরি নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতা না থাকলেও সাধারণ মানুষের কাছে নিজের মতাদর্শ প্রকাশ করে যাবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

এদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে দুতার্তে দেশটির শাসনক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চাইছেন বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁরা বলছেন, ক্ষমতা হাতছাড়া হলে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দুতার্তে।

ফিলিপাইনের ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন রদ্রিগো দুতার্তে। মাদকের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে নিহত হয় বহু মানুষ।মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই সংখ্যা হাজার হাজার।

 

দুতার্তের এই কাজের ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে দেশজুড়ে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের জন্য মাঠে নামতে চাইছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কৌঁসুলিরা। ফিলিপাইনে কয়েক দশক ধরে চলা বিদ্রোহ দমনের দিকেও নজর দেন দুতার্তে। তাঁর শাসনামলে বামপন্থী ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হয়।

 

২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি: প্রাথমিকের ফল প্রকাশ; সবাই মনোনীত মানবিক ও বাণিজ্যের

 

গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদনের ফল প্রকাশিত হয়েছে। আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার তথ্য দিয়ে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (https://gstadmission.ac.bd/reg/check-elegiblility) এ ফলাফল জানা যাবে।

 

মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের যেসব শিক্ষার্থী প্রাথমিকভাবে আবেদন করেছেন, সবাই চূড়ান্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন। বিজ্ঞান বিভাগে ১ লাখ ৩১ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত আবেদন করতে পারবেন।

 

প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় দেশের ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ৩ লাখ ৬১ হাজার ৪০৬ শিক্ষার্থী প্রাথমিক আবেদন করেছেন। এতে বিজ্ঞান বিভাগে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪১ জন, মানবিক বিভাগে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৩৩ এবং বাণিজ্য বিভাগে আবেদন করেছেন ৫৮ হাজার ৬৩২ শিক্ষার্থী।

 

গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মুনাজ আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীরা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে চূড়ান্ত আবেদন করতে পারবেন। এর অন্তত দুদিন আগেই নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে ফলাফল, ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পাবেন।

 

উপাচার্য আরও বলেন, যেসব শিক্ষার্থীর মুঠোফোন নম্বরের সমস্যায় রয়েছেন, তাঁদের জন্য ওয়েবসাইটে একটি অপশন চালু করা হবে। সেখান থেকে মুঠোফোন নম্বর পরিবর্তন করা যাবে। তবে সেবাটি সব শিক্ষার্থী পাবেন না। শুধু যোগ্য শিক্ষার্থীরাই নম্বর পরিবর্তন করে আবেদন করতে পারবেন।

 

 

 

পরীক্ষার প্রস্তুতি আছে, না পারলে গতবারের মতো: প্রতিমন্ত্রী

 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেছেন, স্কুল খুলতে পারলে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নেওয়া হবে। সেপ্টেম্বরে খুলতে পারলেও প্রস্তুতি আছে, অক্টোবরে খুলতে পারলেও প্রস্তুতি আছে।

তবে করোনা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক থাকলে গতবারের মতো মূল্যায়ন করা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, গতবার পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের ওপরের ক্লাসে ওঠানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁরা চাচ্ছেন তাড়াতাড়ি স্কুল খুলে দিতে। প্রধানমন্ত্রী দুটি মিটিংয়ে বলেছেন। মন্ত্রণালয়সহ সবাই মিলে স্কুলগুলো সুন্দর রাখা হচ্ছে, যাতে যেকোনো সময় স্কুল খুলে দিয়ে কাজ করা যায়। আগে তাঁদের একটি পরিকল্পনা ছিল যে ধাপে ধাপে খোলা। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম হয়তো দুই দিন করা; প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য সপ্তাহে এক দিন করে খোলা। এভাবেই করতে চাচ্ছেন।

 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে।
পরীক্ষার বিষয়ে জাকির হোসেন বলেন, তাঁরা সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচির চিন্তা–ভাবনা করছেন। সেটা সমাপনীতেও ব্যবহার হবে। কে কীভাবে কী করল, তার মূল্যায়নের ভিত্তিতে রেজাল্ট দেওয়া হবে। সশরীর পরীক্ষা যদি নিতে না পারা যায়, তাহলে মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফল দেওয়া হবে। স্কুল খুলতে পারলে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

সেপ্টেম্বরে খুলতে পারলেও প্রস্তুতি আছে, অক্টোবরে খুলতে পারলেও প্রস্তুতি আছে। বাড়ির কাজ (ওয়ার্কসিট) দেওয়া হচ্ছে সিলেবোস অনুযায়ী, এটিও একটি মূল্যায়ন। এটি দেওয়ার কারণে সারা দেশে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক থাকলে গতবারের মতো মূল্যায়ন করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা হলো, প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া। পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা। তবে দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি।

 

স্কুল খোলার রূপরেখা নিয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ডব্লিউএইচও সবাই মিলে একটা সিদ্ধান্ত তো লাগবে। স্কুল হুট করে তো খুলে দেওয়া যাবে না। আরেকটু স্বাভাবিক হলে হয়তো খোলা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অক্টোবরের আগে সম্ভব কি না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা ঠিক তিনি বলতে পারবেন না। যেকোনো সময় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিলে, তারা প্রস্তুত আছেন।

 

প্রাথমিকের ৮৫ শতাংশ শিক্ষক টিকা নিয়েছেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় বছর থেকে বাচ্চারা বাড়িতে আছে। নানা ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হচ্ছে। পড়াশোনা থেকে দূরে যাচ্ছে। গ্রামের বাচ্চারা তো খেলাধুলা নিয়ে মত্ত। অনলাইনে অনেকে বাজে গেমস খেলছে। যখন পড়াশোনা থাকে না, স্কুল থাকে না তখন বিভিন্নভাবে আড্ডা দেয়। চরের বাচ্চাদের বাল্যবিবাহের কিছুটা প্রবণতা বাড়ছে।

 

এসব মিলে তাঁরা চাচ্ছেন, যত তাড়াতাড়ি স্কুল খুলে দিতে। স্কুল খুললে কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, সেই নির্দেশনাও দেওয়া আছে। প্রাথমিকের ৮৫ শতাংশ শিক্ষক ইতিমধ্যে করোনার টিকা নিয়েছেন। সবাইকে টিকা দেওয়া হবে।

 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, এ ছুটি আছে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে দেশের প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বিকল্প উপায়ে টিভি, অনলাইন, অ্যাসাইনমেন্টসহ বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা করা হলেও বাস্তবতা হলো শ্রেণিকক্ষে যেভাবে পড়াশোনা হতো, তা এসবের মাধ্যমে হচ্ছে না। আবার সবাই এসবের সুবিধাও পাচ্ছে না। শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, তাদের পরিকল্পনা হলো, প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া। পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা। তবে দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি।

 

পরিবহন ব্যবস্থাই এমন যে অর্ধেক চালু রাখা কঠিন
রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহর এবং দূরপাল্লার পথে প্রায় এক লাখ বাস-মিনিবাস চলাচল করে।

 

 

 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নেওয়া সর্বশেষ সিদ্ধান্তের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খোদ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গত সোমবার তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন,অর্ধেক বাস চলবে, আর অর্ধেক চলবে না, এটার নিশ্চয়তা দেবে কে? বিষয়টি আমাদের মন্ত্রণালয়, বিআরটিএর সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটু আলোচনা করে নিলে ভালো হতো। বিষয়টি এখন জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তারা যদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারে, ভালো কথা। এটা আমাদের এখতিয়ার নয়।

সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার এই প্রতিক্রিয়া বলে দেয়, যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা প্রকট। ফলে এর বাস্তবায়ন মাঠ প্রশাসনের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। এতে সরকারের লাভ-ক্ষতি যা-ই হোক, ভোগান্তির শিকার হতে হয়, খরচের বোঝা বাড়ে সাধারণ মানুষের। পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, সাধারণ মানুষের সুবিধা–অসুবিধার বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় কমই থাকে।

 

 

বাংলাদেশ থেকে বেশি পাচার হচ্ছে ইয়াবা। অন্যদিকে এ দেশে আসছে এলএসডি, খাট, আইসের মতো নতুন মাদক।

কুরিয়ারে বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছে মাদক, আসছেও
তৈরি পোশাকের আড়ালে গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল অ্যামফিটামিন পাচার করছিল একটি চক্র। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ থেকে ১২ কেজি অ্যামফিটামিন উদ্ধারের পর পাচারের সহযোগিতা করায় একটি বহুজাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের তিন কর্মকর্তাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

 

 

পরে অধিদপ্তরের তদন্তেই এই আসামিদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তাঁদের সবাইকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে এ-ও বলা হয়, মাদক পাচারে কুরিয়ার সার্ভিসের দায় নেই।

 

অবশ্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মাদক পাচারের ঘটনা ঘটে। ১২ কেজি অ্যামফিটামিন উদ্ধারের ঘটনায় কুরিয়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের স্ক্যানিং ছাড়াই পার্সেলের চালান বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে পাঠিয়ে দিয়েছিল। এ ঘটনায় যাঁদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে, তাঁরাই কুরিয়ারে করে মাদকের চালান পাঠানোর কথা স্বীকার করেছেন। এ বিষয়টি এ মামলার অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে মাদক পাচার যেমন হচ্ছে, তেমনি একইভাবে বিদেশ থেকে এ দেশে মাদক আসছে। পাচারকারীরা বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করছে।

 

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, কুরিয়ারে নতুন নতুন মাদক দেশে আসছে। সর্বশেষ দেশে আসা নতুন মাদক এলএসডি এসেছে একটি আন্তর্জাতিক কুরিয়ারে। আরও দুটি মাদকদ্রব্য খাট ও আইস বা ক্রিস্টাল মেথও একইভাবে দেশে আসে। কুরিয়ার সার্ভিসে মাদক পাচারের অভিযোগে গত এক বছরে ২০টি মামলা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এগুলোর মধ্যে সাতটি মামলা বিচারাধীন। অন্য মামলাগুলোর তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

 

বাংলাদেশ থেকে বেশি পাচার হচ্ছে ইয়াবা। অন্যদিকে এ দেশে আসছে এলএসডি, খাট, আইসের মতো নতুন মাদক।

 

মামলাগুলোর তদন্ত করতে গিয়ে ডিএনসি জানতে পেরেছে, কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মাদক পাচার হচ্ছে। বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী মাদক চক্রে জড়িয়ে দেশি-বিদেশি পাচারকারীদের সহায়তা করছেন।

কুরিয়ারে মাদক পাচারের ঘটনায় ২০ মামলা। ৭টি বিচারাধীন, বাকিগুলোর তদন্ত চলছে। ১৭টি মামলাই হয়েছে ইয়াবা পাচার নিয়ে। বাংলাদেশি ও বিদেশি নাগরিকেরা জড়িত। কুরিয়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
যে ২০টি মামলা হয়েছে, তার মধ্যে ১৭টি মামলা করা হয়েছে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায়। এর মধ্যে একই চক্রের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায়। গত বছরের জুনের শুরুতে সৌদি আরবে পাঠানোর সময় এক হাজার ইয়াবা এবং পরে একই মাসে এই চক্রের ২ হাজার ৩০০ এবং ১ হাজার ২৫০টি ইয়াবার দুটি চালান ধরা পড়ে। এতে চক্রের মূল হোতা শাহ আলম এবং তাঁর দুই সহযোগী ইউসুফ মোল্লা ও সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুস সবুর মণ্ডল বলেন, কুরিয়ার সার্ভিসে মাদকের চোরাচালান রোধে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পার্সেলে মাদক শনাক্তে কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে মাদক পাচারে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তে কাজ চলছে।

পাচারের পেছনে যে কুরিয়ারের কর্মীরাও জড়িত, এর প্রমাণও রয়েছে ডিএনসির হাতে। গত বছরের ১০ আগস্ট আরেকটি বহুজাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস থেকে ছয়টি ট্রাভেল ব্যাগভর্তি ৩ হাজার ৫০০ ইয়াবা উদ্ধার করে সংস্থাটি। এই চালান সৌদি আরবে পাঠানো হচ্ছিল। এই ঘটনায় দেশীয় একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কিশোরগঞ্জ শাখার ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান, তাঁর দুই সহযোগী আবু দারদা ও মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের পর জানা যায়, মোস্তাফিজ আর্থিক সুবিধা নিয়ে ইয়াবা সৌদি আরবে পাচার করছিলেন।

 

 

অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, কুরিয়ার সার্ভিসের প্রতিটি শাখায় ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন ও ফুটেজ সংরক্ষণের জন্য বলা হয়েছে। প্রতিটি বুকিং সেন্টারে স্ক্যানার স্থাপনের কথাও বলা হয়েছে।

‍সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের স্বত্বাধিকারী ও কুরিয়ার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হাফিজুর রহমান একেটিভিকে বলেন, অধিকাংশ কুরিয়ার সার্ভিসের লাইসেন্স নেই। যাঁরা নিয়ম মেনে কুরিয়ার সার্ভিস পরিচালনা করছেন, তাঁরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা মেনেই কাজ করছেন। মাদক পাচারে জড়িত ব্যক্তিদের ধরিয়েও দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

কুরিয়ার সার্ভিসের দায় পায়নি ডিএনসি
কয়েকটি মামলার তদন্তে মাদক পাচারে কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলেও কুরিয়ার সার্ভিসের কোনো দায় বা অবহেলা এখন পর্যন্ত পায়নি ডিএনসি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে বিমানবন্দরে কার্গো ভিলেজে ১২ কেজি অ্যামফিটামিন উদ্ধারের যে ঘটনা ঘটেছিল, তখন প্রশ্ন উঠেছিল স্ক্যানিং ছাড়া কীভাবে কার্গো ভিলেজে পার্সেল গেল।

তদন্তে উঠে আসে, এই চালানের গন্তব্য ছিল অস্ট্রেলিয়া। জুনায়েদ আহমেদ সিদ্দিকী নামে এক ব্যক্তি ও তাঁর স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা এই চালানের পেছনের মূল ভূমিকা রাখেন। তাঁদের সঙ্গে সতীশ কুমার সিলভারাজ নামের ভারতীয় এক নাগরিকও ছিলেন। এই ঘটনায় সংঘবদ্ধ চক্রের সাতজনকে শনাক্ত করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তবে তদন্তে কুরিয়ার সার্ভিসের কোনো দায় খুঁজে পাননি তিনি।

বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ থেকে 

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএনসির পরিদর্শক ফজলুল হক খান বলেন, কুরিয়ার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটির স্ক্যানার ছিল না। ম্যানুয়ালি (সনাতন পদ্ধতিতে) তাদের পরীক্ষা করার কথা। তদন্তে ওই মাদক পাচারের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মীদের এজাহারে কেন আসামি করা হয়েছিল, জানতে চাইলে মামলার বাদী পরিদর্শক হোসেন মিয়া একেটিভিকে বলেন, বিমানবন্দরের অন্য একটি সংস্থা আসামিদের আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছিল। এ কারণে তাদের নামে মামলা হয়েছিল।

 

 

২০০০ সালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ১০ জনকে বিচারিক আদালতের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ হয়েছে।

বাংলায় দেয়া এ রায় সোমবার প্রকাশিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

 

 

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি এই রায় দেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ মোহাম্মদ শাহীন মৃধা। পলাতক আসামিপক্ষের রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন অমূল্য কুমার সরকার। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এসএম শাহজাহান, মোহাম্মদ আহাসান, ইমাদুল হক ও নাসির উদ্দিন।

 

 

 

এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ওয়াসিম আক্তার ওরফে তারেক ওরফে মারফত আলী, রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম ওরফে রাশেদুজ্জামান ওরফে শিমন খান, ইউসুফ ওরফে মোসাহাব মোড়ল ওরফে আবু মুসা হারুন, শেখ ফরিদ ওরফে মাওলানা শওকত ওসমান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই ও মাওলানা আব্দুর রউফ ওরফে আব্দুর রাজ্জাক ওরফে ওমর।

 

 

আসামি মেহেদী হাসান ওরফে আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে গাজী খানকে বিচারিক আদালতের দেয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৪ বছরের দণ্ডিত আসামি আনিসুল ইসলামের দণ্ড বহাল রেখেছেন উচ্চ আদালত।

তবে ১৪ বছরের দণ্ডিত মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমানের দণ্ড বহাল রেখে আদালত বলেন, দেখা যাচ্ছে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর পর থেকে তার ১৪ বছর দণ্ড ভোগ করা হয়ে গেছে। তাকে বিচারিক আদালত ১৪ বছর দণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। সুতরাং জেল কোড অনুসারে এ আসামি তার ওপরে প্রদত্ত দণ্ড যদি ভোগ করে থাকেন, তবে তাকে মুক্তি দিতে (যদি অন্য কোনো মামলা না থাকে) নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।

 

 

এছাড়া ১৪ বছরের অপর দণ্ডিত আসামি সারোয়ার হোসেন মিয়াকে খালাস দিয়েছেন উচ্চ আদালত। যদি অন্য মামলা না থাকে, তাহলে তাকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন।

গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর এ আপিল শুনানি শুরু হয়। গত ১ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে রায়ের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার দিন ধার্য করা হয়েছিল। সে অনুসারে রায় ঘোষণা করা হয়।

 

২০০০ সালে শেখ হাসিনার কোটালীপাড়ায় সফর ছিলো

 

২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের অংশ হিসেবে কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজ মাঠে ভাষণ দেয়ার কথা ছিল। সমাবেশের দু’দিন আগে ২০ জুলাই কলেজ প্রাঙ্গণে জনসভার প্যান্ডেল তৈরির সময় শক্তিশালী বোমার অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

পরে ওই কলেজের উত্তর পাশে সন্তোষ সাধুর দোকানঘরের সামনে থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল ৭৬ কেজি ওজনের বোমাটি উদ্ধার করে। পরদিন ২১ জুলাই গোপালগঞ্জ সদর থেকে ৮০ কেজি ওজনের আরও একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়।

 

 

এসব ঘটনায় আলাদা দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। ২০১০ সালে মামলা দু’টি ঢাকার ২ নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এ মামলা থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়।

২০১৭ সালের ২০ আগস্ট দুই মামলার একটিতে ১০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

 

এছাড়া একজন আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও তিনজনের ১৪ বছর করে কারাদণ্ড দেন ঢাকার ২ নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মমতাজ বেগম।

 

 

রায় ঘোষণার এক সপ্তাহের মাথায় ২৭ আগস্ট বিচারিক আদালত থেকে পাঠানো ডেথ রেফারেন্স, রায় ও মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

এরপর নিয়ম অনুসারে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্নের পর এ ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে। শুনানি শেষে ১৭ ফেব্রুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট।

 

 

শুভেচ্ছা কার্ড ছাড়া মিলছে না টিকা

 

চট্টগ্রাম মহানগরীতে গণটিকার ব্যাপক অনিয়ম চোখে পড়েছে। সারাদেশ ব্যাপি গণটিকাদান কর্মসূচির ‌প্রথম দিন মহানগরীতে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে নিজেদের অনুসারী ও পছন্দের লোকজনকে গত দু’দিন আগে থেকে শুভেচ্ছা কার্ড বিতরণ করেছেন বেশিরভাগ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ফলে নিবন্ধন করেও সকাল থেকে ওয়ার্ডের টিকাকেন্দ্র থেকে টিকা না নিয়ে, লাঞ্চিত হয়েই ফিরে যেতে হয়েছে টিকা নিতে আসা সাধারণ জনগনকে।

শুভেচ্ছা কার্ড

 

ফেসবুকে মাসুদ করিম টিটু নামে এক বূক্তভোগি লিখেছেন, নিবন্ধন এর পর ম্যাসেজ তারপর টিকা গ্রহণ একটা সুন্দর প্রক্রিয়ায় ছিল। সময় লাগলেও সুন্দরভাবে হচ্ছিলো। চেয়ারম্যানের চামচা আর কাছের মানুষ দুই-চারশ’ জনকে টিকা দেয়ার প্রক্রিয়াকে গণটিকা কর্মসূচি নাম দিয়ে আওয়ামী লীগকে আমজনতার গালিগালাজ শােনানাে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার দেশপ্রেম এবং গণমুখী কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ছাড়া আর কিছুই না।

দেশ রূপান্তর পত্রিকার ফটো সাংবাদিক আকমল হোসেন ফেসবুকে লিখেছেন, এক মহিলা জনপ্রতিনিধির মেয়ে, ছেলেসহ কত কর্মী যে টিকা নিয়েছে তার হিসেব নাই। কিন্তু ভোর ৪টায় লাইনে দাঁড়ানো মানুষগুলোর জন্য উনি একবার নেমে এসে সহযোগিতা করলো না। এভাবে গণটিকা না দিয়ে বলে দিলেই হত যে টিকা জনপ্রতিনিধিরা তাদের সন্তান, বিশেষজন ও কর্মীদের দেয়ার পর অবশিষ্ট থাকলে সাধারণ মানুষ পাবে। এভাবে মানুষকে হয়রানি করার অর্থ নেই। মানুষের কান্না এবং দুর্দশার অভিশাপ লেগে যাবে।

 

 

ফেসবুকে এস এম সাব্বির লিখেছেন, গণটিকা হােক যাই হােক একটি বিষয়ে সাধারণ মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া করবে। আপনার আরবান কমিউনিটি টিম যেটি সেটি করা উচিত ছিল, রাজনৈতিক দলীয় নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে। এখানে যারা টিকাদান কমিটি যাদের নেতৃত্বে টিকাদান চলবে ওনারা স্বজনপ্রীতিকে প্রাধান্য দিবে সেটি শতভাগ।

শুভেচ্ছা কার্ড

অনেকে আবার হাস্যরসের মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন এই টিকা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে। আবু রায়হান তানিন লিখেছেন, তৃণমূল পর্যায়ে গণভোগান্তি কর্মসূচি। ধন্যবাদ সংশ্লিষ্ট সকলকে।

 

চট্টগ্রাম নগরের ১৭নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম বলেন, আমি গতকাল যখন ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে এসেছিলাম তখন বারবার জিজ্ঞেস করেছি আর কিছু লাগবে কি না। তারা বলেছিলেন না লাগবে না। কিন্তু আজকে টিকা নিতে আসার পর তারা আমার কাছে শুভেচ্ছা কার্ড খুঁজে। এমন কোনো কার্ডই আমাকে দেওয়া হয়নি তাহলে আমি পাবো কোথা থেকে। গতকাল ভেবেছিলাম হয়তো টিকাটা দিতে পারবো। কিন্তু তা আর হলো না। বাসায় চলে যাচ্ছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ১৭নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ শহিদুল আলম একেটিভিকে বলেন, আমার ওয়ার্ডে খুব সুন্দরভাবেই গণটিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বয়োজ্যেষ্ঠ, প্রতিবন্ধী এদের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

 

রেজিষ্ট্রেশন ফর্ম পূরণ করেও টিকা নিতে না পারার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব মিথ্যা অভিযোগ। কতজন কত অভিযোগ করবে।

 

শুভেচ্ছা কার্ড

 

শুভেচ্ছা কার্ড বিতরণ করে টিকাদান প্রসঙ্গে কাউন্সিলর মোহাম্মদ শহিদুল আলম বলেন, শৃঙ্খলা বজায় রেখে টিকা দেওয়ার জন্য আমি শুভেচ্ছা কার্ডের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। না হলে কম্পিউটারের দোকানে যে কেউ নিবন্ধন স্লিপ বের করে লাইন ধরবে। এসব যাতে না হয় তাই আমার এই প্রচেষ্টা।

 

এদিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পঞ্চাশের বেশি বয়সী জনগোষ্ঠী, নারী ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলরের সরবরাহ করা বিশেষ টোকেন ছাড়া করোনার টিকা মিলেনি বলে অভিযোগ আছে। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টোকেন না থাকায় হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ।

 

চট্টগ্রাম সিটিতে মডার্নার টিকা দেওয়ার জন্য ৪১টি ওয়ার্ডের ১২৩টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়। সরেজমিন নগরের ১৬ নং চকবাজার, ১৭ নং পশ্চিম বাকলিয়া, ২৯ নং পশ্চিম মাদারবাড়ী, ৩৭ নং উত্তর মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ছাত্রলীগের স্থানীয় কর্মীরা নিয়ন্ত্রণ করছেন টিকাদান কার্যক্রম। এসব ওয়ার্ডে ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গে টিকা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হতেও দেখা যায়।

 

সব বিষয় অবহিত করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি একেটিভিকে বলেন, আপনার এসব প্রশ্নের জবাব আমি দিতে পারবো না। কিছু জানার থাকলে আপনি প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

 

চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. সেলিম আকতার চৌধুরীর নাম্বারে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি।

 

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি একেটিভিকে বলেন, আসলে এটা আমাদের একটা টেস্ট কেইস ছিল। সব ভুল-ত্রুটির অভিজ্ঞতা নিয়েই আমরা পরের ক্যাম্পেইন করবো। ১৪ আগস্ট আমাদের নেক্সট ক্যাম্পেইন। আশা করি, সেসময় আমরা এসব ভুল-ত্রুটি শোধরাতে পারবো।

 

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে অনেক সাধারণ মানুষ টিকা নিতে গিয়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা ও ভোগান্তির কথা শেয়ার করেছেন।

বাপ্পী নীল নামে একজন লিখেছেন, ভ্যাক্সিন দিতে গিয়ে ইতিমধ্যে খারাপ আচরণের শিকার হয়েছে আজ এলাকার এক বয়স্ক মানুষ। আগামীতে আরও কী অপেক্ষা করছে সেটাই দেখার জন্য অপেক্ষা। ভ্যাক্সিন দিচ্ছে নেত্রী আর স্ট্যাটাস দিচ্ছে অমুক ভাই তমুক ভাইয়ের নির্দেশনায়।

 

সর্বশেষ টিকা নিয়েও হচ্ছে দূর্নীতি, অনিয়ম গণটিকা নিতে আসা জনগন দূর্ভোগে পড়েছে। চট্টগ্রামে ভ্যাক্সিনের জন্য এমন আহাজারি যেন দেখার কেউ নেই। নগরের কয়েকটি ওয়ার্ডে গণটিকার কর্মসুচির নামে দেখা গেছে শুভেচ্ছা কার্ড। যা সরকারের সাধারন মানুষের জন্য যে গণটিকাদান কর্মসুচি সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রচেষ্টা।

 

 

 

মাত্র ৪৭ হাজার টাকায় নতুন বাইক, লিটারে মাইলেজ ৯০ কি.মি

উৎসবের মৌসুমে অতিরিক্ত বেশ কয়েকটি নতুন ফিচারসহ বাজারে এসেছে বাজাজে’র সিটি ১০০-এর নতুন মডেল। নতুন মডেলের নাম রাখা হয়েছে সিটি ১০০ কেএস।

 

এতে ৮টি নতুন ফিচার যোগ হয়েছে। আর মিলবে ৪৭ হাজার টাকারও কম দামে।

 

নতুন এই বাইকের সামনের সাসপেন্সর আগের থেকে আরামদায়ক এবং উন্নত করা হয়েছে। ফুয়েল মিটারে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে যা বাইকে ঠিক কতটা পরিমান জ্বালানি রয়েছে তার সঠিক মাপ দেখাবে।

 

হ্যান্ডেলবারে ব্যবহার করা হয়েছে ক্রসটিউব, যা আরও বেশি স্টেবিলিটি দেবে। আরও আরামদায়ক সিট থাকছে নতুন মডেলে। এছাড়াও বেশ কিছু নতুন ফিচার যোগ হয়েছে বাইকটিতে।

 

 

৪৬ হাজার ৪৩২ টাকায় নতুন বাইক

গ্লস ইবনি ব্ল্যাকের সঙ্গে নীলের ছোঁয়া, ম্যাট অলিভ গ্রিনের সঙ্গে হলুদ এবং গ্লস ফ্লেম রেড এই তিনটি রঙে পাওয়া যাচ্ছে বাজাজের সিটি ১০০ কেএস এই বাইকটি। দিল্লিতে এক্স শোরুমে দাম রাখা হয়েছে ৪৬ হাজার ৪৩২ টাকা।

 

বাজাজ অটো লিমিটেডের মার্কেটিং হেড নারায়ণ সুন্দর রমন জানিয়েছেন, সিটি ব্র্যান্ডের সব মডেলই এর শক্তিশালী এবং সাশ্রয়কারী গুণের জন্য পরিচিত। এই মডেলটিও ক্রেতাদের মন কাড়বে বলে দাবি

করেছেন তিনি।

 

 

নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক নতুন বাইক 

মাত্র ৯০০ টাকা কিস্তিতে লোন

 

আবাসন খাতে জমি বা ফ্ল্যাট কেনা ও বাড়ি নির্মাণ বা মেরামতে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন। ৯ শতাংশ সরল সুদে এই ঋণ পরিশোধ করা যাবে সর্বোচ্চ ২০ বছরে। আর প্রতি লাখে মাসিক কিস্তি দিতে হবে মাত্র ৯০০ টাকা।

বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের এমন ঋণ কার্যক্রম নিয়ে কর্পোরশনের ডিজিএম মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম জানান, পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে।

লো লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন

লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন

নগর এলাকায় যারা জমি বা প্লট কিনতে চান তাদের জন্য নগর বন্ধু, জেলা পর্যায়ে যারা ঋণ নিতে চান তাদের জন্য পল্লীমা, দেশের বাইরে থাকা যেসব প্রবাসীরা ঋণ নিতে চান তাদের জন্য প্রবাস বন্ধু, যারা নিজেদের স্থাপনা আরো ভালো করতে চান তাদের জন্য আবাসন উন্নয়ন আর সবশেষে যারা নিজেদের স্থাপনা মেরামত করতে চান তাদের জন্য আবাসন মেরামত নামের পাঁচটি প্যাকেজ রয়েছে।

৫ বছর মেয়াদী ঋণের জন্য প্রতি মাসে দুই হাজার ৭৬ টাকা, ১০ বছরে মাসিক ১ হাজার ২৬৮ টাকা, ১৫ বছরের জন্য মাসিক ১ হাজার ১৪ টাকা আর ২০ বছরের জন্য প্রতি মাসে কিস্তি আসবে সর্বনিম্ন ৯০০ টাকা।

খায়রুল ইসলাম বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান যেটি আর্থিক খাতে ঋণ দেয়। এক সংখ্যার অংকে সরল সুদে ঋণ দেয়া হয়। মোট পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ আর জমির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।

 

 

বাংলাদেশি নাগরিকরা সর্বোচ্চ ২০ বছরে এবং যারা প্রবাসে আছেন তারা সর্বোচ্চ ২৫ বছরে মাসিক কিস্তিতে এই ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন। ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী বাংলাদেশের যেকোন নাগরিক শর্ত সাপেক্ষে এই ঋণ সুবিধা নিতে পারবেন।

ব্যাংকের তুলনায় কর্পোরেশন থেকে ঋণ নেওয়া সুবিধা ও লাভজনক উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটির এই কর্মকর্তা বলেন, যেহেতু এটা একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান তাই এটির সুধ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হয়। গ্রাহক প্রতি মাসে যে কিস্তি পরিশোধ করবেন সেটি থেকে আসলের অংকও নিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়াও ব্যাংক সাধারণত দুই অঙ্কের সংখ্যার সুদে ঋণ দেয়। তাই ব্যাংকের তুলনায় তাদের থেকে ঋণ নেওয়া লাভজনক।

 

 

অন্যদিকে ব্যাংকে সাধারণত তিন মাস কিস্তি বকেয়া পড়লেই কর্তৃপক্ষ মামলা-মোকদ্দমা বা অন্যান্য আইনানুগ পদক্ষেপে চলে যায়। কিন্তু এখানে সর্বোচ্চ ২৪ কিস্তি পর্যন্ত বকেয়ার সুবিধা দেওয়া হয় গ্রাহকদের।

তাই তুলনামূলকভাবে বিচার করলে হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন থেকে ঋণ নেওয়া সুবিধার ও লাভজনক।

খায়রুল ইসলাম আরো বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা ঋণ দেয় কিন্তু প্রপার্টি কিনতে হবে তাদের পছন্দনীয় জায়গা থেকে। আমাদের এখানে এ ধরনের বাধ্যবাধকতা নেই, আমরা শুধু অর্থ ঋণ দিয়ে থাকি।

গ্রাহকের যেখানে সুবিধা মনে হবে তিনি এই অর্থ দিয়ে সেখানেই প্রপার্টি কিনতে পারবেন।

কম সুদে লোন পাবেন যেসব ব্যাংকে

দেশের ৫৭টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে বর্তমানে ৩৭টি ব্যাংকের ঋণের সুদহার ১০ শতাংশের নিচে। যার মধ্যে ১০ ব্যাংকের ঋণের সুদহার ৮ শতাংশের নিচে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মে শেষে ঋণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর গড় সুদহার ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। ঋণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম সুদ নিচ্ছে বিদেশি ব্যাংক। ঋণের ক্ষেত্রে বিদেশি ব্যাংকগুলোর গড় সুদহার ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

বিশেষায়িত ব্যাংকের সুদহার ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে বেসরকারি অনেক ব্যাংকে এখনো ঋণের সুদহার ১০ শতাংশের উপরে রয়েছে। ঋণের ক্ষেত্রে ৮ শতাংশের নিচে সুদ নেওয়া ব্যাংকগুলো হলো- রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক।

 

 

বিদেশি হাবিব ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, ওয়ারি ব্যাংক, এইসএসবিসি এবং ব্যাংক আলফালাহ লিমিটেড। এছাড়া বেসরকারি আইসিবি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড।

এছাড়া ১০ শতাংশের নিচে ঋণ দিচ্ছে ইসলামী ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, স্টান্ডার্ড ব্যাংক, বিসিবিএল, ব্যাংক এশিয়া, ট্রাস্ট ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক এবং আইসিবি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড।

 

 

লোন

 

 

৬% সুদে ঋণ পাবেন ছোট উদ্যোক্তারা

মহামারী করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ছোট উদ্যোক্তারা ছয় শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে দুই শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ছোট উদ্যোক্তাদের এই ঋণ দেবে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন ঋণের পাশাপাশি মেয়াদি ঋণপ্রবাহ বাড়াতে সরকার এবং এডিবির যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত এসএমইডিপি-২ প্রকল্পের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল বিষয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

 

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঋণের সুদ হার অংশগ্রহণকারী ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে দুই এবং গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ছয় শতাংশ পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

পুনঃনির্ধারিত সুদ হার এ তহবিলের আওতায় সকল ঋণের ক্ষেত্রে এ বছরের ১৮ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে। তহবিলের অন্য শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাস্তবায়নাধীন এই পুনঃঅর্থায়ন তহবিলটি ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সুবিধাবঞ্চিত কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে এবং সহজ শর্তে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে গঠন করা হয়।

এ প্রকল্পের আওতায় অক্টোবর ২০২০ পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার এসএমই প্রতিষ্ঠানকে এক হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তহবিলের আওতায় এ পর্যন্ত মোট ৩৩টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ রয়েছে।

 

 

গত এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ধরনের ঋণের সুদের হার নয় শতাংশ করা হয়েছে। তবে সরকার ও এডিবির অর্থায়নে পরিচালিত এই তহবিল থেকে ঋণ নিলে উদ্যোক্তাদের ছয় শতাংশ সুদ দিতে হবে।

গত মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর সরকার এ পর্যন্ত মোট সোয়া লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল সিএমএসএমই খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা। তবে বার বার তাগাদা এবং সময় বাড়িয়ে এ ঋণ বিতরণে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

এই তহবিল থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা নয় শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবে। তবে ব্যাংকগুলোকে চার দশমিক পাঁচ শতাংশ সুদ পরিশোধ করতে হবে, বাকি সুদ সরকার ভর্তুকি হিসেবে দেবে।

 

লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন 

 

 

লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন লোন 

 

 

 

হেলেনা জাহাঙ্গীরের উত্থান যেভাবে

 

ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে হেলেনা জাহাঙ্গীরের উত্থান হয়েছে অল্প সময়ের মধ্যে। রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি নানা কারণে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনায়।
ফেসবুকে ২০ লাখের বেশি ফলোয়ার হেলেনা জাহাঙ্গীরের। বেশ কয়েক বছর ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এই ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তা, যিনি যুক্ত রাজনীতির সঙ্গেও।

সম্প্রতি ‘চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের সূত্র ধরে তিনি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন। ভুঁইফোড় এ সংগঠনের সভাপতি হিসেবে তার নাম এসেছে। যদিও তিনি বলেছেন, তিনি ওই পদ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেননি।

 

ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে হেলেনা জাহাঙ্গীরের উত্থান হয়েছে অল্প সময়ের মধ্যে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিয়ে হয়ে যায় তার। নামের সঙ্গে যুক্ত হয় জাহাঙ্গীর।

 

 

 

স্বামীর সংসারে  পড়াশোনা অব্যাহত রাখেন; শেষ করেন স্নাতকোত্তর। এরপর শুরু করেন তার উদ্যোক্তা জীবন।

তিনি একাধারে প্রিন্টিং, অ্যামব্রয়ডারি, প্যাকেজিং, স্টিকার এবং ওভেন গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। জয়যাত্রা গ্রুপের আওতায় এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। সব মিলিয়ে ১২ হাজার কর্মী কাজ করছে এসব প্রতিষ্ঠানে।

 

 

হেলেনা জাহাঙ্গীর ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সদস্য ও নির্বাচিত পরিচালক। এ ছাড়া তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএরও সক্রিয় সদস্য তিনি।

এফবিসিসিআইয়ের সদস্যপদ পাওয়ার এক মাসের মাথায় নির্বাচনে নেমে ও পরিচালক নির্বাচিত হয়ে আলোচনার জন্ম দেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। জয়যাত্রা নামে একটি স্যাটেলাইট টেলিভিশনেরও মালিক তিনি। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পুরস্কৃতও হয়েছেন রোটারি ক্লাবের একজন ডোনার হিসেবে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে তার দাপুটে উত্থান ও পদচারণা। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন। সাম্প্রতিক ঘটনার পর তাকে ওই কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

হেলেনা

 

তবে হেলেনা জাহাঙ্গীর বলেছেন, তাকে এ ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি বা নোটিশ দেয়া হয়নি। এ ছাড়া তিনি কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন; হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েকটি বিদেশযাত্রার সফরসঙ্গীও।

এখন আওয়ামী রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হলেও এর আগে তার জাতীয় পার্টিতে এবং তারও আগে বিএনপির রাজনীতিতে সংশ্লিষ্টতার খবর পাওয়া যায়। গণমাধ্যমে ওই দুটি দলের প্রধান খালেদা জিয়া ও হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের সঙ্গে ছবিও প্রকাশ পেয়েছে।

 

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। তখন দাবি করতেন, তার কোনো রাজনৈতিক দল নেই। তিনি স্বতন্ত্র রাজনীতি করতে চান। যদিও পরে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ গঠনের ঘোষণা দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন হেলেনা জাহাঙ্গীরশুধু রাজনৈতিকভাবেই নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমুলক সংগঠনগুলোর সঙ্গেও হেলেনা জাহাঙ্গীরের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি প্রায় এক ডজন সামাজিক সংগঠনের নেতৃস্থানীয় দায়িত্বে রয়েছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব সেফায়েতুল্লাহ সেফুর (সেফুদা) সঙ্গে তার বিতর্কিত কথোপকথন সম্পর্কিত একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। একটি গণমাধ্যমের মালিকের সঙ্গে তিনি গান গাওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন এমন দাবি সম্পর্কিত ফেসবুক স্ট্যাটাস এবং এ বিষয়ে ওই গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের পাল্টা কঠোর প্রতিবাদ ফলোয়ারদের মধ্যে তুমুল আলোচনার খোড়াক জোগায়। ফেসবুকেও প্রায়শ তার নানা ধরনের পোস্ট ও লাইভ নানাভাবে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছে।

 

 

হেলেনা জাহাঙ্গীরের জন্ম ১৯৭৪ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার তেজগাঁওয়ে। উইকি ফ্যাক্টসাইডার নামের একটি ওয়েবসাইটে তার পেশা হিসেবে অ্যাংকর বা উপস্থাপক উল্লেখ করা হয়েছে।

হেলেনার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম একজন ব্যবসায়ী। ১৯৯০ সালে তারা বিয়ে করেন। তিনি তিন সন্তানের জননী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাবা মরহুম আবদুল হক শরীফ ছিলেন জাহাজের ক্যাপ্টেন। সেই সূত্রে জন্ম কুমিল্লায় হলেও হেলেনা জাহাঙ্গীরের বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামের হালিশহরের মাদারবাড়ী, সদরঘাট এলাকায়। পড়াশোনা স্থানীয় কৃষ্ণচূড়া স্কুলে।

চাকুরি সূত্রে তার বাবা প্রমোশনাল প্রস্তাব পেয়ে রাশিয়ায় চলে গেলে মায়ের সঙ্গে গ্রামের বাড়ি ফিরে যান হেলেনা।

 

এফবিসিসিআই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একাধিক গণমাধ্যমকে হেলেনা জাহাঙ্গীরের দেয়া সাক্ষাৎকার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের সময় স্বামী জাহাঙ্গীর আলম নারায়ণগঞ্জের একটি প্রতিষ্ঠিত পোশাক কারখানার জিএম পদে চাকরি করতেন। পাশাপাশি সিএন্ডএফ এজেন্ট ব্যবসার সঙ্গেও সংশ্লিষ্টতা ছিল।

 

 

তবে গৃহিণী হিসেবে বসে না থেকে পড়াশোনা শেষ করে হেলেনা জাহাঙ্গীর শুরুতে চাকরির চেষ্টা করেন। বিভিন্ন জায়গায় চাকরির জন্য ইন্টারভিউও দিয়েছেন তিনি। একদিন চাকরি খোঁজার সূত্র ধরে চলে যান স্বামী জাহাঙ্গীর আলমের অফিসে। সেখানে স্বামীর অফিস কক্ষ দেখে তিনি ঠিক করেন নিজেই উদ্যোক্তা হওয়ার। স্ত্রীর প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান স্বামী জাহাঙ্গীর আলম।

বিয়ের ছয় বছর পর ১৯৯৬ সালে রাজধানীর মিরপুর ১১ তে একটি ভবনের দুটি ফ্লোর নিয়ে তিনি শুরু করেন প্রিন্টিং ও অ্যামব্রয়ডারি ব্যবসা। পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে নানান ধরনের পণ্যের জন্য লোগো ও স্টিকার প্রিন্ট করে এ প্রতিষ্ঠান। নিট কনসার্ন প্রিন্টিং ইউনিট লিমিটেড দিয়ে শুরু করে জয়যাত্রা গ্রুপের আওতায় একে একে হেলেনা গড়ে তোলেন জয় অটো গার্মেন্টস লিমিটেড, জেসি এমব্রয়ডারি অ্যান্ড প্রিন্টিং এবং হুমায়রা স্টিকার লিমিটেড, যার সবকটিরই ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি।

হেলেনা জাহাঙ্গীর গুলশান ক্লাব, গুলশান নর্থ ক্লাব, বারিধারা ক্লাব, কুমিল্লা ক্লাব, গলফ ক্লাব, গুলশান অল কমিউনিটি ক্লাব, বিজিএমইএ অ্যাপারেল ক্লাব, বোট ক্লাব, গুলশান লেডিস ক্লাব, উত্তরা লেডিস ক্লাব, গুলশান ক্যাপিটাল ক্লাব, গুলশান সোসাইটি, বনানী সোসাইটি, গুলশান জগার্স সোসাইটি ও গুলশান হেলথ ক্লাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

 

যা বললেন হেলেনা জাহাঙ্গীর

তাকে নিয়ে আলোচনার কারণ জানতে চাইলে হেলেনা জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমাকে ঘিরে রংচং মাখিয়ে যেসব কথাবার্তা বলা হচ্ছে, এর সবই অসত্য। এর কোনো ভিত্তি নেই। মূলত আমাকে ঘিরে স্বার্থান্বেষী মহল এক ধরনের ষড়যন্ত্র লিপ্ত। নানাভাবে তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। আমি যেখানে যে কাজে সম্পৃক্ত নই, সেখানেও আমাকে জড়িয়ে দেয়।’

হেলেনা জাহাঙ্গীর বলেন, ‘স্বার্থান্বেষীরা করোনা পরীক্ষা ইস্যুতে সাহেদ-সাবরিনা কেলেঙ্কারিতেও আমাকে জড়িয়েছে। এফবিসিসিআইএ নির্বাচনেও আমাকে ঘিরে অপপ্রচার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে বিদেশযাত্রার আগে-পরেও আমাকে নিয়ে জল ঘোলা করা হয়েছে।’

আমি যা নই, আমাকে নিয়ে তা বলা হচ্ছে। আবার আমার সম্পর্কে ভাল কিছু উঠে আসলে তা নিয়ে তাদের গাত্রদাহ হয়।

 

হেলেনা জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমার অবস্থানে আমি পরিষ্কার। আমি অন্যায় কোনো কিছু করি না, তাই আমাকে নিয়ে যা হচ্ছে, সেগুলোর পরোয়াও আমি করি না। আমার বুকে সৎ সাহস আছে। আজকের হেলেনা জাহাঙ্গীর এমনি এমনি তৈরি হয়নি। অদম্য সাহস, সংসারের লোকদের ত্যাগ-তিতিক্ষা আর স্বামীর নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন ও সহযোগিতার ওপর দাঁড়িয়ে আমি আজকের হেলেনা জাহাঙ্গীর।’

চাকরিজীবী লীগ করার উদ্যোগের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি জীবনে অনেক কিছু পেয়েছি। যা পেয়েছি, তাতে আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। নতুন করে পাওয়ার কিছু নেই, দেয়া ছাড়া। আমি চাকরিজীবী লীগ করতে যাইনি। আমাকে জড়ানো হয়েছে। ফাঁসানো হয়েছে। যার কারণে আমার নাম এখানে জড়িয়েছে, আমি তার নামে মামলা করেছি। চলতি সপ্তার মধ্যে প্রেস ব্রিফ করার ইচ্ছা আছে।’

জাতীয় পার্টি ও বিএনপিতে সংশ্লিষ্টতার হেলেনা জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমার বয়সই বা কত। বায়োগ্রাফি দেখুন, এতো অল্প সময়ে তিনটি রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করা যায় কিনা বা এসব দলের প্রধানদের সংস্পর্শে যাওয়া সম্ভব হয় কিনা। আসলে দেশে একটা দল ছাড়া তো আর কোনো দল নেই। সেটা হচ্ছে আওয়ামী লীগ। আমি এই আওয়ামী লীগেই আছি। বেশ ভালভাবেই আছি। আগামীতেও থাকব।’

 

 

তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই দেশ ও সমাজের জন্য কিছু করব, সমাজে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করব, এমন একটি স্বপ্ন মনের মধ্যে পুষে রাখতাম। আর এই স্বপ্নের অনুপ্রেরণা ছিলেন আমার বাবা। পরবর্তীতে আমার স্বপ্নের বাস্তব রূপায়নে কার্যকর সহায়তা করেছেন আমার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম।

‘তার অনুপ্রেরণা ও সান্নিধ্য আমাকে এতদূর নিয়ে এসেছে। জীবনে যা অর্জন করেছি, তা পেয়েছি কষ্টসাধ্য পরিশ্রম, ত্যাগ, স্বামীর সূত্রে পাওয়া বিনিয়োগ এবং স্থির পরিকল্পনায় মেধা খাটিয়ে। কারো দয়ায় নয়।’

 

আরো পড়ুন: নারী দেহের যে ৫টি অঙ্গ বড় হলে সৌভাগ্যবতী হিসেবে ভাবা হয়

জীবননগরে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় নারী, গাছে বেঁধে নির্যাতন…

 

জনবল নিয়োগ দিবে একে টেলিভিশন

 

বদলে যাচ্ছে চাকরির বাজার এবং বাড়ছে ডিজিটাল কন্টেন্টের চাহিদা। সময় পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে একে টেলিভিশন এর ডিজিটাল বিভাগে তিন ক্যাটাগরিতে জনবল নিয়োগ করা হবে।

 

 

পদের নাম:
১. ডিজিটাল কন্টেন্ট এক্সিকিউটিভ

 

 

কাজের প্রকৃতি : ডেস্ক জব

কাজের ধরণ : ফুলটাইম

বেতন : ১৪ হাজার থেকে ১৬ হাজার

প্রয়োজনীয় যোগ্যতা:

*ইউটিউবসহ সোশ্যাল মিডিয়ার কপিরাইট পলিসি সম্পর্কে সম্যক ধারণা ও জ্ঞান

*ফটোশপের বেসিক ধারণা

*এসইও সম্পর্কে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা

*কাজের চাপ নেবার ইতিবাচক মানসিকতা

*প্রয়োজনে নতুন কিছু শেখার প্রতি আগ্রহ

 

*বাংলা ও ইংরেজিতে দ্রুত টাইপ করার ক্ষমতা

*সংবাদ সম্পাদনা সম্পর্কে জ্ঞান

*বাংলা শুদ্ধ বানান জানা

 

 

দায়িত্বসমূহ:

*দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার যে কোনো সময়ে (রোস্টার/শিডিউলের ভিত্তিতে) কাজ করার মানসিকতা

*ফেসবুক ও ইউটিউব -এর কন্টেন্ট নিয়ে সৃজনশীলতা প্রদর্শন এবং নতুন নতুন পরিকল্পনা ও ভালো ফলাফল আনার মানসিকতা

*প্রতিযোগিতাপূর্ণ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নতুন নতুন ফিচার ও আপডেট সম্পর্কে অবগত থাকা

শিক্ষাগত যোগ্যতা

স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন (সাংবাদিকতা এবং মার্কেটিং অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার)

প্রয়োজনীয় দক্ষতা

*ইউটিউব, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম সম্পর্কে অভিজ্ঞতা

*একসঙ্গে একাধিক কাজ করার ইতিবাচক মানসিকতা

 

 

পদের নাম:
২. ভিডিও এডিটর

 

 

কাজের প্রকৃতি : প্রফেশনাল ভিডিও এডিটিং ও আফটার ইফেক্টস এ দক্ষতা

কাজের ধরণ : ফুলটাইম

বেতন : ১৮ থেকে ২০ হাজার

প্রয়োজনীয় যোগ্যতা:

*ইউটিউবসহ সোশ্যাল মিডিয়ার কপিরাইট পলিসি সম্পর্কে সম্যক ধারণা ও জ্ঞান

*ফটোশপের বেসিক ধারণা

*কাজের চাপ নেবার ইতিবাচক মানসিকতা

*প্রয়োজনে নতুন কিছু শেখার প্রতি আগ্রহ

*বাংলা শুদ্ধ বানান জানা

 

 

দায়িত্বসমূহ:

*দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার যে কোনো সময়ে (রোস্টার/শিডিউলের ভিত্তিতে) কাজ করার মানসিকতা

*ফেসবুক ও ইউটিউব -এর কন্টেন্ট নিয়ে সৃজনশীলতা প্রদর্শন এবং নতুন নতুন পরিকল্পনা ও ভালো ফলাফল আনার মানসিকতা

শিক্ষাগত যোগ্যতা:

স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে ন্যূনতম এইচএসসি পাশ

প্রয়োজনীয় দক্ষতা:

*ইউটিউব, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম এর ভিডিও সম্পর্কে ধারণা

*একসঙ্গে একাধিক কাজ করার ইতিবাচক মানসিকতা

 

 

পদের নাম
৩. স্ক্রিপ্ট রাইটার কাম প্রেজেন্টার:

 

 

কাজের প্রকৃতি : স্ক্রিপ্ট তৈরি এবং সমসাময়িক বিষয়ের উপর উপস্থাপনা

কাজের ধরণ : ফুলটাইম অথবা পার্ট টাইম

বেতন : আলোচনা সাপেক্ষে

প্রয়োজনীয় যোগ্যতা:

* বাংলায় শুদ্ধ উচ্চারণ

* সুন্দর বাচনভঙ্গি

*প্রয়োজনে নতুন কিছু শেখার প্রতি আগ্রহ

*একসঙ্গে একাধিক কাজ করার ইতিবাচক মানসিকতা

 

 

দায়িত্বসমূহ:

* প্রয়োজনে যে কোনো সময়ে (রোস্টার/শিডিউলের ভিত্তিতে) কাজ করার মানসিকতা

*ফেসবুক ও ইউটিউব -এর কন্টেন্ট নিয়ে সৃজনশীলতা প্রদর্শন এবং নতুন নতুন পরিকল্পনা ও ভালো ফলাফল আনার মানসিকতা

শিক্ষাগত যোগ্যতা:

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী (জার্নালিজমের স্টুডেন্ট বা প্রেজেন্টেশন কোর্স সম্পন্নদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে)

আগ্রহীদের উপরের শর্তাদি পূরণ করে info@aktvbd.com ইমেইলে অথবা সরাসরি আবেদন করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আবেদনে অবশ্যই পদের নাম উল্লেখ করতে হবে। আবেদন করতে নিচের লিংক অথবা ছবিতে ক্লিক করুন….

 

 

সরাসরি যোগাযোগ:
একে টেলিভিশন
বাড়ি-১১, সড়ক-১১, ব্লক-ডি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২১৬
মুঠোফোন: ০১৯১৫-৫৪৭৬৬৬
web: www.aktvbd.com

 

 

লাফালাফি করলে আবার ভিডিও ভাইরাল হবে -অভিনেত্রী কেয়া

 

 

পরিচিতির কারণে এখন সেভাবে বাইরে ঘুরতে পারেন না। তারপরও বিধিনিষেধের আগে ইচ্ছামতো সময়গুলো কাটানোর চেষ্টা করেছেন। এখন বাসায় নিজের নাটকগুলো দেখছেন।

পায়েল বলেন, ঈদ নিয়ে এখন আর আগের মতো উৎসব–উৎসব ভাব পাই না। আগে পরিকল্পনা করে শপিং করতাম। ঈদের সাত দিন পেরিয়ে গেলেও ঈদ ফুরাত না। বন্ধু আর কাজিনদের সঙ্গে আড্ডা দিতাম।

এখনো আড্ডা হয়। কিন্তু অভিনয়ের জন্য নিজের স্বাধীনতা কমে গেছে। বিরতিতে চেষ্টা করছি নিজের মতো করে সময় কাটানোর।

 

কেয়া পায়েল লাফালাফি

ঈদে পায়েলের ২০টি নাটক বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইনে প্রচারিত হচ্ছে। তাঁর অভিনীত রাফাত মজুমদারের স্বপ্নের নায়িকা, মিজানুর রহমান আরিয়ানের শুভ প্লাস নিলা, মাহমুদুর রহমানের কাবিননামাসহ একাধিক নাটক উল্লেখযোগ্য।

এখনো বেশ কিছু নাটক মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘দর্শক আমাকে চিনছেন, আমার নাটক দেখে মন্তব্য ও সমালোচনা করছেন, এগুলোই বড় পাওয়া। আমি যদি একটুও খ্যাতি পেয়ে থাকি, সেটা ধরে রাখাই আমার কাছে বড় কথা। আমি নিয়মিত অভিনয় শিখছি। এই শেখা আমি সব সময় চালিয়ে যেতে চাই।

এবার ঈদের নাটক নিয়ে পায়েলের মন খারাপ। অনেকগুলো কাজে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে কিছু নাটকের শুটিং করতে পারেননি।

তা ছাড়া শুটিং হাউসের বাইরে বা রাস্তায় শুটিং করতে হবে, এমন গল্পে নাম লেখাননি তিনি।

পায়েল বলেন, এবার ঈদুল ফিতরের চেয়ে বেশি নাটক মুক্তির সম্ভাবনা ছিল। বিধিনিষেধে বেশ কিছু কাজ হলো না। তা ছাড়া তৌসিফ ভাইয়ের করোনা হলো।

এ ছাড়া বাইরে অনেক ভালো কিছু গল্পের চিত্রনাট্য ছিল, সেগুলো করোনা সতর্কতার কারণে করতে রাজি হইনি। সেসব গল্পের জন্য আফসোস হচ্ছে। তবে ঈদের পর এগুলোর শুটিং করব।

 

অতিরিক্ত পড়ুন…

 

করোনার আরও ভয়ঙ্কর রূপ প্রকাশ, শুধু ফুসফুস নয় বিকল করে দিচ্ছে কিডনিও!

হযরত নূহ (আ.) এর জীবনী, আল্লাহ’র নির্দেশে বানানো সেই নৌকার ইতিকথা

এনআইডি ছাড়া যেভাবে টিকা পাওয়া যেতে পারে

৮৫ টাকার জুয়া খেলে জিতলো ৬ কোটি টাকা

শিল্পার স্বামীর পর্নো ব্যবসার জাল কলকাতা পর্যন্ত ছড়ানো

আমি দুঃখিত, লজ্জিত, বিব্রত এবং অনুতপ্ত

ভারতে ২০ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে হোয়াটসঅ্যাপ

অগ্রিম ৩৩৯ কোটি টাকার হদিস নেই, মামলার সুপারিশ ইভ্যালির বিরুদ্ধে

দেখা মিললো সাকিবের ছেলের

মাহমুদউল্লাহর অবসর নিয়ে তোলপাড়; যা বললেন আশরাফুল

বলিউড তারকা শিল্পা শেঠি ফেঁসে যাচ্ছেন!

এক গানে তিন কোটি রুপি

এবারের ঈদেও গান শোনাবেন ড. মাহফুজুর রহমান

 

বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার

বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার

বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার

বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার

বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার

বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার

বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার

বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার

বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার

বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার

বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার

বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার

বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার

বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার

বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার

বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার

বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার বসুন্ধরার

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.